প্রতীকী ছবি
ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপের নীল আলো ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু নয়, বরং দিনের আলো কম পাওয়া ও রাতের অভ্যাসই বেশি প্রভাব ফেলে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
এক দশকের বেশি সময় ধরে ফোনের পর্দা, টিভি, কম্পিউটার ও এলইডি বাতির নীল আলো ঘুম নষ্ট করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোনের আলো ঘুমে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটিই মূল কারণ নয়।
এ নিয়ে ২০১৪ সালের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেছে বিবিসি। সেখানে ১২ জন অংশগ্রহণকারীর অর্ধেক সংখ্যক ঘুমানোর আগে আইপ্যাডে পড়েন, বাকিরা কাগজের বই পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, আইপ্যাড ব্যবহারকারীরা ঘুমাতে বেশি সময় নিয়েছেন, পরদিন বেশি ঝিমুনি অনুভব করেছেন এবং তাদের শরীরে মেলাটোনিন কম তৈরি হয়েছে।
তখন গবেষকরা ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, আইপ্যাডের এলইডি পর্দা থেকে আসা নীলাভ আলোই এর কারণ। কারণ, নীল আলো শরীরের দৈনন্দিন চক্রে প্রভাব ফেলে, আর এই চক্রই মানুষের কখন ঘুম পাবে তা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
তবে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জেমি জেইৎজার বলেন, “এটি ছিল ভীষণ বিভ্রান্তিকর এক গবেষণা।”
তার ভাষ্যে, গবেষণাটির বিজ্ঞানভিত্তি দুর্বল ছিল না, কিন্তু তা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়।
জেইৎজার বলেন, “মেলানোপসিন এমন একটি প্রোটিন, যা নীল আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল।”
তিনি বলেন, মানুষের চোখে থাকা মেলানোপসিন নামের আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন নীল আলোতে বেশি সাড়া দেয়। অন্য আলোর রঙেও এটি প্রতিক্রিয়া দেখায়, তবে, নীল আলোর প্রভাব কেবল কিছুটা বেশি।
“আমাদের স্ক্রিন থেকে যে পরিমাণ আলো বের হয়, তা আসলে খুবই সামান্য।”
তার ব্যাখ্যায়, পরীক্ষাগারে মানুষকে সারাদিন খুব কম আলোতে রেখে পরে হঠাৎ উজ্জ্বল আলো দেখানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে নীল আলো বেশি প্রভাব ফেলে, কিন্তু এটি দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্র নয়।
সাম্প্রতিক ১১টি গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্ক্রিনের আলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থাতেও ঘুম বিলম্বিত করে গড়ে মাত্র নয় মিনিট।
আরেকটি গবেষণার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট থেকে ২৪ ঘণ্টায় যে পরিমাণ নীল আলো পাওয়া যায়, তা বাইরে সূর্যালোকে এক মিনিট থাকার চেয়েও কম। এ বিষয়ে ২০২৩ সালে লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা পরিচালিত গবেষণার নাম ছিল “ব্লু লাইট অফ দ্য ডিজিটাল এরা: এ কম্পারেটিভ স্টাডি অফ ডিভাইসেস”। এই গবেষণার ফলও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের জন্য আসল বিষয় হলো সারাদিন মোট কতটা আলো পাওয়া যাচ্ছে। ভালো ঘুমের জন্য সকালে বেশি আলো এবং রাতে কম আলো দরকার। নীল আলোর ভূমিকা থাকলেও দিনের মোট আলোক-সংস্পর্শই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ঘুম ও ক্রোনোবায়োলজি গবেষণা দলের পরিচালক হোভার্ড ক্যালেস্টাড বলেন, “আপনার এমন চশমা পরা উচিত, যাতে খুব বেশি নীল আলো দেখা না যায়।”
তার মতে, নীল আলো ঠেকাতে কার্যকর চশমা থাকলেও সেটি অধিকাংশ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।
ক্যালেস্টাড বলেন, “সম্ভব হলে বাইরে যান, না হলে আলো দেওয়ার বাতি ব্যবহার করুন।”
তিনি বলেন, সকালে অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে হাঁটা ঘুমের জন্য কার্যকর হতে পারে।
জেইৎজার বলেন, “দিনের বেলা যত বেশি আলো পাবেন, সন্ধ্যার আলো তত কম প্রভাব ফেলবে।”
তার মতে, দিনের আলো শরীরের ঘড়িকে স্থিতিশীল রাখে এবং রাতে আলোতে সংবেদনশীলতা কমায়।
ঘরে বসে কাজ করলে দিনের বেলা উজ্জ্বল আলো ব্যবহার এবং সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে আলো কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
জেইৎজার বলেন, “আলোর সংস্পর্শে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পার্থক্য।”
তার মতে, দিন ও রাতের আলোর পার্থক্যই শরীরকে সময় বুঝতে সাহায্য করে।
স্ক্রিনের নীল আলোর চেয়ে ফোন বা ল্যাপটপে ঘুমের আগে কী দেখা হচ্ছে, সেটিও বড় বিষয় বলে মনে করেন জেইৎজার।
তিনি বলেন, “এই যন্ত্রগুলো থেকে আলো নয়, বরং এগুলোর বিষয়বস্তুই মানুষকে বেশি জাগিয়ে রাখে।”
তার মতে, আলো নয়, বরং ঘুমের আগে দেখা বিষয়বস্তুই অনেক সময় মানুষকে জাগিয়ে রাখে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নীল আলো ঠেকাতে চশমা, মোমবাতির আলো ও অন্ধকার ঘর ব্যবহার করে করা ব্যক্তিগত পরীক্ষায় ঘুমের মোট সময় খুব বেশি বদলায়নি। তবে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার সময় কিছুটা নিয়মিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের আগে নির্দিষ্ট রুটিনও ঘুমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পর্দার আলো কমে যাওয়া বা বিশেষ চশমা পরা অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রস্তুতির মানসিক সংকেত হিসেবেও কাজ করতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
চ্যাটজিপিটির ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে, ফ্রি ব্যবহারকারীদের জন্য টেক্সটভিত্তিক চ্যাটের সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন ‘থিংক’ বাটন। এক বিলিয়নের বেশি সাপ্তাহিক ব্যবহারকারী অর্জনের পর এটিকে প্ল্যাটফর্মটির অন্যতম বড় আপডেট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি-৫.৬ লুনা ফ্রি ও গো ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ডিফল্ট মডেল হিসেবে চালু করা হবে। এটি বর্তমান জিপিটি-৫.৫ মডেলের জায়গা নেবে। চলতি সপ্তাহ থেকেই নতুন মডেল উন্মুক্ত করা শুরু হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে ফ্রি ব্যবহারকারীরা সীমাহীন টেক্সট চ্যাটের পাশাপাশি নতুন ‘থিংক’ বাটন ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ‘থিংক’ বাটনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জটিল প্রশ্নের ক্ষেত্রে মডেলকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ ও যুক্তি প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিতে পারবেন। তবে ফাইল আপলোড, ছবি তৈরি, ভয়েস ফিচার এবং ছবি বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতায় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, প্লাস ও প্রো গ্রাহকদের জন্য চালু করা হচ্ছে আরও উন্নত জিপিটি-৫.৬ সল মডেল। ওপেনএআইয়ের দাবি, নতুন এই মডেল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ওয়েব গবেষণা, লেখা, পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজে আরও দ্রুত, সংক্ষিপ্ত ও নির্ভরযোগ্য ফল দেবে।
এ ছাড়া প্লাস ও প্রো ব্যবহারকারীরা ‘থিংকিং স্লাইডার’ নামে নতুন একটি সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে কাজের ধরন অনুযায়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে, তা ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবেন।
ওপেনএআই আরও জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটিতে ব্যবহৃত জিপিটি-৫.৬ সল মডেলটি কোডেক্স এবং ওয়ার্ক পণ্যে ব্যবহৃত সংস্করণ থেকে আলাদা।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, নতুন মডেলগুলোর তথ্যগত নির্ভুলতা আগের জিপিটি-৫.৫ ইনস্ট্যান্ট সংস্করণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। তাদের দাবি, জিপিটি-৫.৬ লুনা মডেলে তথ্যগত ভুলের হার ৬২ শতাংশ এবং জিপিটি-৫.৬ সল মডেলে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি-৫.৬ সল ইতোমধ্যে প্লাস ও প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে জিপিটি-৫.৬ লুনা, সীমাহীন টেক্সট চ্যাট এবং ‘থিংক’ বাটন ফ্রি ও গো ব্যবহারকারীদের জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ আগস্ট মেড বাই গুগল অনুষ্ঠানে উন্মোচিত হওয়ার কথা রয়েছে গুগলের নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজ। এরই মধ্যে স্মার্টফোনগুলোর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের সম্ভাব্য দাম অনলাইনে ফাঁস হয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট অ্যান্ড্রয়েড হেডলাইনস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারও চারটি মডেল নিয়ে আসছে গুগল-পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল এবং পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড। সব মডেলেই থাকতে পারে গুগলের নতুন টেনসর জি৬ চিপসেট এবং টাইটান এম৩ নিরাপত্তা কো-প্রসেসর।
সম্ভাব্য দাম
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পিক্সেল ১১-এর প্রারম্ভিক দাম হতে পারে ৮৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা)। পিক্সেল ১১ প্রো-এর দাম শুরু হতে পারে ১,০৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা) থেকে।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এর সম্ভাব্য প্রারম্ভিক মূল্য ১,২৯৯ ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা)। আর ভাঁজযোগ্য পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এর দাম শুরু হতে পারে ১,৮৯৯ ডলার (প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা) থেকে।
কী থাকছে পিক্সেল ১১-এ
সাধারণ পিক্সেল ১১-এ থাকতে পারে ৬.৩ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ ওএলইডি ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিটস উজ্জ্বলতা, ১২ বা ১৬ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ জিবি স্টোরেজ।
ফোনটির পেছনে ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা ও ১৩ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা থাকতে পারে। সামনে থাকতে পারে ১০.৫ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা। এছাড়া ৪,৯৮৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির সঙ্গে ৩০ ওয়াট তারযুক্ত এবং ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা থাকতে পারে।
প্রো ও প্রো এক্সএল মডেল
পিক্সেল ১১ প্রো-তে ৬.৩ ইঞ্চির এলটিপিও ওএলইডি ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ৪৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রা-ওয়াইড এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা থাকতে পারে। এতে ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম এবং সর্বোচ্চ ১২০ গুণ প্রো জুম সুবিধা মিলতে পারে। সেলফি ক্যামেরা হতে পারে ৪২ মেগাপিক্সেলের।
অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এ থাকতে পারে ৬.৮ ইঞ্চির ডিসপ্লে, সর্বোচ্চ ১ টেরাবাইট স্টোরেজ, ৫,১১৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট দ্রুত চার্জিং সুবিধা।
পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড
ভাঁজযোগ্য পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড-এ ৮ ইঞ্চির ভেতরের ও ৬.৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে থাকতে পারে। এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার পাশাপাশি আলট্রা-ওয়াইড ও পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা থাকতে পারে। ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি র্যাম, ১ টেরাবাইট স্টোরেজ এবং ৪,৮০৬ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি থাকতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিরিজের সব ফোনেই অ্যান্ড্রয়েড ১৭, আইপি৬৮ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ, ওয়্যারলেস চার্জিং এবং উন্নত নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত থাকতে পারে।
তবে এসব তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি গুগল। আগামী ১২ আগস্ট 'মেড বাই গুগল' অনুষ্ঠানে পিক্সেল ১১ সিরিজের পাশাপাশি নতুন পিক্সেল ওয়াচ ও পিক্সেল বাডসও উন্মোচন করা হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ‘ক্লিনআপ’ ফিচার আসছে
নতুন এ টুলের ফলে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে আসা ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট এখন আর আলাদা করে খুঁজে মুছতে হবে না, কেবল কয়েক ক্লিপেই ডিভাইসের স্টোরেজ খালি করা যাবে। হোয়াটসঅ্যাপে স্টোরেজ সমস্যার সমাধানে আসছে ‘ক্লিনআপ’
