লিটন দাস
দ্বিতীয় টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইজ ১৩*, ফজল ৮*)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭৭ ওভারে ২৭৮/১০ ( শরিফুল ১২*; মাহদুমুল ০, তানজিদ ২৬, মুমিনুল ২২, শান্ত ২৯, মুশফিক ২৩, মিরাজ ৪, তাইজুল ১৬, তাসকিন ৭, লিটন ১২৬, নাহিদ ০)।
লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের। শুরুর বিপর্যয় ছাপিয়ে পরে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছেন তিনি। তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশ ইনিংসে সুবিধাজনক জায়গায় যেতে পেরেছে। দিনের সবচেয়ে আলোচিত ১২৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন তিনি। তার ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৭৮ রানে। পরে পাকিস্তান বিনা উইকেটে ২১ রানে প্রথম দিন শেষ করেছে। তারা এখনও ২৫৭ রানে পিছিয়ে। ১৩ রানে ব্যাট করছেন ওপেনার আজান আওয়াইজ। আব্দুল্লাহ ফজল ব্যাট করছেন ৮ রানে।
লিটনের আউটের পর ২৭৮ রানে শেষ বাংলাদেশের ইনিংস
পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ে ফিরেছে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারায় তারা। তাতে দুইশর নিচে অলআউটের শঙ্কাও জাগে।
কিন্তু কঠিন সেই সময়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন লিটন। লেজের দিকে টেলএন্ডারদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে ২৫০ রানের গণ্ডি পার করান তিনি। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০, তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৩৮ এবং শরিফুল ইসলামের সঙ্গে নবম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলকে সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে গেছেন।
অবশ্য এই সেঞ্চুরির পেছনে ভাগ্যও সহায় ছিল। ৫২ রানে আউট হতে পারতেন। পাকিস্তান রিভিউ না নেওয়াতে বেঁচে গেছেন। শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে হাসান আলীর বলে ১২৬ রানে ফিরেছেন। তার ১৫৯ বলের ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ২টি ছক্কা। তার আউটের সঙ্গে সঙ্গে ইনিংস শেষ হতেও সময় লাগেনি। হাসান আলী ওই একই ওভারে নাহিদ রানাকেও তুলে নিলে বাংলাদেশ ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানেই গুটিয়ে গেছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮১ রানে ৪ উইকেট নেন খুররম শাহজাদ। ৪৫ রানে ৩টি নেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৪৯ রানে দুটি নেন হাসান আলী। ৯৬ রানে একটি নেন সাজিদ খান।
১২৬ রানে থামলেন লিটন
একটা সময় ইনিংসের নিয়ন্ত্রণই হাতছাড়া হতে বসেছিল। সেখানে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে পুরো কৃতিত্ব লিটন দাসের। ষষ্ঠ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে অস্বস্তির বৃত্ত থেকে উদ্ধার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে থামতে হয়েছে তাকে। তাকে ফজলের ক্যাচ বানিয়েছেন হাসান আলী।
লিটনের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরি
সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে লিটন দাসের ব্যাটিংয়েই ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। যেখানে দুইশর নিচেই অলআউট হওয়ার শঙ্কা জেগেছিল সেখানে একার লড়াইয়ে দলের স্কোর আড়াইশ পার করেছেন লিটন। তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষেই এটি লিটনের তৃতীয় সেঞ্চুরি।
তাসকিনের আউটে পড়লো অষ্টম উইকেট
তাইজুলের বিদায়ের পর তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে আরও ৩৮ রানের জুটি গড়েন লিটন। তুলে নেন ২৮তম ফিফটি। লিটনের ব্যাটে স্কোরও ছাড়ায় দুইশ। ৬৪.১ ওভারে তাসকিনের (৭) বিদায়ে ভেঙেছে অষ্টম উইকেট জুটি। খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে সালমান আলীকে ক্যাচ দিয়েছেন তাসকিন। এটি ছিল খুররমের চতুর্থ উইকেট।
তাইজুলের বিদায়ে ভাঙলো ৬০ রানের জুটি
১১৬ রানে পড়েছিল ষষ্ঠ উইকেট। তার পর থেকে দুর্দান্ত জুটিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে থাকেন তাইজুল ইসলাম ও লিটন দাস। তাদের জুটিতে ভর করেই দ্বিতীয় সেশন পার করে বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় সেশনের পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি এই জুটি। তাইজুলকে (১৬) বোল্ড করে ৬০ রানের জুটি ভেঙেছেন সাজিদ খান। তাইজুলের বিদায়ে ১৭৬ রানে পড়েছে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট।
৬ উইকেট পতনের পর লিটন-তাইজুলের জুটি, চায়ের বিরতিতে বাংলাদেশ
লাঞ্চের আগে দলকে দারুণভাবে টেনে নিচ্ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাদের প্রতিরোধ ভাঙতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় তারা। সপ্তম উইকেট জুটিতে দলকে খেলায় ফেরাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম। ৫২ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে চায়ের বিরতিতে গেছেন তারা। দ্বিতীয় সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৬৮ রান। লিটন ব্যাট করছেন ৪২ রানে, তাইজুল ১১ রানে।
মিরাজের বিদায়ে পড়লো ষষ্ঠ উইকেট
লাঞ্চ থেকে ফিরেই ভীষণ বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ। শান্ত-মুশফিক ফিরেছেন। দলের বিপদের সময় প্রতিরোধ গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। ৩৮.২ ওভারে খুররম শাহজাদের তৃতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন তিনি। খুররমের বাউন্সারে শট খেলার চেষ্টায় ৪ রানে ক্যাচআউট হয়েছেন মিরাজ। তাতে ১৫ রানের মধ্যে দ্রুত পড়েছে ৩ উইকেট!
লাঞ্চের পর সাজঘরে শান্ত-মুশফিক
লাঞ্চের পর ভেঙে গেছে শান্ত-মুশফিকের ৪৩ রানের জুটি। আবারও বিপদে পড়েছে স্বাগতিকরা। ৩৩তম ওভারে সেই আব্বাসের বলেই কিপারের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক ৭৪ বলে ২৯ রানে ফিরেছেন। তার পর ৩৭তম ওভারে খুররম শাহজাদের বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার ৬৪ বলে ২৩ রানে আউট হয়েছেন। তাতে ১১০ রানের মথ্যে ৫ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিক দল।
প্রথম সেশনে পড়লো ৩ উইকেট, লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ। পরে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রথম সেশন শেষ করেছে স্বাগতিক দল। লাঞ্চ বিরতির আগে প্রথম ইনিংসে তাদের সংগ্রহ ২৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১০১।
শুরুতে মেঘলা আবহাওয়ায় টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। দারুণ ছন্দে থাকা শান্ত ৫১ বলে ২৬ রানে অপরাজিত আছেন। আর মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রান করে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে অবিচ্ছিন্ন ৩৮ রানে।
সিলেটে প্রথম দিন দ্বিতীয় বলেই আঘাত হানেন আব্বাস। তার আঘাতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ঘণ্টাতে চোট আঘাত পায় পাকিস্তানও। নিজের বলেই তানজিদ তামিমের ক্যাচ নিতে গিয়ে মাথা পিচে লেগে আহত হন পেসার হাসান আলী। পরে তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। যদিও পরে আবার মাঠে ফিরে বোলিং করেন তিনি।
অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তানজিদ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন শট খেলেছেন। তবে সেট হওয়ার পর উইকেট বিলিয়ে দেন এই বাঁহাতি। আব্বাসের বলে মিড-অনের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তাতে তানজিদ আউট হন ২৬ রানে। তানজিদের বিদায়ে ভাঙে তার ও মুমিনুল হকের ৪৪ রানের জুটি।
এরপর মুমিনুল ও শান্ত আবার ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। এবার খুররম শাহজাদের বলে বোল্ড হন মুমিনুল। ৪১ বলে ২২ রান করে ফিরতে হয় তাকে। এরপর অধিনায়ক শান্ত ও মুশফিক সতর্ক ব্যাটিংয়ে ইনিংস সামাল দেন।
বোল্ড হয়ে ফিরলেন মুমিনুল
প্রথম সেশনেই চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। দ্রুত সময়ে মুমিনুল হকও (২২) ফেরায় পতন হয়েছে তৃতীয় উইকেটের। ১৬তম ওভারে তাকে বোল্ড করেছেন খুররম শাহজাদ। মুমিনুলের ৪১ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।
অভিষেকে ২৬ রানে ফিরলেন তানজিদ
দ্বিতীয় বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের আউটের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক। তুলনামূলক আগ্রাসী ছিলেন তানজিদ। কিন্তু তাকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি মোহাম্মদ আব্বাস। বাজে শটে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন ২৬ রানে। তানজিদের ৩৪ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার। এটি ছিল আব্বাসের দ্বিতীয় উইকেট।
দিনের দ্বিতীয় বলেই আউট মাহমুদুল
দ্বিতীয় টেস্টে দিনের দ্বিতীয় বলেই ওপেনারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। বাংলাদেশ তাদের প্রথম উইকেট হারিয়েছে শূন্য রানে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, তানজিদের অভিষেক
মেঘলা আবহাওয়ায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট। প্রথম টেস্টে দাপুটে জয়ের পর সিরিজে পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ স্বাগতিক দল খেলতে নামছে। অবশ্য প্রথম টেস্টের মতো এবারও টস ভাগ্য সহায় হয়নি বাংলাদেশের। তাদের শুরুতে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান।
একাদশে কারা
