• প্রকাশ : সোমবার ১০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৩২ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৩২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনে নাশকতার আশঙ্কা, ইসির প্রস্তুতি

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৩:৩২ এএম

ডিসেম্বরের প্রথমদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে কমিশন। তবে নির্বাচনের আগে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসি।

সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসংক্রান্ত বৈঠকে কমিশন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশে নাশকতা, সহিংসতা ও গুজব ছড়ানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে একই ধরনের শঙ্কা জানিয়েছেন।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, ভোটারদের বাধা দেওয়া, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং ভোটের সততা (ইন্টিগ্রিটি) নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মোট ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮ হাজার ৬৬৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

রোববার বৈঠকের কার্যবিবরণী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাব, সিআইডি, ডিজিএফআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইসির ধারণা, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়ায় নাশকতা বা জালিয়াতির চেষ্টা হতে পারে। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশে অবৈধ অস্ত্রের জোগান আসতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।

এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গুজব, ভুল তথ্য ও ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে চরিত্র হননের প্রচেষ্টা হতে পারে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “নির্বাচনপূর্ব সময়ে কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, পরাজিত প্রার্থীর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা নির্বাচনের সততা নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভয়েস ক্লোন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা প্রবাসীদের ভোটিং প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা হতে পারে। এসব মোকাবিলায় সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে হবে।”

বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হামলা, ভোটকেন্দ্র দখল ও ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণের সময় সেনাবাহিনীকে যদি বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে তারা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।”

এছাড়া ভোটগ্রহণ সামগ্রী ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশও করেন তিনি।

বৈঠকে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক বলেন, “আগের নির্বাচনের সঙ্গে এবারের তুলনা করা ঠিক হবে না, কারণ এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত আনসার সদস্যদের নির্বাচনে মোতায়েন করা হবে না।”

ডিজিএফআই প্রধান বলেন, নির্বাচনে গুজব অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

সিআইডি প্রধান জানান, ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই-নির্ভর গুজব ছড়ানোর একাধিক প্রচেষ্টা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের সাইবার ইউনিট এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এসবি প্রধানের প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। সিআইডিকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

ওই বৈঠকে ২২টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, নাশকতা প্রতিরোধে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোট করতে গেলে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করা হবে এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোটগ্রহণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “তফসিল ঘোষণার সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক উত্তাপ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কমিশনের প্রধান উদ্বেগের বিষয়।”

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে গুজব, ডিজিটাল বিভ্রান্তি ও সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।




চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৭ পিএম

ভাঙচুরের দুই মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (চন্দন কুমার ধর) জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি নিয়ে রোববার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।


আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। জামিনের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।


এর আগে, ভাঙচুরের এ দুই মামলায় চিন্ময়কে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।


২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। এ মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।


এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীদের হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় পরে আলিফের বাবা হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায়ও আসামি চিন্ময়। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।


হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৭ হাজার ৫৬৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ৪৩ হাজার ৩৫৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার ২৬৪টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

এক কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. ভুলু মিয়া জানান।


গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেইসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন প্রিন্স মামুন। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


এর আগে কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগে মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় ২৪ জুলাই জামিন নাকচ করে মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়।


পরদিন ২৫ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে মোহনার করা মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তার ভিত্তিতে বুধবার আদালত মামুনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।


বৃহস্পতিবার প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত হন মোহনাও।


প্রিন্স মামুনের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতকে বলেন, "বাদী এবং আসামি সুইট কাপল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা এমনটা দেখেছি। কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগে বাদী মামলা করেছে। সেখানে তেমন কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট নাই।"


তিনি বলেন,"এক কোটি টাকা যৌতুক কখন চায়? সামর্থ্য থাকলে। বললেই তো দেওয়া যায় না। ঘটনার একটা ভিডিও আছে। দেখেছি, বাদীও আসামিকে আহত করেছে। স্ত্রী স্বামীকে মারতেই পারে।”


এ আইনজীবী বলেন, “মামলায় এসেছে লিখন নামে একজনের নাম। লিখন কে? ধর্ম ভাই। এর আগে তার বিরুদ্ধে লায়লাও মামলা করে। সেখানেও ধর্মভাই ছিল লিখন। মামুন যারেই বিয়ে করে, তারই ধর্ম ভাই লিখন হয়ে যায়।


“মোহনাকে মার দিয়েছি, বিষয়টা এমন না। সেখানে মারামারি হয়েছে। দুইজন দুইজনকে মেরেছে। তার (প্রিন্স মামুনের) জামিন প্রার্থন করছি।"


শুনানির সময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহনা। বিচারক তার কাছে জানতে চান, প্রিন্স মামুন খুব বিখ্যাত কেউ কি না। মোহনা বলেন, "বিখ্যাত।"


“বিখ্যাত জেনে বিয়ে করেছেন?”–বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহনা বলেন, "৫ মাস আগে বিয়ে করেছি। এই ৫ মাসে আমাকে অনেক টর্চার করেছে।"


এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন (ফয়সাল) জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন,"পাঁচ মাস আগে তারা বিয়ে করেছে। এরপর থেকে একাধিকবার টাকা ধার নিয়েছে। যৌতুক চেয়েছে, যৌতুকের জন্য মারধর করেছে।"


উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত মামুনের জামিন নামঞ্জুর করেন।


মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে মডেল মোহনার বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল।


“প্রিন্স মামুন বিভিন্ন বয়স্ক মহিলার সঙ্গে পরকিয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত। মোহনা তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করে। বিয়ের পর থেকেই আসামি দোকান দেওয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।


“এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন।”


মামলায় বলা হয়, “মোহনা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে মামুনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।


“মারধরের সময় গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তাতে মোহনার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে নীলাফোলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।”


লতিফ সিদ্দিকী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।


এর আগে গত সোমবার (২৭ জুলাই) শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২।


এ মামলার ১০ নম্বর আসামি হিসেবে ২০১৩ সালে তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশান-১ এর নিজ বাসভবন থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।


ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আগ পর্যন্ত তিনি ডিবির হেফাজতেই ছিলেন। পরে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।


এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছিলেন তার ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে করা মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, চেকদাতাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানো নয়—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 


রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এনআই অ্যাক্টের মামলায় কারাদণ্ড প্রদান শুধুমাত্র উপযুক্ত ও বিশেষ পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত।


মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


বরিশালের এক গবাদিপশু ব্যবসায়ীর চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত ফৌজদারি রিভিশন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২২ জুলাই এই রায় দেন।  রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে।


রায়ে অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির কারাদণ্ড বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণ প্রদানকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন এবং কে এম সাইফুল ইসলাম।


রায়ে আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার বিচারে কারাদণ্ড প্রদান করা একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। উক্ত নীতি ও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি।


মামলার প্রেক্ষাপট


গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি মো. আলাউদ্দিন বাদীর (যিনি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা আদালতের বাদী ছিলেন) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে আলাউদ্দিন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কারণে তা (চেক) নাকচ (ডিজঅনার) হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাদী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত) আদালতে এনআই অ্যাক্টের আইনে (সি.আর.) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা বরিশাল দায়রা জজ আদালতে পাঠান। দায়রা জজ মামলাটি বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ওই আদালত ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এআই অ্যাক্টর ১৩৮ ধারায় আসামি আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।


এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আসামি মো. আলাউদ্দিনকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা জমা দিয়ে বরিশাল দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন আসামি আলাউদ্দিন। পরে আপিল আদালত (বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ) ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির আপিল খারিজ করে দেন।


বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের সাজার অংশটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে তা (কারাদণ্ড) বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করে দেন আদালত।


রায়ের কপি প্রাপ্তির তিনি মাসের মধ্যে আসামিকে (আলাউদ্দিন) ডিজঅনার চেকের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অনাদায়ে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত উক্ত টাকা আদায় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

বিষয় : হাইকোর্ট


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। 


একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।


আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।


এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। 


এর মধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।


আজ বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।


তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।


আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।