সংগৃহীত
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে চিঠিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এ চিঠি পাঠান যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা ও সিডনি কামলাগার-ডোভ। এতে আরও স্বাক্ষর করেন কংগ্রেসম্যান জুলি জনসন ও টম আর সুওজি। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম উল্লেখ না করে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেন, জাতীয় সংকটের মুহূর্তে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব গ্রহণে আপনার এগিয়ে আসাকে আমরা স্বাগত জানাই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ব্যালটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মতামত প্রতিফলনের পরিবেশ তৈরি করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
তারা আরও বলেন, জাতীয় সংকটকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি তারা সমর্থন জানালেও, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা মৌলিক মানবাধিকার এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিঠিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তবে আইনপ্রণেতারা সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করলে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রার) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রতিনিধিদল মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পের পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।
জাহেদুল হাসান আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে, সম্ভাব্য ২৫ অক্টোবর, পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কিনা- তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।
আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা পরম আস্থার সাথে শোনে ও বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জুমার খুতবার মাধ্যমে সার্বিক নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সকল ইমামদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে। ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও দেশের ইমাম, ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘আস্থা গণভোট’ (হ্যাঁ-না)-এর নির্বাচনেও আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানান ধর্মমন্ত্রী।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন ধর্মমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিবেচিত হয়।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও ইমাম সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শক্তিকে উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।
সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ধর্মমন্ত্রী জানান, মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের গর্হিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ইমামদের জোরালো বক্তব্য দিতে হবে। কারণ, সমাজে ইমামদের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এ সময় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিসহ নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন ইমাম সমিতির নেতারা।
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত
‘আন্দোলনের হুংকার দিয়ে লাভ নেই। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম ও লড়াই করতে করতে রাজপথ থেকে উঠে আসা দল। তাই ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।’ বিরোধী দলের আন্দোলনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়ায় তোতারখিল আয়েশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ লাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেলাইতে স্বাবলম্বী নারী’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ১৫০ জন নারীর হাতে সেলাইমেশিন তুলে দেন তিনি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ নারীকে এ সহায়তার আওতায় আনা হবে। জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে জামায়াত ১৭২ দিন হরতাল-অবরোধ করেছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির গুপ্ত পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে সুন্দর সুন্দর কথা বললেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন হয় না; জনগণের পাশে থাকতে হয়। রোডমার্চ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া কাম্য নয়। ধর্মের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে এ্যানি বলেন, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে। শুধু মিছিল-মিটিং নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর দেশের উন্নয়ন, সমাজের কল্যাণ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকসহ যেকোনো অপকর্মের মাধ্যমে সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কঠোর।
এ্যানি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘সেলাইতে স্বাবলম্বী নারী’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেলাইমেশিন পেয়ে উপকারভোগী নারীরা নিজ উদ্যোগে আয় করে পরিবারে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বঙ্গভবন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে সুস্থ জাতি গঠনে মাঠ ও খেলাধুলার প্রসার জরুরি।
আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এখানে ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। এটির ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো- পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দলকে সাফল্য এনে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এ সময় তিনি অবৈধভাবে দখল করা মাঠ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নারী অ্যাথলেটদেরও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আর্থিক কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও গৌরবান্বিত করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিযোগিতাটিকে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।
এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭ টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়।
সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।
উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা (পুরুষ ও নারী) উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মেডেল প্রদান করেন।
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন তাকে স্বাগত জানান।
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। ফাইল ছবি
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এসব পার্টিতে যোগ দিতেন অংশগ্রহণকারীরা। আটকদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও রয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।
ইলিয়াস কবির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।
ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন। তিনি বলেন, সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এর ওই বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাড়িটিতে উঠতি বয়সি ছেলে-মেয়েরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাত। ডিজে পার্টির নামে এখানে অসামাজিক ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলত। এখানে অভিযান চালিয়ে মদ, গাঁজা, কনডম এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সেখানে মোট পাঁচটি রুম আছে। অনলাইনে বুকিং দেওয়া হতো। একেকটি রুম ১০ জনে ভাড়া নেয়। আবার যদি অতিরিক্ত লোকজন থাকে, জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেয় রেজিস্ট্রেশন ফি। সেখানে পুরো ডিজে পার্টি বসায়। দুপুর ১২টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত চলে এসব কর্মকাণ্ড। মাসে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হয়। একেকটি প্রোগ্রামে লাখখানেক টাকা ভাড়া নেয়।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ভাটারা থানা এলাকায় তার সাড়ে ৬ কাঠা জমি কেনার টাকার উৎস নিয়েও। পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অবাধে অপকর্ম চললেও এতদিন প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ-এমন দাবি খোদ পুলিশেরই।
জানা গেছে, এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন।
ডিবি জানিয়েছে, রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবনসহ মাদকের কারবার পরিচালিত হয়-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এর ওই বাড়িতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মদ, ইয়াবা ও কুশ উদ্ধারের দাবি
অভিযানে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া যৌনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান। ভবনটিতে পাঁচটি কক্ষ ছিল।
মাসে আয় কত, কীভাবে হতো আয়োজন
ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এক মাসের কারাদণ্ড ছেলেদের, মেয়েদের ১৫ দিন
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, আমি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে থাকি। কিছু কঠোর নিয়মও আছে। সেখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই আমার। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে আমি বাড়ি ভাড়া দিতাম না। দেশ-বিদেশের অনেকেই এ বাড়িটি ভাড়া নেয়। কেউ ভাড়া নিয়ে কোনো অসামাজিক কাজ করতে চাইলে অতীতে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার একটি জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু তারা যে এগুলো করবে, মদ আনবে সেটা আমি জানি না।