• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৩ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৩ পিএম

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৩ পিএম

উচ্চ কোলেস্টেরল প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ফাস্টফুড এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন


কোলেস্টেরল মানবদেহের কোষ তৈরি ও হরমোন উৎপাদনের জন্য একটি অত্যন্ত জরুরি উপাদান। তবে রক্তে এর পরিমাণ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেড়ে গেলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা রক্তনালির দেয়ালে জমে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। 


সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শরীরে কোলেস্টেরল বাড়লেও প্রাথমিক অবস্থায় অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। এ কারণে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে নীরব ঘাতক বলা হয়ে থাকে। তবে সতর্ক দৃষ্টি রাখলে এবং শরীরের কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করলে কোলেস্টেরল বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব।


হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কে প্রভাব


রক্তনালিতে চর্বি জমার কারণে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, যার প্রথম প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্র ও রক্ত সংবহনতন্ত্রে। বুক ধড়ফড় করা, সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাচলা করলে বুক চেপে আসা বা ব্যথা অনুভূত হওয়া উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে সার্বক্ষণিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব হতে পারে। এছাড়া মস্তিষ্কে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন ও রক্ত না পৌঁছালে হঠাৎ করে মাথা ঘোরানো, মাথা ঝিমঝিম করা বা ঘন ঘন তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে।

 

হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা


শরীরের প্রান্তিক অংশগুলোতে যেমন হাত ও পায়ে কোলেস্টেরল বাড়ার লক্ষণ তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট হয়। রক্তনালিতে চর্বির আস্তরণ জমার ফলে হাত ও পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়। এর ফলে হাত বা পা ঘন ঘন অবশ হয়ে যাওয়া, ঝিমঝিম করা কিংবা ঠান্ডা হয়ে থাকার অনুভূতি হতে পারে। অনেকে হাঁটার সময় পায়ে বা মাংসপেশিতে তীব্র টান ও ব্যথা অনুভব করেন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বলা হয়। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

চোখ ও ত্বকের পরিবর্তন


উচ্চ কোলেস্টেরলের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ চোখে ও ত্বকেও ফুটে ওঠে। চোখের পাতার ওপর বা চোখের চারপাশে নরম, হলুদ রঙের চর্বির ছোট ছোট দলা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় জান্থেলাস্মা। এটি রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরলের একটি প্রত্যক্ষ ইঙ্গিত। অনেক সময় বয়স্কদের ক্ষেত্রে অথবা উচ্চ কোলেস্টেরলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চোখের মণির চারপাশে একটি ধূসর বা সাদা রঙের বলয় বা রিং তৈরি হতে দেখা যায়। এছাড়া কনুই, হাঁটু বা হাতের তালুর ত্বকের নিচে ছোট ছোট চর্বির গুটি বা গুটি দেখা দিতে পারে।


হজমপ্রক্রিয়া ও ঘুমের ব্যাঘাত


হজমপ্রক্রিয়া ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের কাজের পরিবর্তন থেকেও কোলেস্টেরল বাড়ার আঁচ পাওয়া যায়। যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমলে বা রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হলে হজমে গোলযোগ দেখা দিতে পারে। সামান্য খাবার খেলেই পেট ভারী লাগা, গ্যাস বা অম্লতার সমস্যা বেড়ে যাওয়া এবং যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে পেটের ডান দিকের উপরিভাগে এক ধরনের অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে চর্বির মাত্রা অত্যধিক বাড়লে রাতে ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া কিংবা পা কামড়ানোর মতো অস্বস্তি হতে পারে, যা ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করে।

 

উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক ক্লান্তি


উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। রক্তনালির ভেতর চর্বি জমে সরু হয়ে গেলে হৃদযন্ত্রকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিতে রক্ত পাম্প করতে হয়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের কারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগে ঘাটতি এবং মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।


কোলেস্টেরল নির্ণয়ের উপায়


উচ্চ কোলেস্টেরল নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট উপায় হলো রক্ত পরীক্ষা করা, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় লিপিড প্রোফাইল টেস্ট বলা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে মোট কোলেস্টেরল, ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল, খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের সঠিক মাত্রা জানা যায়। কুড়ি বছর বয়সের পর থেকে প্রত্যেক মানুষেরই অন্তত প্রতি কয়েক বছরে একবার এই পরীক্ষা করানো উচিত। পরিবারে হৃদরোগ বা চর্বির সমস্যা থাকলে আরও অল্প বয়স থেকে নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।


প্রতিরোধ ও প্রতিকার


উচ্চ কোলেস্টেরল প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও ফাস্টফুড এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল, ওটস ও আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ ও দীর্ঘজীবন বজায় রাখা সম্ভব। 

বিষয় :




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-


মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 


মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে। 


মাশরুম


মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়। 


মিষ্টি আলু


মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।


ডিম


ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। 


স্যামন মাছ


স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 


ফ্ল্যাক্স সিড 


ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। 


কাঠবাদাম 


কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন। 


বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-


হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে


কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।


হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী


কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।


শরীরে শক্তি জোগায় 


কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়


সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-


ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।


কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।


কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। 


প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।


প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা


প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।


কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?


অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?


চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।



বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। 


ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 


হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।


হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। 


মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।


কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।


বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’


তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।


বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।


আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’


কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।

বিষয় :