ভোটে বাধা মনে করলেই গ্রেপ্তার।

  • প্রকাশ : রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র এক মাস বাকি। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ভোটের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ততই নতুন কৌশলে হাঁটছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তার অভিযানেও আসছে পরিবর্তন।


এখন থেকে ধরে ধরে শুধু ‘ডেভিলদের’ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন) গ্রেপ্তার নয়, আসন্ন নির্বাচনে বাধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বা করতে পারে—এমন মনে হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে এ তথ্য মিলেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যারা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে, এরই মধ্যে এমন লোকদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। চলমান অভিযানের সঙ্গে ওই তালিকাভুক্তদের নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজনে আইনের আওতায় নিতেও বলা হয়েছে।


এ নিয়ে গতকাল রোববার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, ‘যারা নির্বাচনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা সামনের সময়েও অব্যাহত থাকবে।’


ইসি কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, গতকাল ইসির সম্মেলন কক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ ১৬ বিভাগ ও সংস্থার ফোকাল পয়েন্ট বা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে এক বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।


বৈঠকে অংশ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মাঠপর্যায়ে ঘুরে এসেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মাঠপর্যায়ে কো-অর্ডিনেশন ও অপারেশন জোরদার করতে বলেছেন। পাশাপাশি বৈঠক থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি যারা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সমস্যা তৈরি করতে পারে, নির্বাচনের জন্য যারা হুমকি, তাদের তালিকা করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।’


এ তালিকা কারা করবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় করে তালিকা করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নজরদারি করা এবং যথোপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করতে হবে।’


বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনে বাধা সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তারে নজরদারি ও অভিযান চালানো হলেও অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেস-২ অব্যাহত থাকবে। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেই হয়রানি করা যাবে না। শুধু যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ইসি কর্মকর্তাদের বৈঠকে নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীগুলোকে স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ইসি থেকে সমন্বয় সেল, ভিজিল্যান্স টিম, মনিটরিং টিমসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার সমন্বয়ে অনেক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এসব কমিটি ঠিকমতো কাজ করছে না বলে গতকালের বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে। বৈঠক থেকে সেগুলো যেন ভালোভাবে কাজ করে, সেটা জোর দিতে বলা হয়েছে। মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনকে সময়ে সময়ে অবহিত করতেও বলেছেন ইসি।


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ওই নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে। এরপরই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি আততায়ীর গুলিতে শহীদ হন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। ওই ঘটনার পর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে গত ১৩ ডিসেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় ‘ডেভিল হান্ট ফেস-২’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১২ হাজার ৬০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে উদ্ধার হয়েছে ১৫৬টি অবৈধ অস্ত্র।


এর আগে গাজীপুরে হামলার পর গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ বাহিনী সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু করে। এ অভিযানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হলে এ অভিযান নিয়ে সমালোচনাও হয়। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে ‘নিরীহদের’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ ওঠে। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রথম ধাপে শুরু হওয়া ডেভিল হান্ট বন্ধ হয়ে যায়।


তবে পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তখন ডেভিল হান্ট বন্ধ হয়নি। সন্ত্রাসী, অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর নিয়মিত কাজ, তা চলমান ছিল। পরিস্থিতি যেন খারাপের দিকে না যায় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়, সেজন্য দ্বিতীয় দফায় ডেভিল হান্ট শুরু হয়।


অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর তাগিদ: ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর কর্মকর্তাদের বৈঠকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও মাঠ পুলিশে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশনা রয়েছে।


পুলিশ সূত্র জানায়, এখনো পুলিশের থানা ও স্থাপনা থেকে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপারেশন ডেভিল হান্ট চালিয়ে এবং পুরস্কার ঘোষণা করেও এসব অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা যায়নি।


পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। খোয়া যাওয়া অস্ত্রগুলো ছাড়াও দেশের বাইরে থেকে যেন অস্ত্রের চোরাচালান না হয়, সে ব্যাপারেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, অনেক জায়গায় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। যেগুলোর সব খোয়া যাওয়া অস্ত্র নয়। অন্য অস্ত্রও রয়েছে। এসব অস্ত্রের একটা অংশ পরবর্তী সময়ে উদ্ধারও হয়েছে। তবে খোয়া যাওয়া ভারী অস্ত্রগুলোর ব্যবহার দেখা যায়নি। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েও কিছু অস্ত্র এসেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেটার পরিমাণ খুব বেশি নয়। এসব অস্ত্রের গতিপথ অনুসরণ করে সেগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা চলমান আছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায়  বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজে এসব জানানো হয়।


বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অপপ্রচারের পেছনে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এছাড়া, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনৈতিক তদবির উপেক্ষা করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পুলিশ জনগণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।


পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা।


সর্বশেষ সব খবর

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ এএম

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের নির্দেশনা এসেছে। পুনর্গঠিত ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’র প্রথম সভা থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।


সভায় আফরোজা খানম বলেন, ‘ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। তাই প্রবাসী ভাইদের জন্য উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’


এসময় দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ও সমন্বয়কারী কমিটির ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।


সভায় কমিটির সহসভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্টি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।’


সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরে আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’


ওই সভা সূত্র জানায়, প্রায় ৩ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।


এ ছাড়া সভায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত গাড়ি স্ক্যানিং সিস্টেমকে আরও কার্যকর, দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে আকস্মিক কোনো ঘটনা ঘটলে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


ওই সভা থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।


যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও সভা থেকে সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

নির্বাচন ভবন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৩ এএম

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ৩৪৯ সংসদ সদস্যের (এমপি) নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।


এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


আখতার আহমেদ বলেন, ‘তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।’


এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।


ইসির সিনিয়র সচিব আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

সর্বশেষ সব খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে কোনো ডকুমেন্টারি বলা যায় না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল।


বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।


ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ডকুমেন্টারিটিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথমেই যেটি আমার নজরে এসেছে, তা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ এই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিচ্ছবি ও প্রতীক। তার ছবি ছাড়া এটিকে কোনো ডকুমেন্টারি বলা যায় না। একইভাবে খালেদা জিয়ার ছবিও থাকা উচিত ছিল। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা সমীচীন নয়।


তিনি আরও বলেন, এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমাদের কোনো ভুল হলে সেটি শুধরে দেবেন। আমরা আওয়ামী লীগের মতো হতে পারি না। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই।


এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক ডকুমেন্টারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা। তাদের অভিযোগ, এতে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।


ডকুমেন্টারি প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহীদদের অবদান যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।


বুধবার (০৫ আগস্ট) সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।


রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।


তিনি বলেন, আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে আমি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর আমরা অর্জন করেছি বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার মাধ্যমে।


তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পায়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে জনগণ বহুবার বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জাতিকে আর সেই পথে হাঁটতে না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।


চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।


চিফ হুইপ জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে এবং ‘আয়নাঘর’, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।


অনুষ্ঠানে সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বঙ্গভবন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ এএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসির ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি হতে কী কী যোগ্যতা লাগে, এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।


সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি হতে হলে বাংলাদেশি নাগরিক, বয়স ৩৫ বছর ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। এসব ঠিক থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না।


সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন অথবা সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।


এদিকে, ইসির তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তপশিল ঘোষণা করে এ তথ্য জানান।


আখতার আহমেদ বলেন, তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।


এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


ইসির সিনিয়র সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর