ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৯ এএম

আটলান্টায় সেমিফাইনালের রাতটা ছিল নিঃশ্বাসরুদ্ধ নাটক। শেষ পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ স্পেন। জয়সূচক গোলটির শেষ পাসটি এসেছিল মেসির পা থেকে। ম্যাচ শেষে খেলায় না নামা জিওভান্নি লো সেলসো মেলে ধরেন একটি সাদা ব্যানার– ‘লাস মালভিনাস সন আর্হেন্তিনাস’, অর্থাৎ মালভিনাস আর্জেন্টিনার। ব্যানারটি প্রথমে উঠেছিল গ্যালারির সমর্থকদের হাতেই। বিজয়ের উল্লাসের মধ্যে হঠাৎ যেন জেগে উঠল ইতিহাসের এক পুরোনো ক্ষত।


এর কয়েক দিন আগেই নরওয়ের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। তাই ফাইনালের রাতে নিউ জার্সির গ্যালারিতে কৌতূহলোদ্দীপক এক দৃশ্য দেখা যেতে পারে। হলুদ জার্সির ভিড়ে অনেক ব্রাজিলীয় দর্শকের হাতে উঠতে পারে আকাশি-সাদা পতাকা। কেউ মেসির জন্য, কেউ দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদার জন্য, কেউ আবার ইউরোপীয় ফুটবলের দীর্ঘ আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের মহাদেশের প্রতিনিধিকে সমর্থন জানাতে।


এটি অবশ্য ব্রাজিলের সর্বজনীন অবস্থান নয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও তীব্র। বহু ব্রাজিলীয় নিশ্চয়ই স্পেনকে সমর্থন করবেন। কিন্তু ব্রাজিলের একটি দৃশ্যমান অংশের আর্জেন্টিনা-প্রীতিকে নিছক মেসিপ্রেম বলে দেখলে দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাস, ভূগোল ও সামাজিক বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়ালে থেকে যায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবলের দুই চিরপ্রতিপক্ষ, কিন্তু ভূগোলের দুই অপরিচিত রাষ্ট্র নয়। তাদের মধ্যে বারো শ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত। ইগুয়াসু নদী দুই দেশের সীমারেখা টেনেছে, আবার মানুষকেও যুক্ত করেছে। ফজ দো ইগুয়াসু, পুয়ের্তো ইগুয়াসু কিংবা মিসিওনেস অঞ্চলে সীমান্ত শুধু পাসপোর্টের রেখা নয়; তা বাজার, কর্মসংস্থান, পর্যটন, চিকিৎসা, আত্মীয়তা ও প্রেমের পথ।


দুই পাশে রাষ্ট্রভাষা আলাদা– ব্রাজিলে পর্তুগিজ, আর্জেন্টিনায় স্প্যানিশ। কিন্তু সীমান্তবাসীর মুখে জন্ম নিয়েছে মিশ্র ভাষা ‘পোর্তুনিয়ল’। এই ভাষা অভিধান থেকে তৈরি হয়নি। তৈরি হয়েছে বাজারে দরকষাকষি করতে গিয়ে, সীমান্ত পারাপারের বাসে গল্প জমাতে গিয়ে, মাঠে বন্ধুত্ব করতে গিয়ে, কখনও এক দেশের তরুণের সঙ্গে অন্য দেশের তরুণীর প্রেমে পড়ে।


ব্রাজিলীয়রা আর্জেন্টিনায় পড়তে যান, চিকিৎসা নেন, ব্যবসা করেন। আর্জেন্টাইনরা ব্রাজিলের সৈকত, নগর ও কর্মবাজারের দিকে ছুটে যান। হাজারো পরিবারে দুই দেশের নাগরিকত্ব, ভাষা ও স্মৃতি পাশাপাশি বাস করে। ফুটবলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গভীর হলেও তা সব সময় শত্রুতা নয়। বরং অনেকটা একই পরিবারের দুই প্রতিভাবান ভাইয়ের মতো, যারা পরস্পরকে হারাতে চায়, কিন্তু বাইরের কেউ পরিবারের একজনের সামনে দাঁড়ালে অন্যজনের ভেতরে জেগে ওঠে অদৃশ্য আত্মীয়তা।


