লিওনেল মেসি
বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে, অনেক আগেই জিতেছেন ফুটবল ক্যারিয়ারের সব সম্ভাব্য ট্রফি। তবে নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে লিওনেল মেসি যেন আবারও প্রমাণ করলেন তিনি কেন অনন্য। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক যে পরিসংখ্যানের জন্ম দিয়েছেন, যা আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে বিরল।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়া অন্তত ৩০টি দল মেসির ৬ গোলের চেয়ে বেশি করতে পারেনি! অর্থাৎ, এই ৩০টি দেশের প্রত্যেকে দলগতভাবে মেসির চেয়ে কম গোল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বসা ৪৮ দলের এই বিশ্বমঞ্চে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচ শেষে মেসির ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা ৬টি। আলবিসেলেস্তেরা আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয়ে মেসির হ্যাটট্রিক (৩ গোল), অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল (২ গোল) এবং সর্বশেষ জর্ডানের বিপক্ষে বদলি নেমে জাদুকরী ফ্রি-কিক থেকে পান ১ গোল। আর এই ৬ গোল দিয়েই তিনি টুর্নামেন্টের অর্ধেকেরও বেশি দলের আক্রমণভাগকে গোলসংখ্যার দিক থেকে পেছনে ফেলেছেন।
মেসির একার করা এই ৬ গোলের রেকর্ড ছুঁতে পারেনি এবারের আসরের বেশ কয়েকটি শিরোপাপ্রত্যাশী পরাশক্তিও। যার মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বে ৫টি করে গোল করা স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ও মিশর। এছাড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল এবং লাতিন আমেরিকার শক্তিশালী দল কলম্বিয়া গ্রুপ পর্বে দলগতভাবে গোল করতে পেরেছে মাত্র ৪টি করে। গ্রুপ পর্বে ১টি গোলও করতে না পারা পানামা যেমন এই তালিকায় আছে, তেমনি উরুগুয়ে, ইরান কিংবা ইকুয়েডরের মতো লড়াকু দলগুলোও গোলের দিক থেকে মেসির নিচে অবস্থান করছে।
এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষস্থানটি নিজের দখলে রাখার পাশাপাশি আরও একটি কীর্তি গড়েছেন মেসি। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি এখন তার। বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট গোলসংখ্যাকে ১৯-এ নিয়ে গেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি। একই সঙ্গে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের টানা ৭ ম্যাচে গোল করার বিশ্ব রেকর্ডও এখন মেসির ঝুলিতে।
গ্রুপ পর্বে মেসির (৬ গোল) চেয়ে কম বা সমান গোল করা ৩০ দল:
৫ গোল করা দল: মিশর, স্পেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ক্রোয়েশিয়া ও আলজেরিয়া।
৪ গোল করা দল: পর্তুগাল, কলম্বিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডিআর কঙ্গো ও আইভরি কোস্ট।
৩ গোল করা দল: তুরস্ক, জর্ডান, উরুগুয়ে ও ইরান।
২ গোল করা দল: ইকুয়েডর, অস্ট্রেলিয়া, কেপ ভার্দে, দক্ষিণ আফ্রিকা, উজবেকিস্তান, হাইতি, কাতার, ঘানা, তিউনিসিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও প্যারাগুয়ে।
১ গোল করা দল: সৌদি আরব, ইরাক, স্কটল্যান্ড ও কুরাসাও।
কোনো গোল না করা দল: পানামা।
ছবি : সংগৃহীত
হামজা চৌধুরীর আগমনের পরই বাংলাদেশের ফুটবলে যোগ হচ্ছেন একের পর এক প্রবাসী ফুটবলার। শমিত সোম, ফাহিমদুল ইসলামরা তো এখন লাল-সবুজের অন্যতম তারকা।
তাদের দেখে ইউরোপ-আমেরিকাতে থাকা প্রবাসী ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ানোর। এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক দলে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে আরও পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার দেখা যেতে পারে বাংলাদেশ দলে।
সেপ্টেম্বরে ফিফা উইন্ডো এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে প্রবাসী ফুটবলার যোগ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এরই মধ্যে দুজনের খেলানোর ব্যাপারটি অনেকটাই চূড়ান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী উইঙ্গার ফারহান আলী এবং ফরোয়ার্ড জায়ান হাকিমের ফিফা ও এএফসি থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বাফুফে। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে এ দুই প্রবাসীর বাংলাদেশি হওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
আরও তিন ফুটবলারের মধ্যে দুজন ইংল্যান্ডের এবং একজন জাপানের বলে গতকাল সমকালকে জানিয়েছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তবে কোচ তাদের ট্রায়ালে ডাকেন কিনা, সেটার অপেক্ষায় আছে ফেডারেশন। যে কারণে তিনজনের নাম এখনই প্রকাশ করতে চাইছেন না ফাহাদ করিম, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে পাঁচ প্রবাসীর মধ্যে কোচ কয়জনকে নেবেন, সেটা তাঁর এখতিয়ার। তবে আমি বলতে পারি, এই পাঁচজন বাফুফের ক্যাম্পে থাকবেন।’
ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার নিয়ে গত বছর ঢাকায় প্রবাসী ফুটবলারদের ট্রায়াল আয়োজন করেছিল বাফুফে। এই ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন প্রায় ৫০ জন প্রবাসী। ট্রায়াল থেকে খুব বেশি ফুটবলার খুঁজে পায়নি বাফুফে। তাই এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে যাচ্ছে তারা। ঢাকায় না করে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়ালের আয়োজন করতে চান ফাহাদ করিম, ‘আগামী গ্রীষ্মে আমার ইচ্ছা আছে ইউরোপের কোনো দেশে ট্রায়াল করা। সভাপতির সঙ্গে আলাপ করব। এরই মধ্যে কোচের সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তিনি খুবই আগ্রহী।’
প্রবাসীরা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে কারণে ইউরোপে ট্রায়াল করার চিন্তা বলে জানান বাফুফের এ সহসভাপতি, ‘আমাদের বেশির ভাগ আবেদন আসছে ইউরোপ থেকে। বাংলাদেশে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য আমরা তো তাদের কোনো অর্থ দেব না। কে টিকে, না টিকে, তা তো আমরা বলতে পারব না। আমরা দেখেছি অনেকেই নিজ খরচে আসতে চায় না বা পারে না। অনেকে আবার নিজ খরচে আসে; কিন্তু টিকে না। তখন আমাদের বদনাম করে যে দূর থেকে এলাম নিল না। তাই ইউরোপের লন্ডন বা যেসব জায়গা থেকে বেশি প্রবাসী আসবে, ওই জায়গায় করব যেন তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে সেপ্টেম্বর উইন্ডো কাজে লাগাতে চায় বাফুফে। দুটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করছে ফেডারেশন। কিরগিজস্তানে গিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলবে অথবা ঢাকায় চার জাতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। কোচ থমাস ডুলির চাওয়া ঢাকায় ম্যাচ খেলা। চার জাতি টুর্নামেন্টের জন্য স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও কিরগিজস্তান ও মঙ্গোলিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। বাকি একটি দেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে বাফুফে।
সাকিব আল হাসান
সরকার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি দুই বছর ধরে নিজ দেশ থেকে নির্বাসনে রয়েছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজেও অংশ নিতে চান তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই সাকিব বলেন, ‘সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে আমি দেশে ফিরে আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াসহ যা যা করার প্রয়োজন, সবই করতে প্রস্তুত। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।’
সাকিব বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে শ্রীলঙ্কায় রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশে ফিরতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে খুব বেশি দেরি করতে চান না। সাকিব বলেন, ‘এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলছি। ভালো লাগছে, খেলাটাও উপভোগ করছি। কিন্তু বয়স তো আর আমার পক্ষে নেই। তাই অবসর নেওয়ার জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে চাই না।’
সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, ২০২৪ সালের শেষ দিকে একবার সরকারের নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠেছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথেই তাকে ফিরে যেতে বলা হয়। তার ভাষ্য, বিমানবন্দরের লাউঞ্জ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে দুবাইয়ে নেমে জানতে পারেন, বাংলাদেশে আর যেতে পারবেন না। সেখান থেকেই তিনি আবার নিউইয়র্কে ফিরে যান।
সাকিব বলেন, ‘১২ ঘণ্টার মধ্যে কী পরিবর্তন হয়েছিল, সেটা আজও জানি না। পরে শুনলাম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট করার কারণে নাকি আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। এটি দেশে না ঢুকতে দেওয়ার কেমন মানদণ্ড, তা আমার মাথায় আসে না।’