ফোনে মেমোরি ঘাটতির দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে নতুন স্টোরেজ ক্লিনআপ টুল নিয়ে আসছে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। স্মার্টফোনের মেমোরি হুটহাট শেষ হয়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল। এসব চ্যানেলের শেয়ার করা ছবি, ভিডিও ও ভয়েস নোট নিয়মিত জমা হতে হতে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেকটা জায়গা দখল করে নেয়।
নতুন এ টুলের ফলে চ্যানেলে আসা ছবি, ভিডিও বা ভয়েস নোট এখন আর আলাদা করে খুঁজে মুছতে হবে না, কেবল কয়েক ক্লিপেই ডিভাইসের জায়গা খালি করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ডিজিটালট্রেন্ডস।
কয়েকমাস ধরে পরীক্ষার পর সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রকাশিত সর্বশেষ বিটা আপডেটে নতুন ফিচারটি নির্বাচনভিত্তিক বিটা ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
আলাদা ফাইল খোঁজার দিন শেষ
আগেও হোয়াটসঅ্যাপের স্টোরেজ সেটিং থেকে চ্যানেলের বিভিন্ন মিডিয়া ফাইল দেখা ও মোছা যেত। তবে সেই প্রক্রিয়া ছিল বেশ দীর্ঘ ও বিরক্তিকর। ডিলিট করার জন্য প্রতিটি ফাইল হাতে বেছে নিতে হত। নতুন টুলটিতে ব্যবহারকারীর সুবিধার জন্য দুটি আলাদা উপায়ে ফাইল মুছে ফেলার ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রথম উপায়টি ব্যবহার করা যাবে সরাসরি সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের ‘ইনফরমেশন’ পেইজে গিয়ে। সেখান থেকে কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল কী পরিমাণ জায়গা দখল করে আছে তা পর্যালোচনার পাশাপাশি ক্যাটেগরি বা বিষয়ভিত্তিক ফিল্টার করে ফাইল মোছা যাবে, অর্থাৎ ফটো, ভিডিও, স্টিকার বা ভয়েস নোটের মধ্যে কোনটি বেশি জায়গা নিচ্ছে, তা আলাদা করে বাছাই করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
নতুন এ আপডেটের সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, ক্লিনআপের সময় ব্যবহারকারীর ‘স্টার’ মার্ক করা বিভিন্ন বার্তা বা ফাইল হোয়াটসঅ্যাপ নিজে থেকে মুছে ফেলবে না। ফলে প্রয়োজনীয় কোনো তথ্য ভুলবশত মুছে যাওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই অপ্রয়োজনীয় সব ফাইল এক ক্লিকে পরিষ্কার করা যাবে।
ফোনের ‘আবর্জনার ঝুড়ি’ খালি করতে সহজ উপায়
যারা অসংখ্য চ্যানেল অনুসরণ করেন তাদের সুবিধার্থে আরও একটি শর্টকাট যোগ করছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এ সুবিধায় ‘আপডেটস’ ট্যাবে গিয়ে এক বা একাধিক চ্যানেলকে চাপ দিয়ে ধরে রেখে মেনু থেকে ‘ক্লিয়ার মিডিয়া ফাইলস’ অপশনটি বেছে নেওয়া যাবে। এখন আর আলাদা করে প্রতিটি চ্যানেলে ঢুকে ফাইল মোছার প্রয়োজন হবে না, বরং এক ক্লিকেই একসঙ্গে অনেকগুলো চ্যানেলের সংরক্ষিত মিডিয়া সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
ছোট পরিবর্তন মনে হলেও ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সমস্যার সমাধান নিয়ে আসছে এ সুবিধা। কারণ অনেক চ্যানেলই প্রতিদিন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গিগাবাইট পরিমাণ জায়গা দখল করে ফেলে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখার পরপরই ব্যবহারকারীরা এসব ফাইলের কথা ভুলে যান। ফলে ফোনে স্টোরেজ পূর্ণ হওয়ার সতর্কতা বার্তা না আসা পর্যন্ত কতটা জায়গা নষ্ট হয়েছে, তা তৎক্ষণাৎ জানা সম্ভব হয় না।
বর্তমানে গুগল প্লে স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ বিটা সংস্করণ ব্যবহারকারী সীমিত সংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড পরীক্ষকদের জন্য ফিচারটি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কয়েক সপ্তাহে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে সুবিধাটি পৌঁছাবে। তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মূল অ্যাপে এ ফিচার কবে নাগাদ চালু হবে সে বিষয়ে কিছু জানায়নি হোয়াটসঅ্যাপ।
মোবাইল ফোনের দাম বাড়ছে
নতুন স্মার্টফোনের দাম কেবল মেমোরি চিপ বা র্যামের আকাশচুম্বী দামের কারণেই বাড়ছে না, এর পেছনে যোগ হচ্ছে নতুন আরেক ধাক্কা। চিপ নির্মাতা কোম্পানি কোয়ালকম তাদের সব ধরনের প্রসেসরের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট ভার্জ।
সিএনবিসির এক প্রতিবেদন বলছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কোয়ালকমের সব ডিভাইসের দাম বাড়ছে বলে বুধবার নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্তিয়ানো আমন।
দাম কতটা বাড়তে পারে তা নিয়ে নির্দিষ্ট অংক না জানালেও বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দাম বৃদ্ধি হতে পারে ‘দুই ডিজিটের শতাংশে’, মানে ১০ শতাংশের বেশি।
চলতি প্রান্তিকের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের পরই দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দিল কোয়ালকম। কোম্পানিটি বলেছে, তাদের হ্যান্ডসেট ব্যবসা থেকে আয় বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন।
আয় কমার পেছনে প্রধান কারণ মেমোরি চিপ বা র্যামের দামবৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকট। এ ঘাটতির কারণে এরইমধ্যে গেইমিং কনসোল, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ‘রাসবেরি পাই’ বোর্ডের মতো সব ডিভাইসের দামই ঊর্ধ্বমুখী।
এ পরিস্থিতির কারণে নিজেদের মুনাফায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় কোয়ালকম। মেমোরি সংকটের কারণে তৈরি ক্ষতি পোষাতেই তারা এবার নিজস্ব প্রসেসরের দাম বাড়াতে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে ক্রেতাদের ওপর।
অ্যাপল পণ্য থেকেও কোয়ালকমের আয় কমার হার আরও বাড়তে যাচ্ছে। কোম্পানিটি বলেছে, আসন্ন আইফোন সংস্করণে তাদের মডেম চিপ সরবরাহের পার্টনারশিপ ‘ব্যাপকহারে কমে যেতে পারে’। তবে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সময় তারা দু’বার জোর দিয়ে বলেছে, অন্যান্য খাত থেকে আসা আয় দিয়ে এ ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
স্মার্টফোন খাত থেকে আয় কমতে থাকায় কোয়ালকম এখন ব্যবসা প্রসারে বহুমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে। হ্যান্ডসেটের পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও অটোমোটিভ বা গাড়ি শিল্পকে তারা নিজেদের ব্যবসার মূল তিনটি স্তম্ভ বানাতে চায়।
কোয়ালকম বলেছে, খুব শিগগিরই তাদের আয়ের কেবল অর্ধেক আসবে ফোন থেকে। আর নতুন এই দুটি ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকায় ২০২৯ সালের মধ্যে ফোন খাত থেকে আসা আয়ের পরিমাণ নেমে আসবে কেবল এক-তৃতীয়াংশে।
এ লক্ষ্য পূরণে বড় পদক্ষেপে এরইমধ্যে সাফল্য এসেছে। জার্মানির বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি বিএমডব্লিউ-এর গাড়িতে চিপ সরবরাহের জন্য বুধবার ১০ বছর মেয়াদি এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে কোয়ালকম। এদিকে, চিপের দামবৃদ্ধির কারণে স্মার্টফোন নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানির কৌশলও বদলে যাচ্ছে।
কোয়ালকমের শীর্ষ কর্মকর্তা আকাশ পালকিওয়ালা বলেছেন, বাড়তি খরচ সামাল দিতে কিছু মূল পার্টস নির্মাতা কোম্পানি তাদের নতুন ডিভাইসে আধুনিক চিপের বদলে ‘আগের প্রজন্মের’ কোয়ালকম প্রসেসর ব্যবহার শুরু করেছে।
নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সার্চ সুবিধা এআই মোডে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিভিন্ন অ্যাপ যুক্ত করার সুযোগ চালু করেছে গুগল। নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি অ্যাপের লিংক গুগলের এআই মোডের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। এর ফলে ব্যবহারকারীরা এআই মোড থেকেই বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে কেনাকাটা, নকশা তৈরি বা গানের তালিকা সংরক্ষণের মতো কাজ করতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, এআই মোড আর শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা তথ্য খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজও সম্পন্ন করতে পারবে।
নতুন সুবিধা চালুর ফলে কেউ যদি বারবিকিউ আয়োজনের জন্য এআই মোডে বাজারের তালিকা তৈরি করেন, তবে ইনস্টাকার্ট থেকে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনাকাটার ঝুড়িতে যুক্ত হবে। এরপর ইনস্টাকার্টের অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকে সহজে অর্ডার সম্পন্ন করা যাবে। আবার কোনো পোস্টার বা ফ্লায়ারের নকশা তৈরির জন্য ধারণা প্রয়োজন হলে এআই মোড ক্যানভায় থাকা উপযুক্ত টেমপ্লেট দেখাবে। একইভাবে কোনো অনুষ্ঠান বা পার্টির জন্য গানের তালিকা তৈরি করলে সেটি সরাসরি ইউটিউব মিউজিকে সংরক্ষণ করা যাবে।
গুগলের তথ্যমতে, নতুন এ সুবিধা চালুর ফলে পরিকল্পনা, কেনাকাটাসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি এআই মোড ব্যবহার করবেন। একই সঙ্গে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি ও অ্যানথ্রপিকের ক্লডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় গুগলের অবস্থান আরও শক্ত হবে। প্রাথমিকভাবে সুবিধাটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন।
গুগল জানিয়েছে, প্রথম ধাপে এআই মোডে ইনস্টাকার্ট, ক্যানভা ও ইউটিউব অ্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এআই মোডে আরও অনেক অ্যাপ যুক্ত করা হবে। এ বছরের শুরুতে গুগলের বার্ষিক ডেভেলপার সম্মেলন গুগল আই/ওতে নিজেদের জেমিনি অ্যাপে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যাপ যুক্ত করার সুবিধা চালু করেছে গুগল। এবার একই ধরনের সুবিধা এআই মোডে সম্প্রসারণ করল প্রতিষ্ঠানটি।
ফেসবুকে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এত দিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অর্থের বিনিময়ে মেটা ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীদের জন্যই পরিচিত ছিল। তবে এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও একটি নতুন ভেরিফিকেশন সুবিধা চালু করছে মেটা।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফেসবুকে একটি নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড (Facebook Verified) ব্যাজ চালু করছে। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এবং এর উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছেন।
কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’?
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হলো এমন একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টে থাকা বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে।
পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেটা।
কারা এই ব্যাজ পাবেন?
এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
> ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।
> অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে।
> প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না।
> পরিচয় যাচাই সফল হতে হবে।
পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন - প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং।
মেটা ভেরিফাইড (Meta Verified) থেকে এটি কীভাবে আলাদা?
অনেকেই ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ এবং ‘মেটা ভেরিফাইড’-কে একই বিষয় মনে করতে পারেন। কিন্তু দুটি সেবা এক নয়। মনে রাখবেন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এবং এতে অতিরিক্ত কোনো প্রিমিয়াম সুবিধা নেই।
মেটা ভেরিফাইডের ক্ষেত্রে মাসিক সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন, নীল টিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা, পরিচয় চুরি থেকে সুরক্ষার মতো বাড়তি সুবিধা ও বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়া যায়।
কেন এই উদ্যোগ?
মেটা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ভুয়া ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা যাচ্ছে। এসব ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে।
নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কিনা। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ।
মেটা জানিয়েছে, ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণ করা হবে। কোন কোন দেশে প্রথমে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।