এই সম্পর্কের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তিও শক্ত। সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ সন্দেহ পেছনে ফেলে দুই দেশ আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলে। পরে সেই আস্থা পথ তৈরি করে মেরকোসুরের। ১৯৯১ সালে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েকে নিয়ে গঠিত এই জোটের লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য নয়; গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক সংহতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও।


আজও দুই দেশের অর্থনীতি একে অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ব্রাজিলের অটোমোবাইল শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার গাড়ি ও যন্ত্রাংশের বাজার। আর্জেন্টিনার গম, জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের জন্য ব্রাজিল গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। আবার ব্রাজিলের শিল্পপণ্য ও বিনিয়োগ আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার বদলায়, মতাদর্শ বদলায়, কিন্তু নদীর স্রোত কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকের পুরোনো পথ সহজে বদলায় না।


মালভিনাস বা ফকল্যান্ড প্রশ্নে ব্রাজিলের অবস্থান এই মহাদেশীয় আত্মীয়তার গভীরতম প্রমাণ। ১৯৮২ সালের যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক নিরপেক্ষতার ভাষা ব্যবহার করলেও ব্রাজিলের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবির পক্ষে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমর্থনের ইতিহাস ১৮৩৩ সাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যখন লন্ডনে নিযুক্ত ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতকে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নিতে বলা হয়েছিল।


ফকল্যান্ড যুদ্ধ দক্ষিণ আমেরিকার বহু মানুষের কাছে শুধু আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের সংঘর্ষ ছিল না। সেটি ছিল ইউরোপীয় শক্তির বিরুদ্ধে এই মহাদেশের একটি দেশের ভূখণ্ডগত দাবির লড়াই। আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক জান্তার নিষ্ঠুরতা অবশ্যই সমালোচনার বিষয়। কিন্তু জান্তার অপরাধ আর দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এক নয়। ব্রাজিল কূটনৈতিকভাবে এই পার্থক্য ধরে রেখেছে।


তাই লো সেলসোর হাতে মালভিনাসের ব্যানার নিছক একটি বিতর্কিত ফুটবল-মুহূর্ত নয়। এর ভেতরে আছে ১৯৮২ সালের যুদ্ধ, ম্যারাডোনার ১৯৮৬ সালের ইংল্যান্ডবধ এবং দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘ স্মৃতি। ব্রাজিলীয়দের একাংশের আর্জেন্টিনা-সমর্থনের গভীরেও তাই ইউরোপের বিপরীতে মহাদেশীয় সংহতির একটি নীরব সুর কাজ করতে পারে।


ব্রাজিল ছিল পর্তুগালের উপনিবেশ, আর্জেন্টিনা স্পেনের। দুই সমাজই গড়ে উঠেছে উপনিবেশবাদ, আফ্রিকীয় দাসত্ব, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উচ্ছেদ ও পরবর্তী অভিবাসনের মধ্য দিয়ে। তাদের জাতিগত বিন্যাস এক নয়, কিন্তু উভয়ের জাতীয় পরিচয়ই মিশ্র। তাদের ঐক্য একই জাতিগোষ্ঠীতে নয়, বরং মিশ্রণের অভিজ্ঞতায়।


সাম্বা ও ট্যাঙ্গোর তাল আলাদা, কিন্তু দুটিই উঠে এসেছে বন্দরনগর, শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসন, প্রেম ও বিচ্ছেদের বেদনা থেকে। ব্রাজিলের ‘জোগো বনিতো’ আর আর্জেন্টিনার ‘লা নুয়েস্ত্রা’ও এক নয়, কিন্তু দুই দর্শনই ফুটবলকে নিছক শক্তি ও কৌশলের বাইরে নিয়ে গেছে। ইউরোপ ফুটবলকে শৃঙ্খলা দিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা দিয়েছে ড্রিবল, কল্পনা, রাস্তার ফুটবল ও ব্যক্তিগত সৃষ্টিশীলতার সৌন্দর্য।