সম্প্রতি শেখ হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিয়েও কথা বলেন সাকিব। তিনি জানান, সেখানে তিনি কেবল দেশের শান্তি ও উন্নতির কথাই বলেছেন এবং এ নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই।
শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেন, ‘ক্যাপ্টেন যা বলবেন, আমরা তাই অনুসরণ করব। আমার মনে হয় উনারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং তাদের দেওয়া নির্দেশনাই আমরা মেনে চলব।’
বর্তমানে নিজের বিরুদ্ধে দুটি মামলা সক্রিয় রয়েছে বলে জানান সাকিব। একটি ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় একজন নিহত হওয়ার ঘটনায়, অন্যটি দুর্নীতির অভিযোগে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হাস্যকর একটি মামলা। যেদিন ঘটনাটি ঘটেছে, সেদিন আমি টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলাম।’
তিনি আরও জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে বা কত অর্থ জব্দ আছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি।
সাকিব বলেন, গত দুই বছরে তিনি বাংলাদেশে থাকা তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তার দাবি, তার বাবা-মাও দেশ ছাড়তে পারেননি।
দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত
ইনজুরির কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের টেস্ট দলে নেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানা। তার অনুপস্থিতি দল ও সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা হলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোচ আলমগীর কবির।
তার বিশ্বাস, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আরও কয়েকজন সম্ভাবনাময় পেসার উঠে আসছেন, যারা সামনে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সোমবার মিরপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আলমগীর বলেন, ‘বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফাস্ট বোলারকে দেখেছেন। যদিও গতির দিক থেকে নাহিদ এখনো আলাদা বলেই মনে করেন তিনি।’
আলমগীর বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৭ দলে দেখেছি, ১৯ দলেও দেখেছি। অনূর্ধ্ব-২৩ দলেও দেখলাম। বেশ কয়েকজন ভালো বোলার আছে। নাহিদ হয়তো আলাদা। ওর গতি গড গিফটেড। ওই পেস এখনও কেউ পায়নি। তবে ভালো ভালো বোলার আছে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে নাহিদকে না পাওয়ায় সমর্থকদের হতাশাকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন এই কোচ। তার মতে, যে কোনো দলই নিজেদের সেরা খেলোয়াড়কে ঘিরে পরিকল্পনা করে এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটিই হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক। প্রতিটি দেশেই সেরা খেলোয়াড়কে নিয়ে সবাই পরিকল্পনা করে। আমরা রানার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, ও ভালো করলে দল ভালো করবে।’
এদিকে দীর্ঘ ইনজুরি কাটিয়ে জাতীয় দলে ফেরা পেসার এবাদত হোসেনকে নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন আলমগীর। তার বিশ্বাস, ইনজুরি থেকে ফেরার পর আগের ছন্দ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগাটাই স্বাভাবিক।
এবাদতকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অফ ফর্মে না ঠিক। ও তো ইঞ্জুরিতে ছিল, এখন কামব্যাক করেছে, একটু তো মাথায় ইঞ্জুরির ব্যাপারটা থাকবেই। সময় দিলে আগের ছন্দে ফিরে আসবে।’
জিনেদিন জিদান
ফ্রান্স ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। কোচ হিসেবে দেশের মাটিতে তার প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এক দিনেরও কম সময়ে!
আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের কোনো টিকিট আর বাকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে তো বটেই, কোচ জিদানের জন্যই যে এত আগ্রহ সেটা না বললেও চলছে। এই ম্যাচের তিন দিন পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের দল, ম্যাচটি হবে বেলজিয়ামে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি জানিয়েছে, সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়ে গেছে!
রোনালদো–জর্জিনা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।
এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।
আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।