অবশেষে দ্বিতীয় টেস্টে অভিষেক হচ্ছে ওপেনার তানজিদ হাসানের। সাদা বলে নিয়মিত এই ওপেনার এবার লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন। প্রথম টেস্টের একাদশ থেকে আরও একটি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের। পেসার এবাদত হোসেনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম। পাকিস্তানও পরিবর্তন এনেছে ৩টি। বাদ পড়েছেন ইমাম উল হক, শাহীন আফ্রিদি ও নোমান আলী। ফিরেছেন বাবর আজম, খুররম শাহজাদ ও সাজিদ খান।
বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও শরীফুল ইসলাম।
পাকিস্তান একাদশ: আজান আওয়াইজ, শান মাসুদ (অধিনায়ক), বাবর আজম, আব্দুল্লাহ ফজল, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, খুররম শাহজাদ, সাজিদ খান, হাসান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস।
কাজী সালাউদ্দিন
সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে আবারও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি ফুটবলার ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কংগ্রেস শনিবার ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সালাউদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সাফের গঠনতন্ত্রে ৭০ বছরের বেশি কেউ কমিটিতে থাকতে পারবে না, এ রকম ধারা ছিল। তবে, গত বছর গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এগুলো প্রত্যাহার করা হয়। তখন, অনেকটাই নিশ্চিত ছিল সালাউদ্দিন আবার সভাপতি হচ্ছেন।
এদিনই আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বজুড়ে ফুটবল কর্মকর্তাদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আজ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এ পরিকল্পনা বাতিলের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফুটবলকে ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত করার লক্ষ্য আমাদের সব সময়ই ছিল এবং থাকবে। যার ফলে এ প্রস্তাব আর সামনে এগোবে না।’
গত মঙ্গলবার ফিফা এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের বাণিজ্যিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গঠন করে এতে বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। এ প্রতিষ্ঠানের মূল্য আনুমানিক ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার ধরে প্রায় ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। সংস্থাটির মূল কাজ হতো বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট পরিচালনা করা।
ফিফা জানিয়েছিল, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তাদের ২১১টি সদস্যদেশ এককালীন ২ কোটি ডলার করে পাবে। পাশাপাশি ২০২৭-২০৩০ মেয়াদের বরাদ্দ ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
কিন্তু এফএফইতে ক্ষুদ্র পরিসরেও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাবটি শুরুর দিন থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা সাফ জানিয়ে দেয়, ‘এ প্রস্তাব বহাল থাকা পর্যন্ত’ তাদের কোনো জাতীয় দল ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। পরবর্তী সময়ে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনফেডারেশনও (কনক্যাকাফ) এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
এক বিবৃতিতে উয়েফার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপকে কেবল কোনো বাণিজ্যিক বিনিয়োগ পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর কোনো অংশই কখনো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়।’
গতকাল শুক্রবার ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়। এ পরিকল্পনাকে ‘ফিফা, ফুটবল এবং দীর্ঘমেয়াদে ফুটবল খেলার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ প্রস্তাব’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডমিনগুয়েজকে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ মিত্র মনে করা হয়। তিনিও এ প্রকল্পের পরিধি, কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দাবি করেন।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় গভীর রাতে দেওয়া বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, সদস্যদেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এটি ভাবা হয়েছিল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমর্থন পেলেই শুধু এটি কার্যকর হতো।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে শোনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে প্রস্তাবটি এমন বিভাজন তৈরি করেছে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মেলে না।’