এই সমর্থনের সবচেয়ে মানবিক কারণ অবশ্য মেসি। পেলে ও ম্যারাডোনার পর দক্ষিণ আমেরিকা এমন একজন খেলোয়াড় পেয়েছে, যাকে জাতীয় সীমার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তিনি আর্জেন্টাইন, কিন্তু তাঁর প্রতিভার উত্তরাধিকার পুরো মহাদেশের। তাঁর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল বহু ব্রাজিলীয়র কাছেও একটি যুগের বিদায়।


ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অন্যকে হারিয়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায়। আবার বাইরের পৃথিবী দক্ষিণ আমেরিকাকে ছোট করে দেখলে তারা পরস্পরের সাফল্যের মধ্যেই নিজেদের মর্যাদা খুঁজে পায়। এ সম্পর্ক বন্ধুত্বের চেয়ে জটিল, শত্রুতার চেয়ে গভীর। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, ঈর্ষা আছে, ইতিহাসের ক্ষত আছে; আবার আছে সীমান্ত পেরোনো প্রেম, বাণিজ্য, একই নদীর জল এবং একই মহাদেশের স্মৃতি।


রোববার রাতে ব্রাজিলের যে দর্শক আকাশি-সাদা পতাকা হাতে তুলবেন, তিনি নিজের দেশকে ভুলে যাবেন না। তিনি শুধু স্বীকার করবেন, সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীটিই তাঁর সবচেয়ে কাছের আত্মীয়। হলুদ-সবুজ জার্সির নিচে হৃদয়টা তখনও থাকবে ব্রাজিলের, শুধু তার একটি অলিন্দে বাজতে থাকবে বুয়েনস এইরেসের ছন্দ।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৪ পিএম

ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানা। তার অনুপস্থিতি দল ও সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ আলমগীর কবির। 


তার বিশ্বাস, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আরও কয়েকজন সম্ভাবনাময় পেসার উঠে আসছেন, যারা সামনে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।


সোমবার মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আলমগীর বলেন, ‘বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফাস্ট বোলারকে দেখেছেন। যদিও গতির দিক থেকে নাহিদ এখনো আলাদা বলেই মনে করেন তিনি।’


আলমগীর বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ দলে দেখেছি, ১৯ দলেও দেখেছি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও দেখলাম। বেশ কয়েকজন ভালো বোলার আছে। নাহিদ হয়তো আলাদা। ওর গতি গড গিফটেড। ওই পেস এখনও কেউ পায়নি। তবে ভালো ভালো বোলার আছে।’


অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে নাহিদকে না পাওয়ায় সমর্থকদের হতাশাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন এই কোচ। তার মতে, যে কোনো দলই নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে পরিকল্পনা করে এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক। প্রতিটি দেশেই সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে সবাই পরিকল্পনা করে। আমরা রানার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ও ভালো করলে দল ভালো করবে।’


এদিকে দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলে ফেরা পেসার এবাদত হোসেনকে নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন আলমগীর। তার বিশ্বাস, ইনজুরি থেকে ফেরার পর আগের ছন্দ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।


এবাদতকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অফ ফর্মে না ঠিক। ও তো ইঞ্জুরিতে ছিল, এখন কামব্যাক করেছে, একটু তো মাথায় ইঞ্জুরির ব্যাপারটা থাকবেই। সময় দিলে আগের ছন্দে ফিরে আসবে।’


জিনেদিন জিদান

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

ফ্রান্স ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। কোচ হিসেবে দেশের মাটিতে তার প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এক দিনেরও কম সময়ে!


আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের কোনো টিকিট আর বাকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ। 


কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে তো বটেই, কোচ জিদানের জন্যই যে এত আগ্রহ সেটা না বললেও চলছে। এই ম্যাচের তিন দিন পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের দল, ম্যাচটি হবে বেলজিয়ামে। 


ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি জানিয়েছে, সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়ে গেছে!


রোনালদো–জর্জিনা

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৫৭ পিএম

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।


এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।


স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।


আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।


বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।


সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।


বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।


কাজী সালাউদ্দিন

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।


দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।


সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।


এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।


বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’


গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।


ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।


কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।


ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।


এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’


গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।


পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।


ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’


এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’


‘ভুল ব্যক্তি’

গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।


চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।


বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা। 


আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।


তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।


চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’


একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’


গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।


আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’