সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে এক ‌‘বাণিজ্যিক আদালত পরিচালনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৫:১৮ এএম

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে বহুদিনের দ্বৈত প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে। এর ফলে বিচার বিভাগ এখন নিজস্বভাবে পদসৃজন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ উন্নয়ন, নীতিমালা প্রণয়নসহ বিচার সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ধারা হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।


শনিবার সকালে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে হোটেলের কনফারেন্স কক্ষে সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে এক ‌‘বাণিজ্যিক আদালত পরিচালনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধান বিচারপতি বলেন, গত দেড় বছরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সাংবিধানিক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থায় যে মৌলিক রূপান্তর সাধিত হয়েছে, তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ এক নতুন প্রাতিষ্ঠানিক যুগে প্রবেশ করেছে। ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বরে তাঁর ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে।


তিনি জানান, সারাদেশব্যাপী বিভাগীয় সেমিনার ও জাতীয় প্লেনারি সেশন আয়োজনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএনডিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারগণের কারিগরি সহায়তা এই প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করেছে।


প্রধান বিচারপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশংসা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবসমূহ সরকার দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন করেছে, যা শক্তিশালী ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নির্মাণে জাতীয় ঐকমত্যকে প্রতিফলিত করে।


বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি ডেডিকেটেড বা বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার আহবান করে এসেছিল যা শীঘ্রই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।


তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের একটি গবেষক দল বাণিজ্যিক আদালত সংক্রান্ত আইনের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করে, যা পরবর্তীতে সারাদেশব্যাপী রোডশো, বিআইডিএ’র সঙ্গে নিবিড় পরামর্শ, ব্যবসায়িক আইন বিশেষজ্ঞ এবং বাণিজ্যিক অংশীজনদের মতামতের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধ হয়। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নও গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের আরও পরীক্ষণ ও পরিমার্জনের পর খসড়াটি এখন চূড়ান্ত আইনগত রূপ পেয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।


তিনি জানান, খসড়া আইনটিতে বাণিজ্যিক বিরোধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, পর্যাপ্ত সংখ্যক বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার বিধান, হাইকোর্ট বিভাগে পৃথক আপীল বেঞ্চ, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, সীমিত মুলতবি, সারসংক্ষেপ বিচার, মামলার পরিসংখ্যানের স্বচ্ছ প্রকাশ এবং বিচারক–আইনজীবীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মতো আধুনিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিধান দ্রুত, দক্ষ ও স্বচ্ছ বাণিজ্যিক বিচার নিশ্চিত করবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা–ক্ষমতা বাড়াবে মর্মে তিনি উল্লেখ করেন।


প্রধান বিচারপতি বলেন, কোনো আইন কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। এজন্য বাণিজ্যিক আদালতসমূহের সফল পরিচালনার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব পক্ষ–পেশাজীবীর সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি।


তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্যিক বিরোধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্র্যাকটিস ডাইরেকশন ও নির্দেশিকা জারি করতে প্রস্তুত। এছাড়া, তিনি আইনজীবী সমাজ ও বিচার–সম্পর্কিত সকল অংশীজনকে সততা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার সঙ্গে বাণিজ্যিক আদালত আইন বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন UNDP, Bangladesh এর Resident Representative মি. স্টেফান লিলার (Mr. Stefan Liller)। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Embassy of Sweden in Dhaka এর Head of Politics, Trade and Communication মি. অলি লুন্ডিন (Mr. Olle Lundin), Deputy High Commissioner of Australia to Bangladesh মি. ক্লিন্টন পুকি (Mr. Clinton pobke), বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত অজিত সিং (Ajit Singh), বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস (Nicholas Weeks)l এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার (Michael Miller)। আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, চট্টগ্রাম বারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবীবৃন্দ, চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তারা।


অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের মনোনয়ন প্রদান করে ২ ডিসেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার শাখা হতে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে কর্মরত বিচার বিচাগীয় কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সদস্য, অ্যাটর্নি-জেনারেল কার্যালয়ের ইন্টার্ন ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার বিকালে প্রধান বিচারপতি চট্টগ্রামের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে মতবিনিময় সভা করেন।




হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৭ হাজার ৫৬৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ৪৩ হাজার ৩৫৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার ২৬৪টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

এক কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. ভুলু মিয়া জানান।


গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেইসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন প্রিন্স মামুন। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


এর আগে কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগে মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় ২৪ জুলাই জামিন নাকচ করে মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়।


পরদিন ২৫ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে মোহনার করা মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তার ভিত্তিতে বুধবার আদালত মামুনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।


বৃহস্পতিবার প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত হন মোহনাও।


প্রিন্স মামুনের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতকে বলেন, "বাদী এবং আসামি সুইট কাপল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা এমনটা দেখেছি। কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগে বাদী মামলা করেছে। সেখানে তেমন কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট নাই।"


তিনি বলেন,"এক কোটি টাকা যৌতুক কখন চায়? সামর্থ্য থাকলে। বললেই তো দেওয়া যায় না। ঘটনার একটা ভিডিও আছে। দেখেছি, বাদীও আসামিকে আহত করেছে। স্ত্রী স্বামীকে মারতেই পারে।”


এ আইনজীবী বলেন, “মামলায় এসেছে লিখন নামে একজনের নাম। লিখন কে? ধর্ম ভাই। এর আগে তার বিরুদ্ধে লায়লাও মামলা করে। সেখানেও ধর্মভাই ছিল লিখন। মামুন যারেই বিয়ে করে, তারই ধর্ম ভাই লিখন হয়ে যায়।


“মোহনাকে মার দিয়েছি, বিষয়টা এমন না। সেখানে মারামারি হয়েছে। দুইজন দুইজনকে মেরেছে। তার (প্রিন্স মামুনের) জামিন প্রার্থন করছি।"


শুনানির সময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহনা। বিচারক তার কাছে জানতে চান, প্রিন্স মামুন খুব বিখ্যাত কেউ কি না। মোহনা বলেন, "বিখ্যাত।"


“বিখ্যাত জেনে বিয়ে করেছেন?”–বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহনা বলেন, "৫ মাস আগে বিয়ে করেছি। এই ৫ মাসে আমাকে অনেক টর্চার করেছে।"


এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন (ফয়সাল) জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন,"পাঁচ মাস আগে তারা বিয়ে করেছে। এরপর থেকে একাধিকবার টাকা ধার নিয়েছে। যৌতুক চেয়েছে, যৌতুকের জন্য মারধর করেছে।"


উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত মামুনের জামিন নামঞ্জুর করেন।


মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে মডেল মোহনার বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল।


“প্রিন্স মামুন বিভিন্ন বয়স্ক মহিলার সঙ্গে পরকিয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত। মোহনা তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করে। বিয়ের পর থেকেই আসামি দোকান দেওয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।


“এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন।”


মামলায় বলা হয়, “মোহনা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে মামুনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।


“মারধরের সময় গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তাতে মোহনার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে নীলাফোলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।”


লতিফ সিদ্দিকী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।


এর আগে গত সোমবার (২৭ জুলাই) শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২।


এ মামলার ১০ নম্বর আসামি হিসেবে ২০১৩ সালে তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশান-১ এর নিজ বাসভবন থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।


ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আগ পর্যন্ত তিনি ডিবির হেফাজতেই ছিলেন। পরে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।


এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছিলেন তার ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে করা মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, চেকদাতাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানো নয়—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 


রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এনআই অ্যাক্টের মামলায় কারাদণ্ড প্রদান শুধুমাত্র উপযুক্ত ও বিশেষ পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত।


মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


বরিশালের এক গবাদিপশু ব্যবসায়ীর চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত ফৌজদারি রিভিশন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২২ জুলাই এই রায় দেন।  রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে।


রায়ে অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির কারাদণ্ড বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণ প্রদানকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন এবং কে এম সাইফুল ইসলাম।


রায়ে আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার বিচারে কারাদণ্ড প্রদান করা একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। উক্ত নীতি ও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি।


মামলার প্রেক্ষাপট


গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি মো. আলাউদ্দিন বাদীর (যিনি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা আদালতের বাদী ছিলেন) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে আলাউদ্দিন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কারণে তা (চেক) নাকচ (ডিজঅনার) হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাদী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত) আদালতে এনআই অ্যাক্টের আইনে (সি.আর.) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা বরিশাল দায়রা জজ আদালতে পাঠান। দায়রা জজ মামলাটি বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ওই আদালত ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এআই অ্যাক্টর ১৩৮ ধারায় আসামি আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।


এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আসামি মো. আলাউদ্দিনকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা জমা দিয়ে বরিশাল দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন আসামি আলাউদ্দিন। পরে আপিল আদালত (বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ) ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির আপিল খারিজ করে দেন।


বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের সাজার অংশটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে তা (কারাদণ্ড) বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করে দেন আদালত।


রায়ের কপি প্রাপ্তির তিনি মাসের মধ্যে আসামিকে (আলাউদ্দিন) ডিজঅনার চেকের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অনাদায়ে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত উক্ত টাকা আদায় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

বিষয় : হাইকোর্ট


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। 


একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।


আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।


এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। 


এর মধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।


আজ বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।


তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।


আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।


লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১৪ পিএম

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রোববার অথবা সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করবেন।


আজ বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী। 


আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে আসামি করে পুলিশ। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে মামলাটি এখনো চলছে এবং তাকে হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে।


আজ সেই মামলায় হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।’


শাপলা চত্বরের ঘটনার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’


এ সময় সাংবাদিকেরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’


আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ওই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন। তবে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।


গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মঞ্চ-৭১ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে একদল লোক ঢুকে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 


পরদিন এই ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান লতিফ সিদ্দিকী। পরে তিনি কারামুক্ত হন।


বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তবে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর ২০১৪ সালে তিনি মন্ত্রিত্ব হারানোর পাশাপাশি দল থেকেও বহিষ্কৃত হন। 


পরে ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদও বাতিল হয়ে যায়।