ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৪ মে, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ এএম

কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয় লাগোয়া কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।


আহতরা হলেন, মহিউদ্দিন ও রণি নামের দুই স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা। তাদের বাড়ি ঝিলংজার বিসিক এলাকায়। এছাড়া আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার সহযোগীদের নিয়ে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 


এসময় এক যুবককে মারতে মারতে একটি সাদা গাড়িতে তুলে নিতে দেখেছেন আদালতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী। এদিকে আদালত এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।




বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মেম্বারের ছোট ভাই যায়েদ আলী জানান, ‘আমার ভাই লিয়াকত একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। হাজিরা শেষে ফেরার পথে আদালত কম্পাউন্ডে দুর্বৃত্তরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাইকে টার্গেট করে গুলি চালায়। অল্পের জন্য তিনি বেঁচে গেলেও আমাদের সাথে আসা ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়। হামলাকারী একজনকে অস্ত্রসহ আটক করি, অন্য ৩ জন পালিয়ে যায়। আমার ভাইকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী খালেক, মিজবাহ বাহিনী হত্যা করতে চাচ্ছে।’


ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব আদালত চত্বর ঘিরে ফেলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’



মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে

ঠাকুরগাঁওয়ে আই ক্যাম্প উদ্বোধন, প্রতিটি থানায় এমন উদ্যোগের আশ্বাস


বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।


রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও ডায়াবেটিস সমিতির আয়োজনে এবং নেপালের সহযোগিতায় পাঁচ দিনব্যাপী বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। প্রতিটি থানায় এ ধরনের আই ক্যাম্পের আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং কীভাবে এসব কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হবে।


তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ অত্যন্ত উদ্যোগী ও পরিশ্রমী। তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। যেসব মানুষ সহজে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সেবা পান না, তাদের জন্য এ ধরনের আই ক্যাম্প একটি বড় সুযোগ। এতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিপ অব মিশন মি.  প্রতীক কার্কি, এন এন আই এস এর চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডাক্তার চেতরাজ প্রান্ত, বিরাটনগর আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান মি. পদ্ম নারায়ণ চৌধুরী, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে  তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল ,গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাজিদার রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন,  সাধারণ সম্পাদক মোঃ পয়গাম আলি সহ জেলার চিকিৎসক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। 


পাঁচ দিনব্যাপী এ চক্ষু ক্যাম্পে জেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও স্বল্প আয়ের মানুষকে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে।



পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ইমন

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

চট্টগ্রামে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। খুন ও অস্ত্র উদ্ধারের পৃথক দুটি মামলায় পুলিশের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ রোববার সকালে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুতাসিম বিল্লাহ এ আদেশ দেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি বলেন, ফটিকছড়ি থানার জামাল হত্যা এবং সম্প্রতি ফটিকছড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় ইমনকে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। অস্ত্র উদ্ধারের মামলাটিতে মো. ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস, শামীমসহ ইমনের আরও চার সহযোগীরও পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।


এদিকে ইমনকে হাটহাজারী বড়দিঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসীম উদ্দীনের নির্মাণাধীন ভবনে ৫০ লাখ টাকা চাঁদার জন্য হামলা-ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম এই আদেশ দেন।


সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় ইমনকে। আদালত প্রাঙ্গণে সকাল থেকে পুলিশি নিরাপত্তার জোরদার করা হয়। জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মুহাম্মদ নাজমুন নূর বলেন, ‘সন্ত্রাসী ইমনের রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’


ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ইমন ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পরদিন বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন তাঁকে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।


পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অপরজন মোহাম্মদ রায়হান। বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবির জন্য বেশি ফোন করতেন ইমন।


চলতি বছরের জানুয়ারিতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজ উদ্দিনকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে। ইমন বলেন, ‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।’


এ ছাড়া ‘এমনভাবে গুলি করা হবে যে পরিবারের লোকজন গণনাও করতে পারবে না’ কিংবা ‘গুলি করে পুরো শরীর ভোমরার বাসা করে দেওয়া হবে’—এ ধরনের হুমকি দিয়ে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে ইমনের বিরুদ্ধে।


১৩ জুলাই নগরের বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইমনের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এর দুই দিন আগে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যবসা করতে হলে এককালীন দুই কোটি টাকা দেবেন। মাসে দেবেন ১০ লাখ। এখন থেকে ব্যবসা আমরা করব।’


গ্রেপ্তারের আগে ২৫ জুলাই মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় ইমনের। সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, না হয় বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’


কে এই ইমন


ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন এলাকায় খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।


২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল।


ধামইরহাট থানা

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

নওগাঁর ধামইরহাটে খেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের মঙ্গোলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। আজ রোববার (২ আগস্ট) সকালে মঙ্গোলিয়া বিলের পশ্চিম মাঠে বজ্রপাতের এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানান, সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ৬ জন শ্রমিক মঙ্গলিয়া বিলের মাঠে রোপা আমন ধান রোপণের কাজ করছিলেন। এসময় প্রচন্ড শব্দে বজ্রপাত হয়। এতে আবু বক্কর সিদ্দিক মারাত্মক আহত হন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।


ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিন্টু রহমান বলেন, থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।


ধর্ষণের দায়ে যুবক গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৬ পিএম

নওগাঁর রাণীনগরে এক কিশোরীকে (১২) ধর্ষণের দায়ে থানা পুলিশ নিশান (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। সে উপজেলার ঘোষগ্রাম হিন্দুপাড়া গ্রামের সোলাইমান আলীর ছেলে। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।


নির্যাতিতা কিশোরীর মা বলেন, শনিবার দুপুরে তার মেয়ে বাড়িতে জালের কাটি বুনছিল। এসময় বাড়িতে তাকে একা পেয়ে নিশান মোবাইলফোনের চার্জার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তার মেয়েরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তার মেয়ের চিৎকারে স্থানীয় এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।


রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, এব্যাপারে নির্যাতিতা কিশোরীর মা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার নিশানকে রোববার দুপুরে নওগাঁ কোর্টে এবং কিশোরীটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:১২ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে।’


আজ রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যেন সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত হয়েছে গণতন্ত্র। তাদের প্রত্যাশা ও গণ আকাঙ্খা- বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’


সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের ৬ মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের ৫৮ জন প্রশিক্ষণার্থী এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন।


একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৮ বছরের দীর্ঘ বঞ্চনা কাটিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ১ম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানান।


তিনি একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।


দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাগণ অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু (এমপি), পুলিশের আইজি আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপ্যাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৪ পিএম

সিলেটের চা দোকানের আড্ডায় বসে বন্ধুদের দিয়ে চলমান উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ১ বস্তা খাতা জব্দ করেছে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা।


গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চা দোকান থেকে উত্তরপত্রগুলি জব্দ করা হয় বলে জানান শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।


খাতাগুলির পরীক্ষক সিলেটের মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহান। তিনি শাবিপ্রবি বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।


একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চা দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন প্রভাষক ইকবাল হোসেন। এ সময় তার দুই বন্ধুকেও খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। খাতাগুলি একটি চালের বস্তায় রাখা ছিল। খবর পেয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে খাতাগুলি জব্দ করেন এবং ওই শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় থানায় যান।


সিলেট জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়াম্যান থানায় আসছেন। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় একটা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করছেন। পরে আমরা ওই শিক্ষককে তাদের (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা) হেফাজতে দিয়ে দিয়েছি।”


এসব বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, “সেখানে কোনো খাতা মূল্যায়ন করা হয়নি। সেগুলো আগেই দেখা হয়েছে। মূল্যায়ন করা খাতাগুলি কুরিয়ার করতে নিয়ে যাবার পথে সেখানে বসে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম।”


তবে নাম না প্রকাশের শর্তে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, শুক্রবার রাতেও সাড়ে ১০টার দিকে একই দোকানে বসে প্রভাষক ইকবালসহ চারজন উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন। এই বিষয়ে হাতে আসা এক ভিডিওতেও তাই দেখা গেছে।


ইকবাল হোসেন সোহানের সঙ্গে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা।


তিনি বলেন, “যার খাতা ওনিই শিক্ষক। তিনি আমার বন্ধু-ব্যাচমেট। আমিসহ এক্স সাস্টিয়ানরা সেখান ছিলাম তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”


খাতা জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।


তিনি বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ব্যস্ত আছি। আমি পরে কথা বলছি। আমি এখন অনেক ব্যস্ত।”