ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৩ পিএম

বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার লিখিত ধাপ পেরিয়ে ভাইভায় পৌঁছানো একটি বড় অর্জন। তবে ভাইভায় ভালো করার জন্য শুধু সাধারণ জ্ঞান ও সাম্প্রতিক ঘটনা জানলেই হবে না। প্রার্থীর একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞান, বিশ্লেষণক্ষমতা, ব্যক্তিত্ব এবং নিজের পড়াশোনাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভাইভার আগে একাডেমিক প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।


প্রথমেই নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রতিটি স্তর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে হবে। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েছেন, কোন বিষয়ে পড়েছেন, কেন সেই বিষয়টি বেছে নিয়েছেন, বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ শাখা কী এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহার কী– এসব প্রশ্নের উত্তর অনুশীলন করা প্রয়োজন। নিজের সিভি বা আবেদনপত্রে দেওয়া প্রতিটি তথ্য সম্পর্কে প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো তথ্য উল্লেখ করে থাকলে সেখান থেকেই প্রশ্ন আসতে পারে। নিচের বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।


> নিজের পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে। নিজের নাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভাগ, বিষয়, শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং কেন নির্দিষ্ট বিষয়টি বেছে নিয়েছেন– এসব প্রশ্নের উত্তর সাবলীলভাবে দিতে পারতে হবে।


> নিজের একাডেমিক বিষয়ের মৌলিক ধারণাগুলো ভালোভাবে ঝালিয়ে নিতে হবে। সংজ্ঞা, গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব, সূত্র, পরিভাষা, ধারণা ও ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। শুধু মুখস্থ নয়, কোনো বিষয় কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবে কোথায় এর প্রয়োগ রয়েছে, সেটিও বুঝতে হবে।


> নিজের বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কোর্সগুলো পুনরালোচনা করতে হবে। বিশেষ করে যেসব বিষয় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়েছেন, সেগুলোর মৌলিক অধ্যায় ও গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো আবার পড়া প্রয়োজন।


> একাডেমিক ফলাফল নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে। কোনো বিষয়ে ভালো বা খারাপ ফলাফলের কারণ, প্রিয় বিষয়, কঠিন বিষয় এবং নিজের একাডেমিক শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে যুক্তিসংগত উত্তর অনুশীলন করা উচিত।


> থিসিস, গবেষণা, প্রজেক্ট বা ইন্টার্নশিপ করে থাকলে সেগুলো ভালোভাবে ঝালিয়ে নিতে হবে। গবেষণার বিষয়, উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, ফলাফল এবং বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।


> নিজের একাডেমিক বিষয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তবতার সম্পর্ক বুঝতে হবে। নিজের বিষয়ের জ্ঞান কীভাবে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, পরিবেশ বা প্রশাসনে কাজে লাগতে পারে, তা নিয়ে চিন্তা করা দরকার।


> বাংলাদেশের সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মৌলিক ধারণা রাখতে হবে।


> নিজ জেলা সম্পর্কে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, অর্থনীতি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, নদনদী, শিল্প ও উল্লেখযোগ্য স্থাপনা সম্পর্কে প্রশ্ন আসতে পারে।


> সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়মিত পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও সামাজিক ঘটনাগুলোর কারণ ও প্রভাব বোঝার চেষ্টা করতে হবে।


> নিজের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা পরিষ্কার রাখতে হবে। কেন সরকারি চাকরি করতে চান, কেন বিসিএস বেছে নিয়েছেন এবং পছন্দের ক্যাডার সম্পর্কে আপনার ধারণা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর অনুশীলন করা প্রয়োজন।


> পরিস্থিতিভিত্তিক প্রশ্নের অনুশীলন করতে হবে। একজন কর্মকর্তা হিসেবে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন, কীভাবে জনগণের সঙ্গে কাজ করবেন বা সংকট মোকাবিলা করবেন—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর যুক্তি দিয়ে দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।


> বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় নিজের পরিচয় এবং একাডেমিক বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা করার অনুশীলন করা ভালো।


> প্রতিদিন কিছু সময় মক ভাইভা দিতে হবে। শিক্ষক, বন্ধু বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির সামনে বসে প্রশ্নের উত্তর দিলে ভয় ও জড়তা কমবে।

 

> শরীরী ভাষা ও আচরণের দিকে নজর দিতে হবে। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসা, প্রশ্ন মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কার উত্তর দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।


> উত্তর জানা না থাকলে কীভাবে তা সামলাতে হবে, সেটিও অনুশীলন করতে হবে। ভুল তথ্য দেওয়ার চেয়ে বিনয়ের সঙ্গে না জানার বিষয়টি স্বীকার করা বেশি গ্রহণযোগ্য।


সবশেষে মনে রাখতে হবে, ভাইভায় বোর্ড সাধারণত শুধু কত কিছু মুখস্থ আছে তা জানতে চায় না; বরং প্রার্থী নিজের জ্ঞান কতটা বুঝেছেন এবং সেই জ্ঞান বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিও দেখতে চায়। তাই ভাইভার আগে একাডেমিক বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পুনরালোচনা, নিজের গবেষণা বা প্রজেক্ট ঝালিয়ে নেওয়া, সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং মক ভাইভার মাধ্যমে দুর্বলতা চিহ্নিত করাই হতে পারে প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।




  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ এএম

বয়স বাড়ে আর আয়নায় প্রথম বয়সের ছাপ বা পাকা চুলটা আবিষ্কার করার মুহূর্তটিতে কিন্তু কারওরই মন সায় দিতে চায় না! সময়ের কাঁটা থামানো আর কাঙ্ক্ষিত তারুণ্যকে চিরতরে ধরে রাখা মানবধর্মের এই এক চিরন্তন বাসনা। কিন্তু জীববিজ্ঞানের এক অদ্ভুত নিয়মে নির্দিষ্ট সময় পর তারুণ্য একসময় ঠিকই হাতছাড়া হয়ে যায়। তবে ভেবে দেখুন তো, যদি হুট করে সেই হারানো তারুণ্যের চাবি আপনার হাতে এসে পৌঁছায়? গল্প বা রূপকথা নয়, বিজ্ঞানের নতুন এক এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ম্যাজিকে বয়স রিভার্স করার সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে।


কি বলছে বিজ্ঞান


বয়স বাড়িয়ে দেওয়া সময়ের নিয়ম হলেও বিজ্ঞান যেন তাতে ব্রেক কষতে শুরু করেছে। নোবেলজয়ী শিনিয়া ইয়ামানাকার ‘ইয়ামানাকা ফ্যাক্টর’ নিয়ে গবেষণার কথা মনে আছে? চারটি জিন ব্যবহার করে কোষের বয়স কমানোর কৌশল আবিষ্কার হলেও বড় সমস্যা ছিল একটিই—কোষগুলো নিজেদের পরিচয় হারিয়ে ফেলত এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেত। তবে এবার বিজ্ঞানীরা আর পুরোনো পথে হাঁটেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-কে কাজে লাগিয়ে আবিষ্কার করেছেন এমন এক জিনের যা কোষকে ক্যানসারের ঝুঁকিতে না ফেলে এবং তার নিজস্ব পরিচয় বজায় রেখেই ফিরিয়ে আনবে তারুণ্য।


এআই যখন বিজ্ঞানীদের ‘ডিজিটাল বয়স মাপার ঘড়ি’


হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জর্জ চার্চ এবং ওয়াইস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী অ্যালেক্স প্লেসার নেতৃত্বে একদল গবেষক প্রথমে তৈরি করেন চমৎকার একটি এআই অ্যালগরিদম। বয়স নির্ধারণের প্রচলিত ব্যয়বহুল পদ্ধতিগুলোর বদলে এই মেশিন লার্নিং মডেলটি ৪৬৪টি ত্বকের ফাইবারোব্লাস্ট কোষের জিন এক্সপ্রেশন (জিনগত তথ্য) বিশ্লেষণ করে মানব কোষের সঠিক ‘বায়োলজিক্যাল বয়স’ মেপে ফেলে। এই ডিজিটাল বয়সের ঘড়িকে ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট কিছু জিনের ওপর পরীক্ষা শুরু করেন, যাতে খুঁজে পাওয়া যায় বয়সের চাকা পেছনে ঘোরানোর আসল চাবিকাঠি।


তারুণ্য ফেরানোর আসল নায়ক


হাজারো জিনের মধ্য থেকে এআই স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে একটি জিন শীর্ষ স্থান দখল করে, যার নাম এসআরএসএফ ১। এটি মূলত প্রোটিন তৈরির জিনগত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বা ‘আরএনএ স্প্লাইসিং ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করে। বয়স্ক মানুষের ত্বকের কোষে যখন এই এসআরএসএফ ১ জিনটি সক্রিয় বা ওভার-প্রকাশ করা হলো, তখন দেখা গেল এক জাদুকরী পরিবর্তন। কোষগুলো তাদের স্থায়ী রূপ বা পরিচয় না হারিয়েই কমে গেল কোষের বয়ঃবৃদ্ধি, প্রোটিনের ভারসাম্যহীনতা এবং পুরোনো প্রদাহ। একই সঙ্গে উন্নত হলো ডিএনএ মেরামতের কাজও।


ইঁদুরের ওপর চমকপ্রদ পরীক্ষা ও আয়ু বৃদ্ধি


গবেষণাগারে মানব কোষে সফলতার পর বিজ্ঞানীরা আদতে দেখতে চাইলেন এর কার্যকারিতা কেমন। তারা অ্যাডেনো-অ্যাসোসিয়েটেড ভাইরাসকে ভেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে প্রবীণ বা বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে এসআরএসএফ ১ জিনটি প্রয়োগ করেন। জিনটি প্রধানত ইঁদুরের লিভারে জমা হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে পুরো শরীরে। চিকিৎসা পাওয়া ইঁদুরগুলোর বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতা ও অবনতির গতি ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায় এবং সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় এদের গড় আয়ু ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, লিভারে আসা এই পরিবর্তন বার্তা হিসেবে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে অন্য অঙ্গগুলোর বয়স কমাতেও ভূমিকা রেখেছে।


মানবজাতির সুস্থ ও দীর্ঘায়ুর নতুন দিগন্ত


প্রখ্যাত জার্নাল ‘নেচার এজিং’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি বর্তমানে ল্যাবের কোষ ও ইঁদুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মানুষের শরীরে নিরাপদে এবং সঠিক মাত্রায় এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও গবেষকদের মতে, এটি কেবল বয়স কমানো নয়, বরং মানুষকে দীর্ঘদিন রোগমুক্ত রেখে স্বাস্থ্যকর জীবন উপহার দেওয়ার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ এএম

একজন শিশু যখন প্রথম হাঁটতে শেখে, তখন তাকে হাত ধরে এগিয়ে নিতে হয়। একটু বড় হলে সেই হাত ছেড়ে কয়েক পা নিজে হাঁটার সুযোগ দিতে হয়। আবার এমন সময়ও আসে, যখন পাশে দাঁড়িয়ে শুধু উৎসাহ দেওয়া, ভুল হলে বুঝিয়ে বলা আর প্রয়োজনের সময় ভরসা দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি হয়ে ওঠে। সন্তানের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের ভূমিকার এ পরিবর্তনই সুস্থ অভিভাবকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।


সন্তানকে বড় করার কোনো একক নিয়ম নেই। তবে বয়সের সঙ্গে সন্তানের প্রয়োজন, অনুভূতি ও শেখার ধরন কীভাবে বদলায় এবং সেই অনুযায়ী অভিভাবকের আচরণ কীভাবে বদলানো যায়, তা হিসাব করে চলার সহজ একটি মাধ্যম হলো ৭-৭-৭ নিয়ম। বিশ্বের অনেক দেশেই এ পদ্ধতিটি বেশ চর্চা করা হচ্ছে। 


৭-৭-৭ নিয়ম আসলে কী? 


সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শেখা, চিন্তাভাবনা, আবেগ প্রকাশ এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। তাই সব বয়সে একইভাবে শাসন, নির্দেশনা বা স্বাধীনতা না দিয়ে বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী অভিভাবকের ভূমিকা বদলে নেওয়াই এ নিয়মের মূল কথা। ৭-৭-৭ নিয়মে অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স ২১ বছর পর্যন্ত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। ০ থেকে ৭ বছর, ৭ থেকে ১৪ বছর এবং ১৪ থেকে ২১ বছর– প্রতিটি ধাপের সময়কাল ৭ বছর করে। এ তিন ধাপের সময়ের মধ্যে সন্তানের শেখা, বেড়ে ওঠা, চিন্তাভাবনা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন ধীরে ধীরে বদলে যায়। তাই প্রতিটি বয়সে অভিভাবকের ভূমিকা ও যত্নের ধরনও বদলানো জরুরি।


প্রথম ধাপ (০-৭ বছর): খেলার পর্যায়


শিশুর জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর পৃথিবীকে চিনে নেওয়ার সময়। এ বয়সে সে খেলে, প্রশ্ন করে, দেখে, ছুঁয়ে বোঝে এবং বড়দের আচরণ অনুকরণ করে শেখে। তাই এ সময় শুধু পড়াশোনার দিকে নজর না দিয়ে নিরাপদ, স্নেহময় ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করা বেশি জরুরি।


গল্প বলা, ছবি আঁকা, গান শোনা, পাজল মেলানো কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা শিশুর শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তার ছোট ছোট প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, নতুন কিছু করার সুযোগ দেওয়া এবং ভুল করলে ভয় দেখানোর বদলে ধৈর্য ধরে বুঝিয়ে বলা দরকার। ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি থেকেই শিশুর আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হয়। এতে অভিভাবক ও সন্তানের মধ্যে বিশ্বাস গভীর হয়।


দ্বিতীয় ধাপ (৭-১৪ বছর): শেখার পর্যায় 


এই বয়সে শিশু ধীরে ধীরে নিজের পছন্দ, অপছন্দ ও মতামত প্রকাশ করতে শেখে। স্কুল, শিক্ষক, বন্ধু এবং চারপাশের পরিবেশ তার চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তাই এ সময় শুধু পড়াশোনা বা পরীক্ষার ফল নয়, দায়িত্বশীল হয়ে উঠতে শেখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া উচিত।


এই ধাপে নিজের ব্যাগ গুছানো, সময়মতো পড়া শেষ করা, ঘরের ছোটখাটো কাজে সাহায্য করা কিংবা নিজের ভুলের ফলাফল বুঝতে শেখানো যেতে পারে। কোনো বিষয়ে সন্তান ভিন্নমত প্রকাশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ভুল না বলে কেন সে এমন ভাবছে– তা জানতে চাওয়া ভালো। এতে নিজের কথা বলার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং যুক্তি দিয়ে ভাবার অভ্যাস তৈরি হয়।


তৃতীয় ধাপ (১৪-২১ বছর): পরামর্শ দেওয়ার পর্যায়   


কৈশোরে সন্তান নিজের পরিচয়, ভবিষ্যৎ এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও সচেতন হতে শুরু করে। এ সময় আগের মতো প্রতিটি বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া বা সব সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখার চেষ্টা করলে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই এ পর্যায়ে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলা, তার মতামত শোনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বন্ধুত্ব কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী নিরাপদ সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাকে দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করতে পারে।


শৈশব থেকে তরুণ বয়স পর্যন্ত ভালোবাসা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং বয়স অনুযায়ী স্বাধীনতার ভারসাম্যই সন্তানকে ধীরে ধীরে নিজের জীবন সামলানোর জন্য প্রস্তুত করে। সন্তানের হাত ধরে পথ দেখানো, তারপর ধীরে ধীরে সেই হাত ছেড়ে তাকে নিজের পথ চিনতে দেওয়া আর প্রয়োজন হলে আবার পাশে এসে দাঁড়ানো– বয়সের সঙ্গে অভিভাবকের ভূমিকা বদলানোর মাধ্যমেই সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা সম্ভব। 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম

অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট চাইলেই বাতিল করা যায়। অনেকেই নানান কারণে টিন সার্টিফিকেট করেছেন। কিন্তু তা আর কাজে আসছে না। কিন্তু ঝামেলা বাড়ছে, ই-রিটার্ন দিতে হচ্ছে, সেখানে ভুল হলে পরতে হচ্ছে আইনি ঝামেলায়। ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত একটি ইউনিক নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এই নম্বর ব্যবহার করা হয়। করদাতার পরিচিতি হিসেবেও কাজ করে টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট। আয়, কর পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্যের সঙ্গে করদাতাকে শনাক্ত করতে সরকারের কাছে এর গুরুত্ব রয়েছে।


অনেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনের কারণে টিন সার্টিফিকেট করে থাকেন। কিন্তু পরে সেই প্রয়োজন না থাকলেও টিআইএন সক্রিয় থেকে যায়। এর ফলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। টিআইএন থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। কারো করযোগ্য আয় বা সম্পদ না থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী শূন্য রিটার্ন (জিরো রিটার্ন) দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু অনেকেই বিষয়টি না জানায় বা ঝামেলা এড়াতে রিটার্ন জমা দেন না। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।


তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টিন সার্টিফিকেট বাতিলের সুযোগ রয়েছে। এর জন্য সাধারণত আলাদা কোনো ফি দিতে হয় না। অবশ্য শুধু টিআইএন আর ব্যবহার করছেন না এমন কারণেই যে সেটি বাতিল করা যাবে, তা নয়। নির্দিষ্ট কারণ ও শর্ত পূরণ করতে হয়।


কোন পরিস্থিতিতে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা যায়?


টিআইএন বাতিলের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়। যেমন-


ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে


কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে।


ভুল করে একাধিক টিআইএন হলে


কোনো কারণে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হয়ে গেলে প্রয়োজনীয় একটি রেখে অন্যটি বাতিল করার আবেদন করা যেতে পারে।


টিআইএন আর ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকলে


কোনো কাজে ব্যবহারের জন্য টিআইএন নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে সেটির আর প্রয়োজন না থাকলে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।


আয় করসীমার নিচে নেমে গেলে


কোনো ব্যক্তির আয় কমে গিয়ে যদি তিনি করযোগ্য সীমার বাইরে চলে যান এবং টিআইএন রাখার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বাতিলের আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে।


বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি


কোনো বাংলাদেশি নাগরিক কাজের কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকেন এবং বাংলাদেশে তার কোনো করযোগ্য আয় না থাকে, তাহলে দেশে থাকা অবস্থায় নেওয়া টিআইএন বাতিলের জন্য আবেদন করতে পারেন।


করদাতার মৃত্যু হলে


কোনো করদাতা মারা গেলে তার টিআইএন আর প্রয়োজন না থাকায় সেটি বাতিল করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আবেদন করতে হয়।


তবে মৃত ব্যক্তির নামে কোনো ব্যবসা বা এমন কার্যক্রম থাকলে, টিআইএন বাতিলের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার কাগজপত্রও বাতিল করে নতুন করে করার মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরাধিকারীরা টিআইএন বাতিলের আবেদন করতে পারবেন না এ বিষয়টি আগে যাচাই করা জরুরি।


কীভাবে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন?


টিন সার্টিফিকেট বাতিলের প্রক্রিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অনলাইনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কাগজপত্রের মাধ্যমেও আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।


অনলাইনে টিআইএন বাতিলের আবেদন


বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ই-টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার জন্য একটি সহজ অনলাইন পদ্ধতি চালু করেছে। এজন্য-


প্রথমে এনবিআর nbr.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। লগইন করুন। যদি আপনার এনবিআর ই-টিন অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে সবার আগে সাইন আপ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। যদি অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে লগইন করুন।


এনবিআর-এর সাইটে গিয়ে টিন বাতিলের জন্য আবেদন ফর্ম পূরণ করুন। এই ফর্মে আপনাকে আপনার টিন নম্বর, পণ্য/সেবা বা ব্যবসার বিবরণ এবং বাতিলের কারণ সহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। ফর্ম পূরণ করার পর সেটি সাবমিট করুন। একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর, এনবিআর আপনার আবেদনটি পর্যালোচনা করবে এবং কোনো অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হলে আপনাকে জানানো হবে।


আবেদন গৃহীত হলে আপনাকে টিন বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হবে।


অফলাইনেও টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা সম্ভব


যদি অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হয়, তবে আপনি স্থানীয় রেজিস্ট্রেশন অফিস বা কাস্টমস অফিসে বাতিলের আবেদন করতে পারেন। এজন্য-


প্রথমে আপনার ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য প্রস্তুত করুন। যেমন: টিন নম্বর, প্রতিষ্ঠানের নাম/ব্যক্তির নাম, ব্যবসার বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা (বন্ধ/অবসর) ইত্যাদি।

যখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করবেন, তখন আপনাকে নির্দিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে হবে, যেমন-টিন সার্টিফিকেট, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার বন্ধ হওয়ার ঘোষণা (যদি প্রযোজ্য হয়), আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র।


পর পর কমপক্ষে তিন অর্থ-বছরের শূন্য কর রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের ফটোকপি সঙ্গে দিতে হবে। এই কাগজপত্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে দাখিল করার পর, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনার আবেদন পর্যালোচনা করবে এবং তারপর টিন বাতিল করা হবে। একবার আপনার টিন সনদ বাতিল হলে, আপনাকে একটি টিন বাতিলের সনদ প্রদান করা হবে, যা আপনি পরে ব্যবহার করতে পারবেন।


টিন সার্টিফিকেট বাতিলের পর কী হবে?


আবেদন অনুমোদিত হলে টিআইএন বাতিলের সনদ দেওয়া হতে পারে। একবার টিন সার্টিফিকেট বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট টিন ব্যবহার করে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না এবং ওই টিআইএনের সঙ্গে সম্পর্কিত আয়কর নথি বা দায়ও প্রযোজ্যতার ভিত্তিতে আর থাকবে না। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি টিন সার্টিফিকেট একবার বাতিল হয়ে গেলে পুরোনো টিন সার্টিফিকেট পরে আবার ব্যবহার করা যাবে না। ভবিষ্যতে যদি আবার টিন সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুন করে টিআইএনের জন্য আবেদন করতে হবে।


তাই শুধু রিটার্ন জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগে নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৬ পিএম

বিশ্বায়নের এই যুগে পড়াশোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে প্রমাণের সুযোগ খুঁজছে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো কেবল মেধা যাচাইয়ের সুযোগই এনে দেয় না, বরং স্কলারশিপ, নেটওয়ার্কিং এবং ক্যারিয়ার গঠনের নতুন দুয়ার খুলে দেয়। ২০২৭ সালে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়ার জন্য উপযোগী এমনই সেরা পাঁচটি প্রতিযোগিতার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:


ইয়ং ডিপ্লোম্যাট অ্যাওয়ার্ড 


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি, Model United Nations এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক ইস্যুতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য BosMUN Young Diplomat Award হতে পারে দারুণ একটি অভিজ্ঞতা। প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক রচনা লিখে নিজের যুক্তি ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে হয়।


এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের গবেষণা, যুক্তি উপস্থাপন, লেখালেখি এবং আন্তর্জাতিক বিষয় বিশ্লেষণের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।

https://www.bosmun.org/youngdiplomataward


ব্লু ওশান স্টুডেন্ট এন্টারপ্রেনার কম্পিটিশন


উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ রয়েছে এমন হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এটি দারুণ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা একা অথবা সর্বোচ্চ পাঁচজনের দল নিয়ে অংশ নিতে পারে। প্রতিযোগিতায় একটি নতুন ব্যবসায়িক ধারণা তৈরি করে ৩-৫ মিনিটের ভিডিও পিচ জমা দিতে হয়। ২০২৭ সালের পিচ জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ ফেব্রুয়ারি। প্রতিযোগিতাটি সম্পূর্ণ অনলাইনে এবং অংশগ্রহণ বিনামূল্যে। হাইস্কুল, GCSE/IGCSE, O-Level, A-Level বা সমমানের প্রি-ইউনিভার্সিটি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারে।


https://blueoceancompetition.org/


ফিবোনাচ্চি ইন্টারন্যাশনাল রোবট অলিম্পিয়াড ইউরোপভিত্তিক এই সম্মানজনক প্রতিযোগিতাটিতে মূলত স্টেম (STEM), বিজ্ঞান, রোবটিকস ও এন্ট্রাপ্রেনারশিপভিত্তিক প্রজেক্ট মূল্যায়ন করা হয়। আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের অংশ হিসেবে ইতালি বা ইউরোপের কোনো দেশে অনুষ্ঠিত এই মঞ্চে জাতীয় পর্যায় পার হয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও সরাসরি অংশ নিতে পারে। 


বিষয়: ফলিত বিজ্ঞান, রোবটিকস অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনারশিপ।


যোগ্যতা: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী।


https://fibonacci.international/


ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন 


মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ডব্লিউআইসিই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উদ্ভাবন প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা। সারাবিশ্ব থেকে আসা তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবকরা তাদের নিজ নিজ প্রজেক্ট তুলে ধরেন। ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের উদ্ভাবনগুলোর জন্য এটি একটি বিশ্বমানের আদর্শ প্ল্যাটফর্ম।


বিষয়: প্রকৌশল, প্রযুক্তি, প্রয়োগিক বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন।


