ছবি : সংগৃহীত।
সন্তান জন্ম দেওয়া সাধারণত আনন্দের ঘটনা হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেক মায়ের জন্য এই সময়টা আনন্দের পাশাপাশি মানসিকভাবে খুব কঠিন হয়ে ওঠে। হঠাৎ শরীরের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব, দায়িত্বের চাপ আর সামাজিক প্রত্যাশা একসঙ্গে মিলে অনেক মাকে ঠেলে দেয় গভীর অবসাদ আর উদ্বেগের দিকে। এই সমস্যার নাম পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা প্রসবোত্তর অবসাদ।
দক্ষিণ কলকাতার এক নারী বলছিলেন, মেয়ের জন্মের কিছুদিন পর থেকেই তার মন ভাল থাকত না। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করত না, অকারণে কান্না পেত, খাবারে রুচি কমে গিয়েছিল। কথায় কথায় রেগে যেতেন। কেন এমন হচ্ছে, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছিলেন না। অনেকদিন এ অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানতে পারেন, তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছেন।
কলকাতার আর এক নারী, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, জানিয়েছেন দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তিনি খুব সহজে মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন। বাচ্চা কাঁদলেই রাগ হতো। কখনো সহ্য না করতে পেরে কানে বালিশ চেপে বসে থাকতেন। পরিবারের লোকজন প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তারা ভেবেছিলেন, তিনি দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন বা মনোযোগ পেতে চাইছেন। কিন্তু তার ভেতরে কী চলছিল, তা কাউকে বোঝানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে প্রথম সন্তানের সময়েও তার একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তবে তখন চিকিৎসকের সাহায্য নেননি। দ্বিতীয়বার সমস্যাটা বাড়তে থাকায় তিনি চিকিৎসকের কাছে যান এবং জানতে পারেন তিনি পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে আক্রান্ত।
নতুন নয়, কিন্তু এখনো অবহেলিত সমস্যা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানের জন্মের পর মায়েদের অবসাদে ভোগা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিশ্বজুড়ে বহু নারীই এই সমস্যার মুখোমুখি হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে গর্ভাবস্থায় প্রায় ১০ শতাংশ নারী এবং সন্তান জন্মের পর প্রায় ১৩ শতাংশ নারী অবসাদে ভোগেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই হার আরও বেশি।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, সময়মতো চিকিৎসা না হলে এই অবসাদ ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এতে মায়ের আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে এবং শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারতেও নতুন মায়েদের মধ্যে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দেখা যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে না।
পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন কী
স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. কৃষ্ণা ঘোষ জানাচ্ছেন, গর্ভাবস্থা থেকে সন্তান জন্মের পর পর্যন্ত একজন নারী শারীরিক ও মানসিকভাবে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। সন্তানের জন্মের পর প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যে যে অবসাদ দেখা যায়, তাকেই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বলা হয়।
তার কথায়, ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যার বড় দিক হল অনেক নারীই চিকিৎসকের কাছে যান না। ফলে বিষয়টি অচিহ্নিত থেকে যায় এবং ধীরে ধীরে জটিল হয়ে ওঠে।
নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট ডা. রাজর্ষি নিয়োগী জানিয়েছেন, পোস্টপার্টাম সমস্যাকে মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথমটি হলো পোস্টপার্টাম ব্লুজ। এতে মন খারাপ থাকা, কান্না পাওয়া, ঘুমের সমস্যা বা মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কাউন্সেলিং, পরিবারের সহায়তা আর জীবনযাপনে ছোট পরিবর্তনেই এটি ঠিক হয়ে যায়।
দ্বিতীয়টি হল পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন। এতে দীর্ঘস্থায়ী মনখারাপ, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, নিজেকে অযোগ্য মনে হওয়া এবং সন্তানকে ঠিকভাবে মানুষ করতে পারবেন না এই ভয় কাজ করে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা হল পোস্টপার্টাম সাইকোসিস। এটি সাধারণত সন্তানের জন্মের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দেখা দেয়। এই অবস্থায় মা বাস্তববোধ হারাতে পারেন, বিভ্রমে ভুগতে পারেন এবং নিজের বা সন্তানের ক্ষতি করার চিন্তা আসতে পারে।
কখন লক্ষণ দেখা দেয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় সন্তানের জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই লক্ষণ শুরু হয়। আবার হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর ধীরে ধীরে সমস্যা স্পষ্ট হতে পারে। চিকিৎসা না হলে এই অবসাদ আট মাস থেকে এক বছর বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।
কেন হয় এই অবসাদ
এই সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। ডা. রাজর্ষি নিয়োগী বলছেন, শরীরের হরমোনের হঠাৎ পরিবর্তন, জটিল গর্ভাবস্থা, সিজারিয়ান ডেলিভারি, আগে মানসিক অসুস্থতার ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
সামাজিক কারণও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কন্যা সন্তানের জন্মের পর অনেক পরিবারে মায়ের প্রতি অবহেলা বা চাপ তৈরি হয়। ডা. কৃষ্ণা ঘোষ তার অভিজ্ঞতা থেকে জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের জন্মের খবর শুনে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মাকে দেখতে পর্যন্ত আসেন না। এ ধরনের আচরণ মায়ের মানসিক অবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেয়।
প্যারেন্টিং কনসাল্ট্যান্ট পায়েল ঘোষ বলছেন, স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, একা একা সব সামলানোর চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম ও খাবারের অভাব এসবই পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেক সময় পরিকল্পনা ছাড়া বা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে মা হওয়াও এই সমস্যার কারণ হতে পারে।
কতটা ভয়াবহ হতে পারে
চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। দেশে বিভিন্ন সময় এমন ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে দেখা গেছে, মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন এবং তার ফল ভয়ংকর হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোস্টপার্টাম সাইকোসিসের ক্ষেত্রে মায়ের মনে এমন ভাবনা আসতে পারে যে, তিনি সন্তান সামলাতে অক্ষম। সেই চিন্তা থেকেই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
এখনো বড় বাধা লজ্জা আর ভয়
যদিও বিদেশি ও ভারতীয় অনেক পরিচিত মানুষ প্রকাশ্যে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের কথা বলেছেন, তবুও সমাজে এখনো এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অনেক মা ভয় পান।
পায়েল ঘোষের কথায়, সন্তান জন্ম দেওয়া আনন্দের বিষয় এই ধারণার জন্য অনেকেই মানতে চান না যে মা হয়েও কেউ অবসাদে ভুগতে পারেন। ফলে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি হয়।
কীভাবে মোকাবিলা করা যায়
বিশেষজ্ঞরা একমত, সমস্যাটা চিহ্নিত করাই সবচেয়ে জরুরি। মায়েদের সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সমর্থন প্রয়োজন। পরিবারের সহযোগিতা এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেয়।
ডা. নিয়োগী বলছেন, মা যখন শিশুর যত্ন নেন তখন পাশে কেউ থাকলে চাপ অনেকটা কমে। নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা খুব প্রয়োজন।
বর্তমানে ভারতে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সরকারি স্তরে টেলি ম্যানাস নামের হেল্পলাইন চালু হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং পাওয়া যায়। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন মায়েদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে।
ডা. কৃষ্ণা ঘোষ মনে করেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এ বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরি করা দরকার।
তার কথায়, সন্তান যেমন যত্ন চায়, তেমনই সদ্য মা হওয়া একজন নারীরও সমান যত্ন ও বোঝাপড়া প্রয়োজন। এটা বুঝতে পারলেই অনেক জীবন বাঁচানো সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-
অ্যালার্জির সমস্যা
কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
সাইনাসের সমস্যা
যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ল্যাকটোজের প্রভাব
দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হাঁপানি বা অ্যাজমা
যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-
মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল
মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে।
মাশরুম
মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
ডিম
ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী।
স্যামন মাছ
স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ফ্ল্যাক্স সিড
ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
কাঠবাদাম
কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন।
প্রতীকী ছবি
সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-
হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে
কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।
হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী
কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।
শরীরে শক্তি জোগায়
কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-
ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।
কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।
প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা
প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।
কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?
অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?
চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।
প্রতীকী ছবি
বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো
অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।
কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।
বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।
বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।
আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’
কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।