ক্রিস ওকস।
দুই রান হতে পারত একটু চেষ্টা করলেই। কিন্তু সিঙ্গল নিয়েই থেমে গেলেন ক্রিস ওকস। চ্যালেঞ্জটা তিনি নিজেই নিলেন। শেষ বলে মারতে হবে ছক্কা। ক্রিকেটীয় সমীকরণে কঠিনতম কাজগুলির একটু। গোটা স্টেডিয়াম তখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায়। ফাহিম আশরাফ বল করলেন অফ স্টাম্পের বাইরে। ওকস চালিয়ে দিলেন ব্যাট।
শট খেলেই তিনি বুঝে গেলেন, হাত উঁচিয়ে ইশারা করলেন বলের দিকে। সেই বল এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ডানা মেলে আশ্রয় নিল গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের গ্যালারিতে।
১২ মৌসুমের পথচলায় অনেক স্মরণীয় ম্যাচের স্বাক্ষী হয়েছে বিপিএল। সেই তালিকায় ওপরের দিকে জায়গা করে নিল এই ম্যাচ। রোমাঞ্চে টইটম্বুর ম্যাচে শেষ বলের ছক্কায় নায়ক ক্রিস ওকস।
দুদিন আগে দলে যোগ দিয়ে মৌসুমে প্রথমবার খেলতে নামা ইংলিশ অলরাউন্ডার বল হাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। এরপর ব্যাট হাতেও শেষ সময়ে গড়ে দিলেন ভাগ্য। ৩ উইকেটের জয়ে ফাইনালের লড়াইয়ে টিকে রইল সিলেট টাইটান্স। গতবারের মতোই এলিমিনেটর থেকে বিদায় নিল ফেভারিট রংপুর রাইডার্স।
বিপিএলে শেষ ওভারে চার ছক্কা মেরে জয়ের ঘটনা আছে। শেষ ওভারে ২৬ রান দিয়ে জয়ের কৃতিত্ব আছে। তবে এক বলে ছয় রান প্রয়োজন, সেখান থেকে জয়ের নজির এটিই প্রথম।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রংপুর ২০ ওভারে করতে পারে ১১১ রান।
তিন ম্যাচ পর একাদশে ফিরে দারুণ বোলিংয়ে চার উইকেট শিকার করেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ। দুটি করে উইকেট নেন ওকস ও নাসুম আহমেদ।
উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য দুরূহ ছিল, তার পরও এতটা উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হবে, মাঝ বিরতিতে এটা ভাবতে পেরেছিলেন কম জনই। রোমাঞ্চের নানা পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত শেষ বলে জয় পায় সিলেট।
উইকেটে বাউন্স ও মুভমেন্ট দেখা যায় ম্যাচের প্রথম ওভার থেকেই। সময়ের সঙ্গে দেখা যায়, উইকেট কিছুটা মন্থরও। বল থমকে এসেছে ব্যাটে।
তবে প্রথম উইকেটে দায় ছিল কেবলই ব্যাটসম্যানের। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে খালেদের অনেক বাইরের ডেলিভারিতে জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তাওহিদ হৃদয় (৬ বলে ৪)।
পরের ওভারে ওকসে বলের বাজে শটে উইকেট হারান দাভিদ মালান (৯ বলে ৪)।
অধিনায়ক লিটন কুমার দাসও (৪ বলে ১) দ্রুতই অনুসরণ করেন দুই ওপেনারকে। আসরে ১১ ম্যাচ খেলে কোনো ফিফটি করতে পারলেন না বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি কাইল মেয়ার্সও। পাওয়ার প্লে শেষ হতেই সালমান ইরশাদকে উড়িয়ে মেরে ধরা পড়েন তিনি কাভার সীমানায় (১৩ বলে ৮)।
৩০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ চেষ্টা করেন পাল্টা আক্রমণের। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই মইন আলিকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ, মইন আলিকে দুটি ও মেহেদী হাসান মিরাজকে একটি ছক্কা মারেন খুশদিল।
তবে দুজনের কেউ পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। খুশদিলকে (১৯ বলে ৩০) থামিয়ে সম্ভাবনাময় জুটি থামান নাসুম।
মাহমুদউল্লাহ এরপর কিছুটা আশা দেখান দলকে। টানা দুই বলে ছক্কা ও চার মারেন তিনি মইনকে। পরের ওভারে তার পথচলাও থামে নাসুমের বলে (২৬ বলে ৩৩)।
এরপর নুরুল হাসান সোহান কিছুক্ষণ টিকে থেকে মৌসুমে প্রথমবার দুঅঙ্ক স্পর্শ করেন। তবে পারেননি তেমন কিছু করতে। খালেদ দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে এক ওভারেই ফেরান সোহান (২৪ বলে ১৮) ও ফাহিম আশরাফকে ( ৫ বলে ৩)।
ওকসের ইয়র্কারে বোল্ড হন আলিস আল ইসলাম। শেষ ওভারে নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমানের কাউকে আউট করতে না পারায় প্রথমবার ৫ উইকেট হয়নি খালেদের।
এই পুঁজি নিয়ে রংপুরের প্রয়োজন ছিল শুরুতেই উইকেট। মৌসুমে প্রথমবার নতুন বল তুলে দেয় তারা মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে। দলের দাবি মিটিয়ে উইকেটও এনে দেন তিনি প্রথম ওভারেই। বিদায় নেন তৌফিক খান তুষার।
সেই ধাক্কা সামলে পারভেজ হোসেন ইমন ও আরিফুল ইসলাম এগিয়ে নেন দলকে। পরের চার ওভারে পাঁচটি বাউন্ডারি আসে দুজনের ব্যাট থেকে।
আলিস আল ইসলাম আক্রমণে এসে আবার বদলে দেন প্রেক্ষাপট। তার দুই ওভারে দুর্দান্ত দুটি ডেলিভারিতে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে আউট হয়ে যান পারভেজ (১২ বলে ১৮) ও আফিফ হোসেন (৯ বলে ৩)।
আলিসের দুই উইকেটের মাঝে নাহিদ রানার শিকার হন আরিফুল (১৮ বলে ১৭)।
৮ ওভার শেষে সিলেটের রান তখন ৪ উইকেট ৪৪।
টালমাটাল সেই দলের হাল ধরেন স্যাম বিলিংস ও মিরাজ। দুজনের কেউই খুব সাবলিল ছিলেন না, ধুঁকেছেন বারবার। তবে উইকেট হারাননি। চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে দুজন এগিয়ে নেন দলকে।
দুজনের ৫০ রানের জুটিতে বল লাগে ৫৪টি। এই ম্যাচের জন্য এটিই ছিল কার্যকর।
২৩ বলে ১৮ রান করে স্টাম্পড হন মিরাজ।
আগের দিন দলে যোগ দেওয়া বিলিংস পরিস্থিতি বুঝে নিজের সহজাত ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আপস করে আঁকড়ে রাখেন উইকেট। ৩২ বল খেলেও কোনো বাউন্ডারি ছিল না তার। পরে রিভার্স সুইপে ছক্কা মারেন খুশদিলকে।
কিন্তু দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ১৫ রান, ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে উড়িয়ে মারেন তিনি মুস্তাফিজকে। মিড উইকেট সীমানায় দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচ নেন হৃদয়। ইংলিশ ব্যাটসম্যান ফেরেন ৪০ বলে ২৯ রান করে।
ওভারের বাকি পাঁচ বলে আসে ছয় রান। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৯ রানের।
প্রথম বলে ওয়াইড লং অনে পাঠিয়ে দুটি রান নেন মইন। পরের দুই বলে বড় শটের চেষ্টায় তিনি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। এরপর আবার হাঁকাতে গিয়ে তিনি বল তুলে দিলেন ওপরে। শর্ট থার্ড ম্যানে আলিস ক্যাচ নিতেই উল্লাসে মেতে উঠলেন রংপুরের ক্রিকেটাররা। ডাগআউটে গর্জে উঠলেন কোচ মিকি আর্থার।
এরপর পঞ্চম বলে সেই সিঙ্গল ও শেষ বলে ওকসের বীরোচিত শটে নাটকীয় জয়। খ্যাপাটে দৌড়ে মাঠে ছুটে গেলেন অধিনায়ক মিরাজ, বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠলেন সতীর্থরা।
উল্টো চিত্র রংপুরের। আলিস শুয়ে রইলেন মাটিতে, সোহান লাথি মারলে মাঠে, অন্যরা যেন হতভম্ব।
ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বুধবারই সিলেট খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দলের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১১১/৯ (মালান ৪, হৃদয় ৪, লিটন ১, মেয়ার্স ৮, খুশদিল ৩০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, সোহান ১৮, ফাহিম ৩, আলিস ৪, মুস্তাফিজ ২*, নাহিদ ২*; ওকস ৪-০-১৪-২, খালেদ ৪-০-১৫-৪, মইন ৪-০-৩৯-০, ইরশাদ ৩-০-১৯-১, মিরাজ ১-০-১১-০, নাসুম ৪-০-১২-২)।
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১১২/৭ (তৌফিক ২, পারভেজ ১৮, আরিফুল ১৭, আফিফ ৩, বিলিংস ২৯, মিরাজ ১৮, মইন ৫, ওকস ১০*, খালেদ ১*; মুস্তাফিজ ৪-০-২০-২, ফাহিম ৪-০-২৮-১, নাহিদ ৪-০-২১-১, আলিস ৪-০-১৮-২, খুশদিল ৪-০-২১-১)
ফল: সিলেট টাইটান্স ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
জিনেদিন জিদান
ফ্রান্স ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়েছেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। কোচ হিসেবে দেশের মাটিতে তার প্রথম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এক দিনেরও কম সময়ে!
আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইতালির মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ঐতিহাসিক ‘স্তাদ দ্য ফ্রান্স’ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের কোনো টিকিট আর বাকি নেই বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে তো বটেই, কোচ জিদানের জন্যই যে এত আগ্রহ সেটা না বললেও চলছে। এই ম্যাচের তিন দিন পর টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে জিদানের দল, ম্যাচটি হবে বেলজিয়ামে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম আরএমসি জানিয়েছে, সেই ম্যাচেরও প্রথম ক্যাটাগরির সামান্য কয়েকটি টিকিট ছাড়া সব বিক্রি হয়ে গেছে!
রোনালদো–জর্জিনা
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজের বহুদিনের সম্পর্ক এবার বিয়ের পরিণতি পেতে যাচ্ছে। আগামী শনিবার পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো নিজ জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জর্জিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত বেলা তিনটায় শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে শহরের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা স্যাভয় প্যালেস হোটেলে।
এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রা শহরের বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এ সপ্তাহান্তেই বিয়ে করবেন এই জুটি। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের অতিথিদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে শুক্রবার ও শনিবার হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শুধু বিয়ের ভেন্যুই নয়, রোনালদোর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি শহর। সেখানেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শহরে তাঁর সম্মানে একটি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি তাঁর নামে একটি হোটেলও আছে।
আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় ভাইবোনদের সঙ্গে একটি ঘর ভাগাভাগি করে থাকতে হতো তাঁকে। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে যোগ দিতে। জন্মভূমিতে ফিরে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত তাই তাঁর কাছে আবেগেরও।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন রোনালদো। ২০১৬ সালে একটি বিলাসবহুল ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকে শুরু হয় প্রেম। গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো।
সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়টে ওঠার সময় দুজনকেই হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা বিয়ের গুঞ্জন আরও জোরালো করে।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই বিয়ে করবেন বলে আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রোনালদো। গত মাসে বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেয়, পরে শিরোপা জেতে স্পেন। এরপরই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসার শুরু করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত