• প্রকাশ : শুক্রবার ২২ মে, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ এএম

কখনও কোনো কারণ ছাড়াই মন ভালো নেই। কখনও বা কারণ আছে, তবে কাউকে বলা যায় না। আবার কখনও সারাদিন কাজের মধ্যে থেকেও মনে একটা শূন্যতা কাজ করে।


কেন এমন হয়?


জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “মন খারাপ মানুষের জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ। সম্পর্কের ঝামেলা, কাজের চাপ, ব্যর্থতার বোঝা, একাকিত্ব, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা — কারণ থাকতে পারে অনেক। তবে সমস্যা হয় তখন-ই, যখন এই অনুভূতি চেপে ধরে রাখা হয়, কাউকে বলা হয় না, কোনো উপায় খোঁজা হয় না।”


তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন মন খারাপ ভেতরে জমিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাই সময় থাকতে নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়া জরুরি।”


শ্বাস নিন সচেতনভাবে


এটা পড়ে অনেকে ভাবতে পারেন, ‘শ্বাস নেওয়াতে কী আর এমন হবে।’ তবে বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস’য়ের তথ্যানুসারে- মন অস্থির হলে শ্বাস-প্রশ্বাস এমনিতেই দ্রুত হয়ে যায়। সেটাই উদ্বেগ বাড়ায়, শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে। এই চক্র ভাঙতে হলে সচেতনভাবে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিয়ে, আস্তে আস্তে ছাড়তে হবে। কয়েক মিনিট এই শ্বাসের ব্যায়াম করলেই পার্থক্য টের পাওয়া যায়।


ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্বেগের মুহূর্তে এটি শরীরের 'ফাইট অর ফ্লাইট' প্রতিক্রিয়াকে শান্ত করে।”


ঘর ছেড়ে বের হওয়া, একটু হাঁটা


মন খারাপের সময় বেশিরভাগ মানুষ ঘরের কোণে গুটিয়ে থাকেন। কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকেন, ফোন স্ক্রল করতে থাকেন। তবে এটা আসলে মন খারাপকে আরও গভীর করে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘প্রোমোটিং মেন্টাল হেল্থ থ্রু সাইকেলিং অ্যান্ড ওয়াকিং’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাইরে হাঁটলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছায় এবং মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।


ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলছেন, “প্রকৃতির মাঝে হাঁটলে মানসিক চাপ কমে এবং মন সতেজ হয়। পার্কে যাওয়ার দরকার নেই। বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামুন, গলির মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসু — এটুকুই যথেষ্ট শুরুর জন্য।”


কষ্টটা লিখে ফেলা


মনের ভেতরে যা ঘুরছে, সেটা বলতে না পারলেও লেখা যায়। ডায়েরিতে বা নোটবুকে নিজের কষ্ট, ভয়, হতাশার কথা লিখলে একটা অদ্ভুত হালকা লাগা আসে।


এই তত্ত্ব ও ধারণার জনক হলেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় (অস্টিন)-এর মনস্তত্ত্ববিদ ও অধ্যাপক ড. জেমস ডব্লিউ পেনেব্যাকার।


‘জার্নাল অফ অ্যাবনরমাল সাইকোলজি’তে ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, ‘নিজের অনুভূতি বা আবেগ লিখে প্রকাশ করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী’।


ডা. দিনা পরামর্শ দেন, “শুধু নেতিবাচক কথাই নয়, নিজের ভালো গুণগুলোও লিখুন। আজকে কোন কাজটা ঠিকমতো করেছেন, কে আপনাকে ভালোবাসে, কোন জিনিসটার জন্য কৃতজ্ঞ— এগুলো লিখলে নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নতুনভাবে চোখে পড়ে।”


মন খারাপের সময় মনে হয় সবকিছুই নেতিবাচক। তবে লিখতে বসলে দেখা যাবে, ভালো জিনিসও কম নেই।


বর্তমানে থাকা, অতীত আর ভবিষ্যৎ সরিয়ে রাখা


ডা. দিনার ভাষায়, “মন খারাপের একটা বড় কারণ হল, আমরা হয় অতীতের অনুশোচনায় ডুবে থাকি, নয়তো ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায়। তবে এই মুহূর্তে যা আছে, সেটাতেই মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে। যাকে বলা হয় ‘মাইন্ডফুলনেস’। আর এটা উদ্বেগ ও হতাশা কমাতে কার্যকর।”


উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টা একটু সহজ। এই মুহূর্তে চা খাচ্ছেন তো চায়ের উষ্ণতা অনুভব করুন। হাঁটছেন তো পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ টের পান। এই ছোট্ট সচেতনতাগুলো মাথাকে অতীত বা ভবিষ্যৎ থেকে সরিয়ে বর্তমানে নিয়ে আসে।”


নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করা


মন খারাপের সময় অনেকে নিজেকেই সবচেয়ে বেশি দোষ দেন। ‘আমি কেন এমন করলাম’, 'আমার জন্যই সব হল’, 'আমি আসলে কিছুই পারি না' — এই ধরনের চিন্তা মনকে আরও ভেঙে দেয়।


ভুল মানুষের জীবনের অংশ। সবার জীবনেই ব্যর্থতা আসে, কঠিন সময় আসে। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখতে হবে।


ডা. দিনা বলেন, “আত্মসহানুভূতি মানুষের মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং হতাশা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে। অন্যের সঙ্গে যেভাবে সহানুভূতি দেখান, নিজের সঙ্গেও সেটুকু দেখান।”


একা থাকা যাবে না, কথা বলতে হবে


মন খারাপের সময় একা থাকার প্রবণতা স্বাভাবিক। তবে এটা সমাধান নয়। কাছের মানুষের সঙ্গে বন্ধু, পরিবারের যে কেউ— মনের কথাটা বলুন। শুধু বললেই অর্ধেক ভার নেমে যায়।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্রিগহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটি’র মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জুলিয়ান হোল্ট-লুনস্টাড, তার গবেষণাপত্র ‘সোশাল রিলেশনশিপস অ্যান্ড মর্টালিটি রিস্ক: এ মেটা-অ্যানালিটিক রিভিউ’তে উল্লেখ করেন যে- মন খারাপ বা বিষণ্নতার সময় একাকিত্ব মানুষের নেতিবাচক চিন্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে মানুষের সাথে যোগাযোগ করলে মস্তিষ্ককে দ্রুত সুস্থ করে তোলে।


‘পিএলওএস মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় তিনি দেখিয়েছন- মন খারাপ বা মানসিক কষ্টের সময় একা থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া স্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন ১৫টি সিগারেট খাওয়ার মতোই ক্ষতিকর।


অন্যদিকে, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সামাজিক সমর্থনে বেঁচে থাকার মাধ্যমে মানসিক কষ্ট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা পঞ্চাশ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।


“পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের কথাও মাথায় রাখতে হবে। শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না”- পরামর্শ দেন ডা. দিনা।


তবে দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ ঠিক না হলে, কোনো কিছুতে আগ্রহ না থাকলে, ঘুম বা খাওয়াতে সমস্যা হলে, একজন মনোবিজ্ঞানী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত হবে।


কারণ, “দীর্ঘস্থায়ী হতাশা কখনও কখনও বিষণ্নতার লক্ষণও হতে পারে। সেটাকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়” মন্তব্য করেন এই মনোবিদ।

বিষয় : মন




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-


মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 


মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে। 


মাশরুম


মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়। 


মিষ্টি আলু


মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।


ডিম


ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। 


স্যামন মাছ


স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 


ফ্ল্যাক্স সিড 


ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। 


কাঠবাদাম 


কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন। 


বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-


হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে


কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।


হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী


কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।


শরীরে শক্তি জোগায় 


কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়


সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-


ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।


কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।


কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। 


প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।


প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা


প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।


কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?


অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?


চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।



বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। 


ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 


হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।


হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। 


মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।


কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।


বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’


তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।


বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।


আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’


কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।

বিষয় :