চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার ব্যবসা পেতে এবার সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব।
একই টার্মিনাল দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালস (আরএসজিটি)। এ প্রতিযোগিতায় যুক্ত হয়েছে দেশীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপও।
গত ৮ এপ্রিল দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-দুবাই প্ল্যাটফর্ম সভায় সিসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দেয় দুবাই সরকারের মালিকানাধীন ডিপি ওয়ার্ল্ড। এর দুই সপ্তাহ পর ২২ এপ্রিল সৌদি আরবের সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানাধীন আরএসজিটি একই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এত দিন পর্যন্ত দুই দেশ চট্টগ্রাম বন্দরের পৃথক দুটি টার্মিনাল ঘিরে আগ্রহ দেখালেও এবারই প্রথম একই টার্মিনালকে কেন্দ্র করে তাদের প্রতিযোগিতা প্রকাশ্য রূপ নিল।
এর মধ্যে ২০২৪ সালে সৌদি আরবের আরএসজিটি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব পায়। অন্যদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সৌদি-আমিরাত দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। দেশ দুটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ১ মে সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বাংলাদেশে বন্দর টার্মিনালের ব্যবসা পেতে দুই দেশের প্রতিযোগিতা এ দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা কি না, তা জানা যায়নি।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ প্রতিযোগিতা শুধু বন্দর ব্যবসার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশও। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সৌদি আরব ও আমিরাত প্রায় সব কৌশলগত খাতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।
চালু টার্মিনালেই বেশি আগ্রহ
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে। এর মধ্যে পতেঙ্গা টার্মিনাল পরিচালনা করছে আরএসজিটি। বাকি তিনটি জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), সিসিটি ও এনসিটি এখনো দেশীয় অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল নির্মাণে শতকোটি ডলার বিনিয়োগ ও দীর্ঘ নির্মাণঝুঁকি থাকে। কিন্তু চালু টার্মিনাল হাতে পেলেই তাৎক্ষণিক নগদপ্রবাহ নিশ্চিত হয়। ফলে দেশি-বিদেশি অপারেটরদের মূল আগ্রহ এখন চালু টার্মিনালগুলোকে ঘিরেই।
সিসিটি ঘিরে সৌদি-আমিরাতের কৌশল
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রস্তাব অনুযায়ী, এনসিটি ও সিসিটিকে একীভূত করে একটি বড় টার্মিনাল হিসেবে পরিচালনা করতে চায় তারা। দুটি টার্মিনাল পাশাপাশি হওয়ায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য বলেই তারা মনে করছে।
অন্যদিকে সৌদি আরএসজিটি চায় সিসিটি ও জিসিবিকে একীভূত করে দীর্ঘ মেয়াদে পরিচালনা করতে। এতে প্রাথমিকভাবে ৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের পর বছরে ১৮ লাখ একক কনটেইনার এবং ৫০ লাখ টন পণ্য ওঠানো-নামানোর সক্ষমতা তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিসিটির ভৌগোলিক অবস্থানও এ প্রতিযোগিতার বড় কারণ। এটি এনসিটি ও জিসিবির মাঝামাঝি হওয়ায় যে পক্ষ এটি পাবে, তারা কার্যত বন্দরের বেশির ভাগ কনটেইনার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে।
বন্দর সূত্র অনুযায়ী, গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনারের ৪৪ শতাংশ এনসিটিতে, ৩৬ শতাংশ জিসিবিতে, ১৬ শতাংশ সিসিটিতে এবং প্রায় ৪ শতাংশ পতেঙ্গা টার্মিনালে ওঠানো-নামানো হয়েছে। সে হিসাবে এনসিটি-সিসিটি একীভূত হলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণে যাবে প্রায় ৬০ শতাংশ কনটেইনার। আর সিসিটি-জিসিবি একীভূত হলে আরএসজিটির নিয়ন্ত্রণে যাবে প্রায় ৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা মূলত বন্দরের প্রধান ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ নিয়েই।
দেশীয় এমজিএইচের পাল্টা প্রস্তাব
বিদেশি দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় বহুজাতিক এমজিএইচ গ্রুপও প্রতিযোগিতায় সক্রিয় রয়েছে। গত বছর মার্চে তারা সিসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে ২৮ এপ্রিল নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার জন্য নতুন করে প্রস্তাব জমা দেয়।
