ছবি: সংগৃহীত
যেই বাজেটে মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদলের পছন্দ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিরোধীদলের আসল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর এমন সব পন্যের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে বাজেটে জনগণের উপকার হয়, মদ ও সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো হয়, সেই বাজেট নিয়েও বিরোধী দল সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যারা অতীতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়নের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পাতলী খাল খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন, ১২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বাড়বে এবং সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
সদর বিএনপির আহবায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় পথসভা তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যান্ত অঞ্চলের সকল জমিকে আবাদ যোগ্য করে দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিএনপি আমজনতার দল- সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যউন্নয়ন তরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষের প্রতি অনুরোধ সরকারের উপর আস্থা রাখুন।
সভায় সদর আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কক্সবাজারের দুঃখ বাঁকখালী নদী। এ নদীর বাঁকে বাঁকে ভাঙ্গন দু'কুলের মানুষকে ভোগায়- ভাসিয়ে নেয় ফসল। নদীর দু'কুলে টেকসি বাঁধ নির্মাণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আদেশ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান তিনি।
জেলার অনেক মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু ও ভূমিহীন উল্লেখ করে এমপি কাজল বলেন, অনেকের বসবাস পাহাড়ের উপর বা পাদদেশে। তারা সবসময় আতংকে থাকেন, কখন উচ্ছেদ হচ্ছেন। সরকারের কাছে আমার দাবি- তাদের উচ্ছেদের আগে যেন, পুনর্বাসন করা হয় বা তাদের নামে খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি প্রমূখ।
এর আগে, আজ বেলা ১১টার দিকে বাপের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিজের হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
এদিকে টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে কক্সবাজারজুড়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দেখতে খালপাড়ে ভিড় করেছেন অসংখ্য মানুষ।
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির। ফাইল ছবি
পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি ডিজে পার্টির আয়োজন করা হতো। ২০২৫ সাল থেকে এসব আয়োজন চলছিল। অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এসব পার্টিতে যোগ দিতেন অংশগ্রহণকারীরা। আটকদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও রয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির এ তথ্য জানান।
ইলিয়াস কবির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। ভবনটিতে প্রবেশের পর ডিজে পার্টির আয়োজন দেখতে পান তারা। সেখানে প্রায় ২২টি গাড়ি ছিল। ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজছিল। সিসা সেবনের কারণে পুরো পরিবেশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল।
ডিসি ইলিয়াস কবির আরও দাবি করেন, পার্টিতে উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যাংকারও ছিলেন। তিনি বলেন, সেখানে ২৬ জন তরুণী ছিলেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীও সেখানে ছিলেন।
গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এর ওই বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাড়িটিতে উঠতি বয়সি ছেলে-মেয়েরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাত। ডিজে পার্টির নামে এখানে অসামাজিক ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলত। এখানে অভিযান চালিয়ে মদ, গাঁজা, কনডম এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সেখানে মোট পাঁচটি রুম আছে। অনলাইনে বুকিং দেওয়া হতো। একেকটি রুম ১০ জনে ভাড়া নেয়। আবার যদি অতিরিক্ত লোকজন থাকে, জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেয় রেজিস্ট্রেশন ফি। সেখানে পুরো ডিজে পার্টি বসায়। দুপুর ১২টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত চলে এসব কর্মকাণ্ড। মাসে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হয়। একেকটি প্রোগ্রামে লাখখানেক টাকা ভাড়া নেয়।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ভাটারা থানা এলাকায় তার সাড়ে ৬ কাঠা জমি কেনার টাকার উৎস নিয়েও। পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অবাধে অপকর্ম চললেও এতদিন প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ-এমন দাবি খোদ পুলিশেরই।
জানা গেছে, এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন।
ডিবি জানিয়েছে, রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবনসহ মাদকের কারবার পরিচালিত হয়-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এর ওই বাড়িতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মদ, ইয়াবা ও কুশ উদ্ধারের দাবি
অভিযানে মদের তিনটি বোতল, ইয়াবা ও কুশ নামের একটি মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া যৌনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করলে পার্টি বন্ধ হয়ে যায় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন কক্ষে চলে যান। ভবনটিতে পাঁচটি কক্ষ ছিল।
মাসে আয় কত, কীভাবে হতো আয়োজন
ডিসি ইলিয়াস কবির বলেন, এয়ারবিএনবি ও ট্রাভেলা নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এসব আয়োজন করা হতো। অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পার্টিতে যোগ দিতেন। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২টি আয়োজন হতো। একটি আয়োজনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা নেওয়া হতো বলে জানান তিনি। এছাড়া বাড়ি ভাড়া বাবদও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এক মাসের কারাদণ্ড ছেলেদের, মেয়েদের ১৫ দিন
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সম্পর্কে এই কর্মকর্তা জানান, ছেলেদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মেয়েদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও তিনদিন কারাভোগের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, আমি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে থাকি। কিছু কঠোর নিয়মও আছে। সেখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই আমার। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে আমি বাড়ি ভাড়া দিতাম না। দেশ-বিদেশের অনেকেই এ বাড়িটি ভাড়া নেয়। কেউ ভাড়া নিয়ে কোনো অসামাজিক কাজ করতে চাইলে অতীতে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবার একটি জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু তারা যে এগুলো করবে, মদ আনবে সেটা আমি জানি না।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে তানভীর জমাদ্দারকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ/ছবি মিরপুর মডেল থানা পুলিশ
রাজধানীর মিরপুরে দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ করা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা তানভীর জমাদ্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। তানভীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ওই ছাত্রলীগ নেতাও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে তার কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খুঁজতে থাকেন। পরে মিরপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় দখলমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় ওই ছাত্রলীগ নেতা পুলিশ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অন্যদের পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি পৌঁছে যান তানভীর।
এ বিষয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত শনিবার মিরপুরে ফুটপাত পরিদর্শনে আসেন। এ সময় এক ছাত্রলীগ নেতা তাকে অনুসরণ করেন। ঘটনার ভিডিও যাচাই-বাছাই করে তানভীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো— অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান— আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
এ সময় রাষ্ট্রপতি জানান, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, দরবার হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি’র পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আসা সব দর্শনার্থী এবং অতিথির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে আবারও ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৫ অক্টোবর রিয়াদ রুটে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি। এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে দাম্মাম রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে বিমানের ফ্লাইট। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হুথিদের হামলাজনিত পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে রিয়াদগামী পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে দাম্মামের উদ্দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এসব ফ্লাইটে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে বিমান।
জেদ্দা রুটেও ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত থাকবে। ২২ অক্টোবর ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে একটি করে ফ্লাইট ছেড়ে যাবে।অন্যদিকে, মদিনা রুটে বিমানের ফ্লাইট নিয়মিত চলছে। এ রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ রুটের ফ্লাইটের সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।
টিকিট কেনা, বুকিং ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে, চলতি মাসের প্রথম দিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরে দাম্মাম রুটের ফ্লাইটও স্থগিত করা হয়েছিল।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হতে পারে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা মিলিয়ে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির বিষয়টি নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট ছুটির তালিকা অনুযায়ী।২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হবে। পরদিন ৮ নভেম্বর রোববার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত টানা তিন দিন সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকতে পারে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও একইভাবে ছুটির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য এ ছুটি কার্যকর হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন এবং সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা নেতা হয়ে যান বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্পিকার বলেন, ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। সংসদে রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি করা যায়নি। তবে ভবিষ্যতে দেশে এমন পরিস্থিতি থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনে আল্লাহর রহমতে দেশে সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দাবি করেন, যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ৪০০টি বাড়ি বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বাড়িগুলোর অবস্থান উল্লেখ করে চিঠি দেওয়ার পর ব্রিটিশ সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।স্পিকার আরও দাবি করেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুবাইয়ে ১০০টি, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫০টি এবং কানাডায় ৩০ থেকে ৪০টি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থ লুট করে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ টানা ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে দলটির নেতাকর্মীরা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলের যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইংল্যান্ডে অনেক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কানাডার বেগমপাড়ায় লুটপাটের অর্থে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে স্পিকার বলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে।