ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না। শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমেই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল-মত, শ্রেণিপেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই দেশ গড়তে হবে। শুধু একটি শ্রেণিকে নিয়ে কখনোই দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়।”
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে খুলনার প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এর মধ্যে অন্তত ১০ কোটি নারী। এ বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে যত বড় পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, দেশকে সামনে নেওয়া সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘একটি দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাদেরই আজ অপমান করা হচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে- নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার এখতিয়ার কারও নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে আজ বিএনপি ও ধানের শীষের এই জনসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫-১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার, লাখো নেতাকর্মী- বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা- গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ টানা ১৬ বছর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, এমনকি স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ তাদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেনি। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ তাদের মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেননি।
কেউ কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে রাতের আঁধারে তুলে নেওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে কিংবা খুন করা হয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। আজ সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে, যা থেকে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা আজ মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই অঞ্চলকে আবার জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তর করা হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে।
পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিকুল আলম তুহিনের পরিচালনায় জনসভায় বক্তৃতা করেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আসগর লবী, খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমির এজাজ খান,
খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী এস এম মনিরুর হাসান বাপ্পী, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট-৪ আসনের প্রার্থী সোমনাথ দে।
জনসভা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলী, সাবেক মেয়র ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শাহ মুহাম্মাদ আমান উল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মো. আহসান হাবীব, ছাত্রনেতা তানভীর বারী হামিম প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ড. আবদুল মঈন খান
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। কদিন ধরে এক ডজনের বেশি নাম লোকমুখে ঘুরে বেড়ালেও দলীয় ও রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনায় শেষ পর্যন্ত তিনজনের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। এর মাঝে আজ শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়টিও উঠতে পারে।
যে তিন জনের নাম জানা যাচ্ছে
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার তালিকায় যাদের নাম থাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে তারা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সূত্র বলছে, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদের বিষয়টি উঠতে পারে। তবে একাধিক সূত্রের দাবি, বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অতীতের মতোই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্তের ভার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে কেউ কেউ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রোফাইল এরইমধ্যে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কোন কোন বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে
দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় রাজনীতি নয়, দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা মতামত থাকলেও শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত হন।
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান
এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ, পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা-সব মিলিয়ে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা করেছেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
অন্যদিকে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে বলছেন অনেকে।
তবে বিএনপির দায়িত্বশীল কোনো নেতা এখনো রাষ্ট্রপতি পদে কারও নাম আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে বলে সূত্রগুলোর দাবি। এর আগে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ কম। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।
সিদ্ধান্ত কী আসতে পারে আজ?
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয়েছে। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত এমন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল আটটি বিষয়ের কথা বলেন।
তারমতে, রাষ্ট্রপতির পাঁচ বছরের মেয়াদ, সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার ভূমিকা, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা, অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সর্বজনস্বীকৃত ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাগত ও কূটনৈতিক যোগ্যতা, বর্তমান সরকার ও দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রপতির শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা-সবকিছুই সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সব বিষয় বিবেচনায় নিলে বর্তমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া কাউকে এ পদে বিবেচনা করা দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি না। তবে ক্ষমতায় বসলে অধিকাংশ মানুষেরই আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে সেটির পরিণতি অধিকাংশ সময়ই খুব ভালো হয়েছে, এমনটি প্রমাণিত নয়। তাই আবেগের চেয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, আমার বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার কোনো অগ্রহণযোগ্য ব্যাড রেকর্ড নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রের প্রতি যার দায়বদ্ধতা থাকবে এবং যার মেরুদণ্ড হবে শক্ত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অভিভাবকশূন্য মনে হয়। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলে সরকার ও রাষ্ট্র-উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, যদি দলীয়ভাবে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তাহলে এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। তবে দুই যুগ আগে সরকারে থাকাকালীন বিএনপি যাদের (বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ইয়াজউদ্দিন আহমদ) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছিল, নতুন করে এমন কোনো ব্যক্তিত্বকে এ পদে নির্বাচন করা উচিত হবে না।
বিএনপির দলীয় মনোগ্রাম
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, এই আলোচনার মধ্যেই শনিবার বৈঠকে বসছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি হবে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি বলেছেন, “স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠক ডাকা হয়েছে।
“বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তেল, গ্যাসের দামসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।”
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে স্থায়ী কমিটিতে কোনো আলোচনা হবে? জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজমন্ত্রী টুকু বলেন, “এটা আগে থেকে বলার সুযোগ নেই।”
তবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হয়েছে। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।”
“কিন্তু সিদ্ধান্ত যেভাবে হবে, সেটা না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নাই,” বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে অপরসারণের দাবি ওঠে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠনের তুমুল আন্দোলনেও সে সময় তিনি পদত্যাগ করেননি।
নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর গেল ২২ জুলাই গুঞ্জন ওঠে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। এর দুই দিন পর ২৪ জুলাই ‘শারীরিক ও মানসিক’ সক্ষমতা না থাকার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতে মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সংবিধান অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা; তার আগে যেকোনো সময় নির্বাচন হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিনজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ছয়জনের নাম আলোচনায় থাকার কথা জেনেছে।
তারা হলেন- স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে আলোচনায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুইজন সদস্য সঙ্গে বলেছেন, যাদের নাম এসেছে গণমাধ্যমে, এরমধ্যে দুই জন বেশি ‘বিব্রতবোধ’ করছেন।
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, “ইতোমধ্যে দেশ, বিদেশ থেকে অনেকে ফোন করে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, টেক্সট পাঠাচ্ছেন, এতে বিব্রত হচ্ছেন দুই-একজন নেতা।”
ত্রয়োদশ সংসদে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলে বসেছে। দলটির নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭ আসন। অন্যদিকে বিএনপির আসন ২১০টি। আনুপাতিক হারে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনেও বিএনপি ও মিত্রদের সদস্য বিরোধী দলের চেয়ে বেশি। ফলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
শুক্রবার বিকালে বিএনপির একজন নেতা বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা নাও হতে পারে।
“স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিগত সময়ে যেভাবে খালেদা জিয়ার ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সব ভার দিতেন, এবারও সেই পথে যাবেন তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে কোনো-কোনো সদস্য হয়তো কথা তুলতে পারেন।”
স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, “নির্বাচন কমিশন থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই বিএনপি রাষ্ট্রপতি পদে নাম প্রস্তাব করবে। এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে জানার সুযোগ কম।”
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন কায়সার কামাল।
মঙ্গলবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
দুই জনের এই সাক্ষাৎ ‘আইনগত রুটিন সাক্ষাৎ’ ছিল বলে জাতীয় সংসদের দায়িত্বশীল একজন বলেছেন।
সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে ১৫ জুলাই। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশন সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়া যাবে না। সে হিসেবে সেপ্টেম্বর বা তার আগে পরবর্তী অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে পারে, বিএনপির কয়েকজন নেতা মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর এমন কথা বলেছিলেন।
তবে জাতীয় সংসদের দায়িত্বশীল এই ব্যক্তি বলেছেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো ধরনের অধিবেশন আহ্বান করা লাগে না। অধিবেশনের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে, যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী হবেন রাষ্ট্রপতি পদে, তারা মনোনয়ন ফরম জমা দেবেন। সেখান থেকে তালিকা যাচাই-বাছাই করে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তারপর যদি নির্বাচনের প্রয়োজন হয় তখন সংসদের ৩৫০ জন সদস্য (এখন ৩৪৯ এমপি), তাদের ভোটের দিন ধার্য করা হবে। সেদিন তারা আসবেন এবং ভোট দেবেন।”
জাতীয় সংসদের অধিবেশনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের ভোটের আইনগতভাবে কোনো সম্পর্ক নেই, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠক করার পর সিইসি নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সেজন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
“তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।”
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকর, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের নিয়োগের প্রতিবাদসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে ৫ আগস্ট ঢাকার পল্টনে সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলের নেতার বাসভবনে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দল নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালিয়েছিল। খোদ তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করলেও সেটি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অর্থাৎ সরকার তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।
আযাদ আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন দপ্তর বা অধিদপ্তরে নজিরবিহীনভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েছে, যা জুলাই অভ্যুত্থান চেতনার বিপরীত। একই সঙ্গে সারাদেশে ফের নতুন করে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেছে সরকারের লোকজন। এসবের প্রতিবাদে ৫ আগস্ট বুধবার ঢাকার পল্টনে ১১ দল সমাবেশ করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মাজেদ আতহারী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চান প্রমুখ।
এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা: বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৩ আগস্ট শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। এছাড়া সম্প্রতি হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচিতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর বিএনপির হামলার তীব্র নিন্দা এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা থাকলেও দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। এ লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন- তা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই বৈঠকটি ডাকল বিএনপি। সভায় দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের কয়েকজন নেতা জানান, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘিরে। তবে দলের ভেতরের কিছু নেতা এ বিষয়ে বিরোধিতা করছেন।
নীতিনির্ধারকদের অনেকে মনে করেন, অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নজর মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। তিনি এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি করতে চান, যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দক্ষ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হোক, সেটা আমরা চাই না। তাই সবকিছু খুব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ জন্যই দলীয় নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল নেতাদের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যেন স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে কোনো অসংলগ্ন বক্তব্য না দেওয়া হয়।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই নেওয়া হবে। স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখেই দেশের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্বে দেখতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির অন্য নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি শুধু আনুষ্ঠানিক পদ নয়; রাজনৈতিক সংকটের সময় এই পদটির গুরুত্ব বেড়ে যায়। তাই ব্যক্তি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি পদে এমন কাউকে চাই, যার সততা নিয়ে প্রশ্ন নেই। যিনি সংবিধানের রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। দলীয় পরিচয় থাকলেও রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন।
বিএনপি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খানের নাম আগেই আলোচনায় ছিল।
তবে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও। দলের বাইরে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও আছে আলোচনায়। এ ছাড়া একজন সচিব ও রাজনীতির বাইরে কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে।
দলটির নেতারা বলছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলতে চায় বিএনপি। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের যে ভারসাম্য, তা রক্ষা করা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এমন কাউকে নির্বাচন করা হবে না, যিনি সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি করবেন, আবার একই সঙ্গে এমন কাউকে আনা হবে না, যিনি বঙ্গভবনের সাংবিধানিক পদের গুরুত্ব ও মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।
বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, এমন একজনের রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত, যিনি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। আরেক নেতা বলেন, দলীয় আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২৪ জুলাই বিকেলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়েন। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
জানা গেছে, বিএনপির ৩১ দফা কিংবা ঘোষিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের যৌথ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যে পদ্ধতির কথা ছিল, সেটা এবার হচ্ছে না। ফলে আগের নিয়মেই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রার্থীরাই নির্বাচনে জিতে আসবেন। আর জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিলেটে ফেরার পথে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।’
সারজিস আলমও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সারজিস আলম আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এদিকে, সিলেটের পুলিশ জানিয়েছে, গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে সিলেটের কানাইঘাটে য়াওয়ার পথে সারজিস আলমের ঘাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে; কেউ হতাহত হননি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। সে ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এনসিপি। যদিও বিএনপি নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
এদেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের মূল্যবোধ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে সন্তানহারা মায়েদের অশ্রু এমনি হারিয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। এখনও ঘুষখোররা ঘুষ নিচ্ছে, তাই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের মধ্যে এখনো পরিবর্তন না এলেও তারেক রহমান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের মনোভাব সবার মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে আমরা জুলাইয়ের সফলতা দেখতে পাব।