বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুই তারকা মেসি-ইয়ামালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৫ পিএম

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবলের আরো একটি আয়োজন শেষ হতে চলেছে। আগামী চার বছরের জন্য কে হতে যাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন- তা জানতে এখন কেবল ঘণ্টা গুনে অপেক্ষার পালা। রোববার দিন শেষে রাত একটায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।



দক্ষিণ আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা জিতলে ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২ সালের পর চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ীদের তালিকায় জার্মানি ও ইতালির সাথে স্থান করে নেবে। ইতালি ও পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার গৌরবও অর্জন করবে তারা। অন্যদিকে ২০১০ সালে শিরোপাজয়ী স্পেন জিতলে তা হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় এবং ফাইনাল গেলে জয়ী হওয়ার তাদের রেকর্ড শতভাগ অক্ষুণ্ন রাখবে।দুই দলই এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে।



আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টের নক আউট ম্যাচগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ফিরে আসার দারুণ গল্প লিখে চলেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মেসির অসাধারণ নেতৃত্বে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনে, এর আগে শেষ ষোলোতেও মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে ফিরে আসার মতো নাটকীয়তা দেখায়।



বিশেষত শেষ ১৫ মিনিটে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একাধিক গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের দৃঢ় মানসিকতা ও জয়ের তীব্র ইচ্ছার প্রতিফল ঘটিয়েই চলছে। এখনো পর্যন্ত সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৯টি গোল দিয়েছে যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এই পরিসংখ্যান দলটির দারুণ আক্রমণভাগের প্রমাণ দেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলতে থাকা সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়ে মাটিতে নামিয়েছে ফ্রান্সকে। সেইদিনও স্পেন পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর আগের ম্যাচগুলোতে পর্তুগালকে শেষ মুহূর্তের একমাত্র গোলে এবং বেলজিয়ামকে শেষমুহূর্তের দেওয়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হারায় তারা এবং দুটি ম্যাচেই স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।



এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এই বিশ্বকাপের সাত ম্যাচসহ টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেন দলের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, দলটির রক্ষণভাগ সন্দেহাতীতভাবে এই টুর্নামেন্টের সেরা। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, বিশ্বকাপের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণভাগের মধ্যে।



তবে, দুই দলেরই প্রধান শক্তি মাঝমাঠ দখল করে খেলা। এখন পর্যন্ত খেলাগুলোতে উভয় দলই গড়ে ৬০ ভাগ করে বলের দখল রেখেছে, আর নিজেদের মধ্যে সর্বাধিক পাস দিয়েছে (আর্জেন্টিনা ৪৭৭২, আর স্পেন ৪৫৯২) । লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনাও ৪-৩-৩ ছকে খেলছে, যেখানে সামনে মেসি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। স্কালোনি লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে মধ্য মাঝমাঠে খেলাচ্ছেন, তার পাশে আছেন আলেক্সিস মাক এলিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পাউল, যারা মাঝমাঠ দিয়ে খেলা গড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে উইংয়েও সরে যেতে পারেন।



আক্রমণভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজের তীব্র রক্ষণাত্মক প্রেসিং ক্ষমতার কারণে তিনি লাউতারো মার্তিনেজের চেয়ে এগিয়ে থেকে শুরুর একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেন, কারণ স্পেনের গভীর থেকে বল বাড়ানোর ধরন ভাঙতে এই প্রেসিং জরুরি। তবে, কৌশল ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি গত টুর্নামেন্টের মতো একজোট হয়ে খেলা। এই দলটি মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের উজাড় করে খেলে। খেলার অবস্থা যতোই প্রতিকূলে থাক, এই দলটি প্রয়োজনীয় গোল বের করে ফেলে। বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের একগাদা খেলোয়াড় থাকলে বক্সের বাইরে থেকেই দৃষ্টিনন্দন শটে অথবা এমনকি অপেক্ষাকৃত লম্বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষেও দারুণ হেডে কিংবা অবিশ্বাস্য রক্ষণ চেরা পাসে।



দলটির খেলা দেখে মনে হয় মেসিকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দিতে প্রতিটি সদস্য নিজেদের সর্বশেষটুকু দিতেও প্রস্তুত। যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা ফুটবল মাঠ যেখানেই হোক, জয়ের জন্য যারা এইরকম মনোভাব ধরে রাখতে পারে সাধারণত জয়টা তাদেরই হয়। আর, ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেন দিন দিন নিজেকে ছাপিয়েই যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ আট গোল দিয়েছেন মেসি, করেছেন চারটি গোলে সহায়তা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২১টি গোল করেও তিনি শীর্ষে। মেসির নেতৃত্ব এবং মেসিকে ঘিরে থাকা আর্জেন্টিনা দলটি যেন আবেগ ও সংহতির এক চূড়ান্ত মাত্রা প্রদর্শন করছে।



অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ৪-৩-৩ ছকে খেলছে। আক্রমণে মিকেল ওইয়ারসাবাল, দুই উইংয়ে লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বেইনা এবং মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো। রক্ষণভাগে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির নেতৃত্বাধীন স্পেনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো যেন একটি দুর্দান্ত দক্ষ যন্ত্র। দলের মূল কৌশলগত দর্শন হলো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ধৈর্য হারাতে বাধ্য করা। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর দানি ওলমো, আলেক্স বেইনা ও লামিন ইয়ামাল আক্রমণ গড়া ও রক্ষণাত্মক কাজ দুটোতেই সাহায্য করছেন।



স্পেন দলটির প্রতিটি খেলোয়াড় অপরের খেলা সমন্ধে ওয়াকবিহাল। বল যখন নিয়ন্ত্রণে থাকে তখন তারা এমন জায়গায় পাস দেয় যেখানে একজন খেলোয়াড় থাকবেন বলে আশা করা যায়। এবং বেশিরভাগ সময়ে কেউ না কেউ সেইখানে পৌঁছে যান। স্পেনের গোলগুলোর বেশিরভাগই দলীয় আক্রমণের ফল। দেখে মনে হয় দলটি মাঠে নিখুঁত ফুটবল বিজ্ঞানের চর্চা করে সাফল্য অর্জন করে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের স্ব-স্ব ভূমিকা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।



সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, ফাইনালটি হতে যাচ্ছে একদল তীব্র আবেগী, একজোট শৈল্পিক দলের বিপক্ষে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলা মেনে চলা একটি দলের।

আর্জেন্টিনা-স্পেন দ্বৈরথের ইতিহাস সমানে সমান। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলই ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি ২টি ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ অত্যন্ত বিরল। দুই দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, আর সেটা এতটাই পুরনো যে বর্তমান কোনো খেলোয়াড়ই তখনো জন্মাননি — এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিরও জন্ম হয়নি, আর দে লা ফুয়েন্তের বয়স তখন মাত্র পাঁচ। সেই ম্যাচটি ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। অর্থাৎ, রোববারের ফাইনালই হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের প্রথম নকআউট পর্বের সাক্ষাৎ এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চের লড়াই।



বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বর্তমান ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও, আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে ৯৬ বছর পর। সেই প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালে ফাইনালে উঠেছিলো একই ভাষাভাষী দেশ উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এরপর এবারই প্রথম একই ভাষাভাষী দুইটি দেশ ফাইনালে খেলছে। কাকতালীয়ভাবে, এবারও দুইটি দেশের ভাষা স্প্যানিশ। উপনিবেশিক আমলের কথা বিবেচনা করলে এই ফাইনালটা ভীষণ আবেগী হয়ে উঠতে পারে।



এই ফাইনালের আরেকটি বড় আবেগীয় দিকটি হলো মেসি-ইয়ামাল মুখোমুখি হওয়া। লামিন ইয়ামালের পরিবার একটি দাতব্য র‍্যাফেলে জিতে ছোটবেলায় লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রচারণামূলক ফটোশুটে অংশ নিয়েছিল এবং সেই ছবিটি ২০২৪ ইউরোর পর ইয়ামালের বাবার শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়েছিল। ২০০৭ সালে তোলা সেই ছবির প্রায় ১৯ বছর পর সেইদিনের শিশু থেকে জাতীয় দলের তারকা হয়ে উঠা ইয়ামাল এবং সেইদিনের তরুণ থেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হয়ে উঠা মেসি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ।



মেসি এবং ইয়ামাল যেন একই সাথে দুই দলের প্রতীকও। আর্জেন্টিনা গত আসরের বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে এবারও। দলটির সদস্যদের গড় বয়স ২৮.৬২ যা নিয়ে ৪৮টি দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থান ৪০। স্পেনের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৬.১৯ এবং ৪৮ দলের মধ্যে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে, এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়স্ক বনাম অন্যতম তরুণ দলের মধ্যে। লড়াইটা তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার।



এই যাবতকালে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের (৪৮ দল, ১০৪টি ম্যাচ) ফাইনাল ঘিরেও থাকছে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। ফাইনালের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে হেডলাইনার হিসেবে থাকছেন পোস্ট ম্যালোন। পাশাপাশি টম ক্রুজ, লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস ও ইউটিউবার আইশোস্পিডও থাকবেন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। প্রাক-ম্যাচ মার্কিন জাতীয় সংগীত গাইবেন জেনিফার হাডসন।



সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের কিউরেট করা এই শো-তে হেডলাইনার থাকছেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার, সঙ্গে থাকছে দ্য মাপেটসের চরিত্রও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মাঠে না গেলেও ফাইনালে তার উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে অতি অবশ্যই মূল আকর্ষণ হবে মাঠের খেলা। সারা দুনিয়ার চোখ থাকবে রক্ষণ বনাম আক্রমণ, আবেগ বনাম শৃঙ্খলা, তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে; দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।



আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, কে হতে যাচ্ছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন?




ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।


বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’


গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।


ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।


কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।


ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।


এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’


গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।


পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।


ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’


এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’


‘ভুল ব্যক্তি’

গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।


চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।


বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা। 


আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।


তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।


চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’


একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’


গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।


আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১১ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

জোহানেসবার্গে জমকালো এক লঞ্চিং ইভেন্ট দিয়ে ঘোষণা করা হলো ২০২৭ বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর নাম। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ১২টি শহরের হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চতুদর্শ আসর। এই বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড ও থিমও জানানো হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।

২৪ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে। নামিবিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বাদ পাবে প্রথমবার।বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে এবার ‘মেইক দা সার্কল বিগার’ এবং থিম হলো ‘থ্রি নেশন্স, ওয়ান হার্টবিট।’

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রায়েম স্মিথ, মাখায় এনটিনি, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা কাগিসো রাবাদার মতো সাবেক ও বর্তমান তারকারা। জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধি ছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, নামিবিয়ার ছিলেন রুডলফ ইয়ানেস ফন ফুরেন।

ইনান্ডা পোলো ক্লাবে এই বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন শীর্ষ ক্রিকেট কর্তারা। বিশ্বকাপের ব্র্যান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গোলাকার আফ্রিকান বাটি। দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে, এই স্বতন্ত্র, গোলাকার এবং সাংস্কৃতিকভাবে প্রতীকী বোনা বাটি ও ঝুড়িগুলো দৈনন্দিন জীবন ও ঐতিহ্যে ভূমিকা পালন করেছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ফসল, উপহার এবং নৈবেদ্য নিবেদনের জন্য ব্যবহৃত হতো। এগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, সম্প্রদায় এবং আতিথেয়তার প্রতীক, যা দক্ষিণ আফ্রিকার পরিচয় ও আবেগের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিকেট উদযাপনের জন্য বিশ্বকে এই বৃত্তে স্বাগত জানায়। এই বিশ্বকাপের লক্ষ্য হলো আফ্রিকার সেরা ক্রিকেট উপভোগ করার জন্য বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘মেইক দা সার্কল বিগার’ বা বৃত্তটিকে আরও বড় করা।

বিশ্বকাপের ৫৪ ম্যাচের বেশির ভাগই হবে অনুমিতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে আটটি শহরে হবে খেলা-জোহানেসবার্গ, সেঞ্চুরিয়ন, ডারবান, গেবেখা (আগে যেটির নাম ছিল পোর্ট এলিজাবেথ), কুগোম্পো সিটি (আগে যেটির নাম ছিল ইস্ট লন্ডন), কেপ টাউন, পার্ল এবং ব্লুমফন্টেইন।

ফাইনাল ম্যাচটি হবে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স কিংবা কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে।

জিম্বাবুয়েতে হবে সাত থেকে দশটি ম্যাচ। সেখানে মূল দুই ভেন্যু হারারে স্পোর্টস ক্লাব ও বুলাওয়ায়ো কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠের পাশাপাশি খেলা হবে ভিক্টোরিয়া ফলস স্টেডিয়ামে। ১০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এই বছরের শেষ নাগাদ স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ হবে। আগামী বছরের শুরুতে সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্য আছে।

নামিবিয়ার উইন্ডহুকে হবে অন্তত তিনটি ম্যাচ।

প্রস্তুতি ম্যাচগুলি হবে বেনোনি ও পচেফস্ট্রুমে। এই দুই ভেন্যু ও নামিবিয়া মিলিয়ে হবে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। আগামী বছরের শুরুতে হবে সেই বাছাইপর্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার মূল ভেন্যুগুলো তখন ব্যস্ত থাকবে এসএ টোয়েন্টিতে। আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টি ধরে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য।


নেইমার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। 


১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।


অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।


দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।


নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে। 


তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ পিএম

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। অন্যদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাসহ স্পেনের এক ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।


২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষই চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে । ঘটনার পর তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে ফিফা।


আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ, এর একটি পরিপূর্ণ হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।


আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসৌজন্যমূলক আচরণের। একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।


ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।


এর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা। উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করে।


ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন।


ব্যানার প্রদর্শনের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।


ফাইনালের ঘটনার পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আর্জেন্টিনার আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বড় মাপের ফুটবলারদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

 


নতুন অধিনায়ক লিটন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ পিএম

মেহেদী হাসান মিরাজের পরিবর্তে বাংলাদেশ দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে লিটন দাসকে। লিটন আগে থেকেই ছিলেন টি–টুয়েন্টি দলের নেতৃত্বে। এখন সাদা বলের দুই সংস্করণেই নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে তাওহিদ হৃদয়কে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন নাজমুল হোসেনই।


আজ মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভার পর বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা তিন সংস্করণে দুজন অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি সাদা বল ও লাল বলে আলাদা অধিনায়ক থাকা প্রয়োজনও। বোর্ডও এতে একমত হয়েছে।’


২০২৫ সালের জুনে হুট করেই নাজমুলকে সরিয়ে দিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করে আমিনুল ইসলামের বোর্ড। এই সংস্করণে ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ১০ ম্যাচ জিতেছেন মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজ জেতে মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে অবশ্য ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় বাংলাদেশ।


তবে মিরাজকে নেতৃত্বে না রাখার পেছনে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কোনো ভূমিকা রাখেনি বলে জানিয়েছেন তামিম। বরং খেলোয়াড় মিরাজকেই দলের বেশি দরকার মনে করে বিসিবি। 


এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘মিরাজ অত্যন্ত সফল অধিনায়ক। গত কয়েকটি সিরিজে সে খুব ভালো করেছে। কিন্তু আমি মনে করি মিরাজকে একজন পারফরমার হিসেবে আমাদের বেশি প্রয়োজন। তাঁকে আমরা ব্যাটিং ও বোলিংয়ে যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, বর্তমানে তাতে কিছুটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই সে তার পূর্ণ ছন্দে ফিরে আসুক।’


এ নিয়ে মিরাজের সঙ্গে কথা হয়েছে বিসিবি সভাপতির। বিসিবির ভাবনাটা তিনি বুঝতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছেন তামিম।