বিশ্বকাপ ফুটবল দেখানো নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে
১৮ ডিসেম্বর, ২০২২। রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) আঙিনায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা। ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে চিৎকার বলে উঠলেন, ‘গোল’। ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এই উন্মাদনা পুরোনো।
তবে ২০২২ সালে তা নজরে পড়েছিল বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফিফারও। ঢাকায় ফুটবল উন্মাদনার কয়েকটি ছবি ফিফা নিজেদের ফেসবুক পেজে দিয়ে লিখেছিল, ‘ফুটবলের মতো আর কোনো কিছুই মানুষকে একত্রে নিয়ে আসে না।’
চার বছর পর আগামী ১১ জুন তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বাংলাদেশে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে যে এবার এ দেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবে কি না।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব এখনো কিনতে পারেনি। বেসরকারি কোনো টেলিভিশন চ্যানেল অথবা ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যম ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্প্রচার স্বত্ব এখনো কেনেনি। ফলে খেলা দেখানো অনিশ্চিত।
২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখিয়েছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি। এই চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু প্রথম আলোকে বলেন, দেশে টিভি চ্যানেল বা ওটিটি খেলা না দেখালে মানুষ খেলা দেখতে পারবে না।
কারণ, বিদেশি চ্যানেলগুলো অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশের বাইরে খেলা সম্প্রচার করতে পারবে না বলে নিয়ম করে দিয়েছে ফিফা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে খেলা দেখানোর জন্য কেউ সম্প্রচার স্বত্ব কেনেনি।
বাংলাদেশে এবার বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড’। বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকে স্বত্ব কিনে বাংলাদেশে খেলা সম্প্রচার করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি প্রতি আসরের বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার করে। বিটিভির দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলেছে, সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি তাদের কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা চেয়েছে। করসহ তা দাঁড়াবে ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
শর্ত অনুযায়ী এই অর্থের ৫০ শতাংশ ১০ মের মধ্যে এবং বাকিটা ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশে সাধারণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব কেনে। তারপর তারা টেলিভিশনের মাধ্যমে তা প্রচার করে। বিজ্ঞাপন থেকে তারা আয় করে।
বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’ (যারা সম্প্রচার স্বত্ব পেত, তারা বিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচার করত) আওতায় কোনো খরচ ছাড়াই বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল বিটিভি। তবে ২০২২ সালে এই নীতিমালা বাতিল হয়ে যায়। ফলে ওই বছর বিশ্বকাপের আগে শেষ মুহূর্তে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে অর্থ বরাদ্দ পায় বিটিভি। তখন ‘বিশেষ বাজেটে’ ৯৮ কোটি টাকা খরচ করে সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল তারা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুরের স্প্রিংবক বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির জন্য প্রথমে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাব বিটিভির কাছে পাঠায়। গত এপ্রিলে বিটিভি স্প্রিংবকের কাছে সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য জানতে চায়। তখন স্প্রিংবকের পক্ষ থেকে ১৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়।
বিটিভি সূত্রের দাবি, এত বেশি খরচ দেখে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিভিকে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়, যাতে বিনা মূল্যে দেখানোর সুযোগ পাওয়া যায়।
এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ফিফাকে দুটি ই-মেইল পাঠিয়েছে বিটিভি। এর কোনোটিরই জবাব দেয়নি ফিফা। ফলে বিটিভিতে খেলা দেখানো অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিটিভির ই-মেইলের বিষয়টি নিয়ে জানতে ফিফার মিডিয়া বিভাগের কাছে মঙ্গলবার ই-মেইল করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৪ মের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের মতো চীন ও ভারতেও বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। দুটি দেশেই সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেদনে ফিফার একটি বিবৃতিও উদ্ধৃত করা হয়েছে। সেখানে ফিফা বলছে, ‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এ পর্যায়ে এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা প্রয়োজন।’
বেসরকারি খাতে অনাগ্রহ
বাংলাদেশে ২০২২ সালে সম্প্রচার ও স্বত্ব কেনার সঙ্গে যুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা এবার উদ্যোগ নিচ্ছে না। এমনকি তাদের জানামতে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের কেউ স্বত্ব কেনার জোরালো চেষ্টা করছে না। তাদের যুক্তি হলো, এবার খেলা হবে গভীর রাতে ও ভোরে। সে সময় দর্শক কম থাকবে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও খুব একটা ভালো নয় যে বিপুল বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে।
২০২২ সালের বিশ্বকাপে ডিজিটাল স্ট্রিমিং করেছিল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বত্ব কেনা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন তাঁরা।
তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে পারবে না-এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছে। তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের অ্যাজেন্ডায় এই বিষয়টি রয়েছে।’
মূল্য নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী স্প্রিংবক
ফিফার কাছ থেকে নেওয়া স্প্রিংবকের প্যাকেজে টেলিভিশন, রেডিও, মুঠোফোন ও ইন্টারনেটে সম্প্রচারের স্বত্ব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে, প্রতিষ্ঠানটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা নিজেরাও ফিফার কাছ থেকে উচ্চমূল্যে এই স্বত্ব কিনেছেন। সেখানে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় ছিল।
বিটিভির বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা বিটিভিকে মূল্যের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু বিটিভি কোনো পাল্টা প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বলেন, এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে তারা গ্রহণযোগ্য হারে মুনাফা রেখে এই স্বত্ব দিতে রাজি।
বিশ্বকাপ ফুটবল মাঠে গড়াতে বাকি আর এক মাস। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলা দেখাতে চাইলে দ্রুত আলোচনা শুরু করতে হবে। সময় নষ্ট করলে বঞ্চিত হবে মানুষ। এ ক্ষেত্রে এখন সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমরা ফুটবল লাভিং নেশন (ফুটবলপ্রেমী জাতি)। এখানে বিশ্বকাপ দেখানো হবে না, এটা তো চিন্তাই করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমরা অবশ্যই আশা করব, যেকোনো মাধ্যমে হোক বিশ্বকাপ বাংলাদেশে দেখানো হবে। সেটা সরকার হোক, বেসরকারি হোক, যেভাবেই হোক না কেন; বিশ্বকাপ দেখাতেই হবে বাংলাদেশে।’
জিনেদিন জিদান
ফ্রান্স ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। কোচ হিসেবে দেশের মাটিতে তার প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এক দিনেরও কম সময়ে!
আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের কোনো টিকিট আর বাকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে তো বটেই, কোচ জিদানের জন্যই যে এত আগ্রহ সেটা না বললেও চলছে। এই ম্যাচের তিন দিন পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের দল, ম্যাচটি হবে বেলজিয়ামে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি জানিয়েছে, সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়ে গেছে!
রোনালদো–জর্জিনা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।
এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।
আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত