স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে। জোট শরিকদের মধ্যে নির্বাচনি কৌশল নিয়ে মতের অমিল ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জোটের একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের ধরন নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হলেও জোটের বেশিরভাগ শরিক সংসদ নির্বাচনের মতো সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটের মাঠে নামার পক্ষে। এমন প্রেক্ষাপটে জোটের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে দুই-একটি দল নিজেদের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। জোটের দায়িত্বশীল কয়েকটি
সূত্রের দাবি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে দলীয় পরিচয়ে এককভাবে প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত। জোটগত সমঝোতার পরিবর্তে নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষেই দলটির নীতিনির্ধারকদের অবস্থান।
অন্যদিকে, জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ (এলডিপি) অন্য দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিচ্ছে, যদিও এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিও তারা রাখছে। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও আলোচনার সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ করেনি বলেও দাবি সূত্রগুলোর।
জানা গেছে, চলতি বছরের দলীয় প্রতীকবিহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে অক্টোবর-নভেম্বরে। এরই মধ্যে স্থানীয় নির্বাচনের আচারণবিধি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো দলের সঙ্গে সমঝোতায় না যাওয়ার পক্ষে দলের হাইকমান্ড।
তবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতি বিবেচনায় সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী দিলে সে বিষয়ে কেন্দ্রের আপত্তি থাকবে না।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, অতীতে জাতীয় নির্বাচনে জোট থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সব দলই আলাদাভাবে অংশ নিয়েছে। তাই সিটি করপোরশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরাও এবার এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেন্দ্রীয়ভাবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না। উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় নেতারা সমঝোতা করে নির্বাচন করতে পারে। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শরিকদের মতামতকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না জামায়াত। দলটির ‘বড় ভাইসুলভ’ আচরণও অনেক শরিকের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না হয়, তাহলে জোটের অন্য শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। এমন একটি আলোচনা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কৌশলগত ভিন্নতা এখনই জোটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই মূলত ১১ দলীয় জোট গড়ে উঠেছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সীমিত পরিসরে সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনসিপি ঢাকার একটি সিটিসহ আরও দু-একটি সিটিতে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে সমঝোতার চেষ্টা করতে পারে।
একাধিক শরিক দলের নেতা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করলে ভোটের মাঠে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একাধিক শরিক দল একই এলাকায় আলাদা প্রার্থী দিলে ভোট বিভক্ত হয়ে যাবে। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি সুবিধা পাবে। এ কারণে তারা জোটগত সমঝোতা ও আসনভিত্তিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা আপাতত এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার প্রস্তুতি শুরু করেছি। দেশের অনেক এলাকার প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। অন্য এলাকাগুলোতে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে নির্বাচনের সময় যদি জোটগত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে তৃণমূলের বাস্তবতা জয়-পরাজয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। তাই জোটগত ও একক- দুই ধরনের প্রস্তুতিই আমরা রাখছি। নির্বাচনের সময় একেক জায়গায় একেক রকম সিচুয়েশন তৈরি হবে, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ওই এলাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষা বলেন, আমরা সারা দেশে প্রার্থী ঘোষণা করছি। জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচিতেও দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে দলীয় প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন না করলে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী সুবিধা পাবে। জয়ের সম্ভাবনা কমে যাবে। কেউ যদি এককভাবে নির্বাচন করতে চায়, জোটে না থাকতে চায়- এটা সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। কাউকে জোর করিয়ে জোট করাতে পারব না। নির্বাচনের সময় এলে এটা আরও স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিটি দল আলাদাভাবে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রত্যেক দলের প্রার্থী বাছাই-যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জোট নাকি এককভাবে অংশ নেব।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু নির্দলীয় ফরম্যাটে হচ্ছে, সেহেতু এই নির্বাচনে জাতীয় পর্যায়ে জোট হওয়ার সম্ভাবনা কম। স্থানীয়ভাবে কোনো কোনো অঞ্চল, জেলা বা উপজেলায় সেটা হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণেরই বিপক্ষে। আমাদের কোনো নেতাকর্মী যদি স্বেচ্ছায় নির্বাচনে অংশ নিতে চান, আমরা তাদের উৎসাহ প্রদান করছি এবং সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছি।
নিষ্ক্রিয় খেলাফত মজলিস, ছাড়তে পারে জোট: প্রায় এক মাস ধরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় রয়েছে বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস।
সূত্র জানায়, জোটের বর্তমান কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণা ও নেতাদের চাওয়াকে গুরুত্ব না দেওয়ায় দলটি দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ছাড় আদায়ে তৃণমূলের চাপও রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। এ ছাড়া জোটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং এনসিপির তরুণ নেতাদের তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা সহজভাবে নিতে পারছেন না খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা। এসব কারণে খেলাফত আন্দোলনের পর কওমিভিত্তিক আরেকটি দল হিসেবে খেলাফত মজলিসও জোট ছাড়তে পারে-এমন আলোচনা রয়েছে খেলাফত মজলিসের ভেতরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ জুন ময়মনসিংহে ও ১১ জুলাই রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ বর্জন করেছে খেলাফত মজলিস। ১৮ জুলাই বরিশাল ও ২৫ জুলাই সিলেটের জনমসমাবেশেও অংশ নিচ্ছে না দলটি। পরবর্তী বৈঠকে বসে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর খেলাফত মজলিস জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা মনে করেন, সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার সময়ে তাদের ন্যায্য আসন দেওয়া হয়নি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ অন্যান্য জাতীয় সংকট নিয়ে আন্দোলন চলমান রয়েছে। কিন্তু এর ফাঁকে জামায়াত কৌশলে তাদের নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করছে। তাই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটের মূল্যায়ন হওয়া জরুরি।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে আমরা আছি। দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু বিশেষ কারণে আপাতত কোনো কর্মসূচিতে আর অংশ নিচ্ছি না। আগামী ২৫ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শূরার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, খেলাফত মজলিসের কিছু মান-অভিমান থাকতে পারে। একসঙ্গে পথ চলতে গেলে না চাইলেও অনেক সময় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। আমাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে, আশা করি ঠিক হয়ে যাবে। হেফাজতের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা ঘরানার ৭ দলের বৈঠক: অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার কওমি মাদ্রাসা ঘরানার সাতটি দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেছেন। দলগুলো হলো-ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি। এদের মধ্যে খেলাফত মজলিসের দুই অংশ এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ১১ দলীয় জোটের অংশ।
বৈঠক সূত্র জানায়, সাতটি দলকে নিজেদের মধ্যে ভুলক্রটি ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় হেফাজত। প্রতিটি দলই একসঙ্গে পথচলার জন্য একমত পোষণ করেছে। আগামী দিনে একসঙ্গে পথচলার রূপরেখা প্রতিটি দল তৈরি করে হেফাজতের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে জমা দেবে। রূপরেখা জমা দেওয়ার পর পরবর্তী বৈঠকগুলোতে ঐক্যের কাঠামো তৈরি হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।
আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক
মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ
নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:
জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’
তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।
হেফাজতে ইসলামের অবস্থান
এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।
সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।
ইশরাক হোসেন
প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’
ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’
ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না। অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। ৭ মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’
বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সব ক্ষেত্রই দলীয়করণ করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আওয়ামী আমলের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যের পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার।’
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নিতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগও সরকার করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৭ মাসে সরকার লেজে গোবরে জড়িয়ে গেছে।’
বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরোয়ার বলেন, ‘৯ নং দফার বিপরীতে গিয়ে সর্বত্র দলীয়করণ করছে সরকার।’
শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হচ্ছে দাবি করে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী কখনোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল মিলে লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট কি তা ৭ মাসের মধ্যেই ভুলে গেছে বিএনপি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিজ দলের লোক বসানো, জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ বিএনপি তা ধারণ না করে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল গুলিয়ে ফেলছে বিএনপি। দুর্নীতি ও দলীয় কর্মীদের কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, জামায়াত নয়। জুজুর ভয় দেখিয়ে সব বিরোধীদলকে পাল্টা দোষারোপ করেছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ; বিচার কার্যকরের পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।