ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ এএম

দ্বিতীয় দিনে দুই সেশনেই সমান ৪টি করে ৮টি উইকেট পাকিস্তানের তুলে নেয় বাংলাদেশ। চা বিরতির পর বাকি দুই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করছে স্বাগতিকরা ২৩২ রানে। এতে করে বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ৪৬ রানের। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সিলেটে বাংলাদেশের তাসকিন-মিরাজ-তাইজুল ও রানার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকবাহিনী। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। দুটি করে তাসকিন আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।


শেষ উইকেট হিসেবে সাজিদ খানকে থার্ড ম্যানে মিরাজের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান নাহিদ রানা। চা-বিরতির পর মাঠে খেলা ফিরলেও আঘাত হানেন নাহিদ। নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন ১০ রান করা খুররম শাহজাদকে। ক্যাচ দেন মাহমুদুল হাসান জয়কে। ২০৭ রানে ৯ উইকেট হারায় শান মাসুদের দল।


বিরতির আগে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের সবচেয়ে দামি উইকেটটা নিয়েছেন নাহিদ রানা। ৬৮ রান করা বাবর আজমকে ফেরান তিনি। নাহিদের ভ্যারিয়েশনে বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমকে। তার বিদায়ে ১৪২ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।


এরপর একে একে সালমান আলী আগা (২১), রিজওয়ান (১৩) ও হাসান আলীকে (১৮) সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে সিলেট টেস্টের চালকের আসনে নিয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। ফলে ১৮৪ রানে ৮ উইকেট হারায় পাকিস্তান।


প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। তাসকিন আহমেদে ও মেহেদি হাসান মিরাজের তোপে পড়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। সেই চাপ থেকে পাকিস্তানকে বের করে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন বাবর আজম। ৬৩ বলে করেন অর্ধশতকও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাটা পড়েছেন গতি তারকা নাহিদ রানার বলে।


দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটা বাংলাদেশের করে নেয় তাসকিন ও মিরাজ। দুজন মিলে শিকার করেছেন পাকিস্তানের ৪ উইকেট। এই সেশনের ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের বোর্ডে জমা হয় ৭৫ রান। সবমিলিয়ে সফরকারীদের বোর্ডে রান ৪ উইকেটে ৯৬। বাবর আজম ৩৭ ও সালমান আলী আগা অপরাজিত আছেন ৬ রানে।


দিনের শুরুটা তাসকিন করেন দারুণভাবে আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর মাধ্যমে। ৯ রান করা পাকিস্তানের ব্যাটারের এজ খুঁজে নেন তাসকিন। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডে ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারী পাকিস্তান। এই উইকেটে কৃতিত্ব দিতে হবে উইকেটকিপার লিটন কুমার দাসেরও। বাম পাশে দ্রুত ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে গ্লাভসে নেন বলটি। একটি চারে ৯ রান করা ফজল হতাশ হয়ে ফেরেন সাজঘরে।


এরপর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও ফেরান তিনি। দুই ওপেনারকেই আউট করে দিনের শুরুটা বাংলাদেশের করে নেন তাসকিন। ২৪ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি মুমিনুল হককে ক্যাচ দিয়ে। প্রথম দিনের শেষ বিকালে অফ সাইডে তিনটি চার মেরে ইঙ্গিত দেন আবারও দারুণ কিছু করার। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। ২৩ রান ২ উইকেট হারালো পাকিস্তান।


শান মাসুদ ও সৌদ শাকিলের উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৬১ রানে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ শর্ট কাভারে নাঈম হাসানকে ক্যাচ দেন মিরাজের বলে। ২১ রানে তার বিদায়ে ভাঙে বাবর আজমের সঙ্গে ৩৮ রানের জুটিও। সুবিধা করতে পারেননি শাকিলও। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে মাত্র ৮ রান আসে তার ব্যাটে। ৭৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান।


এর আগে, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষ বিকালে ৬ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ পায় পাকিস্তান। কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ২১ রান। ফলে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা পিছিয়ে আছে ২৫৭ রান।


আজম আওয়াইজ ১৩ ও ৮ রানে অপরাজিত আব্দুল্লাহ ফজল। তাসকিন, শরিফুল, মিরাজ ও নাহিদ এই ৬ ওভার বোলিং করলেও কোনো উইকেট পাননি তারা।


দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে সেঞ্চুরি করে উদ্ধার করেন লিটন কুমার দাস। দলের সংগ্রহ তিনশ পর্যন্ত নিতে না পারলেও কাছাকাছি নিয়ে গেছেন তিনি দলকে। অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৮ রান।


শেষ ব্যাটার হিসেবে রানের খাতা না খুলে আউট হয়েছেন নাহিদ রানা। হাসান আলীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন শরিফুল ইসলাম।


দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৬ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন তিনি। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ইনিংসে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। খুররম শাহজাদকে চার মেনে পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।


একেবারে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়েই এই সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এটি তার টানা দ্বিতীয় শতক। পাকিস্তানের মাটিতে ২০২৪ সালে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস।


এবারের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৬ চার ও ২ ছক্কায়। এই ইনিংস খেলার পথে তাইজুলের সঙ্গে গড়েছিলেন ৬০ রানের জুটি। তিনি আউট হয়েছেন ১৬ রান করে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে। তার বিদায়ে ১৭৬ রানে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।


এরপর দ্রুত ফিরে যান তাসকিন আহমেদও। খুররাম শাহজাদের চতুর্থ শিকার হয়ে স্লিপে সালমান আলী আগাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তাসকিন আহমেদ ৭ রান করে। ২১৪ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।


নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান আলীর বলে পুল করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দলীয় ২৭৮ রানে। এর আগে, শরিফুলের সঙ্গে গড়েন ৬৪ রানের জুটি।


সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ।


ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। আব্বাসের বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ হয়েছেন তিনি, খুলতে পারেননি রানের খাতা।


তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক টেস্টে শুরুটা ভালোই করেছিলেন। এগিয়ে যাচ্ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু ইনিংসটা বড় করতে পারলেন না। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে টপ এজ হয়েছেন তিনি। আব্বাস নিজেই ক্যাচ নেন।


৩৪ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আসে তানজিদের ব্যাট থেকে। দলীয় ৪৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।


সেট হয়ে গিয়েছিলেন আগের টেস্টে জোড়া হাফসেঞ্চুরি করা মুমিনুল হক। তবে খুররম শেহজাদের দারুণ এক ডেলিভারিতে লাইন মিস করেন তিনি, বল লেগে উড়ে যায় স্টাম্পের বেল। ৪১ বলে ৩ চারের সাহায্যে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ৬৩ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।


৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর দ্রুত সাজঘরে ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ।


মোহাম্মদ আব্বাসের দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হয়েছেন শান্ত (২৯)। আরেক সেট ব্যাটার মুশফিককে (২৩) এলবিডব্লিউ করেন খুররম শেহজাদ। খুররমের তৃতীয় শিকার হন মিরাজ। মাত্র ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।


পাকিস্তানের হয়ে খুররম ৪টি, আব্বাস ৩টি, দুটি হাসান আলী ও একটি উইকেট নেন সাজিদ খান।




কাজী সালাউদ্দিন

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।


দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।


সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।


এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ এএম

বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।


বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’


গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।


ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।


কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।


ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।


এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’


গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।


দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।


পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।


ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’


এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’


‘ভুল ব্যক্তি’

গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।


চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।


বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৯ পিএম

বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা। 


আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।


তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।


চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’


একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’


গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।


আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১১ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:১১ পিএম

জোহানেসবার্গে জমকালো এক লঞ্চিং ইভেন্ট দিয়ে ঘোষণা করা হলো ২০২৭ বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোর নাম। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ১২টি শহরের হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের চতুদর্শ আসর। এই বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড ও থিমও জানানো হয়েছে এই আয়োজনের মাধ্যমে।

২৪ বছর পর ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েতে। নামিবিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বাদ পাবে প্রথমবার।বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড চূড়ান্ত করা হয়েছে এবার ‘মেইক দা সার্কল বিগার’ এবং থিম হলো ‘থ্রি নেশন্স, ওয়ান হার্টবিট।’

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রায়েম স্মিথ, মাখায় এনটিনি, হাশিম আমলা, টেম্বা বাভুমা কাগিসো রাবাদার মতো সাবেক ও বর্তমান তারকারা। জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধি ছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, নামিবিয়ার ছিলেন রুডলফ ইয়ানেস ফন ফুরেন।

ইনান্ডা পোলো ক্লাবে এই বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন শীর্ষ ক্রিকেট কর্তারা। বিশ্বকাপের ব্র্যান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গোলাকার আফ্রিকান বাটি। দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে, এই স্বতন্ত্র, গোলাকার এবং সাংস্কৃতিকভাবে প্রতীকী বোনা বাটি ও ঝুড়িগুলো দৈনন্দিন জীবন ও ঐতিহ্যে ভূমিকা পালন করেছে, যা ঐতিহাসিকভাবে ফসল, উপহার এবং নৈবেদ্য নিবেদনের জন্য ব্যবহৃত হতো। এগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, সম্প্রদায় এবং আতিথেয়তার প্রতীক, যা দক্ষিণ আফ্রিকার পরিচয় ও আবেগের দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিকেট উদযাপনের জন্য বিশ্বকে এই বৃত্তে স্বাগত জানায়। এই বিশ্বকাপের লক্ষ্য হলো আফ্রিকার সেরা ক্রিকেট উপভোগ করার জন্য বিশ্বকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘মেইক দা সার্কল বিগার’ বা বৃত্তটিকে আরও বড় করা।

বিশ্বকাপের ৫৪ ম্যাচের বেশির ভাগই হবে অনুমিতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে আটটি শহরে হবে খেলা-জোহানেসবার্গ, সেঞ্চুরিয়ন, ডারবান, গেবেখা (আগে যেটির নাম ছিল পোর্ট এলিজাবেথ), কুগোম্পো সিটি (আগে যেটির নাম ছিল ইস্ট লন্ডন), কেপ টাউন, পার্ল এবং ব্লুমফন্টেইন।

ফাইনাল ম্যাচটি হবে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স কিংবা কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে।

জিম্বাবুয়েতে হবে সাত থেকে দশটি ম্যাচ। সেখানে মূল দুই ভেন্যু হারারে স্পোর্টস ক্লাব ও বুলাওয়ায়ো কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠের পাশাপাশি খেলা হবে ভিক্টোরিয়া ফলস স্টেডিয়ামে। ১০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এই বছরের শেষ নাগাদ স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হবে এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ হবে। আগামী বছরের শুরুতে সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের লক্ষ্য আছে।

নামিবিয়ার উইন্ডহুকে হবে অন্তত তিনটি ম্যাচ।

প্রস্তুতি ম্যাচগুলি হবে বেনোনি ও পচেফস্ট্রুমে। এই দুই ভেন্যু ও নামিবিয়া মিলিয়ে হবে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। আগামী বছরের শুরুতে হবে সেই বাছাইপর্ব। দক্ষিণ আফ্রিকার মূল ভেন্যুগুলো তখন ব্যস্ত থাকবে এসএ টোয়েন্টিতে। আগামী বছরের ৪ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টি ধরে রাখা হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য।


নেইমার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। 


১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।


অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।


দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।


নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে। 


তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ পিএম

বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। অন্যদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাসহ স্পেনের এক ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।


২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষই চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে । ঘটনার পর তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে ফিফা।


আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ, এর একটি পরিপূর্ণ হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।


আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসৌজন্যমূলক আচরণের। একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।


ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।


এর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা। উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করে।


ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন।


ব্যানার প্রদর্শনের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।


ফাইনালের ঘটনার পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আর্জেন্টিনার আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বড় মাপের ফুটবলারদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’