ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৩ পিএম

বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 


তিনি বলেছেন, সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে। ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ কথাগুলো বলেন। 


‘ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরতে’ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির পলিসি ও রিসার্চ-বিষয়ক উপকমিটি।


সংবাদ সম্মেলনে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি থেকে পুরোনো রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন-অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা’ নামের একটি পুস্তিকা পড়ে শোনান নাহিদ ইসলাম। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষে পুস্তিকাটি লেখা হয়েছে। 


সরকারের ১৮০ দিন সম্পর্কে সার্বিক মূল্যায়নে বলা হয়, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরকার ১৮০ দিনের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিল-দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। ছয় মাস পর তথ্য-উপাত্ত ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় দেখা গেছে, তিনটি অগ্রাধিকারের প্রতিটিতেই সরকার নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানিসংকটে কলকারখানাগুলো বন্ধ হচ্ছে এবং শ্রমিকেরা চাকরি হারাচ্ছেন, কৃষকদের উচ্চ মূল্যে সার কিনতে হচ্ছে।


সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নজিরবিহীন সংকট শিল্প উৎপাদন, কৃষি খাত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছে। নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, ব্যাংকিং খাতের লুটেরারা পুনরায় ফেরত আসছে, ভোগ্যপণ্য ও আমদানি বাজারে পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়েছে, বিএনপি তাতে নতুন অংশীদার হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। পাঁচ মাস দুদকের নিষ্ক্রিয়তা এবং লুটেরা ও বাজার সিন্ডিকেটের প্রত্যাবর্তন একই সূত্রে গাঁথা বলে তাঁরা মনে করেন।


প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার (যেমন মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) একে একে বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এসবের জায়গায় আগের চেয়ে দুর্বল ও অকার্যকর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুল প্রচারিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারকে ছুড়ে ফেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্লজ্জ দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে। জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত অগ্রাধিকার নীতিতে বিচার ও শহীদ পরিবার-আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন অনুপস্থিত।


বিরোধী দল, মত ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের হামলা-মামলার ঘটনা অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর। 


তিনি বলেন, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিবর্তে হামলায় আহত ব্যক্তিদের আইনিভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশকে আবার দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জুলাই সনদ ভঙ্গ করেছে। বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন মূলত অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অপরিণামদর্শিতা ও অসততার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।


পুস্তিকায় বিভিন্ন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও শ্রমিকদের চাকরির ঝুঁকি, বিদ্যুৎ-সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, কৃষকদের হয়রানি ও সারের সংকট, অর্থনৈতিক অপশাসন, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেট, মেগা প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি ও লুটপাটের আয়োজন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতি বাতিল, হাম মহামারিতে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিকদের হয়রানি ও মামলা, গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নতুন মোড়কে র‍্যাবসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়। সেসব বিষয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়।


সরকার ‘ব্যর্থ’, বিরোধী দল ‘দায়িত্বশীল’


সরকার পুরোনো ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় ফেরত যাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম। 


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম ১৮০ দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তারেক রহমানের কোনো ধরনের পরিকল্পনা নেই দেশকে পরিচালনা করার। শুধু ক্ষমতায় বসেছেন এবং পুরোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পনা ও নীতি অনুযায়ী তিনি দেশকে পরিচালনা করছেন, দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছেন।’


সরকার সার্বিকভাবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। অন্যদিকে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য, বিশেষ করে এনসিপি গত ছয় মাসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।


নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা খুবই দায়িত্বশীল আচরণ করেছি বিরোধী দলের জায়গা থেকে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যে পরিবর্তন আনার কথা, সেটা বিরোধী দল এনেছে। সরকার সেটার জবাব দিয়েছে আমাদের একজন ভাইয়ের চোখ কেড়ে নিয়ে। গাইবান্ধায় একজন মারা গিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় হামলা হচ্ছে।’


বিরোধী দল আসলে ব্যর্থ, বিরোধী দল দুর্বল-এমন প্রচারকে ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে দেখেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁরা দেশের মানুষকে প্রতিনিয়ত এটা দেখিয়ে যাচ্ছেন যে কোথায় কোথায় সরকার ভুল করছে, প্রতিশ্রুতির খেলাপ করছে। নীতিগতভাবে এটা মানুষকে যেমন তাঁরা দেখাবেন, একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে তাঁরা এটার প্রতিরোধ করবেন। যদি সরকার ক্রমে সেদিকেই হাঁটতে থাকে, তাহলে ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে পড়বে।


নাহিদ ইসলাম বলেন, শিগগিরই ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ হবে পাঁচ থেকে ছয়টি বিভাগে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে তাঁরা একটা বড় বার্তা সরকারকে দেবেন। এরপর আরও কঠোর আন্দোলনের যদি প্রয়োজন হয়, সেটার ঘোষণা তাঁরা দেবেন। পাশাপাশি এনসিপিও তার সক্ষমতা অনুযায়ী উপজেলা-জেলা পর্যায়ে ও মহানগরগুলোয় কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।


ভারত প্রসঙ্গ


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেটি ভারত সরকারের সহযোগিতা বা মদদ ছাড়া সম্ভব ছিল না বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। 


তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম করতে দেওয়া, আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন রাখা-এটা আসলে সম্ভব নয়। তাঁরা মনে করেন, এটা সাংঘর্ষিক ও দ্বিচারিতা।


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেবে না দিল্লি, শেখ হাসিনাকে সেখানে রাখবে না, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের প্রতি ভারত সরকার শ্রদ্ধাশীল হবে, ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হবে-এসব বিষয়ে নিশ্চয়তা পেলেই বিগত ১৫ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুনভাবে পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। 


তিনি বলেন, এ বছর গঙ্গা চুক্তি শেষ হচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে পানির ন্যায্য হিস্যা পায়, সীমান্তে পুশ-ইন যাতে না হয়, সীমান্ত হত্যা যাতে বন্ধ হয়-ইত্যাদির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব।


নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয় শুরু হওয়ার আগে যেখানে শেখ হাসিনা রয়েছেন, সেই দিল্লিতে যদি আবার তারেক রহমান যান, তাহলে এটার আসলে অর্থ কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশের জনগণ বা বিশ্ববাসী কীভাবে দেখবে? আমরা মনে করি, এটা শুধু তারেক রহমানের বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য এটা একটা অবমাননাকর ঘটনা হবে। বাংলাদেশ যে স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি বা সার্বভৌমত্বের জায়গায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না-এটাই বার্তা যাবে।’


এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।




জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩০ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে মো. নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক ও আখতার হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দলের অস্থায়ী কার্যালয় ঢাকার বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে- অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল, এ.কে. ফ্লোরা।    


সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে, মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে। এ ছাড়াও যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস.এম. সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক, মো. আতাউল্লাহকে।  


আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাহসীন রিয়াজ এবং সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ইফতেখারুল ইসলাম।


আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারি ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ।


প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহ-প্রচার সম্পাদক হয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন। শিক্ষা সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন সাকিব শাহরিয়ার।


বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা


ঢাকা বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী। চট্টগ্রাম বিভাগ (দক্ষিণ)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ.এস.এম. সুজাউদ্দীন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাওয়াদুল করিম। রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাকিব মাহাদী। চট্টগ্রাম বিভাগ (উত্তর)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম সৈকত।


তালিকা অনুযায়ী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন। সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন শাহরিন ইরা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মোল্যা রহমতুল্লাহ। বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড. শামীম হামিদী। এ বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তানহা শান্তা। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন হাবিবুর রহমান অপু। 


ঢাকা বিভাগে সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) হিসেবে রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিভাগে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ।


নারীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহ-পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।


স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ- মিডিয়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া ধর্ম সম্পাদক হিসেবে মাওলানা সানাউল্লাহ খান, সহ-ধর্ম সম্পাদক হিসেবে সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।


সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে লুৎফর রহমান এবং সহসংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে মেহেরাব সিফাত দায়িত্ব পেয়েছেন। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান। সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে সাইয়েদ জামিল এবং সহসাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে মাহবুব আলমের নাম রয়েছে তালিকায়। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তাওহিদ তানজিম। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।


মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে অ্যাডভোকেট আরমান হোসাইন এবং সহ-মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল দায়িত্ব পেয়েছেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদকে। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইশতিয়াক আকিব। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ এবং সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে মুনা হাফসাকে রাখা হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল এবং সহ-অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন সাইফুল ইসলাম সাইফ।


এ ছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে মাজেদুর রহমান এবং সহশিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে আব্দুল্লাহ মামুন নিলয় দায়িত্ব পেয়েছেন। সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক হয়েছেন মো. রাসেল মোল্লা। ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আহনাফ সাইদ খান এবং সহ-ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন ইমরান নাঈম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তামিম আহমেদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আবু সাঈদ লিওনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া এবং সহ-যুব ও কর্মসংস্থান সম্পাদক হিসেবে ওহায়িদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন ডা. জাহেদুল ইসলাম। প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে এম. এম. শোয়াইব এবং সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক হিসেবে জাহিদ আহসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৩ পিএম

দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।


আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক


মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ


নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:


  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
  • খেলাফত মজলিস
  • বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
  • ইসলামী ঐক্যজোট
  • বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি


জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান


জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’


তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’ 


তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।


হেফাজতে ইসলামের অবস্থান


এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।


সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।


উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।


ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’


ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’


ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’


ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’






বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ 


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না। অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’ 


জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।’ 


তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। ৭ মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’


বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সব ক্ষেত্রই দলীয়করণ করছে সরকার।’


তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আওয়ামী আমলের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যের পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার।’


তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নিতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’


ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগও সরকার করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৭ মাসে সরকার লেজে গোবরে জড়িয়ে গেছে।’


বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরোয়ার বলেন, ‘৯ নং দফার বিপরীতে গিয়ে সর্বত্র দলীয়করণ করছে সরকার।’


শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হচ্ছে দাবি করে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।


 


জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ এএম

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।


ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’


পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’


এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।


বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।


এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।





জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান



জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৩ পিএম

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।


আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।


মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।


তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।