আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড

  • প্রকাশ : সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ পিএম

আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও বিচারের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়সীমা। তবু পাল্টায়নি রূঢ় বাস্তবতা। রাজধানীর কাফরুলের গার্মেন্টস কর্মী বীথির (ছদ্মনাম) মতো নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নারী আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন বিচারের আশায়। 


যেখানে আইন অনুযায়ী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা, সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতেই লাগছে মাসের পর মাস, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে পার হয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছরও। আর অভিযোগ গঠনের পর চার থেকে ছয় মাস এমনকি আট মাস অন্তর শুনানির তারিখ পড়ছে। সবমিলিয়ে বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর।


তদন্তে ধীরগতি, সাক্ষী হাজির না হওয়া এবং শুনানির দীর্ঘ বিরতিতে ঝুলে আছে হাজারো মামলা। অপরাধ দমনে কঠোর আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ না থাকায় প্রায়ই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে দীর্ঘায়িত হচ্ছে ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাস।


রাজধানীর কাফরুলের জব্বারের গলিতে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিবেশীর বাসায় ধর্ষণের শিকার হন গার্মেন্টস কর্মী বীথি (ছদ্মনাম)। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় এক বছরের মাথায় ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দেয় কাফরুল থানা পুলিশ। চার্জশিট দাখিলের পর গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এ। 


বিচারে পাঠানোর পাঁচ মাস পর গত বছরের ১৭ জুলাই এ মামলায় অভিযোগ গঠন করেন বিচারক। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য চার মাস পর একই বছরের ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির না হওয়ায় এ দফায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয় আট মাস পর। আগামী ৯ জুলাই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। দুই আসামিই রয়েছে জামিনে। অন্যদিকে, বিচারপ্রার্থী মাসের পর মাস ঘুরছেন আদালতের বারান্দায়।


সর্বশেষ আইন অনুযায়ী ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের পর থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করার কথা। অপরাধী হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসে এবং হাতেনাতে ধরা না পড়লে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করার কথা বলা আছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত শেষ হতে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে। আর অভিযোগ গঠনের পর ৪ থেকে ৬ মাস, এমনকি ৮ মাস অন্তর মামলার শুনানির তারিখ পড়ছে। বিচার শেষ হতে লেগে যাচ্ছে বছরের পর বছর। ফলে ধর্ষণের বিচার ও শাস্তি দৃশ্যমান হচ্ছে না। অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচিত ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসার পর নড়ে চড়ে বসে সবাই। সরকার-প্রশাসন, নারী অধিকার কর্মীদের তৎপরতা বেড়ে যায়। ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিরোধে নেওয়া হয় নানামুখী পদক্ষেপ। বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশ উত্তাল অবস্থা তৈরি হওয়ার পর দুবার আইন সংশোধনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নোয়াখালীতে বিবস্ত্র করে এক নারীকে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, খিলক্ষেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর আইন সংশোধন করে সরকার। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ আইনের অধীনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে। পাশাপাশি ধর্ষণ মামলার আসামি শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।


এরপর গত বছরের মার্চে মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার আইন সংশোধন করে ধর্ষণের বিচার ও তদন্তের সময়সীমা কমিয়ে আনে। ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত ও বিচারের সময় অর্ধেক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা হাতেনাতে ধরা পড়লে তদন্ত হবে ১৫ কার্যদিবসে; অন্য ক্ষেত্রে ৩০ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করতে হবে। 


এ ছাড়া অভিযোগ গঠনের পর থেকে বিচার হবে ৯০ কার্যদিবসে। তবে বিচারক মনে করলে সময় বাড়াতে পারবেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী ও আসামির ডিএনএ পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বলা হয়, আদালত যদি মনে করেন ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া মেডিকেল সনদ দিয়ে বিচারকাজ পরিচালনা করা যাবে, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষা লাগবে না।


ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর এ অপরাধ দমন ও অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির মুখোমুখি করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ধর্ষণের বিচার ও তদন্তে গতি ফেরেনি। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানার বেশকিছু ধর্ষণ মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৫-৬ মাস ধরে ঝুলে আছে তদন্ত। ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আসামি আটক হলেও অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে প্রতিবেদন দাখিল হচ্ছে না। 


গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদে নিজ বাসায় ধর্ষণের শিকার হন ১৫ বছরের কিশোরী আমেনা খাতুন (ছদ্মনাম)। আসামি মো. রিয়াদ চৌধুরীকে (১৯) ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হওয়া ধর্ষণ মামলায় নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। কিন্তু ৬ মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি দক্ষিণখান থানা পুলিশ। পাঁচবার সময় পিছিয়ে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছে।


জানতে চাইলে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক সাদিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি গত মাসে বদলি হয়ে গেছি। এত কম সময়ে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া ও তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয় না। ধর্ষণের সঙ্গে এ মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনও আছে।’


আসামি হাতেনাতে ধরা পড়েছে, নতুন অধ্যাদেশ অনুসারে ১৫ কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকলেও এ মামলায় কেন হয়নি, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। নতুন অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে আমার জানা নেই।’


গত বছর রাজধানীর উত্তরখানের চাঁনপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিং করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে জাহিদুল হক ওরফে সাফান (২৬) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ৩১ অক্টোবর জাহিদুলের বিরুদ্ধে মামলার ৫ মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি উত্তরখান থানা পুলিশ। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে।


এদিকে বিচারের পথ সুগম করতে দুই দফা আইন সংশোধনের পরও দেশে ধর্ষণের ঘটনা কমেনি। উল্টো বিগত এক বছরে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে সারা দেশে মামলা হয় ২১ হাজার ৯৩৯টি। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ৯টি অভিযোগে মামলা করা যায়। সেগুলো হলো ধর্ষণ ও ধর্ষণের কারণে মৃত্যু, বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপন, যৌনপীড়ন, যৌতুক, আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে শিশুর অঙ্গহানি এবং দহনকারী পদার্থ দিয়ে সংঘটিত অপরাধ। 


গত বছর হওয়া মামলার মধ্যে ৭ হাজার ৬৮টি ধর্ষণের অভিযোগের। ভুক্তভোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ৫ হাজার ১৭১ জন ও শিশু ১ হাজার ৮৯৭। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর নারী নির্যাতনের মামলার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৫৭১টি মামলা হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের মামলা ছিল ৫ হাজার ৫৬৬টি। তার আগে ২০২৩ সালে ১৮ হাজার ৯৪১টি, ২০২২ সালে ২১ হাজার ৭৬৬টি ও ২০২১ সালে ২২ হাজার ১৩৬টি মামলা হয়েছিল নারী নির্যাতনের অভিযোগে।


উচ্চ আদালতের তথ্যানুসারে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৯৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল। ট্রাইব্যুনালপ্রতি গড়ে ১৩শর বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। ঢাকার ৯টি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১১ হাজার ৫৬৭টি। ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন ৩ হাজার ৯১টি মামলা।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন সংশোধন করে তা যদি বাস্তবে প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে সে সংশোধনী তো লোকদেখানো। এমন লোকদেখানো কাজ করে ধর্ষণের মতো ঘটনা কমানো যাবে না। আইনে কঠোর শাস্তির যে বিধান করা হয়েছে, তার প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তি দৃশ্যমান হতে হবে। এর জন্য বিচারক সংকটসহ যেসব সংকট রয়েছে, যেসব জায়গায় ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। তাহলেই ধর্ষণের মতো অপরাধের লাগাম টানা যাবে। অন্যথায় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে এ অপরাধ ক্যানসারের মতো ছড়াতেই থাকবে।


বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘দেশে জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনাও বেশি। কিন্তু ঘটনার তুলনায় বিচারক অনেক কম। যে পরিমাণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তাতে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে এখনই আরও ১০ হাজার বিচারক প্রয়োজন। কিন্তু আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এত বিপুলসংখ্যক বিচারক একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। সে কারণে প্রতি বছর বিচারক নিয়োগ বাড়াতে হবে।’


তিনি মনে করেন, মামলার সংখ্যা অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচশ এবং আপিল বিভাগে একশ বিচারক থাকা উচিত। প্রয়োজনে ভবন ভাড়া করে আদালত বসাতে হবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব আয় বাড়বে, তা দিয়ে এ ব্যয় সংকুলান করা সম্ভব বলে দাবি করেন সাবেক এ জেলা ও দায়রা জজ। 


তিনি বলেন, ‘শুধু আইন সংশোধন করেই ধর্ষণ কমানো যাবে না। আইনের প্রয়োগ দৃশ্যমান হতে হবে। অপরাধীদের সাজা দৃশ্যমান হতে হবে। তাহলেই সমাজে এ অপরাধের ওপর প্রভাব পড়বে। অন্যথায় এ অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।’


বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির উপদেষ্টা ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালামা আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগের বিচারের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রসিকিউটর, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বিচারকের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। তাদের সমন্বিত চেষ্টাই পারে বিচারে গতি ফেরাতে। পাশাপাশি মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং থাকতে হবে। তাহলেই বিচার দ্রুত সম্ভব। তিন কার্যদিবসেও মামলার বিচার করার নজির আছে, তাহলে মামলা কেন বছরের পর বছর পড়ে থাকবে?’


এ ক্ষেত্রে সংকট তুলে ধরে সালামা আলী বলেন, ‘সারা দেশে একটা অস্থির পরিবেশ। আইন প্রয়োগের কাঠামো নেই। ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগ তদন্তে যোগ্য তদন্ত কর্মকর্তা নেই, যোগ্য আইন কর্মকর্তা নেই। ভালো অবকাঠামো নেই। বিচারকের স্বল্পতাসহ নানা সংকট রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে ব্যাপারে সংসদে আলোচনার দাবি জানাই।’


শুধু বিচার প্রক্রিয়া তদারকি না করে তদন্ত প্রক্রিয়ার দিকেও নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তিনি বলেন,‘বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করা হচ্ছে কি না, দেখতে হবে। মামলায় পুলিশ ও চিকিৎসকের মতো পেশাদার সাক্ষীরা অনেক সময় আসেন না। অনেকে বদলি হয়ে যান। তাদের আসা-যাওয়ার কোনো খরচও দেওয়া হয় না। এ বিষয়টা সমন্বয় করা দরকার। সাক্ষী সুরক্ষা জরুরি।’ 


নারী নির্যাতনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।



সর্বশেষ সব খবর

ছাগলকাণ্ডের’ সেই মতিউর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেছেন আদালত। 


ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীর আজ সোমবার এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন। এর ফলে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। 


বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম। এদিন মতিউরকে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ গঠনের সময় তিনি দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে, মতিউর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। 


মতিউরের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভুইয়া ও মো. বোরহানউদ্দিন। জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম। 


২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক মতিউরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়।


তদন্ত শেষে ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। এতে বলা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ তথ্য দিয়ে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।


সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। 


২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

সর্বশেষ সব খবর

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫৭ পিএম

ভাঙচুরের দুই মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (চন্দন কুমার ধর) জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি নিয়ে রোববার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন।


আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। জামিনের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজে।


এর আগে, ভাঙচুরের এ দুই মামলায় চিন্ময়কে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।


২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। এ মামলায় একই বছরের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।


এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময়ের জামিন নামঞ্জুর হলে তার অনুসারীদের হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনায় পরে আলিফের বাবা হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায়ও আসামি চিন্ময়। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার ৭ হাজার ৫৬৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে (প্রতি সপ্তাহে একদিন করে) মোট ৪৩ হাজার ৩৫৭টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা ও পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার ২৬৪টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। 


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

এক কোটি টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. ভুলু মিয়া জানান।


গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় ফেইসবুক লাইভে এসে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ করেন প্রিন্স মামুন। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


এর আগে কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগে মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন মোহনা। ওই মামলায় ২৪ জুলাই জামিন নাকচ করে মামুনকে কারাগারে পাঠানো হয়।


পরদিন ২৫ জুলাই আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে মোহনার করা মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। তার ভিত্তিতে বুধবার আদালত মামুনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।


বৃহস্পতিবার প্রিন্স মামুনের পক্ষে তার আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধিতা করতে আদালতে উপস্থিত হন মোহনাও।


প্রিন্স মামুনের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতকে বলেন, "বাদী এবং আসামি সুইট কাপল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা এমনটা দেখেছি। কোটি টাকা যৌতুক চেয়ে মারধরের অভিযোগে বাদী মামলা করেছে। সেখানে তেমন কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট নাই।"


তিনি বলেন,"এক কোটি টাকা যৌতুক কখন চায়? সামর্থ্য থাকলে। বললেই তো দেওয়া যায় না। ঘটনার একটা ভিডিও আছে। দেখেছি, বাদীও আসামিকে আহত করেছে। স্ত্রী স্বামীকে মারতেই পারে।”


এ আইনজীবী বলেন, “মামলায় এসেছে লিখন নামে একজনের নাম। লিখন কে? ধর্ম ভাই। এর আগে তার বিরুদ্ধে লায়লাও মামলা করে। সেখানেও ধর্মভাই ছিল লিখন। মামুন যারেই বিয়ে করে, তারই ধর্ম ভাই লিখন হয়ে যায়।


“মোহনাকে মার দিয়েছি, বিষয়টা এমন না। সেখানে মারামারি হয়েছে। দুইজন দুইজনকে মেরেছে। তার (প্রিন্স মামুনের) জামিন প্রার্থন করছি।"


শুনানির সময় সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহনা। বিচারক তার কাছে জানতে চান, প্রিন্স মামুন খুব বিখ্যাত কেউ কি না। মোহনা বলেন, "বিখ্যাত।"


“বিখ্যাত জেনে বিয়ে করেছেন?”–বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মোহনা বলেন, "৫ মাস আগে বিয়ে করেছি। এই ৫ মাসে আমাকে অনেক টর্চার করেছে।"


এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী সরকার সাব্বির হোসাইন (ফয়সাল) জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন,"পাঁচ মাস আগে তারা বিয়ে করেছে। এরপর থেকে একাধিকবার টাকা ধার নিয়েছে। যৌতুক চেয়েছে, যৌতুকের জন্য মারধর করেছে।"


উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত মামুনের জামিন নামঞ্জুর করেন।


মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে মডেল মোহনার বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল।


“প্রিন্স মামুন বিভিন্ন বয়স্ক মহিলার সঙ্গে পরকিয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত। মোহনা তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারধর করে। বিয়ের পর থেকেই আসামি দোকান দেওয়ার জন্য তার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন।


“এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন।”


মামলায় বলা হয়, “মোহনা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে মামুনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন।


“মারধরের সময় গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তাতে মোহনার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে নীলাফোলা জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।”

সর্বশেষ সব খবর

লতিফ সিদ্দিকী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৪ পিএম

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।


এর আগে গত সোমবার (২৭ জুলাই) শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২।


এ মামলার ১০ নম্বর আসামি হিসেবে ২০১৩ সালে তৎকালীন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী শাপলা চত্বরে গণহত্যার ঘটনার পরিকল্পনাকারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।


ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশান-১ এর নিজ বাসভবন থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি।


ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আগ পর্যন্ত তিনি ডিবির হেফাজতেই ছিলেন। পরে তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।


এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছিলেন তার ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে করা মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, চেকদাতাকে (আসামি) কারাগারে পাঠানো নয়—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 


রায়ে আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এনআই অ্যাক্টের মামলায় কারাদণ্ড প্রদান শুধুমাত্র উপযুক্ত ও বিশেষ পরিস্থিতিতেই দেওয়া উচিত।


মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য মামলার রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


বরিশালের এক গবাদিপশু ব্যবসায়ীর চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত ফৌজদারি রিভিশন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২২ জুলাই এই রায় দেন।  রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে।


রায়ে অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির কারাদণ্ড বাতিল করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. সাইফুল আলম। ঋণ প্রদানকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেব দুলাল বড়াল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সফিকুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফারহানা আবেদীন, হেমায়েত উদ্দিন এবং কে এম সাইফুল ইসলাম।


রায়ে আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার বিচারে কারাদণ্ড প্রদান করা একটি অতি কঠোর সাজা, যা থেকে কোনো শাস্তিমূলক উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। উক্ত নীতি ও পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করছি।


মামলার প্রেক্ষাপট


গবাদিপশুর ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসামি মো. আলাউদ্দিন বাদীর (যিনি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা আদালতের বাদী ছিলেন) কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। উক্ত ঋণ পরিশোধের নিমিত্তে আলাউদ্দিন রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক প্রদান করেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত তহবিল না থাকার কারণে তা (চেক) নাকচ (ডিজঅনার) হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি নোটিশ প্রদান ও নির্দিষ্ট মেয়াদে টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাদী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বরিশালের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত) আদালতে এনআই অ্যাক্টের আইনে (সি.আর.) মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তা বরিশাল দায়রা জজ আদালতে পাঠান। দায়রা জজ মামলাটি বরিশাল তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ওই আদালত ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর এআই অ্যাক্টর ১৩৮ ধারায় আসামি আলা উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।


এরপর ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত আসামি মো. আলাউদ্দিনকে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন। পরে অর্থদণ্ডের অর্ধেক (২ লাখ ৫০ হাজার) টাকা জমা দিয়ে বরিশাল দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন আসামি আলাউদ্দিন। পরে আপিল আদালত (বরিশাল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ) ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আসামির আপিল খারিজ করে দেন।


বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে আসামি আলাউদ্দিন হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। গত ২২ জুলাই হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিলে জারি করা রুল খারিজ করে অর্থদণ্ড বহাল রাখেন। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের সাজার অংশটি ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশোধন করে তা (কারাদণ্ড) বাতিল করে দেন। অর্থাৎ আসামির অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ড বাতিল করে দেন আদালত।


রায়ের কপি প্রাপ্তির তিনি মাসের মধ্যে আসামিকে (আলাউদ্দিন) ডিজঅনার চেকের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অনাদায়ে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও তিনি জরিমানা পরিশোধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আদালত উক্ত টাকা আদায় করা হবে বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।

বিষয় : হাইকোর্ট

সর্বশেষ সব খবর