ছবি : সংগৃহীত
পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে, চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসে পৃথিবীর পথ ধরেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশরেন চার নভোচারী। এই যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে মানুষের মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তারা। চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার অংশ প্রদক্ষিণ করার সময় সেই দৃশ্য দেখেছেন, যা আগে কখনো কোনো মানুষ দেখেনি।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসতে মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের সময় লেগেছে সাত ঘণ্টার মত। এ সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশের ছবিও ধারণ করা হয়েছে।
১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর মানবজাতির প্রথম চাঁদে প্রত্যাবর্তনের মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে এবারের অভিযান।
নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এই মিশনে আছেন ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।
তাদের ক্যাপসুল চাঁদের উল্টো পাশে গেলে পৃথিবী ও মহাকাশযানের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায় চাঁদ। এ সময় রেডিও সিগনাল যাতায়াত করতে না পারায় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকে।
সেই সময়টা পেরিয়ে আসার পর নভোচারীরা তাদের অভিজ্ঞতার গল্প নাসার মিশন কন্ট্রোল রুমে অপেক্ষায় থাকা বিজ্ঞানীদের শোনান।
মিশন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তারা যা দেখছেন তা বর্ণনা করা সত্যিই কঠিন।
“জানি, আমাদের এই পর্যবেক্ষণ হয়ত বৈজ্ঞানিকভাবে তেমন মূল্যবান নয়, কিন্তু আমি খুশি, ভাগ্যিস আমরা ১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিলাম! আমরা আজ যা দেখেছি, মানুষ সম্ভবত এমন দৃশ্য দেখার জন্য এখনও বিবর্তিত হয়নি।”
মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান তার সঙ্গে যোগ করেন, “এ অভিজ্ঞতা বর্ণনাতীত। যতক্ষণই আমরা তাকিয়ে থাকি না কেন, আমাদের মস্তিষ্ক ওই দৃশ্য পুরোপুরি তৈরি করতে পারছে না। এটা অসাধারণ, পরাবাস্তব... এটা বোঝাতে কোনো বিশেষণই যথেষ্ট নয়—আমাকে নতুন শব্দ বানাতে হবে, জানালার বাইরে আমরা যা দেখছি, তা বোঝানোর মতো শব্দ নেই।”
চাঁদের দূরতম অংশ পর্যবেক্ষণের পর্ব শেষ হওয়ার পর মিশনের লাইভ সম্প্রচারে যোগ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি আর্টেমিস টুর নভোচারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আপনারা যা করছেন, এর মত কিছু মানুষ আগে কখনও দেখেনি। এটা সত্যিই অতুলনীয়।”
ট্রাম্প জিজ্ঞেস করেন, “হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?”
জবাবে ভিক্টর গ্লোভার বলেন, তিনি একটু প্রার্থনা করেছিলেন, এরপর চাঁদের দূরবর্তী অংশের বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহে মন দেন।
“আমরা এখানে খুব ব্যস্ত ছিলাম, বেশ চাপ গেছে। তবে বলতে হয়, অভিজ্ঞতাটা আসলে বেশ ভালোই ছিল।”
পৃথিবীতে ফেরার পর মিশনের চার নভোচারীকে হোয়াইট হাউজে যাওয়ার দাওয়াত দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ঐতিহাসিক ‘ফ্লাইবাই’
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণের পর থেকে আর্টেমিস টু নভোচারীরা নিজেদের ওরিয়ন ক্যাপসুলে অবস্থান করছেন।
বহু বিলিয়ন ডলারের এ সিরিজ মিশনের লক্ষ্য চীনকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে দিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারীদের পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া এবং আগামী দশকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
এছাড়া চাঁদে একটি ঘাঁটি তৈরি করতে চায় নাসা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে সম্ভাব্য মিশনের প্রস্তুতির জায়গা হিসেবে কাজ করবে।
অভিযানের ষষ্ঠ দিনে যুক্তরাষ্ট্র সময় সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর তাদের শোনানো হয় অ্যাপোলো ৮ ও ১৩ মিশনের প্রয়াত নভোচারী জিম লোভেলের রেকর্ড করা এক বার্তা।
গত বছর ৯৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া লোভেল জানতেন, মহাকাশে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণের তাদের রেকর্ডটি এবার ভাঙতে যাচ্ছে আর্টেমিস টু মিশন।
এই মিশনের নভোচারীদের উদ্দেশে তিনি সেই বার্তায় বলে গেছেন, “আমার পুরানো এলাকায় তোমাদের স্বাগতম!
“ফ্র্যাঙ্ক বোরম্যান, বিল অ্যান্ডার্স আর আমি যখন অ্যাপোলো ৮-এ করে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছিলাম, তখন মানবজাতি প্রথমবার কাছ থেকে চাঁদকে দেখেছিল। পুরো পৃথিবীর এমন এক দৃশ্য পেয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে অনুপ্রাণিত ও ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
“আজ আমি গর্বের সঙ্গে সেই মশাল তোমাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। তোমরা চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে মঙ্গলে যাওয়ার ভিত্তি তৈরি করছ। এ ঐতিহাসিক দিন, তোমরা অনেক ব্যস্ত থাকবে জানি। তবে ওই দৃশ্য উপভোগ করতে ভুলো না। তোমাদের সবার জন্য শুভকামনা।”
বার্তাটি শোনার পর আর্টেমিস টু’র কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান মিশন কন্ট্রোলে রেডিওর মাধ্যমে বলেন, “জিম লোভেলের বার্তাটি অসাধারণ ছিল। তার কণ্ঠে আমাদের স্বাগত জানানো শুনতে খুব ভালো লেগেছে।”
এরপর যুক্তরাষ্ট্র সময় দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা।
এর আগে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো–১৩ মিশনের নভোচারীরা পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব পেরিয়েছিলেন।
সেই দূরত্ব পেরিয়ে আরো প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল এগিয়ে গিয়ে পৃথিবী থেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্বে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়েন এবারের অভিযানের চার নভোচারী।
অ্যাপোলো ১৩-এর রেকর্ড ভাঙার পর কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন বলেন, “আমরা পৃথিবী থেকে মানুষের এ যাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী পথ পেরিয়েছি। মহাকাশ গবেষণায় আমাদের পূর্বসূরীদের অসাধারণ পরিশ্রম ও সাফল্যকে সম্মান জানিয়েই আমরা এ কৃতিত্ব পেলাম।
“আমাদের এই প্রিয় পৃথিবী তার টানে আমাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা মহাকাশের আরও গভীরে আমাদের যাত্রা অব্যাহত রাখব।”
সবশেষে তিনি বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন এই রেকর্ডটি খুব বেশিদিন টিকে না থাকে। তোমরা যেন শিগগিরই রেকর্ডটি ভেঙে আরও দূরে যেতে পার।”
এরপর চাঁদের দুটি নতুন গহ্বরের নামকরণ করেন নভোচারীরা, যা তারা মহাকাশযান থেকে খালি চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন।
চাঁদের ‘ওম’ গর্তের কাছে অবস্থিত একটি গহ্বরেন নাম রাখা হয় তাদের ওরিয়ন মহাকাশযানের সম্মানে ‘ইন্টেগ্রিটি’।
আর ‘গ্লুশকো’ নামের এক উজ্জ্বল গর্তের পাশে অন্য গহ্বরের নাম তারা রাখেন ‘ক্যারল’। আর্টেমিস টু মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রী ক্যারল টেলর ওয়াইজম্যানের স্মরণে এই নাম।
জেরেমি হ্যানসেন যখন এই নামগুলো প্রস্তাব করছিলেন, তখন আবেগে তার গলা কেঁপে উঠছিল। তার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চার নভোচারী একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। এ দৃশ্য দেখে হিউস্টনে নাসার কন্ট্রোল রুমেও এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়
মহাকাশযানের জানালা দিয়ে দেখা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে ওয়াইজম্যান বলেন, “এখান থেকে পৃথিবীকে ছোট এক বাঁকা চাঁদের মতো দেখাচ্ছে, চমৎকার! আমি একটি ছবিও তুলেছি... এখান থেকে দৃশ্যটা সত্যিই রাজকীয়।”
নাসা জানায়, ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের আড়ালে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে। এরপর নভোচারীরা মহাকাশের অন্ধকারে ডুবে যান এবং পৃথিবীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, কারণ চাঁদ তখন তাদের ও নাসার ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’-এর মাঝখানে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বড় রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবস্থা, যা দিয়ে পৃথিবী থেকে নভোচারীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা ৭টায় মহাকাশযানটি চাঁদের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মহাকাশযানের উচ্চতা ছিল প্রায় ৪ হাজার ৬৭ মাইল।
এর দুই মিনিট পর ক্রুরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্বে পৌঁছে মানব মহাকাশযাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েন।
চাঁদের দূরবর্তী অংশের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় ক্রুরা পৃথিবীর এই উপগ্রহের পিঠে আঘাতজনিত গর্ত, প্রাচীন লাভা প্রবাহ, এবং সময়ের সঙ্গে বিবর্তনে তৈরি হওয়া ফাটল ও উঁচু-নিচু গঠনের মত ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ছবি তোলেন এবং সেসব বর্ণনা রেকর্ড করেন।
তারা রং, উজ্জ্বলতা ও গঠনের পার্থক্যও লক্ষ্য করেন, যা চাঁদের পৃষ্ঠের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেবে।
চাঁদের চারপাশ দিয়ে ঘোরার সময় নভোচারীদের চোখে পড়ে পৃথিবীর অস্ত যাওয়ার এবং ‘উদয়’ হওয়ার বিরল মুহূর্ত, যা পৃথিবী থেকে দেখা চন্দ্রোদয়ের মহাজাগতিক দৃশ্যের উল্টো রূপ।
চন্দ্র পর্যবেক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার সময় মহাকাশযান, চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করায় প্রায় এক ঘণ্টা একটি সূর্যগ্রহণও তারা দেখেন।
অন্ধকারে ঢাকা চাঁদের প্রেক্ষাপটে তারা সূর্যের বহিঃস্তর বা করোনা বিশ্লেষণ করেন, যা চাঁদের প্রান্ত ঘিরে দেখা যাচ্ছিল।
ওই গ্রহণের সময় ক্রুরা এমন কিছু বিরল দৃশ্য দেখার সুযোগ পান, যা সাধারণত চাঁদের অন্ধকার অংশে ছাড়া দেখা যায় না।
তারা জানান, প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার মাইল গতিতে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ড চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ছয়টি আলোর ঝলক তারা দেখতে পেয়েছেন।
হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে নাসার ‘সায়েন্স ইভালুয়েশন’ রুমে বিজ্ঞানীরা ওরিয়ন থেকে নভোচারীদের তোলা সেইসব ছবির জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি ফ্লাইবাই বা চাঁদ ঘিরে ঘোরার সময় তোলা অন্যান্য ডেটাও বিশ্লেষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মহাকাশযান থেকে রাতভর তথ্য ডাউনলিংক হওয়ার পর, বিজ্ঞানীরা ছবি, অডিও ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে আলোক ঝলকের সময় ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করবেন। একই সময়ে চাঁদ পর্যবেক্ষণ করা অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছ থেকেও তথ্য নেবেন।
মঙ্গলবার নাসার লাইভ সম্প্রচারের অংশ হিসেবে ক্রুরা তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে চন্দ্রবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
যুক্তরাষ্ট্র সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পৃথিবীর সঙ্গে মহাকাশযানের রেডিও যোগাযোগ পুনস্থাপিত হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার ওই ৪০ মিনিট নভোচারীরারই তাদের মহাকাশযানের দেখভাল করেন। ইঞ্জিন ও গতিপথের নিয়ন্ত্রণ ছিল ওরিয়নের কম্পিউটারের হাতে।
রেডিও যোগাযোগ ফেরার পর ওরিয়ন থেকে মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে, আমরা আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছি, আপনারাও এখন আকাশের দিকে তাকালে চাঁদ দেখতে পাবেন। আমরাও আপনাদের দেখতে পাচ্ছি।”
আর্টেমিস টুর যাত্রা শুরুর সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যখন আমরা এই মহাকাশযানে করে চাঁদের দিকে রওনা হলাম, তখন বলেছিলাম, আমরা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি না, বরং পৃথিবীকেই বেছে নিচ্ছি—এটাই সত্যি।