যোগ্যতা: হাই স্কুল ও কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের খুদে গবেষক ও শিক্ষার্থী।


https://www.wice.or.id/


ডায়মন্ড চ্যালেঞ্জ ২০২৭ 


ব্যবসা ও সামাজিক উদ্ভাবনের ধারণা নিয়ে কাজ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য University of Delaware-এর Horn Entrepreneurship পরিচালিত Diamond Challenge গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা দল গঠন করে ব্যবসা বা সামাজিক উদ্যোগের ধারণা উপস্থাপন করতে পারে। ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় সেপ্টেম্বর থেকে ধারণা তৈরির কাজ শুরু হয় এবং জানুয়ারিতে প্রথম ধাপের সাবমিশন শেষ হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ের Limitless World Summit অনুষ্ঠিত হবে ২৯-৩০ এপ্রিল ২০২৭।


https://diamondchallenge.org/competition


বৈশ্বিক এই প্রতিযোগিতাগুলো কেবল বিজয়ী হওয়ার জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি, লিডারশিপ ও উদ্ভাবনী চিন্তার অনন্য পরিচয় তুলে ধরতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। এসব আন্তর্জাতিক সম্মাননা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ প্রাপ্তি ও উচ্চশিক্ষার পথকেও সুগম করে তোলে। তাই ২০২৭ সালকে সামনে রেখে নিজ নিজ উদ্ভাবন, টিমওয়ার্ক ও বিশ্বজয়ের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এখনই নিখুঁতভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সঠিক সময়। 


  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৮ পিএম

“সকালে খেয়ে এসেছো বাবা?”


খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন। অথচ এই ছোট্ট প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একজন শিক্ষকের অসীম মমতা। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের বাইরে একজন শিক্ষক যে শিক্ষার্থীর খোঁজ রাখেন, তার ভালো-মন্দ নিয়ে ভাবেন, এই সম্পর্কের গভীরতা হয়তো এমন কিছু ছোট ছোট মুহূর্তেই সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পায়।


শিক্ষক শুধু বইয়ের পাঠ শেখান না, জীবনের পথও দেখান। অক্ষর পরিচয়ের মধ্য দিয়ে যে শিক্ষাযাত্রার শুরু, সময়ের সঙ্গে সেই যাত্রাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে নীরবে ভূমিকা রাখেন শিক্ষকেরা। ভুল-শুদ্ধের পার্থক্য বোঝানো থেকে শুরু করে কঠিন সময়ে সাহস জোগানো, জীবনের নানা বাঁকে কোনো না কোনোভাবে একজন শিক্ষক হয়ে ওঠেন আমাদের পথপ্রদর্শক।


একজন শিক্ষকের হাত ধরেই শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে ওঠে স্বপ্ন দেখার সাহস। কেউ ভবিষ্যতে চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, গবেষক কিংবা রাষ্ট্রনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্নের বীজ বপন করেন শিক্ষকেরাই। তাই শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানুষ গড়ে তোলার এক দীর্ঘ দায়িত্ব।


শিক্ষকের এই অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতেই পালিত হয় শিক্ষক দিবস। দিনটি শুধু শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপলক্ষ নয়, বরং একজন মানুষের জীবনে শিক্ষকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে স্মরণ করারও দিন। কারণ, শ্রেণিকক্ষের পাঠ একসময় শেষ হয়ে যায়, কিন্তু শিক্ষকের দেওয়া শিক্ষা থেকে যায় সারাজীবন।


স্কুলের পুরোনো ক্লাসরুম, ব্ল্যাকবোর্ডে চকের আঁচড় কিংবা পরীক্ষার আগের ব্যস্ত দিনগুলো মনে পড়লে আজও শৈশবের সেই সময়টুকু চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বই-খাতা আর পরীক্ষার গণ্ডির বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মধ্যে যে মায়া তৈরি হয়, তা সময়ের সঙ্গে সহজে মুছে যায় না।


স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের হাত ছেড়ে অচেনা পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির মাথায় যখন শিক্ষক হাত রেখে বলেন, “ভয় নেই, আমি আছি” তখনই হয়তো অচেনা জায়গাটি একটু একটু করে আপন হয়ে ওঠে। ভুল করলে কখনো শাসন, আবার পরক্ষণেই কাছে ডেকে স্নেহ করা, শিক্ষকের এই কঠোরতা ও মমতার মিশেলই ধীরে ধীরে একজন শিক্ষার্থীকে পরিণত করে।


কৈশোরে প্রিয় শিক্ষকের একটি কথাই কখনো কখনো বদলে দিতে পারে আত্মবিশ্বাসের পুরো গল্প। “তুই পারবি” এই সামান্য কয়েকটি শব্দই হয়তো কোনো শিক্ষার্থীর কাছে হয়ে ওঠে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সাহস।


তবে গল্পের সবচেয়ে করুণ মুহূর্তটি আসে বিদায়বেলায়। যে শিক্ষককে হয়তো ক্লাসে একটু ভয় পাওয়া হতো, কখনো কখনো এড়িয়ে চলার চেষ্টাও ছিল, সেই শিক্ষককে বিদায়ের মুহূর্তে সামনে দাঁড়িয়ে বিদায় জানাতে গিয়ে চোখের পানি আটকে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষকের চোখেও তখন থাকে গর্ব, ভালোবাসা আর নিজের হাতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার নীরব কষ্ট।


সময়ের সঙ্গে শৈশব পেরিয়ে আমরা জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাই। বদলে যায় ক্লাসরুম, বদলে যায় পরিচিত মুখগুলোও। কিন্তু জীবনের কোনো কঠিন মুহূর্তে হঠাৎ মনে পড়ে যায় সেই পুরোনো উপদেশ, সেই সাহস জোগানো কথাগুলো। তখন বুঝতে পারি স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ হলেও শিক্ষকের শিক্ষা কখনো শেষ হয় না।


জীবনের পথে আমরা যত দূরেই যাই, আমাদের ভেতরে কোনো না কোনো শিক্ষকের শেখানো কথা থেকে যায়। তাই শিক্ষক শুধু একটি সময়ের সঙ্গী নন, তিনি আমাদের বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী, স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা এবং সারাজীবনের এক পথপ্রদর্শক।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

একটি শিশুর হাসি যেমন একটি পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি, তেমনি একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের কারণে সেই হাসি ম্লান হয়ে যাওয়া আমাদের সবার জন্য বেদনাদায়ক। বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হাম রোগের পুনরুত্থান আমাদের সামনে এমনই এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে; যেখানে সামান্য অসচেতনতা বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।


কতটা ভয়ংকর এই ‘হাম’?


হাম পৃথিবীর অন্যতম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে গড়ে ১২-১৮ জন অ-টিকাপ্রাপ্ত শিশু সংক্রমিত হতে পারে। বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস খুব দ্রুত পরিবার ও সমাজে বিস্তার লাভ করে।


লক্ষণ: প্রথমেই চিনে নিন

 

> উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া


> চোখ লাল হয়ে যাওয়া

 

> মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots)


> মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া লাল ফুসকুড়ি


জটিলতা: অবহেলার সুযোগ নেই


হাম কখনোই ‘হালকা’ রোগ নয়; বিশেষ করে কিছু শিশুর জন্য এটি জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সম্ভাব্য জটিলতা–


> নিউমোনিয়া 


> ডায়রিয়া ও ডিহাইড্রেশন

 

> কানের সংক্রমণ 


> এনসেফালাইটিস


 দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু: তারা কি বেশি ঝুঁকিতে? একজন পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে আমার অভিজ্ঞতায়; জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুরা হামের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকে, বিশেষ করে–


>  যাদের হার্টের সমস্যা এখনও সম্পূর্ণ সংশোধন (corrected) হয়নি


>  যাদের হার্ট ফেইলিউর বা ফুসফুসে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহ রয়েছে


> অপুষ্ট বা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া শিশু


কেন তারা বেশি ঝুঁকিতে?


>  হামের সময় নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা আগে থেকেই দুর্বল হার্ট ও ফুসফুসের জন্য বিপজ্জনক


> জ্বর ও সংক্রমণের কারণে হার্টের ওপর চাপ বাড়ে


>  অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে, যা সায়ানোটিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত শিশুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে


> ডিহাইড্রেশন ও ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা হার্টের অবস্থা খারাপ করতে পারে অর্থাৎ একটি ‘সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ’ এই শিশুদের জন্য দ্রুত জটিল অবস্থায় রূপ নিতে পারে।


এসব শিশুর জন্য বিশেষ সতর্কতা


> টিকাদানে কোনো বিলম্ব নয়


> নির্ধারিত সময়েই MR টিকা অবশ্যই দিতে হবে


> প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা করা যেতে পারে


> ভিড় বা অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন


> পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে শিশুকে আলাদা রাখুন


দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ


> জ্বর, কাশি বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান


> ‘দেখি নিজে নিজে ভালো হয় কিনা’–এই অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে


পুষ্টি ও ফলোআপ নিশ্চিত করা


> অপুষ্টি থাকলে ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে


> নিয়মিত কার্ডিওলজি ফলোআপ বজায় রাখা জরুরি


প্রতিরোধ: টিকাই একমাত্র ঢাল। 

বিষয় :