সন্তানের প্রতি অভিভাবকের ভালোবাসা হতে হবে নিঃশর্ত।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৪৫ পিএম

শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠন হয় তাদের শৈশব থেকেই। এই সময়ে তাদের আচরণ, মনোভাব এবং আচরণগত প্রবণতাগুলি একে অপরকে প্রভাবিত করে এবং তাদের ভবিষ্যত জীবনে একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সৃষ্টি করে। 


তবে কখনও কখনও, শিশুদের মধ্যে এমন কিছু আচরণ লক্ষ্য করা যায় যা ভবিষ্যতে তাদের Narcissistic Personality Disorder (NPD) বা ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’-এর লক্ষণ হতে পারে। এই মানসিক অবস্থা শিশুদের আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তে তাদের অহংকার এবং স্বার্থপরতা সৃষ্টি করতে পারে, যা তাদের সম্পর্ক এবং সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।


যে পাঁচ পরিবেশ শিশুকে নার্সিসিস্টিক করতে পারে তার সম্পর্কে জেনে নেই-


১. অতিরিক্ত প্রশংসায় বেড়ে ওঠা শিশু


আমাদের সমাজে অনেক পরিবারে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা শুরুই হয় তুলনা দিয়ে। যেমন ‘আমার ছেলেটা ক্লাসে ফার্স্ট’, ‘আমার বাচ্চা অনন্য, প্রতিভাবান’। এ কথাগুলো আদরের প্রকাশ মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে একধরনের অস্বাস্থ্যকর প্রশংসা। এখানে শিশুকে ভালোবাসা হয় না তার চেষ্টা, সততা বা শেখার আগ্রহের জন্য। তার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তখনই, যখন সে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। এই পরিবেশে বড় হওয়া শিশুটি ভাবে, ভুল করা মানেই সে খারাপ।


তাই পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়া, খেলায় হেরে যাওয়া বা অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়া তার কাছে শেখার বিষয় নয়; বরং লজ্জা ও অপমানের অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। কারণ, ছোটবেলা থেকেই তাকে শেখানো হয়েছে—সে তখনই শুধু মূল্যবান, যখন সে সবার চেয়ে ভালো বা আলাদা হয়। এই পরিবেশ থেকে সাধারণত তৈরি হয়—


• অতিরিক্ত আত্মগৌরব।


• সবকিছুকে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখার মানসিকতা।


• অন্যকে ছোট করে দেখার প্রবণতা।


• ভঙ্গুর আত্মসম্মান।


আর এভাবেই ধীরে ধীরে একটি শিশু নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।


২. অবমূল্যায়িত শিশু


এই পরিবেশ আগের পরিবেশের ঠিক উল্টো, কিন্তু ফলাফল প্রায় একই। অনেক পরিবারই শাসন ও অনুপ্রেরণার পার্থক্যটাকে গুলিয়ে ফেলে। তারা সন্তানের সাফল্যকে স্বাভাবিক ধরে নেয়, কিন্তু ব্যর্থতাকে বড় করে দেখে। তাদের আদেশ হলো, ভালো ফল করতেই হবে। আর খারাপ ফল করলে বকাঝকা ও তুলনা করা হয়। 


এই পরিবেশে বড় হওয়া শিশুটি ধীরে ধীরে শিখে ফেলে—তার সাফল্যের কোনো মূল্য নেই। তার অনুভূতিগুলো গুরুত্ব পায় না।তাকে কোনো বিষয়ে প্রশংসা করা হয় না।ভালোবাসা পাওয়া যায় শুধু শর্ত পূরণ করলে।ফলে শিশুটির ভেতরে তৈরি হয় একধরনের গভীর শূন্যতা, যা কেউ দেখে না, কিন্তু সে প্রতিদিন বয়ে বেড়ায়। সে বুঝে যায়, যেমন আছে, তেমন থাকলে তাকে গ্রহণ করা হবে না। 


তাই বাঁচতে গিয়ে সে গড়ে তোলে এক মিথ্যা সত্তা। এসব সত্তা হলো সব সময় নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা, সব সময় অন্যদের চোখে শ্রেষ্ঠ দেখানোর চেষ্টা ইত্যাদি।বড় হয়ে এই শিশুরাই অনেক সময় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জোর করে প্রমাণ করতে চায়, ভুল হওয়ার ভয় থেকে চরম পারফেকশনিজমে ভোগে, বাইরের স্বীকৃতির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, সামান্য সমালোচনাতেও গভীরভাবে আহত হয়। আর ধীরে ধীরে আবেগের জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। সে ধীরে ধীরে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।


৩. প্যারেন্টিফায়েড শিশু


প্যারেন্টিফায়েড বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা, যেখানে একটি শিশুকে তার বয়সের আগেই বড়দের ভূমিকা নিতে বাধ্য করা হয়। অনেক পরিবারে কিছু শিশু খুব অল্প বয়সেই আর শিশু থাকে না। সংসারের চাপ, দাম্পত্য অশান্তি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কিংবা আবেগগত সমস্যা—এসবের ভার পড়ে তার কাঁধে। মা-বাবা নিজেদের দুঃখ ভাগ করেন, রাগ-হতাশা উগরে দেন। তখন শিশুটি হয়ে ওঠে তাঁদের আবেগ সামলানোর আশ্রয়।হঠাৎ করেই শিশুটি বড় হয়ে ওঠে। এই শিশুকে মা-বাবাকে সান্ত্বনা দিতে হয়, তাঁদের মন বুঝতে হয়, সংসারে মানিয়ে নিতে হয়। ধীরে ধীরে সে শিখে ফেলে, তার নিজের অনুভূতিগুলো বিরক্তিকর ও অপ্রয়োজনীয়।


ভালোবাসা পেতে হলে তাকে কাজে লাগতে হবে, প্রয়োজনীয় হতে হবে। শিশু হওয়ার স্বাভাবিক সুযোগ না পেয়ে সে খুব দ্রুতই প্রাপ্তবয়স্কদের মতো প্রতিরক্ষাকৌশল রপ্ত করে ফেলে। বাইরে থেকে তাকে শান্ত, দায়িত্বশীল, ‘ভালো সন্তান’ মনে হলেও ভেতরে–ভেতরে জমতে থাকে অপূর্ণ চাহিদা আর চাপা ক্ষোভ।এই পরিবেশে বড় হওয়া মানুষদের মধ্যে প্রায়ই গোপন নার্সিসিস্টিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।


এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে আছে দমিয়ে রাখা চাহিদা, মানিয়ে চলার আড়ালে জমে থাকা গভীর ক্ষোভ। এদের সবচেয়ে বড় ভয় হলো পরিত্যক্ত হওয়া। কারণ, তারা শিখেছে যে ভালোবাসা নিঃশর্ত নয়। তা অর্জন করতে হয় সেবা দিয়ে, বোঝা বইয়ে। আর এভাবেই তারা ধীরে ধীরে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।


৪. ‘মিনি-মি’ শিশু


অনেক পরিবারে সন্তানকে দেখা হয় ‘মিনি-মি’ শিশু হিসেবে। অর্থাৎ শিশুটি ধরা হয় মা-বাবার অপূর্ণ স্বপ্নের ধারক হিসেবে। যেসব স্বপ্ন তাঁরা নিজেরা পূরণ করতে পারেননি, সেসবের ভার নিঃশব্দে এসে পড়ে সন্তানের কাঁধে। ভালো ফল, নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, খেলাধুলায় সাফল্য কিংবা সামাজিকভাবে ‘ভালো পরিবার’-এর নিখুঁত ছবি—এসব প্রত্যাশা মিলিয়ে শিশুটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে পরিবারের সম্মান, গর্ব আর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।


এই পরিবেশে শিশুর নিজের ইচ্ছা, ঝোঁক বা স্বভাবের খুব একটা জায়গা থাকে না। সে দ্রুত শিখে নেয়, স্বাধীনভাবে কিছু ভাবা বা আলাদা কিছু হতে চাওয়া মানেই সমালোচনার মুখে পড়া। তার পরিচয় নির্ধারিত হয় আরোপিত; আর ভালোবাসা পাওয়া যায় কেবল তখনই, যখন সে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারে। ফলে বড় হতে হতে শিশুটি বিশ্বাস করতে শুরু করে, তার মূল্য নির্ভর করছে সে কতটা ভালোভাবে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রে অভিনয় করতে পারছে, তার ওপর। প্রশংসা না পেলে সে নিজেকে হারিয়ে ফেলে, ব্যর্থতা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।


এই পরিবেশে বড় হওয়া মানুষেরা প্রায়ই ইমেজ ধরে রাখতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। কারও সঙ্গে সম্পর্কও গড়ে হিসাব করে। অর্থাৎ কে কী দেবে, কে কীভাবে দেখবে, তার ওপর। এভাবেই তারা ধীরে ধীরে নার্সিসিস্টিক প্রবণতা নিয়ে গড়ে ওঠে।


৫. সহায়তাবিহীন নিউরোডাইভারজেন্ট শিশু


সমাজে এখনো ‘ভিন্নভাবে কাজ করা’ বা ‘ভিন্নভাবে শেখা’কে খুব সহজে গ্রহণ করা হয় না। যে শিশু একটু বেশি অস্থির, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, অতিরিক্ত চিন্তাগ্রস্ত, আবেগে সহজে ভেঙে পড়ে বা পড়াশোনায় অন্যদের মতো দ্রুত এগোতে পারে না, তাকে প্রায়ই একটি কথাই শুনতে হয়—‘এত নাটক কোরো না, স্বাভাবিক হও।


’শিশুটি হয়তো এডিএইচডি, এএসডি, উদ্বেগ, আবেগগত অসামঞ্জস্য বা শেখার ভিন্নতা নিয়ে বড় হচ্ছে। কিন্তু পরিবার ও পরিবেশ যদি সেটাকে সমস্যা হিসেবে না দেখে কিংবা ‘সময় হলে ঠিক হয়ে যাবে’ বলে এড়িয়ে যায়, তাহলে শিশুটির জন্য প্রতিদিনের জীবন হয়ে ওঠে এক নীরব সংগ্রাম। স্কুলে সে বোঝে না কেন বারবার ভুল হয়, কেন শিক্ষক বিরক্ত হন, কেন সহপাঠীরা দূরে সরে যায়। বাড়িতে সে দেখে, তার কষ্টগুলো গুরুত্ব পায় না।


ধীরে ধীরে শিশুটি নিজের ভেতরে কিছু প্রশ্ন জমিয়ে রাখে—সবাই যেটা সহজে পারে, সেটা আমার কাছে এত কঠিন কেন? কেউ কেন আমাকে বুঝতে চায় না? আমার কি সত্যিই কোনো সমস্যা আছে?এই দীর্ঘদিনের প্রত্যাখ্যান আর লজ্জা শিশুটিকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। বাঁচতে গিয়ে সে নিজের মতো করে প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে। কেউ ‘দুর্বল’ বলার আগেই সে নিজের দুর্বলতা অস্বীকার করে। লজ্জা থেকে বাঁচতে অন্যকে দোষ দেয়, অনুভূতিকে নিস্তেজ করে ফেলে।


কেউ কেউ পড়াশোনা, কাজ বা কোনো এক ধরনের প্রতিভায় অতিরিক্ত সাফল্যের পেছনে ছোটে, যেন বারবার প্রমাণ করতে পারে ‘আমিও কম যাই না’।এই প্রমাণের চাপ থেকেই তারা ধীরে ধীরে নিজের মূল্যকে শুধু সাফল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে শেখে, আর সেখান থেকেই নার্সিসিস্টিক প্রবণতা তৈরি হতে থাকে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-


মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 


মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে। 


মাশরুম


মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়। 


মিষ্টি আলু


মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।


ডিম


ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। 


স্যামন মাছ


স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 


ফ্ল্যাক্স সিড 


ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। 


কাঠবাদাম 


কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন। 


বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-


হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে


কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।


হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী


কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।


শরীরে শক্তি জোগায় 


কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়


সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-


ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।


কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।


কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। 


প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।


প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা


প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।


কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?


অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?


চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।



বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। 


ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 


হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।


হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। 


মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।


কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।


বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’


তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।


বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।


আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’


কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।

বিষয় :