“আমরা অনুসন্ধান করব, আমরা গড়ে তুলব, আমরা মহাকাশযান তৈরি করব, আমরা আবার চাঁদে আসব। আমরা বৈজ্ঞানিক ঘাঁটি গড়ে তুলব, রোভার চালাব, কোম্পানি গড়ে তুলব, শিল্পকে শক্তিশালী করব।
“আমরা অনুপ্রেরণা দেব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সবসময় পৃথিবীকেই বেছে নেব।”
পরে নাসার লাইভ সম্প্রচারে যুক্ত হন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রশ্নে কমান্ডার ওয়াইজম্যান বলেন, “আমরা এমন দৃশ্য দেখেছি, যা কোনো মানুষ আগে কখনও দেখেনি, এমনকি অ্যাপোলো মিশনও না। এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য।”
তিনি সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের মধ্য দিয়ে মানুষ হয়ে উঠবে দুই-গ্রহের বাসিন্দা, সেটা ভেবে তারা রোমাঞ্চিত।
চাঁদ প্রদক্ষিণ শেষে শুরু হয় আর্টেমিস টু মিশনের ফিরতি যাত্রা। পৃথিবীতে ফিরে আসতে তাদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে।
১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়নের অবতরণ (স্প্ল্যাশডাউন) করার কথা রয়েছে। উদ্ধারকারী দল পানিতে ভাসমান ক্যাপসুল থেকে নভোচারীদের তুলে নেবে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে, তারপর তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।
নাসা জানিয়েছে, স্থলভাগে ফেরার পথে ওই জাহাজেই নভোচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
ফেসবুক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স পরিমাপে প্রচলিত ‘রিচ’ মেট্রিকের পরিবর্তে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের নোটিশ দেখা গেছে মেটার বিজনেস স্যুটে।
এর ফলে ফেসবুক পেজের কনটেন্ট কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা পরিমাপ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে কনটেন্ট নির্মাতা, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল বিপণনকর্মীদের।
ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কেশন ল্যাব প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- তাদের পর্যবেক্ষণে মেটা বিজনেস স্যুটের ‘পোস্ট ও রিলস’ ব্যবস্থাপনা অংশে ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুকের ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হওয়ার নোটিশ দেখা গেছে। সেখানে কনটেন্ট কতটি অ্যাকাউন্ট দেখেছে, তা বোঝার প্রধান পরিমাপক হিসেবে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
তবে এ পরিবর্তনসংক্রান্ত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা মেটার প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে তারিখটি আপাতত বিজনেস স্যুটে দেখা নোটিশের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিচ ও ভিউয়ারসের পার্থক্য কী
এত দিন ফেসবুক পেজের কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ‘রিচ’ বহুল ব্যবহৃত একটি মেট্রিক। এর মাধ্যমে কোনো পোস্ট বা কনটেন্ট কতজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়। নতুন ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিকের লক্ষ্য হলো কনটেন্ট দেখেছেন এমন স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা তুলে ধরা।
অন্যদিকে, ‘ভিউস’ বলতে কনটেন্ট কতবার দেখা হয়েছে সেই হিসাব বোঝানো হয়। একজন ব্যবহারকারী একই কনটেন্ট একাধিকবার দেখলে ভিউসের হিসাবে একাধিকবার গণনা হতে পারে। তাই ভিউয়ারস ও ভিউস একই বিষয় নয়।
মেটার এপিআই ও বিভিন্ন বিশ্লেষণী সেবার নথিতেও ২০২৬ সালে ফেসবুকের পুরোনো রিচ ও ইমপ্রেশন-সংক্রান্ত কিছু মেট্রিক পরিবর্তন এবং নতুন মিডিয়া ভিউ ও ভিউয়ারস-ভিত্তিক হিসাব চালুর কথা উঠে এসেছে।
তবে সব মেট্রিক, সব ফেসবুক সেবা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে- এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে
রিচ ও ভিউয়ারসের হিসাবের ভিত্তি এক না হলে পুরোনো ও নতুন প্রতিবেদনের সংখ্যা সরাসরি তুলনা করা কঠিন হতে পারে। কোনো পেজের ভিউয়ারস বেড়ে গেলে বা কমে গেলে সেটিকে কেবল কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। আগে বুঝতে হবে, পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে কি না।
বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল বিপণন সংস্থাগুলো মাসিক বা বার্ষিক পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। পুরোনো রিচের তথ্যের সঙ্গে নতুন ভিউয়ারসের তথ্য তুলনা করলে প্রতিবেদনে মেট্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া রিচের ভিত্তিতে হিসাব করা এনগেজমেন্ট রেট বা কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নের কিছু সূচকেও প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয় পক্ষের বিশ্লেষণী টুল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন মেট্রিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবেদন ও ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।
এখন কী করবেন পেজ পরিচালকেরা
ডিজিটাল বিপণন বিশ্লেষকেরা পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ, নতুন মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই এবং প্রতিবেদনে পরিবর্তনের তারিখ উল্লেখ করার পরামর্শ দেন। এতে ভবিষ্যতে কনটেন্টের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সময়ের তথ্য তুলনা করা সহজ হবে।
তবে রিচের মেট্রিক পরিবর্তন মানেই ফেসবুকের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অ্যালগরিদম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এটি মূলত কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপ ও প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়।
একইভাবে, ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সব রিচ সূচকও ৩১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তাই পেজ পরিচালকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মেটা বিজনেস স্যুটে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দেখানো নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, অবৈধ ও চোরাই হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিটিআরসির কমিশন সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হ্যান্ডসেট ট্র্যাকিংয়ের এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি কার্যকরে এটি হবে বিটিআরসির তৃতীয় উদ্যোগ। এর আগে ২০২১ সালে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছিল।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল সুবিধাগুলো চালু হবে।
এতে অবৈধ ফোন শনাক্ত করে সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে একই আইএমইআই নম্বর একাধিক ফোনে ব্যবহার করে চালানো ক্লোন সেট বন্ধ হবে না এই ধাপে। দ্বিতীয় ধাপে ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের প্রকৃত মালিক শনাক্ত এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ সহজ হবে।
এ ধাপের জন্য এখনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে জানান, আমরা অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চাই। তবে তাড়াহুড়া করব না। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর একটা সমাধান বের করা হবে, যাতে বরাবরের মতো এই উদ্যোগ ব্যর্থ না হয়।
নতুন মোবাইল ফোন কেনার আগে বৈধতা যাচাই
বিটিআরসি জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে যেকোনো মাধ্যম থেকে (বিক্রয়কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্র, ই-কমার্স সাইট ইত্যাদি) মোবাইল ফোন কেনার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করতে হবে। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন কেনার রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। মোবাইল ফোন বৈধ হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়ে যাবে।
যেভাবে জানবেন মোবাইল ফোনটি বৈধ কি না
ধাপ-১ : মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে KYD<space> ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর লিখুন। উদাহরণস্বরূপ KYD 123456789012345।
ধাপ-২ : আইএমইআই নম্বরটি লেখার পর ১৬০০২ নম্বরে পাঠিয়ে দিন।
ধাপ-৩ : ফিরতি বার্তার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের বৈধতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
প্রতীকী ছবি
বহুল ব্যবহৃত গুগল প্লে-স্টোরে ক্রোমের নাম ও লোগো নকল করে ফেক অ্যাপ শনাক্ত হয়েছে। লক্ষাধিক ডাউনলোড দেখানো এই অ্যাপ আদতে বিভ্রান্ত করে লাখের বেশি ডাউনলোড হওয়ার কারণে। স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য গুগল ক্রোম সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার। কিন্তু এই ব্রাউজারের নাম ও লোগো নকল করে গুগল প্লে-স্টোরে ফেক এক অ্যাপ দৃশ্যমান হয়। এসব তথ্য দিয়েছে গুগল।
শুধু তাই নয়, ওই অ্যাপটি লক্ষাধিক আগ্রহী ডাউনলোড করেছেন। এমনকি প্লে-স্টোরে সার্চ করলে বিজ্ঞাপনেও অ্যাপটি আসল ক্রোমের ওপরে দৃশ্যমান হয়েছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর গুগল অ্যাপটি সরিয়ে দিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ।
কদিন আগে এক রেডিট গ্রাহক গুগল প্লে-স্টোরের পাশেই দুটি দেখতে একই রকম ক্রোম অ্যাপের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ওপরে থাকা অ্যাপটি ছিল আদতে ফেক। সেখানে প্রকাশকের নাম ছিল হিজবার্টেক। অন্যদিকে, প্রকৃত গুগল ক্রোম অ্যাপের প্রকাশক সংস্থার এলএলসি বিভাগ। শনাক্ত ফেক অ্যাপে ক্রোমের লোগো, নাম ও ছবি সবকিছু নকল করা হয়। এর কারণ, সাধারণ গ্রাহক যেন সহজে বিভ্রান্ত হন। অনেকে বিজ্ঞাপন বা অনেক বেশি ডাউনলোড হয়েছে– এমনটি বিবেচনা করে এই অ্যাপকে আসল বলে ধারণা করেন। এটিই ছিল ফেক অ্যাপ নির্মাতার উদ্দেশ্য।
অ্যাপটি প্রথমে ক্রোম হিসেবে সামনে আসেনি। চলতি বছরের আগস্টে প্রথম এটি বল বাউন্স নামে আরেকটি মোবাইল গেম হিসেবে প্লে স্টোরে দৃশ্যমান হয়। পরে সেপ্টেম্বরের শেষে এর ছবি, নাম ও বিবরণ বদলে ক্রোমের মতো করা হয়।
যে কোনো অ্যাপের লাখের বেশি ডাউনলোড হওয়ার মানে এটি নয়, অনেকে শুধু ফেক ক্রোম ইনস্টল করেছিলেন। গেম হিসেবে থাকার সময়ের ডাউনলোড হওয়ার সংখ্যাও এর মধ্যে ছিল। এই অ্যাপে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অ্যাপটি ব্রাউজারের বদলে বিশেষ চ্যাট পরিষেবার কথা বলেছে।
প্রকৃত ক্রোম অ্যাপের নিচের অংশে গুগল ‘এলএলসি’ মার্ক রয়েছে কিনা, তা অবশ্যই দেখে নিতে হবে। নাম, লোগো বা ডাউনলোডের সংখ্যা বিবেচনা করে যে কোনো অ্যাপে বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। প্লে স্টোরে পৃষ্ঠপোষক বিজ্ঞাপন থাকার পরও সেটি নিরাপদ হবে– এমন নিশ্চয়তা নেই।
এরই মধ্যে ফেক অ্যাপটি ফোনে ঢুকে থাকলে দ্রুত তা আনইনস্টল করতে হবে। এরপর গুগল প্লে স্টোরের প্লে-প্রটেক্ট বিভাগে গিয়ে ফোন স্ক্যান করতে হবে। নতুন অ্যাপ ডাউনলোডের আগে প্রকাশকের নাম ও বিবরণ ঠিকঠাক যাচাই করতে হবে। সামান্য সতর্কতাই ফেক অ্যাপের ফাঁদ থেকে দিতে পারে সুরক্ষা।
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের তারুণ্যের চাহিদা পূরণে নতুন মডেলের অলরাউন্ড ডিউরেবল সি-সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন সি১০০ মডেলের নির্মাতা রিয়েলমি। জানা গেছে, মডেলে রয়েছে আট হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের টাইটান ব্যাটারি, ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, ১০ ওয়াট রিভার্স চার্জিং ও সাত বছরের ব্যাটারি হেলথ প্রতিশ্রুতি।
দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ নিশ্চিত করবে এআই-পাওয়ার্ড অপ্টিমাইজেশন। মডেলটি পূর্ণ চার্জে প্রায় দুদিন সক্রিয় থাকা ছাড়াও ১১ ঘণ্টার বেশি অনলাইন গেমিং (ফ্রি ফায়ার, মোবাইল লিজেন্ডস ব্যাং ব্যাং), ২৪ ঘণ্টার বেশি অনলাইন স্ট্রিমিং, ২০ ঘণ্টার বেশি অনলাইন নেভিগেশন ও ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করতে সক্ষম। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স ও আর্মরশেল প্রটেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।
আইপি৬৯ প্রো প্রযুক্তি, দুই মিটার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স ও ছয় মিটার ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ডিভাইসের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। যার মাধ্যমে পকেট থেকে ফোন বের করার সময় বা ছবি তোলার সময় সুইমিংপুলে ফোন পড়ে যাওয়ার মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে ডিভাইসের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। রয়েছে ৮-কোর চিপসেট।
কনটেন্ট তৈরি ও ফটোগ্রাফির জন্য সহায়ক হবে ৫০ মেগাপিক্সেল রেয়ার ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। ফ্রন্ট ও রেয়ার– দুই ক্ষেত্রে ক্যামেরাই ডুয়েল ভিডিও শুটিং করা যাবে। স্মুথ স্ক্রলিং নিশ্চিতে কাজ করবে ৯০ শতাংশ স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও ৬.৮ ইঞ্চির এইচডি+ ডিসপ্লে। রঙের বৈচিত্র্য দেবে ভিক্টরি পার্পেল, গ্লোরি হোয়াইট ও এনড্যুরেন্স ব্রাউন। মডেলের দুটি স্টোরেজ রয়েছে। ১২৮ জিবি র্যামের সঙ্গে মিলবে ৬ ও ৮ জিবি র্যাম।
ভিডিওর ভয়েস ওভার তৈরি, বিভিন্ন কনটেন্টে কণ্ঠ যোগ করা কিংবা যেকোনো লিখিত বক্তব্য অডিওতে রূপান্তর করতে এখন আর নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করার প্রয়োজন নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে লিখিত টেক্সট থেকেই এখন হুবহু মানুষের মতো কণ্ঠ তৈরি করা সম্ভব। এ জন্য ব্যবহার করতে পারেন ElevenLabs: AI Voice Generator অ্যাপটি। স্মার্টফোনে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করেই লিখিত কনটেন্ট থেকে নিখুঁত অডিও তৈরি করা যায়।
যেভাবে তৈরি করবেন এআই ভয়েস
ধাপ ১: অ্যাপ ইনস্টল করুন
প্রথমে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গুগল প্লে স্টোর খুলুন। সার্চ বারে ‘ElevenLabs: AI Voice Generator’ লিখে অ্যাপটি খুঁজে ইনস্টল করে নিন। ইনস্টল সম্পন্ন হলে অ্যাপটি চালু করুন এবং প্রয়োজনীয় পারমিশন চাইলে তা দিন।
ধাপ ২: টেক্সট টু স্পিচ অপশনে যান
অ্যাপে প্রবেশ করার পর ‘Text to Speech’ (টেক্সট টু স্পিচ) অপশনটি নির্বাচন করুন। এই ফিচারটির মাধ্যমেই মূলত লিখিত লেখা থেকে ভয়েস বা কণ্ঠ তৈরি করা হয়।
ধাপ ৩: ভয়েস মডেল নির্বাচন করুন
‘Text to Speech’ পেজের নিচের দিকে বামপাশে একটি সেটিংস (গিয়ার/চাবি) আইকন দেখতে পাবেন, সেটিতে ক্লিক করুন। এরপর ‘মডেল’ অপশন থেকে যদি আগে থেকেই ‘v2’ বা ‘v2.5’ নির্বাচিত থাকে, তবে তা পরিবর্তন করে ‘v3’ (বা অ্যাপের সর্বাধুনিক মডেল) বেছে নিন। নির্বাচন শেষে নিচে থাকা ‘এপ্লাই’ বাটনে ক্লিক করে সেটিংস সেভ করুন।
ধাপ ৪: পছন্দের ভয়েস বা কণ্ঠ নির্বাচন করুন
এবার পূর্বের পেজে ফিরে এসে ভয়েস নির্বাচন অপশনে ক্লিক করুন। সার্চ বারে ইংরেজিতে ‘Bunty’ লিখে সার্চ করুন। সার্চ রেজাল্টে ‘Bunty Punchy’ অপশনটি এলে সেটি সিলেক্ট করুন এবং নিচে থাকা ‘সিলেক্ট ভয়েস’ বাটনে চাপ দিন। এতে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভয়েসটি সেট হয়ে যাবে।
ধাপ ৫: টেক্সট ইনপুট দিন
যে লেখাটিকে অডিওতে রূপান্তর করতে চান, সেটি নির্দিষ্ট টেক্সট বক্সে লিখুন অথবা আগে থেকে লেখা থাকলে কপি করে পেস্ট করে দিন। লেখা সম্পন্ন হলে ভয়েস জেনারেট বা তৈরি করার বাটনে ক্লিক করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। প্রক্রিয়াটি শেষ হলে তৈরি হওয়া অডিও প্লে করে শুনে নিন।
ধাপ ৬: অডিও ফাইলটি ডাউনলোড করুন
জেনারেট হওয়া ভয়েস পছন্দ হলে স্ক্রিনে থাকা ‘ডাউনলোড’ আইকনে ক্লিক করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী অডিও বা ভিডিও ফরম্যাট নির্বাচন করে ফাইলটি আপনার ফোনে সেভ করে নিন। পরবর্তীতে এটি যেকোনো ভিডিও এডিটিং বা কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবেন।অ্যাপের সংস্করণ পরিবর্তনের কারণে এসব অপশনের নাম বা অবস্থানে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। এছাড়া ফ্রি বা প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্টের ওপর ভিত্তি করে ভয়েস জেনারেট ও ডাউনলোডের দৈনিক সীমার কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
নিবন্ধিত ব্যবহারকারী নন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিধি আরও সহজ করতে নতুন ফিচার আনছে হোয়াটসঅ্যাপ।
মেটা মালিকানাধীন এ যোগাযোগ মাধ্যমটি ‘গেস্ট কলিং’ নামের নতুন ফিচার যোগের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাকাউন্ট না থাকলেও যে কেউ ভয়েস বা ভিডিও কলে যোগ দিতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপের ‘গেস্ট কলিং’ সুবিধাটি অ্যাপলের ফেইসটাইমে অ্যাপল অ্যাকাউন্ট বা ডিভাইস ছাড়া যোগ দেওয়ার ফিচারের মতোই কাজ করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নিয়মিত ব্যবহারকারীদের সব সুবিধা অতিথিরা পাবেন না, কিছু বিধিনিষেধ থাকবে। যেমন, গেস্ট হিসেবে কেউ নিজে থেকে কোনো কল শুরু করতে পারবেন না, কেবল অন্যদের পাঠানো আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কলে যুক্ত হতে পারবেন। এ ছাড়া, কলে যোগ দেওয়ার আগে যিনি কল শুরু করেছেন বা হোস্ট, তাকে অতিথিকে যোগ দেওয়ার অনুমোদন দিতে হবে।
গেস্ট হিসেবে যোগ দেওয়া ব্যক্তি কলে থাকা অন্য ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর দেখতে, কোনো বার্তা বা মেসেজ পাঠাতে ও নতুন কোনো সদস্যকেও কলে যোগ করতে পারবেন না। তবে তারা যে কোনো ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে দ্বিপাক্ষিক বা গ্রুপ কলে যোগ দিতে পারবেন। অনুমতি মেলার পর স্ক্রিন শেয়ারিং, হাত তোলা ও থাম্বস আপ বা হার্ট ইমোজি ব্যবহারের মতো প্রয়োজনীয় টুলগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।
পাশাপাশি, গেস্টদের কলে যোগ থাকার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা থাকবে না।
মেটা বলেছে, কলিং সুবিধাকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে শিগগিরই তারা নতুন প্লাগইন চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নিজস্ব ক্যালেন্ডার সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যোগ করা যাবে।
‘এ বছরের শেষদিকে’ ফিচারটি চালু হলে গুগল বা আউটলুক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ কল করার সুবিধা মিলবে।
বছর জুড়ে একের পর এক নতুন নতুন ফিচারের আপডেট নিয়ে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ। এর মধ্যে বেশিরভাগ সুবিধাই প্ল্যাটফর্মটিকে আরও সহজলভ্য, নিরাপদ ও ব্যবসায়িক ব্যবহারের লক্ষ্যে করেছে মেটা।
ইউজারনেইম বা ব্যবহারকারীর নাম যোগের সুবিধার ফলে ফোন নম্বর গোপন রেখেই যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের অন্যান্য সাম্প্রতিক সংযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে এনক্রিপ্টেড ওয়েব কলিং ও আইপ্যাড থেকে সরাসরি অ্যাকাউন্ট খোলার মতো ফিচার।
এ ছাড়া, আগে থেকেই মেসেজ সিডিউল বা বার্তা পাঠানোর সময় নির্ধারণ করে রাখার মতো বহুমুখী সুবিধাও দ্রুত যোগ দিতে পারে বলে আভাস মিলছে।