ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৫০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই দ্বিমুখী রায়ে একদিকে যেমন সংসদের ক্ষমতার বিন্যাস নির্ধারিত হয়েছে, অন্যদিকে দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্র ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে জনমত স্পষ্ট হয়েছে।


গণভোটের রায়: ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়জয়কার

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের মানুষ অভূতপূর্ব সাড়া দিয়েছে। ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী:


‘হ্যাঁ’ ভোট: ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি।

‘না’ ভোট: ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

বাতিল ভোট: ৭৪ লাখ ২ হাজার ২৮৫টি।

ভোট প্রদানের হার: ৬০.২৬ শতাংশ।


নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে ‘জুলাই সনদ’-এর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে আগামী সংসদ আইনত বাধ্য থাকবে। উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ কয়েকটি সীমিত এলাকায় ‘না’ ভোট বেশি পড়লেও সামগ্রিক জাতীয় রায়ে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে।


সংসদের চিত্র: একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি

ত্রয়োদশ সংসদের ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।


বিএনপি: ২০৯টি আসন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি আসন।

জোটগত অবস্থান: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি।

অন্যান্য দল: এনসিপি (৬), বিকেএম (২), খেলাফত মজলিশ (১), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (১), গণঅধিকার পরিষদ (১), বিজেপি (১) এবং গণসংহতি আন্দোলন (১)।


জুলাই সনদ: ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের ব্যবচ্ছেদ

জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে, যার মধ্যে ৪৭টি সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পরিচয় ও ভাষার স্বীকৃতি

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। বাংলাদেশের নাগরিকেরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।


২. সংবিধান সংশোধন

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা- ৮, ৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।


বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।


৩. মূলনীতি

বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে- সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদ যুক্ত হবে- সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।


৪. মৌলিক অধিকার

সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।


৫. জরুরি অবস্থা

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।


৬. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ক্ষমতা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি তাঁর নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। যদিও এই প্রস্তাবে ভিন্নমত ছিল বিএনপির।


৭. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।


৮. রাষ্ট্রপতির ক্ষমা

আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোন অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।


৯. প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ

২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদে বাস্তবায়ন হলে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানিয়েছিল বিএনপিসহ পাঁচটি দল।


১০. তত্ত্বাবধায়ক সরকার

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।


১১. দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে।


১২. সংসদে নারী

দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোনো কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করা এবং সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে আসার সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে।


১৩. স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গণভোটে সনদ কার্যকর হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।


১৪. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে- বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।


১৫. বিদেশি চুক্তিতে সংসদের অনুমোদন

এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।

সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদে ইসির একক কর্তৃত্ব না রাখার কথা বলা হয়েছে। ইসির সঙ্গে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।


১৬. নির্বাচন কমিশন গঠন

এর আগে নানা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।


১৭. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।


১৮. আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা

আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


১৯. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

এ ছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।


২০. ন্যায়পাল ও অন্যান্য পদে নিয়োগ

এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।


একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। যদিও এগুলো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে বিএনপিসহ সাতটি দল। সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।


৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে আর যে ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে সেগুলো সংশোধন করা যাবে ’আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণের অঙ্গীকার থাকছে জুলাই সনদে।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমানা পুনঃনির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয় রাখা হয়েছে ’আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য।


এ ছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।


অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করার কথাও বলা হয়েছে জুলাই সনদে। তবে গণভোটের ব্যালটে এসব কিছু বিস্তারিত লেখা ছিল না। সেখানে মোট চারটি বিষয়ের উল্লেখ করে হ্যাঁ/না ভোট দিতে বলা হয়েছে।


গণভোটের বিষয়

প্রশ্ন: জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি ভোটারগণ সম্মতি জ্ঞাপন করেন কি না (হ্যাঁ/না) সেই বিষয়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ. আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে।’

ঘ. জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।


রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত (Note of Dissent)

জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হলেও কয়েকটি বিষয়ে প্রধান দলগুলোর ভিন্নমত ছিল:


বিএনপির আপত্তি: প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করে রাষ্ট্রপতির এককভাবে নিয়োগ প্রদানের কিছু বিষয়ে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে। এ ছাড়া উচ্চকক্ষ গঠন প্রক্রিয়া, ন্যায়পাল ও অন্যান্য সাংবিধানিক পদে নিয়োগের কমিটির কাঠামো নিয়েও তাদের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।

জামায়াত ও অন্যান্য দল: আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি এবং উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলের নিজস্ব প্রস্তাব ছিল।

আগামী দিনের পথনকশা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তাঁরা পরবর্তী ১৮০ দিন বা ৬ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংশোধনী সম্পন্ন করতে বাধ্য থাকবেন। এই সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায়  বাংলাদেশ পুলিশের ফেসবুক পেইজে এসব জানানো হয়।


বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অপপ্রচারের পেছনে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দেশি-বিদেশি সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এছাড়া, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনৈতিক তদবির উপেক্ষা করায় অসন্তুষ্ট একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ পুলিশ জনগণকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।


পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা।


সর্বশেষ সব খবর

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৭ এএম

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল বাস্তবায়নের নির্দেশনা এসেছে। পুনর্গঠিত ‘জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি’র প্রথম সভা থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।


সভায় আফরোজা খানম বলেন, ‘ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান। তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। আমাদের অগ্রাধিকার হলো যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। তাই প্রবাসী ভাইদের জন্য উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’


এসময় দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ও সমন্বয়কারী কমিটির ১৩তম সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।


সভায় কমিটির সহসভাপতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্টি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।’


সভায় উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরে আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’


ওই সভা সূত্র জানায়, প্রায় ৩ বছর পর অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।


এ ছাড়া সভায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে স্থাপিত গাড়ি স্ক্যানিং সিস্টেমকে আরও কার্যকর, দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে আকস্মিক কোনো ঘটনা ঘটলে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


ওই সভা থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় ট্রাফিক জট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।


যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও সভা থেকে সুপারিশ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

নির্বাচন ভবন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:২৩ এএম

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ৩৪৯ সংসদ সদস্যের (এমপি) নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়।


এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


আখতার আহমেদ বলেন, ‘তপশিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।’


এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।


ইসির সিনিয়র সচিব আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

সর্বশেষ সব খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত যে ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে কোনো ডকুমেন্টারি বলা যায় না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল।


বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।


ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ডকুমেন্টারিটিতে অনেক ভুল রয়েছে। প্রথমেই যেটি আমার নজরে এসেছে, তা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ এই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিচ্ছবি ও প্রতীক। তার ছবি ছাড়া এটিকে কোনো ডকুমেন্টারি বলা যায় না। একইভাবে খালেদা জিয়ার ছবিও থাকা উচিত ছিল। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা সমীচীন নয়।


তিনি আরও বলেন, এই সরকার আপনাদের নির্বাচিত সরকার। আমাদের কোনো ভুল হলে সেটি শুধরে দেবেন। আমরা আওয়ামী লীগের মতো হতে পারি না। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো লজ্জাবোধ নেই।


এর আগে অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক ডকুমেন্টারি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা। তাদের অভিযোগ, এতে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।


ডকুমেন্টারি প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়। শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে পুরো মিলনায়তনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, ডকুমেন্টারিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহীদদের অবদান যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইয়ের চেতনাকে যেন আমাদের হৃদয়ে ধারণ করতে পারি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি—এটাই হোক আমাদের আজকের অঙ্গীকার।


বুধবার (০৫ আগস্ট) সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।


রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অসংখ্য মানুষ অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সেই আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। এটি জাতির ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায়, যা বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে।


তিনি বলেন, আজ দুপুরে একটি অনুষ্ঠানে আমি এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে এসেছেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সেই তরুণ তার দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মা সবার সামনে তাদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ ও বেদনার কথা তুলে ধরেছেন। জুলাইয়ে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জাতীয় সংসদ ও বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি দায়িত্ব নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অঙ্গীকার।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর যেমন গৌরব ও বিজয়ের দিন, তেমনি ৫ আগস্টও গৌরব ও বিজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর আমরা অর্জন করেছি বিদেশি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, আর ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছে দেশীয় ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাভূত করার মাধ্যমে।


তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পায়নি। ফলে স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল থেকে জনগণ বহুবার বঞ্চিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন জাতিকে আর সেই পথে হাঁটতে না হয়, সে জন্য ধৈর্য, সহনশীলতা এবং পরিশীলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রকৃত সংস্কার মানুষের মনোজগতে হতে হবে। মনোজগতের পরিবর্তন না হলে শুধু আইন বা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার ও মেরামতের সূচনা হতে হবে সংবিধান থেকে, যা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।


চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে সুসংহত করার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।


চিফ হুইপ জুলাই বিপ্লবের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার হরণ করেছে এবং ‘আয়নাঘর’, গুম, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।


অনুষ্ঠানে সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

বঙ্গভবন।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫২ এএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসির ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি হতে কী কী যোগ্যতা লাগে, এ নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।


সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, রাষ্ট্রপতি হতে হলে বাংলাদেশি নাগরিক, বয়স ৩৫ বছর ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। এসব ঠিক থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যায়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না।


সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, যদি তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সী হন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন অথবা সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন।


এদিকে, ইসির তপশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তপশিল ঘোষণা করে এ তথ্য জানান।


আখতার আহমেদ বলেন, তপশিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)/নির্বাচন কর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই অনুষ্ঠিত হবে। ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।


এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


ইসির সিনিয়র সচিব আরও জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর