ছবি : সংগৃহীত
শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করতে কিডনি প্রতিনিয়ত কাজ করে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তা বোঝা যায় না। ফলে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও কিডনির ভেতরে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. চৈত্রালি গাওড়ে জানিয়েছেন, কিডনির রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন। কারণ, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই তখন স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে সাধারণ কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
কিডনির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ কী
কিডনির সমস্যা হলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ সব সময় সরাসরি কিডনির রোগের ইঙ্গিত দেয় না। তাই লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। কিডনির সমস্যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
> চোখের চারপাশে বা গোড়ালিতে ফোলাভাব।
> প্রস্রাবের পরিমাণ বা প্রস্রাব করার ঘনত্বে পরিবর্তন।
> প্রস্রাবে ফেনা দেখা যাওয়া।
> প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
> দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি।
> বমি বমি ভাব কিংবা ক্ষুধা কমে যাওয়া।
> কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরে চুলকানি।
> রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ের মতে, প্রস্রাবের পরিমাণ, ধরন বা বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। আবার কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, এই দুই সমস্যার সম্পর্ক পরস্পরনির্ভর।
কিডনি ভালো আছে কি না বুঝতে ৩টি পরীক্ষা
কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষাই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে আলাদা ধরনের তথ্য দেয়।
১. রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা
কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায় হলো রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করা। ক্রিয়েটিনিন শরীরের একটি বর্জ্য পদার্থ, যা সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। রক্তে এই পদার্থের মাত্রা পরিমাপ করে ইজিএফআর বা এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করছে, তার একটি আনুমানিক ধারণা পাওয়া যায়।
চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ে জানান, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে শুধু একটি পরীক্ষার ফল দেখেই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। কারণ, বয়স, পেশির পরিমাণ এবং শরীরে পানির ভারসাম্যের মতো বিষয় পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ফল অস্বাভাবিক হলে চিকিৎসক প্রয়োজনে আবার পরীক্ষা করতে দিতে পারেন অথবা অন্যান্য শারীরিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তা মূল্যায়ন করতে পারেন।
২. প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও
কিডনির সমস্যা শনাক্ত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও বা ইউএসিআর।
অ্যালবুমিন এক ধরনের প্রোটিন। সাধারণত কিডনি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়ার সময় প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে ধরে রাখে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। ইউএসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি যাচাই করা হয়। কিডনির ছাঁকনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আগেও এই পরীক্ষায় কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক সংকেত পাওয়া যেতে পারে।
চিকিৎসক গাওড়ের মতে, প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য এই পরীক্ষা সাধারণত ব্যবহার করা হয়। কিডনির কার্যক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হওয়ার আগেই এটি কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
৩. রক্তচাপ পরীক্ষা
কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে রক্তচাপ মাপাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উচ্চ রক্তচাপ যেমন কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তেমনি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনির অবস্থা মূল্যায়নের সময় রক্তচাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেই কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। আবার রক্তচাপ বেশি হলেই যে কিডনির রোগ হয়েছে, তাও নয়। অন্যান্য পরীক্ষার ফল ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হয়।
কত দিন পরপর কিডনি পরীক্ষা করাবেন
যাদের কিডনির রোগের পরিচিত কোনো ঝুঁকি নেই, তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাই করতে পারেন। তবে কত ঘন ঘন পরীক্ষা করাতে হবে, তা বয়স ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কিছু মানুষের নিয়মিত বিরতিতে কিডনি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—
> ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি।
> উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি।
> স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি।
> পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি।
> হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
> নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তি।
> এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হওয়া মানেই কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, এমন নয়। ডা. চৈত্রালি গাওড়ের মতে, রক্ত ও প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে কখনো কখনো উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব।
ছবি : সংগৃহীত
দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-
অ্যালার্জির সমস্যা
কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
সাইনাসের সমস্যা
যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ল্যাকটোজের প্রভাব
দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হাঁপানি বা অ্যাজমা
যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-
মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল
মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে।
মাশরুম
মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
ডিম
ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী।
স্যামন মাছ
স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ফ্ল্যাক্স সিড
ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
কাঠবাদাম
কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন।
প্রতীকী ছবি
সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-
হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে
কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।
হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী
কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।
শরীরে শক্তি জোগায়
কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-
ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।
কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস।
প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।
প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা
প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।
কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?
অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?
চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।
প্রতীকী ছবি
বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়।
ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো
অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।
কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।
বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।
বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।
আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’
কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।