ডিপি ওয়ার্ল্ড যেখানে প্রতি কনটেইনারে ১৫৫ থেকে ১৬১ দশমিক ৮ ডলার রাজস্ব আয়ের বিপরীতে বন্দরকে যথাক্রমে ৯৩ ডলার ৫০ সেন্ট ও ৯৭ ডলার ৫০ সেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে এমজিএইচ একই স্তরে ৯৮ দশমিক ৫০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি, এ মডেলে ১৫ বছরে বন্দর প্রায় ১৬৮ কোটি ডলার বা ২০ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।
এমজিএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস আহমেদ বলেন, ‘এনসিটি পরিচালনায় অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বন্দরকে বেশি রাজস্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি আমরা।’
দেশীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে দেশের টাকা দেশেই থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সিদ্ধান্ত কী
বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি পরিচালনা নিয়ে মূল্যায়ন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সিসিটি ও জিসিবি কোন মডেলে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালগুলোয় বিনিয়োগ ও পরিচালনার অনেকগুলো প্রস্তাব এসেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যেসব প্রস্তাব আমরা পেয়েছি, সেগুলো পর্যালোচনা করে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশের সমুদ্রবাণিজ্যের কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর এখন শুধু পণ্য ওঠানো-নামানোর জায়গা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক শক্তি ও দেশীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নতুন কৌশলগত প্রতিযোগিতার মঞ্চেও পরিণত হয়েছে।
সরকার শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে বন্দরের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক মানচিত্র। যদিও চালু টার্মিনাল ঘিরে বাড়তি আগ্রহের ফলে নতুন প্রকল্পগুলো বিনিয়োগসংকটে পড়তে পারে বলে অনেকের শঙ্কা আছে।
বন্দর পর্ষদের সাবেক সদস্য মো. জাফর আলম বলেন, চালু টার্মিনালে আগ্রহ বেশি, কারণ এখানে বড় নির্মাণঝুঁকি নেই। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে বন্দরের আধুনিকায়ন করতে হলে বে টার্মিনালের মতো নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ টানতে হবে। পুরোনো টার্মিনালেই যদি সবাই মনোযোগ দেয়, তাহলে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগে ভাটা পড়তে পারে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা বলেছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। আমিও চাই, তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাক। আইনি পথ ধরে হাঁটুক। আইনের ক্ষমতা অনেক দীর্ঘ, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘আগামীর শৈলকুপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমার বলার একটাই কথা, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি বাংলাদেশকে খুন করেননি, আমরা অস্বীকার করতে পারি না যে উনি খুন, গুম, গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সেই সব সত্যের মুখোমুখি যদি তিনি হতে চান, তাহলে অবশ্যই তিনি আসবেন।
মন্ত্রী বলেন, যারা বলছেন উনি (শেখ হাসিনা) ভিডিও কনফারেন্স করবেন, কিন্তু উনি ভিডিও কনফারেন্সে আসেননি। একটি অডিও রেকর্ডেড কনফারেন্সে পাঠিয়েছেন। অনেকেই বলছে, এটা নাকি এআই জেনারেটেড। উনি ফিরে আসুক বা কনফারেন্সেই আসুক, উনি আমার কাছে ফেরারি আসামি। উনি একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আমার এখানে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আসামি। উনি আমার কাছে জুলাই বিপ্লবে ১৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করার মামলার আসামি। উনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে যারা বেশি কথা বলছেন, আপনাদের বলবো, একবার বুকের ওপর নিজের হাতটা রেখে বলুন তো, এতগুলো অপরাধের পরেও উনি জনগণের কাছে, মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কিনা? একবারের জন্যও হাসিনার মনে হয়েছে কিনা যে আমরা অপরাধ করেছি?
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এমন একটি বিচার বিভাগ চাই, যেখানে একজন গরিব ও অসহায় মানুষ সৃষ্টিকর্তার পর সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখতে পারবেন। এখনো সেখানে অনেক সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কেউ বিচার বিভাগের দুর্নীতির কথা বলেন, কেউ দালালচক্রের কথা বলেন, কেউ কাঠামোগত দুর্বলতার কথা বলেন। আমার কাছে সবচেয়ে বড় সংকট মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়েই এই পেশায় এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি বিচারকের পেশা বেছে নেই, তাহলে আমাকে ধরে নিতে হবে আমি সমাজের আর দশটা চাকরির মতো এই চাকরি করতে আসিনি। সৃষ্টিকর্তার পর মানুষ সেখানে গিয়ে যেন আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে এমন বিচার বিভাগ চাই। সেই ধারণা নিয়ে যেদিন বিচারকরা ওই চেয়ারে বসবেন, সেদিন আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়বিচারপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’
মতবিনিময় ও প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমাজের নানা শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
নোয়াখালীতে র্যাব-১১, সিপিসি-৩-এর পৃথক অভিযানে তিনটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মামুন (৪২), মো. ফুরকান আলী (৩১) ও মো. আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুর (৪৫)।
র্যাব জানায়, মামুনকে বেগমগঞ্জের আমানউল্লাপুর ইউনিয়নের খেমচন্দ্রপুর বড় বাড়ির সামনে থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম (৫৭) হত্যা মামলার আসামি। টাকা-পয়সার বিরোধের জেরে গত বছরের ২৬ নভেম্বর আব্দুর রহিমকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফুরকান আলীকে সোনাইমুড়ীর বারগাঁও ইউনিয়নের কালারাইতা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী আখি আক্তারকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে, আবু সাইদহ ওরফে সাবিনুরকে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাজাহানপুরে সোহাগ (২৫) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, এসব মামলার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীতে ডিএনসি ও র্যাবের যৌথ অভিযানে ৯ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ মোটরসাইকেলে ইয়াবা পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ। এর আগে, নোয়াখালী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দিবাগত রাত দেড়টা পর্যন্ত বেগমগঞ্জের চৌমুহনী বাস টার্মিনাল ও সোনাইমুড়ী বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল হক ওরফে আব্দুল্লাহ (২৮) ও নুরে আলম ওরফে চৌধুরী (৩০)।
ডিএনসি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা ও ফেনী থেকে মোটরসাইকেলে করে নোয়াখালীতে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে চৌমুহনী ও সোনাইমুড়ী এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়। পরে পৃথক অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা, দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আব্দুল হকের কাছ থেকে ৫ হাজার ৮৭০ পিস এবং নুরে আলমের কাছ থেকে ৩ হাজার ৯২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ আরও বলেন, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা ও সোনাইমুড়ী থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হলেও ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে ৭ নিহত পরিবারের লোকজন বিচারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ায় সারাদেশের মতো সিলেটের গোলাপগঞ্জেও বিজয়ের উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন হাজারো মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্র-জনতা পৌর শহরের চৌমুহনীতে জড়ো হয়ে বিজয় মিছিল করেন, মিষ্টি বিতরণে অংশ নেন। তবে এই বিজয়ের ঠিক আগের দিন, ৪ আগস্ট, গোলাপগঞ্জে ঘটে যায় রক্তাক্ত এক অধ্যায়। শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের সময় পুলিশের, বিজিবির গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন আন্দোলনকারী। পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরের ক্বিন ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান গোলাপগঞ্জের আরও একজন। সব মিলিয়ে ওই দুই দিনে প্রাণ হারান উপজেলার সাতজন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, এখনো তারা কাঙ্ক্ষিত বিচার পাননি। তদন্ত এগোলেও কোনো মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হয়নি। ফলে স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি বিচারহীনতার হতাশাও বহন করে চলেছেন তারা।
এলাকারাসী সুত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকালে ঢাকাদক্ষিণ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে।আন্দোলনের একপর্যায়ে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চারজন। একই সময়ে পৌর শহরের কদমতলী এলাকায় গুলিতে নিহত হন আরও দুজন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। সংঘর্ষে পুরো উপজেলা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরের ক্বিন ব্রিজ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গোলাপগঞ্জ উপজেলার আরেক বাসিন্দা। জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিহত সাতজন হলেন, নিশ্চিন্ত গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম, আমুড়া ইউনিয়নের শিলঘাট গ্রামের কয়ছর আহমদের ছেলে সানি আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট গ্রামের মকবুল আলীর ছেলে তাজ উদ্দীন, একই ইউনিয়নের দত্তরাইল গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে মিনহাজ উদ্দিন, ঘোষগাঁও গ্রামের মোবারক আলীর ছেলে গৌছ উদ্দিন, রায়গড় গ্রামের ছুরাই মিয়ার ছেলে জয় আহমদ এবং কানিশাইল গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে কামরুল ইসলাম পাভেল।
শহীদ গৌছ উদ্দিনের ভাই আবুল কালাম জানান, ‘আমার ভাই গৌছ উদ্দিন শহীদ হয়েছে। তাকে তো আর আমরা ফিরে পাব না। আমার ভাইসহ যারা মারা গেছেন, যারা আহত হয়েছেন আমরা তাদের সঠিক বিচার চাই। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার পাইনি।”
শহীদ কামরুল ইসলাম পাভেলের বাবা রফিক উদ্দিন জানান, ‘দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন আমার ছেলে হত্যার বিচার পাইনি। মামলারও তেমন অগ্রগতি নেই। আমার ছেলে ও অন্য যারা হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে সরকার যেন বিচার নিশ্চিত করে। ২০২৪ সালের মতো রক্তক্ষয়ী দিন আর কখনো বাংলাদেশে না আসে।’
শহীদ নাজমুল ইসলামের ভাই ছামিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চৌধুরীর নির্দেশে বিজিবির গুলিতে আমার ভাই মারা যান। আমার ভাইকে কোনো সাধারণ মানুষ হত্যা করেনি। সেখানে বিজিবি, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তার স্ত্রী ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আমার মতে, ওই মামলার সব আসামিই নির্দোষ।’
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলী জানান, জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় গোলাপগঞ্জ থানায় দুটি, সিআইডিতে তিনটি এবং পিবিআইতে দুটি হত্যা মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবগুলো মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়নি।
বক্তব্য দেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল
নওগাঁর মহাদেবপুরে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে কৃষি অফিসারের কার্যালয় এর আয়োজন করে। উপজেলার নিবন্ধিত সার ও বীজ ডিলার, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, কৃষক, সাংবাদিক প্রমুখ সভায় অংশ নেন। নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হুদা বাবুল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে সার ও বীজ সরবরাহ সংক্রান্ত নানান সমস্যা তুলে ধরেন। এসময় এমপি ফজলে হুদা বাবুল অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহারের ফলে মানুষ, প্রাণি, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণির শরীরে নানান প্রতিক্রিয়ার বিষয় উল্লেখ করে আগের আমলের মত জৈব সার, কেঁচো সার প্রভৃতি প্রাকৃতিক সারের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি এলাকার বাড়িতে বাড়িতে আগের মত গরুর গোবর ফেলার জায়গা তৈরি করে জৈব সার উদপাদন, গরুর খামার প্রতিষ্ঠা, কেঁচো সারের কারখানা তৈরির কথা বলেন। আগামীতে এলাকায় প্রয়োজনমত রাসায়নিক সার সরবরাহেরও আশ্বাস দেন তিনি।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্থানীয় পর্যায়ে সার বিক্রি ও দাম সংক্রান্ত নানান সমস্যা সমাথানের কথা বলেন। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা মওসুমের শুরুতে সার, কীটনাশক ও ডিজেল বাঁকিতে কেনেন। তিন মাস পর ধান উঠার পর সে বাঁকি শোধ করেন। কিন্তু ডিলারদের প্রতিমাসে নগদ টাকায় মালামাল উঠাতে হয়। অনেক কৃষক অল্প পরিমাণ সার কিনে থাকেন। ইউরিয়া সারের ৫০ কেজির বস্তা খুলে বিক্রি করতে গেলে ৪৮ কেজি হয়। এখানেও তাদের লস হয়।
ইউএনও মানজুরা মুশাররফ ডিলারদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আইন মেনে সার বিক্রির পরামর্শ দেন। কখনো অভিযোগ পেলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা কথা বলেন তিনি।
অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন, এমপির প্রতিনিধি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, সার ডিলার খৈতান ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী অমল কুমার খৈতান, হাজী ট্রেডিং কর্পোরেশনের সত্ত্বাধিকারী ডিএম আবু সাঈদ, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, সাংবাদিক একে সাজু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আব্দুল হান্নান, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, কৃষক দল নেতা জহুরুল ইসলাম, আকতার হোসেন পলাশ প্রমুখ।
এসময় অন্যদের মধ্যে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী, মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, মহাদেবপুরে এমপি রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, উত্তরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আবু হাসান, চাঁন্দাশ ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুন নবী রিপন, এনায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, খাজুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক খাইরুল ইসলাম, খাজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বিশ^াস বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ১১ কেজি গাঁজাসহ মো. জাহাঙ্গীর আলম (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত পৌনে ৯টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়ার পোল এলাকার হানুর চা দোকানের সামনে চৌমুহনী-ফেনী পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ডিমাতলী গ্রামের চিওরা সিরাজ মেম্বারের বাড়ির মো. আবুল কাশেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের এসআই অনুপ চক্রবর্তী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় একটি সিএনজি তল্লাশি করে ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পরে গ্রেপ্তার আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।