বিশ্বকাপে জুড বেলিংহ্যামের (ডানে) গোল বেড়ে দাঁড়ালো ছয়টি
আসরজুড়ে একের পর এক চমক জাগানো নরওয়ে এখানেও প্রথমে চমকে দিল ইংল্যান্ডকে। সেই ধাক্কা সামলে, দলকে পথ দেখালেন জুড বেলিংহ্যাম। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে করলেন জোড়া গোল। তারকা মিডফিল্ডারের কাঁধে চেপে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠল টমাস টুখেলের দল। মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে শেষ হওয়া কোয়ার্টার-ফাইনালে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয় ২-১ গোলে। প্রথমার্ধে আন্দ্রেয়াস শেলদেরিপকের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে।
কখনও নকআউট পর্বে কোনো জয় না পাওয়া নরওয়ে এবার ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়। এই দলটিই আসরের শুরু থেকে দারুণ সব পারফরম্যান্সে চমকে দেয় সবাইকে। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে উঠে শেষ বত্রিশে তারা হারায় আইভরি কোস্টকে। ইউরোপের দলটি এরপর বিদায় করে দেয় রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।
নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে নেমে, ফেভারিট ইংল্যান্ডেরও চোখে চোখ রেখে লড়াই করল নরওয়ে। পজেশন রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও প্রায় সমানে-সমান তারা। গোলের জন্য দলটির ১৩ শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল, ইংলিশদের ১৪ শটের আটটি থাকে লক্ষ্যে। ম্যাচের শুরুর দিকে চিত্র অবশ্য ভিন্ন ছিল। বল দখলে রাখা ও আক্রমণ, দুইভাবেই শুরু থেকে চাপ তৈরি করে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও, তাদের গোলরক্ষককে অবশ্য তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারছিল না তারা।
প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক থেকে ফেরার পরই বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় ইংলিশরা। তবে, ডি-বক্সের বাইরে থেকে হ্যারি কেইনের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। প্রথম ২৫ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সের বাইরে ব্যস্ত সময় কাটানো নরওয়ে এরপর, একটু একটু করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। ৩৪তম মিনিটে ডি-বক্সে জন স্টোন্সের একটু ভুলে বিপদে পড়তে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। তাদের ভাগ্য ভালো, কাছেই থাকা আর্লিং হলান্ড বল পাওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে নেন পিকফোর্ড। পরের মিনিটে দারুণ পজিশনে বল পেয়ে গোলরক্ষক বরাবর হেড করেন হলান্ড।
তবে ওখান থেকে পাল্টা আক্রমণ শাণানোর চেষ্টায়, প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জে নিজেদের সীমানায় বল হারিয়ে ফেলেন কেইন। এরপর, সতীর্থের পাস ধরে মার্টিন ওদেগোর এগিয়ে যান এবং বল বাড়ান শেলদেরিপকে। ২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গার ডি-বক্সে ঢুকেই নেন জোরাল শট, প্রতিপক্ষকে হতচকিত করে পিকফোর্ডের ওপর দিয়ে গিয়ে দূরের পোস্টে লেগে বল জালে জড়ায়।
বিশ্বকাপে এটা তার প্রথম গোল। জাতীয় দলের হয়ে ১৮ ম্যাচে তার গোল হলো দুটি। পরের কয়েক মিনিটে আরও কয়েকবার ইংলিশ রক্ষণে ভীতি ছড়ায় নরওয়ে। ৪৪তম মিনিটে গতিময় এক প্রতি-আক্রমণে নিশ্চিত সুযোগ পান আলেকসান্দের সর্লথ। ডি-বক্সের মুখে তার বাঁ পাশে অরক্ষিত ছিলেন হলান্ড, সামনে ডিফেন্ডার একজন; কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড পাস দিতে কিংবা দ্রুত শট নিতেও পারেননি!
এরপরই, যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বেলিংহ্যামের দারুণ নৈপুণ্যে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ইংল্যান্ড। গর্ডনের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে, প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে জায়গা বানিয়ে জোরাল কোনাকুনি শটে সমতা টানেন রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার।
তবে, গোলটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কারণ, নরওয়ের গোলরক্ষক আরিয়ান হশল নিলাদের গোলকিকে বল মাঝমাঠে হাওয়ায় থাকা অবস্থায় স্কাই ক্যামেরার তারে লাগে, এবং বল ধরে আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড এবং দুই সতীর্থের পা ঘুরে বল পেয়ে গোলটি করেন বেলিংহ্যাম। গোলের পর নিলাদ, হলান্ড ও নরওয়ের কোচ বিষয়টি নিয়ে রেফারির কাছে আপত্তি জানান, তবে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি।
প্রথমার্ধের একদম শেষ সময়ে জালে বল পাঠিয়েছিলেন কেইন; কিন্তু তিনি নিজেই অফসাইডে থাকায় মেলেনি গোল। দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে কর্নারে গোলমুখে বল পেয়ে জালে পাঠান নরওয়ের ডিফেন্ডার তুরবিয়ন হেইগ্যাম। তবে, কর্নারের আগেই হলান্ড ইংলিশ মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করায় এখানেও মেলেনি গোল। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর, প্রতিপক্ষের ওপর বেশ চাপ বাড়ায় নরওয়ে। ভাগ্য সহায় হলে, ৭৫তম মিনিটে আবার এগিয়েও যেতে পারতো তারা, কিন্তু ক্রিস্তোফের আয়েরের হেড পিকফোর্ডকে পরাস্ত করলেও বাধা পায় ক্রসবারে।
নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে গোলমুখে বিপজ্জনক বল বাড়ান বুকায়ো সাকা; কিন্তু প্রতিপক্ষের এবেরেচি এজের পায়ে যাওয়ার আগেই ক্লিয়ার করেন নরওয়ে ডিফেন্ডার। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোলরক্ষকের মুহূর্তের ভুলে বিপাকে পড়তে বসেছিল নরওয়ে। কিছুটা সময় নিয়ে যখন শট নেন আরিয়ান হশল নিলাদ, ঠিক ওই সময়ে সামনেই থাকা জেড স্পেন্স পা বাড়িয়ে দেন, বল তার পায়ে লেগে পোস্টের বাইরে যাওয়ায় বেঁচে যায় আসরে চমক জাগানো দলটি।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে কেইনের কোনাকুনি হেড ঝাঁপিয়ে কোনোমতে রুখে দেন নিলাদ; কিন্তু দলকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। বরং পরক্ষণে তার দুর্বলতার সুযোগেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। মর্গ্যান রজার্সের জোরাল শট নাগালে থাকলেও, বল গ্লাভসে নিতে পারেননি গোলরক্ষক, তার হাত থেকে ছুটে যাওয়া বল ছুটে গিয়ে জালে পাঠান বেলিংহ্যাম।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এই মিডফিল্ডার। আসরে তার মোট গোল হলো ছয়টি। ৯৯তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্পেন্স; কিন্তু অস্কার ববের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে ভিএআরের সুপারিশে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। অতিরিক্ত সময়ের বিরতিতে হলান্ডকে তুলে নেন কোচ স্তলে সুরবাকেন। বদলি নামেন ইয়োর্গেন স্ত্রান্দ লারসেন।
শেষ কয়েক মিনিটে মরিয়া হয়ে চেষ্টাও করে নরওয়ে; কিন্তু লড়াইয়ে আর নাটকীয়তা ফেরাতে পারেনি তারা। এই নিয়ে চতুর্থবার কোয়ার্টার-ফাইনালের বাধা পার হতে পারল ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, ১৯৯০ ও ২০১৮ আসরে সেমি-ফাইনালে শেষ হয়েছিল তাদের যাত্রা।
জিনেদিন জিদান
ফ্রান্স ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। কোচ হিসেবে দেশের মাটিতে তার প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এক দিনেরও কম সময়ে!
আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের কোনো টিকিট আর বাকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে তো বটেই, কোচ জিদানের জন্যই যে এত আগ্রহ সেটা না বললেও চলছে। এই ম্যাচের তিন দিন পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের দল, ম্যাচটি হবে বেলজিয়ামে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি জানিয়েছে, সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়ে গেছে!
রোনালদো–জর্জিনা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।
এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।
আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত