অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জন টার্নাস

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ এএম

সিনিয়র থাকাকালীন আমি পেনের প্রথম ও সে সময়ের একমাত্র সিএনসি মিলিং মেশিনটা প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলাম। 


তারপরও যে আমাকে আবার আপনারা ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পুরো গল্পটা আজ আর বলছি না। শুধু এটুকু বলি, সেই বছরের বাকিটা সময় সবাই আমাকে ‘ক্র্যাশ’ বলে ডাকত।


স্নাতকেরা, অভিনন্দন। আজ একটা অসাধারণ দিন। এই দিনটি আরও বিশেষ, কারণ একটা অভাবনীয় পথ পাড়ি দিয়ে তোমরা এখানে পৌঁছেছ। কয়েক বছর আগের কথা ভাবো, মহামারির কারণে সারা বিশ্ব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। একজন হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েট হিসেবে তোমরা জানতে না, তোমাদের কলেজজীবন কেমন হবে। আর এখন ভাবো, সেই সময়ের পর থেকে তোমরা কী কী অর্জন করেছ। আজ তোমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের গ্র্যাজুয়েট। তোমরা পেরেছ বলেই তোমরা আজ এখানে! সামনের পথটা আরও রোমাঞ্চকর, কারণ এবার তোমরা বাইরে বেরোবে, নিজের পরিচয় গড়বে। ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে সাজাবে। এই যাত্রায় তোমাদের সাহায্য করার জন্য আমার কিছু পরামর্শ আছে।


প্রথম পরামর্শ


প্রথমত, নিজের কাজের পেছনে তুমি কতখানি যত্নবান, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপলে আমার প্রথম প্রজেক্ট ছিল ‘সিনেমা ডিসপ্লে’। সহজ করে বললে—একটা বড় ডেস্কটপ মনিটর। এর ওপরে স্ক্রু দিয়ে একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের আবরণ লাগানো ছিল। স্টেইনলেস স্টিলের স্ক্রুগুলোর মাথায় এমনভাবে খাঁজ কাটা যে আলো পড়লে সেগুলো সিডির মতো ঝলমল করত (যদি কেউ সিডি না চিনে থাকো, পরে মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করে নিয়ো)।


চাকরির প্রথম বছরে একবার এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়েছিলাম। জায়গাটা আমার বাড়ি থেকে অনেক দূর। তখন প্রায় মধ্যরাত। আতশকাচ দিয়ে স্ক্রুর মাথার খাঁজগুলো গুনছিলাম। মনে করিয়ে দিই, স্ক্রুগুলো মনিটরের পেছনে থাকে। আমি সরবরাহকারীর সঙ্গে তর্ক করছিলাম, কারণ তারা ৩৫টি খাঁজ দিয়েছিল, যেখানে থাকার কথা ২৫টি। সেই মাঝরাতে মুহূর্তের জন্য আমার মাথায় এল, আমি আসলে করছি কী! এটা কি স্বাভাবিক? একসময় বুঝলাম এটা হয়তো স্বাভাবিক নয়, কিন্তু এটাই সঠিক। কারণ, আমি এই পণ্যটির পেছনে কয়েক মাস সময় ব্যয় করেছি। আর যদি কোনো কিছুর পেছনে এত সময় আপনি দেন, তবে সেখানে আপনার সেরাটাই দেওয়া উচিত।


হয়তো কোনো গ্রাহক এটা খেয়াল করবেন, হয়তো করবেন না। কিন্তু যখনই আমি কারও ডেস্কে ওই মনিটরগুলো দেখতাম, আমার মনে হতো যে আমি ও আমার দল এর প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে ভেবেছি। আমাদের সেরাটা দিয়েছি। কাজের পেছনে নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দেওয়া কঠিন। মনের ওপর চাপ পড়ে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এটা সার্থক। কারণ, আমাদের সময় সীমিত। তোমরা হয়তো জীবনে শত শত প্রজেক্ট করবে। কেউ হয়তো মাত্র একটি বা দুটি বড় প্রজেক্ট করবে। কিন্তু যখন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় আসবে, তখন ফেলে আসা এই দিনগুলোর দিকে তাকিয়েই তোমার সবচেয়ে বেশি গর্ব হবে।


দ্বিতীয় পরামর্শ


সব সময় মনে করবে তুমি ঘরের বাকি সবার মতোই বুদ্ধিমান। কিন্তু কখনো এটা মনে আনবে না যে তুমি তাঁদের চেয়ে বেশি জানো। এই মানসিকতা তোমাকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেবে, আবার প্রশ্ন করার ও শেখার নম্রতাও দেবে।