এএফসিও ( ৪৭টি সদস্যদেশ) উয়েফা ও কনক্যাকাফের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমন একটি পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে যে ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের মতো বাস্তব বিষয় জনসমক্ষে আলোচনায় এসেছে। যাঁরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন, তাঁদের প্রত্যেকেরই এতে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।’
‘ভুল ব্যক্তি’
গতকাল শুক্রবার সকালের বিবৃতিতে ফিফা দাবি করেছিল, সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং ‘কেউ ফুটবল বিক্রি করছে না’। তবু ফিফার ওপর থেকে চাপ কমেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন উয়েফাকে ধন্যবাদ জানানোর এক দিন পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ইনফান্তিনো ফিফা পরিচালনার জন্য ‘ভুল ব্যক্তি’।
চাপের মুখে থাকা ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তিনি এখন সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যে জোর দেবেন এবং ফুটবলের প্রসার ঘটাবেন।
বিবৃতিতে ইনফান্তিনো বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে ফুটবল–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবার এক টেবিলে আনাই আমার মূল লক্ষ্য। সবার যৌথ স্বার্থ রক্ষা করে এবং বিশেষ করে যাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, সেই দেশগুলোতে ফুটবলের উন্নয়ন সাধন করে আমরা এগিয়ে যাব।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মতো ফুটবল মহাযজ্ঞের মালিকানা বেসরকারি পুঁজির হাতে তুলে দেওয়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে উত্তাল বিশ্ব ফুটবল। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফিফার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারদিকে। ফুটবলপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের তোপের মুখে পড়ে অবশেষে জল মাপতে শুরু করেছে ফিফা।
আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থাটি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আপাতত আলোচনা ও পরামর্শের পথ খোলা রাখছে। তবে ফিফা স্বস্তিতে নেই একেবারেই। প্রস্তাবটির কড়া জবাব দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফা। বিবিসির প্রতিবেদন।
তাদের অধীন ৫৫টি দেশ একজোটে ভোট দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পরিকল্পনা না গুটালে তারা সরাসরি বিশ্বকাপই বর্জন করবে! কম যায়নি উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও। তাদের ৪১টি সদস্য দেশ একবাক্যে এই প্রস্তাবকে ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।
চারদিক থেকে ধেয়ে আসা চাপের মুখে তড়িঘড়ি ব্যাখ্যা দিতে নেমেছে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর। বিবৃতিতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে উল্টো দায় চাপানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমের ওপর। ফিফার দাবি, ‘মিডিয়ার ভুলভাল তথ্যের কারণে আমাদের পূর্বপরিকল্পিত আলোচনায় বিঘ্ন ঘটেছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের রায় দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা চালু রাখা হবে।’
একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সাফ করতে ফিফার দাবি, ‘ফুটবল বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমাদের নেই। এমন চিন্তাকে ফিফা কখনো আমলেই নেয় না।’
গোপন পরিকল্পনাটি আসলে কী? জানা গেছে, বিশ্বকাপসহ নিজেদের বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলতে চায় ইনফান্তিনো প্রশাসন।
আর সেই নতুন কোম্পানির শেয়ারই তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে। তবে চাল চাললেও তা মেলাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফিফা বসকে। প্রস্তাবটি পাস করাতে হলে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন বা ভোট লাগবে। অথচ এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে একজোটে ৯৬টি দেশ আড়াআড়ি বাধা দিয়ে রেখেছে। ফলে ইনফান্তিনোর এই বাণিজ্যিক কার্ড খেলা শুরুতেই আটকে যাওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিফা এখন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করছে। তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সবার উদ্বেগ ও মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। একটি গণতান্ত্রিক আলোচনার জন্য আমাদের দরজা খোলাই আছে। মূলত সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল পৌঁছে দিতেই এফএফই গঠনের এই চিন্তা। এতে ফুটবলের মূল চেতনা বা পরিচালনায় কোনো আঘাত আসবে না।’
বিশ্বকাপের ১২ আয়োজক শহর চূড়ান্ত
নেইমার
ঠিক ১৬ বছর আগে ব্রাজিলের জার্সিতে এক তরুণ ফুটবলারের অভিষেক হয়। ২০১০ সালের ১০ আগস্ট নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ড স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন নেইমার। ১৮ বছরের সেই তরুণ সময়ের সঙ্গে নিজেকে নিয়ে নেন অনন্য উচ্চতায়। হলুদ জার্সিতে নানান গল্প লিখে হয়েছেন দেশটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলস্কোরার।
১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করা নেইমার বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন, আর কখনও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়াবেন না। নিউইয়র্কের যে মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল, বিশ্বকাপ ফুটবলে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি একই মাঠে তাঁর শেষ। অর্থাৎ শুরু আর শেষের গল্প একই। মাঝে ফুটবলে এমন কিছু করেছেন নেইমার, যা ফুটবলভক্তদের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। বিশ্ব ফুটবলে দ্যুতি ছড়ানো এই মহাতারকার নামের পাশে নেই ব্যালন ডি’অর, নেই বিশ্বকাপ, নেই কোপা আমেরিকা। ব্রাজিলের জার্সিতে শুধু জিতেছেন ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ।
অবসরের ইঙ্গিতটা বিশ্বকাপের সময়ই দিয়েছিলেন নেইমার। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে পরাজয়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে বুট জোড়া তুলে রাখার কথা বলেছিলেন তিনি। গতকাল ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি। খুব সুখী ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, হলুদ জার্সির জন্য সব সময় লড়াই করেছি; কিন্তু এখন আর আমি এটা চাই না।’ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রাজিলীয় ফুটবলের একটি যুগের অবসান ঘটল এবং দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন থেকে তাঁর শৈশবের ক্লাব সান্তোসেই পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৮টি গোল। পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা, গতি ও গোল করার দক্ষতায় এক দশকের বেশি সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতেছিলেন স্বর্ণপদক।
নিজ ক্লাব সান্তোসেও খুব একটা ভালো নেই নেইমার। ক্লাবের জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর বিবাদের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নেইমার দলের তরুণ খেলোয়াড়দের মানের সমালোচনা করেছেন এবং এমনকি বলেছেন, আগামী মৌসুমে তাদের দ্বিতীয় বিভাগে খেলতে হবে।
তবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড দাবি করেন, বিভাজন তৈরি করার জন্য একটি ‘কুচক্রী’ মহল এই মিথ্যা কাহিনি বানিয়েছে, ‘বিষয়টি দুঃখজনক এবং বিরক্তিকর। তবে এতে আমার কোনো দোষ নেই। এ ধরনের খবর অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ম্যাচের পর আমি কথা বলেছিলাম, আরও ভালো পারফরম্যান্সের দাবি জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে আমরা এতটা গাফিলতি মেনে নিতে পারি না। চ্যাপেকোয়েনসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি, এভাবে ড্র উপহার দেওয়া যায় না। আমি শুধু এতটুকুই বলেছিলাম।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। অন্যদিকে ফাইনাল শেষে মাঠে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনার কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষের জেরে আর্জেন্টিনার চার খেলোয়াড়-কর্মকর্তাসহ স্পেনের এক ফুটবলারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে ফিফা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষই চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে । ঘটনার পর তদন্ত শেষে কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে ফিফা।
আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি হামলার অভিযোগ, এর একটি পরিপূর্ণ হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ অসৌজন্যমূলক আচরণের। একই ধরনের অভিযোগের মুখে পড়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।
ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
এর আগে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পরও বিতর্কে জড়ায় আর্জেন্টিনা। উদযাপনের সময় কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়, যাতে ৯০০–এর বেশি মানুষ নিহত হন।
ব্যানার প্রদর্শনের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।
ফাইনালের ঘটনার পর স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও আর্জেন্টিনার আচরণের সমালোচনা করে বলেন, ‘এত বড় মাপের ফুটবলারদের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’