হাইকোর্ট

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ১০:৩৪ এএম

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি করা হয়। 


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে, গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে জানান আইনজীবী শিশির মনির। 


এ ছাড়া, আপিল বিভাগে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করায় হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই কার্যক্রম বিলুপ্ত করে সরকার আদালত অবমাননা করেছে বলেও অভিযোগ করেন শিশির মনির।


এর আগে, সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবীর করা এক রিটের রায়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সংবিধানের বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।


একই সঙ্গে, তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। 


তবে পরবর্তীতে বিএনপি সরকার অধ্যাদেশটি বাতিল করে। গত ১৯ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিলুপ্তির পর সদ্য গঠিত সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ মোট ১৫ কর্মকর্তাকে পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে।




  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ পিএম

‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী ইলিয়াসুর রহমান।


এর আগে এই আইনজীবী ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।


রিট আবেদনে বলা হয়, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না।


বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছিলে রিটে।


‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না—এই মর্মে রুল জারির জন্য রিটে আর্জি জানানো হয়েছিল।


রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছিল রিটে।


হাইকোর্ট (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে ১১ কার্যদিবসে ৫০ হাজার ৩২৫টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বিভাগের ১৪টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে নতুন করে ৬ হাজার ৯৬টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে মোট নিষ্পত্তিকৃত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলার সংখ্যা ৫০ হাজার অতিক্রম করেছে।


সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার ২৩২টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। 



বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবংরিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সাদ্দাম, ইনান ও ওবায়দুল কাদের

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কের দ্বিতীয় দিনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি কল রেকর্ড দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।


প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়।


কল রেকর্ডের কথোপকথনে সাদ্দামের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন।’


প্রত্যুত্তরে সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে।’ আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকের এমন কথায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হন বলে দাবি প্রসিকিউশনের।


গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। যুক্তিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’। আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।


তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করার পর ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের এ অভ্যুত্থানে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।


এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।


গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।


প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন।


কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।


সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশা। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২৩ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগদানে বাধা দিতে তার গুলশানের বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা, পেপার স্প্রে করার মামলায় সাবেক যুগ্মসচিব সৈয়দ জগলুল পাশার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এর আগে, মঙ্গলবার দিকাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত।


মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার এজাহারনামীয় ১১১ আসামিসহ অজ্ঞাত ২৫০/৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্র-সস্ত্রসহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারা দিন অবস্থান করে। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আসামিরা রাস্তার উপর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম করে রাস্তা বন্ধ করে। খালেদা জিয়া যেন সমাবেশে যোগ না দিতে পারেন সে জন্য রাস্তার উপর ত্রাস সৃষ্টি করে।



কর্মসূচি অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর সকাল ৯টার সময় খালেদা জিয়া তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে সমাবেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে আসামিরা রাস্তায় বাধা দেয়। বালুর ট্রাকসহ বিভিন্ন ট্রাক রাস্তায় রেখে ব্যারিকেড দেয়। খালেদা জিয়া বার বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও আসামিরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে খালেদা জিয়াসহ তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা আহত হন।


এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গুলশান থানায় মামলাটি করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লতিফ হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম শাওন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৩/১৪৭/১৪৮/৩৪১/৩৪২/৩৪৩/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৯৭৪ এর ১৫(১)বি ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪২ পিএম

বিদ্বেষমূলক না হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।


তিনি বলেন, বিদ্বেষমূলক হলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বা প্রকাশ করতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। কিন্তু যে কোনো বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই।


তিনি আরও বলেন, আগামীকাল ৬ থেকে ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখি। আসলে কোনো বক্তব্য দেয় নাকি সব ফাঁকা আওয়াজ। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‌‘সব ঝুট হ্যায়’।


যে কথায় ট্র‍্যাইব্যুনালের ইমেজ সংকট হয় কিংবা বিদ্বেষমূলক হয় সেগুলো ছাড়া গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রকাশে আইনগত বাধা থাকে না, বলেন তিনি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৭ পিএম

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


জরিমানার অর্থ আদায়ে প্রয়োজন হলে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশ দিয়ে সেই অর্থ ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাহুল, ডায়মন্ড, অনিম, পলাশ, মিনহাজ আবেদীন ও মিনহাজ বাবু।


রায়ে আদালত প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়, দণ্ডপ্রাপ্তরা জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় করতে হবে। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী দুই তরুণী ও তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (কালেক্টর) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।


মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন করতে বের হন। রাতের দিকে কেরানীগঞ্জের একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে শুভাঢ্যা এলাকায় বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।


এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসা আসামিরা তাদের পথরোধ করে। তারা সঙ্গে থাকা বন্ধুদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে দুই তরুণীকে ‌‘রতনের খামার’ নামে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। ঘটনার ভিডিও ধারণের পাশাপাশি তাদের মোবাইলফোনও নিয়ে যায়।


পরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।


এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৯ জুন ভুক্তভোগীদের একজনের বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে মঙ্গলবার এ রায় দেন।