শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেটে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ
তখনও গ্যালারিতে দর্শক হাজার দশেক। রোমাঞ্চ-উত্তেজনার বিস্ফোরণে যেন ফেটে পড়ছিল গোটা মাঠ। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বলে অ্যাডাম জ্যাম্পার ড্রাইভে বল সীমানার দিকে যেতেই নেমে এলো পিন পতন নীরবতা। অভাবনীয় এক জয়ের যে আশা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। এভাবেও ম্যাচে ফেরা যায়!
দর্শকদের কেউ কেউ বাড়ির পথ ধরেছেন তখন, হাল ছেড়ে দিয়েছেন মাঠে থাকা আরও অনেকে। সবাইকে হুট করে থমকে দাঁড়াতে হলো কিছুক্ষণের জন্য। শরীফুল ইসলাম যে পরপর দুই বলে ২ উইকেট তুলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার নেই ৭ উইকেট! কাজটা তখনও বাংলাদেশের জন্য কঠিন। ৩০ বলে অস্ট্রেলিয়ার দরকার কেবল ৯ রান। তবু শরীফুলের জাগিয়ে দেওয়া বিশ্বাসের বার্তাটা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। পরের প্রতিটি বলেই কৌতূহলী চোখ, এই বুঝি কী হলো!
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চোখেমুখে তখন হতাশার আঁধার, ২২ গজে জ্বলজ্বল করছিল শুধু দুই অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের চওড়া হাসি। কুপার কনোলির মহাকাব্যিক ১৪৯ রানের সঙ্গে শরিফুল ইসলামের ৬ উইকেটে ম্যাচ পৌঁছে গিয়েছিল রোমাঞ্চকর এক মোড়ে। কিন্তু শেষ ওভারের ফয়সালায় শেষ পর্যন্ত পেরে উঠল না বাংলাদেশ। ১ উইকেটের জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। শেষের অমন নাটকীয়তার আধঘণ্টা আগেও ম্যাচে অনায়াস জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া।
শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল তাদের স্রেফ ৯ রান, উইকেট তখনও পাঁচটি। কিন্তু ম্যাচে ভিন্ন আবহের দোলা দিলেন শরিফুল। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে পূর্ণ করলেন তিনি ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট। পরে আরও এক উইকেট নিয়ে ম্যাচ আরও জমিয়ে তুললেন এই বাঁহাতি পেসার। বাংলাদেশ তখন যেন রক্তের স্বাদ পেয়ে তেতে উঠেছে আরও। প্রবল চাপে পড়ে আরও খেই হারাল অস্ট্রেলিয়া। মুস্তাফিজুর রহমানের অনেক বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনলেন কনোলি।
গর্জনে ফেটে পড়ল চারপাশ। উইকেট তখণ বাকি একটি, রান লাগে তখনও চার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাসকিন পারলেন না শেষ ওভারে দলকে স্মরণীয় এক জয় এনে দিতে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ তোলে ৫০ ওভারে ২৭৪ রান। ৮৮ বলে ৮৩ রান করেন তাওহিদ হৃদয়, ফিফটি করেন লিটন কুমার দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন। রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া জিতে যায় তিন বল বাকি রেখে।
ইনিংস শুরু করতে নামা কনোলি দেখিয়েছেন, কেন তাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের এত আশা। একার হাতেই দলকে এগিয়ে নেন ২২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৩৪ বলে করেন তিনি ১৪৯। শেষের ওই উত্তেজনার পরও বলা যায়, কনোলি একাই হারিয়ে দিলেন বাংলাদেশকে। ২৭৫ রান তাড়ায় একজনই দেড়শ ছাড়িয়ে গেলে বাকি আর থাকে কী! কনোলির কারণেই হোয়াইটওয়াশড হলো না অস্ট্রেলিয়া।
সিরিজে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচ দুটির তুলনায় উইকেটে এ দিন ঘাস ছিল একটু কম। তবে নতুন বলে পেসারদের সহায়তা ছিল ঠিকই। প্রথম ওভারেই প্রথম উইকেটের দেখা পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জেভিয়ার বার্টলেটের বলে আলগা ড্রাইভে বল স্টাম্পে টেনে আনেন সৌম্য সরকার। সেই ধাক্কা সামাল মোটামুটি সামলে নেন তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। জুটি থেমে যায় অর্ধশত পেরিয়েই।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আক্রমণে আসা স্পিনার ম্যাট রেনশকে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন তানজিদ (২০ বলে ১৯)। এতে রানের গতি যায় থমকে। পরের ৫ ওভারে রান আসে ৯। এর মধ্যেই রেনশকে সুইপ করার চেষ্টায় উইকেট হারান শান্ত (৫০ বলে ২৪)। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়া দলকে ভরসা জোগান লিটন ও হৃদয়।লিটন শুরুতে টাইমিং করতে ভুগলেও উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকেন। প্রথম বাউন্ডারি মারতে বল খেলেন তিনি ২৮টি।
হৃদয় ক্রিজে গিয়ে রানের চাকা সচল করেন। ফর্মে থাকলেও ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না তিনি সাম্প্রতিক সময়ে। ওয়ানডেতে আগের ১৫ ইনিংসে তার ফিফটি পাঁচটি। তবে প্রতিটিতেই আটকে পড়েন ৬০ ছোঁয়ার আগে। আরও ২৫ ছুঁয়ে ফিফটি করতে পারেননি আরও সাত ইনিংসে। সেই জাল ছিড়ে এবার ইনিংস টেনে নিতে পারেন তিনি। লিটন একটা পর্যায়ে ধুঁকছিলেন পায়ে ক্র্যাম্প করায়। তার রান যখন ফিফটির কাছে আর শতরানের কাছে জুটি, খেলা আর চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ৯৫ রানের জুটিতে দলের ভিত তখন শক্ত হয়েছে বেশ। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মোসাদ্দেক হোসেন সেই ফর্মকে বয়ে আনেন এই ম্যাচেও। ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে রানের গতিতে দম দেন তিনি। হৃদয়ের ব্যাট তখন আরও সাবলিল। দুজনের জুটিতে ৯০ রান আসে ৮১ বলে।
বেন ডোয়ার্শাসকে উড়িয়ে ফ্লিক করে হৃদয়ের ইনিংস থামে ৪৬তম ওভারে। এরপর শেষটা আর প্রত্যাশিত দ্রুততায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪৩ বলে ফিফটির পর একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েন মোসাদ্দেক। পরের ৮ বলে তিনি করতে পারেন মোটে ৬ রান। ৪৮তম ওভারে ফিরে ফিফটি পূরণ করেন লিটন। ১১ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মিরপুরে প্রথম ফিফটি পেলেন তিনি ২৮তম ইনিংসে। শেষ ওভারে লিটনের ছক্কার পরও শেষ ৫ ওভারে রান আসে মাত্র ৩২। একসময় মনে হচ্ছিল, রান হতে পারে তিনশর আশেপাশে। শেষ পর্যন্ত হয়নি ২৭৫ রানও। অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুটা ছিল আগ্রাসী। কনোলি ও জশ ইংলিস চার ওভারেই তুলে ফেলেন ৪০ রান।
নাহিদ রানার জায়গায় একাদশে ফেরা শরিফুল ইসলাম পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসেই জোড়া উইকেট এনে দেন দলকে। ইংলিস (১২ বলে ২১) ধরা পড়েন মোসাদ্দেকের হাতে, পায়ের পেছন দিয়ে বোল্ড হন রেনশ (০)। তাসকিনের বলে শর্ট কাভারে সৌম্যর দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ অল্পতে ফেরায় অ্যালেক্স কেয়ারিকেও। কিন্তু কনোলিকে থামানোর কোনো পথ পায়নি বাংলাদেশ। তার ব্যাটে রানের স্রোত থাকায় রান রেটের চাপে পড়তে হয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। তরুণ ব্যাটসম্যানকে সঙ্গ দেন অন্যরা। টানা তিনটি ষাটোর্ধ্ব জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান তিনি।
৬৪ রানের জুটি আসে মার্নাস লাবুশেনের (২৯) সঙ্গে, ৬৮ রানের জুটি ক্যামেরন গ্রিনকে (২৭) নিয়ে এবং সিরিজে প্রথম খেলতে নামা অলিভার পিকের (২৭) সঙ্গে জুটি ৬৪ রানের। তখনও পর্যন্ত ভাবা যায়নি, কত নাটক জমা আছে এই ম্যাচে! পিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙার পরের বলেই শরিফুল বোল্ড করেন দিলেন জেভিয়ার বার্টলেটকে। পরের ডেলিভারিতে হ্যাটট্রিক হলো না একটুর জন্য। এরপর নিজের বলে বেন ডোয়ার্শাসের ক্যাচ নিতে পারলেন না মুস্তাফিজ। পরের ওভারেই সেই ডোয়ার্শাস ক্যাচ ক্যাচ দিলেন পয়েন্টে। বাংলাদেশে পঞ্চম বোলার হিসেবে এক ম্যাচে ছয় উইকেটের স্বাদ পেলেন শরিফুল।
দুই বল পর সেটি হতে পারত প্রথম বোলার হিসেবে সাত উইকেট। কিন্তু জ্যাম্পার ব্যাটে ছোবল দিয়ে আসা বল গালিতে মুঠোয় জমাতে ব্যর্থ হলেন তানজিদ হাসান। ১৪৯ রানে দাঁড়িয়ে টানা তিন ওভারে স্ট্রাইক না পেয়ে আরেক প্রান্ত থেকে কনোলি দেখছিলেন সতীর্থদের আসা-যাওয়া। অবশেষে ৪৯তম ওভারে তিনি পেলেন স্ট্রাইক। কিন্তু তার অসাধারণ ইনিংসের সমাপ্তিও হলো হতাশা। ওভারের তৃতীয় বলে আলগা শটে যখন তিনি ড্রেসিং রুমের পথ ধরলেন, সুবাস সুবাস তখন পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে অপেক্ষা তখন আর একটি উইকেটের। শেষ পর্যন্ত মধুর সমাপ্তি হলো না। অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা আর আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের আটে ওঠাও হলো না। তবে ওয়ানডেতে ক্রমে উন্নতির পথে থাকা বাংলাদেশ পেল সামনের পথচলায় প্রেরণার অনেক রসদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৪ (সৌম্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, শেখ মেহেদি ৩; বার্টলেট ৮-০-৪৭-২, মেরেডিথ ৭-০-৪১-০, ডোয়ার্শাস ৮-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-২-১৮-০, রেনশ ৯-০-৪৪-২, জ্যাম্পা ১০-০-৪৮-০, লাবুশেন ২-০-১০-০)।
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ১৯, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, জ্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ৭.৩-১-৫৯-১, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৬-১, শরিফুল ১০-১-৪৮-৬, শেখ মেহেদি ১০-১-৩৭-১, তানভির ৭-০-৩৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুপার কনোলি
ম্যান অব দা সিরিজ: মোসাদ্দেক হোসেন
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত
নেইমার
ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।
১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।
অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।
নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে।
তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। অন্যদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাসহ স্পেনের এক ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষই চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে । ঘটনার পর তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে ফিফা।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ, এর একটি পরিপূর্ণ হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসৌজন্যমূলক আচরণের। একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।
ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
এর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা। উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন।
ব্যানার প্রদর্শনের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
ফাইনালের ঘটনার পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আর্জেন্টিনার আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বড় মাপের ফুটবলারদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’