অ্যাপল ছিল আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম যখন সেখানে পা রাখি, বেশ ভয় পাচ্ছিলাম। নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি ঠিক যোগ্য কি না। কারণ, ওখানকার সবাইকে ভীষণ বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হতো। ভাগ্যিস, আর যা-ই হোক, সাহায্য চাইতে কখনো ভয় পাইনি। তাঁরাও গভীর মমতার সঙ্গে শুধু যে আমার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন তা নয়, লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথও দেখিয়েছেন।


শিক্ষাজীবন শেষেই শেখা থেমে যায় না। আগে যেমনটা বলেছিলাম, শুরুতে আমি প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর পর আমাদের ডিজাইন টিম অ্যালুমিনিয়াম পছন্দ করতে শুরু করল। এরপর আর কখনো প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করিনি। আমি কি সেই দক্ষতা অর্জনের জন্য আফসোস করি? একদম না। কারণ, প্রতিটি অভিজ্ঞতা সমস্যাকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে শেখায়, জীবনে নতুন কিছু করার আত্মবিশ্বাস দেয়।


তৃতীয় পরামর্শ


এমন কিছু তৈরি করো, যা তোমাকে আগ্রহী করে, যা তোমাকে আনন্দ দেয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সেটি যেন তোমার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অ্যাপলে আমরা আমাদের মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবেশ রক্ষা। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা আমাদের পুরো সাপ্লাই চেইনকে ‘কার্বন নিউট্রাল’ করার লক্ষ্য নিয়েছি। এটা হতে যাচ্ছে আমাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ।


ক্যারিয়ারে যা-ই করো না কেন, এমন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করো, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রকৌশলী হও যেন দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার পথ খুলে যায়। এমন প্রযুক্তি তৈরি করো, যা বিশ্বের প্রতিটি কোনায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে যায়। এমন এআই মডেল বানাও, যা আমাদের সবাইকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।


প্রকৌশলী হওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তোমরা তোমাদের চারপাশের পৃথিবীকে বদলে দিতে পারো। মানুষের হাতে এমন সব সমাধান পৌঁছে দিতে পারো, যা আগে কখনো ছিল না। তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়বে। এটি যেমন একটা বড় সুযোগ, তেমনি বিশাল দায়িত্বও। স্টিভ জবস যেমনটা বলেছিলেন, ‘মহাবিশ্বে তোমার একটা দাগ রেখে যেয়ো।’





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-


মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 


মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে। 


মাশরুম


মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়। 


মিষ্টি আলু


মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।


ডিম


ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। 


স্যামন মাছ


স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 


ফ্ল্যাক্স সিড 


ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। 


কাঠবাদাম 


কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন। 


বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-


হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে


কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।


হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী


কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।


শরীরে শক্তি জোগায় 


কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়


সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-


ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।


কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।


কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। 


প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।


প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা


প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।


কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?


অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?


চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।



বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৩ পিএম

বয়স বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ওজন এবং পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাবে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে। বেশি ব্যথা হলে হাঁটাচলা কঠিন হয়ে পড়ে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। 


ভারতের সরকারি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ইমরান জানান, হাঁটুর ব্যথা উপশমের জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাঁর মতে, হাঁটুর ব্যথার জন্য সর্ষের তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা যেতে পারে। কেউ কেউ হালকা গরম তেল দিয়ে মালিশ করে আরাম পেতে পারেন। তবে, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁটু ফোলা থাকলে বা আঘাত পেলে মালিশ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। 


হাঁটুর ব্যথা উপশম করতে খাদ্যাভ্যাসের দিকেও মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন ডা. মোহাম্মদ ইমরান। রাতে হলুদ মেশানো দুধ পান, মেথি ভিজিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায় বলে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউজ১৮। আদা চা-ও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে। তবে, এই প্রতিকারগুলো হাঁটুর ব্যথা পুরোপুরি উপশম করবে বা এই অবস্থাকে নির্মূল করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।


হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন এবং প্রোটিন, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর উপর চাপ বাড়াতে পারে, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। 


মনে রাখবেন, আর্থ্রাইটিস, আঘাত বা অন্যান্য রোগের কারণেও হাঁটুর ব্যথা হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, ঘরোয়া প্রতিকারকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বা হাঁটু অতিরিক্ত ফুলে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৮ পিএম

অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।


কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।


বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’


তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।


বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।


আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’


কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।

বিষয় :