সালমান শাহ ও ডন
চিত্রনায়ক সালমান শাহ ‘হত্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে তিন কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি। আবেদনে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির লোক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার এ আবেদন করেন।
আজ সোমবার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ২৭ অগাস্ট ধার্য করেছেন।
রিমান্ডের জন্য আবেদনে তিন কারণ দেখিয়ে সিআইডি বলেছে, মামলার ঘটনা আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভুক্তভোগী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মা মামলার পর থেকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিভিন্ন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনের দ্বিতীয় কারণে ডনকে ‘অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার ঘটনায় জড়িত অপরাপর সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ও নিবিড়ভাবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ রিমান্ডে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
তৃতীয় কারণ হিসেবে সিআইডির দাবি, ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে, কী কারণে ও কার ইন্ধনে তিনি বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছিলন এ সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটনসহ মামলার প্রকৃত রহস্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ৯ অগাস্ট ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১২ অগাস্ট জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে গেল বছরের ২০ অক্টোবর তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি করেন।
চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমানের বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।
তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন।
সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
মামলাটি এরপর তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটি আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।
তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনেও অসন্তুষ্টি জানান সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।
এবিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।
এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করেন মোহাম্মদ আলমগীর।
মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আট বছর পর আবারও র্যাম্পে ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আলোচিত ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। আর এবারের বিশেষ ডিজাইনের ব্রা পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন রিয়েলিটি টিভি তারকা ও সৌন্দর্যপণ্য উদ্যোক্তা কাইলি জেনার। হীরা ও মূল্যবান রত্নে সাজানো ব্রাটির দাম ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬১৭ কোটি টাকারও বেশি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মার্কিন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ফিরল ফ্যান্টাসি ব্রা। এর প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে নকশা ও অলংকারে বিশেষ আয়োজন করেছে ব্র্যান্ডটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪১০টি প্রাকৃতিক হীরা। মাঝখানে রয়েছে ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের উজ্জ্বল কাটের বিরল হলুদ হীরা।
অন্তর্বাসটি তৈরি করতে ১৫ জন কারিগরের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এর ওজন প্রায় চার পাউন্ডের কাছাকাছি। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ফ্যান্টাসি ব্রা। এর আগের রেকর্ডের তুলনায় দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি ডলার বেশি।
র্যাম্পে কাইলির পরনে ছিল হালকা কাপড়ের মিনিস্কার্ট, স্বচ্ছ হিল এবং সাদা পালকের ডানা। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে হীরাখচিত ব্রাটি। এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যান বলেন, এবারের শোর অন্যতম ভাবনা ছিল ভক্তদের উন্মাদনা ও প্রত্যাশা। গত বছরের শোতে ফ্যান্টাসি ব্রা ফিরিয়ে আনার দাবি ছিল সবচেয়ে বেশি। তাই এবার জমকালোভাবে এটি উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কাইলি একজন ‘সাংস্কৃতিক শক্তি’, যিনি ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সৌন্দর্যজগতের বাইরেও ব্যাপক প্রভাব রাখেন। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড কো ব্রাটির অলংকার নির্মাণে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জ্যাকব আরাবো জানান, ব্রাটিতে সাত ধরনের কাটের হীরা ব্যবহার করা হয়েছে। হীরার উজ্জ্বলতা বাড়াতে প্রয়োগ করা হয়েছে চার ধরনের সেটিং কৌশল।
তবে এত দামি অলংকার তৈরি করাই ছিল একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। ব্রাটি যেন কাইলির শরীরের সঙ্গে মানানসই হয় এবং চলাফেরায় অসুবিধা না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়েছে। কারণ, নকশাটি তৈরি হয়েছে মূলত সোনা ও হীরা দিয়ে, এতে কোনো কাপড় ব্যবহার করা হয়নি। কাইলির শরীরের মাপ নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত নকশা তৈরি করা হয়।
ফ্যান্টাসি ব্রার ইতিহাস প্রায় ৩০ বছরের। ১৯৯৬ সালে ক্লডিয়া শিফার এক মিলিয়ন ডলারের প্রথম ফ্যান্টাসি ব্রা পরে প্রচারণায় অংশ নেন। ১৯৯৯ সালে হেইডি ক্লুম পরেন ১০ মিলিয়ন ডলারের ‘মিলেনিয়াম ব্রা’।
২০০০ সালে জিসেল বুন্ডশেনের পরনে ছিল ১৫ মিলিয়ন ডলারের ‘রেড হট ফ্যান্টাসি ব্রা’। সর্বশেষ ২০১৮ সালে এলসা হস্ক পরেছিলেন এক মিলিয়ন ডলারের অ্যাটেলিয়ার স্বরোভস্কি ফ্যান্টাসি ব্রা।
ফ্যাশন দুনিয়ায় ফ্যান্টাসি ব্রা একদিকে যেমন প্রচারণার বড় আকর্ষণ, অন্যদিকে এটি গয়না নির্মাণের জটিল কারিগরি দক্ষতারও উদাহরণ। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ভাষ্য, এবারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং তাদের জন্য বিশেষ কিছু উপহার দেওয়া।
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিজয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হাজির হন অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। বুধবার সকালে বন্ধুদের সঙ্গে সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশ নেন তিনি। ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণে অন্য ভক্তদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠেন এই শিল্পী।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পরে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন ভক্তরা। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরেও দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। সেখানেই বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান শাওন।
উৎসবে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শাওন বলেন, ‘আমরা বন্ধু, ঈদের দিন ওরা বাসায় আসে। আমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাই তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে এসেছি।’সিঁদুর খেলার আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পরস্পরের কপালে সিঁদুর ও আবির মাখিয়ে উৎসবের আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেও দেবী দুর্গার বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের মনে ছিল বিষাদের ছোঁয়া।
বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা ওই শোভাযাত্রায় যুক্ত হওয়ার পর ঢাকার ১১টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে।
ইজে ও স্যাম কিম
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন কোরীয়-মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার ইজে। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ভক্তদের আগ্রহ কম নয়। এবার বিয়ে করলেন তিনি। তাঁর বর সংগীত প্রযোজক ও গীতিকার স্যাম কিম। শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সোমবার ‘ভোগ’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা গেছে। বিয়ের পর তাঁর স্বামী স্যাম কিমের সঙ্গে প্রেমের গল্প এখন আলোচনায়। সংগীতের সূত্রেই পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম– দুজনের সম্পর্কের শুরু ২০১৭ সালে।
ইজের আসল নাম কিম উন-জে। স্যাম কিম একসময় সংগীত প্রযোজক হিসেবে কাজ করতেন। পরে পেশা বদলে যুক্ত হন কোডিংয়ের কাজে। ২০১৭ সালে একটি গানের লেখার সেশনে তাদের প্রথম পরিচয় হয়। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পর্কে জড়ান তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বাগদান হয় তাদের। তবে সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয়গুলো এতদিন অনেকটাই আড়ালে রেখেছিল এই জুটি। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাগ্রামে কিছু ছবি প্রকাশের মাধ্যমে বাগদানের খবর জানান ইজে। ইজে ও স্যাম শুধু প্রেমিক-প্রেমিকাই নন; সংগীতের কাজেও একে অপরের সহযোগী।
ইজের প্রথম জনপ্রিয় গান ‘সাইকো’, যেটি কে-পপ গার্ল গ্রুপ রেড ভেলভেট-এর থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গান ‘ইন অ্যানাদার ওয়ার্ল্ড’ পর্যন্ত তাঁর সংগীতযাত্রায় স্যামের অবদান রয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভালচারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইজে তাদের পরিচয়ের কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘সে মূলত আমার গানের লেখার সঙ্গী ছিল। ২০১৭ সালে একটি সেশনে আমাদের পরিচয় হয়। আমরা সত্যিই একসঙ্গে বড় হয়েছি।’ ইজে জানিয়েছেন, মঞ্চে ওঠার আগে ভয় ও উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতেও স্যাম তাঁকে সহায়তা করেন। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গান ‘হোয়াট ইট সাউন্ডস লাইক’-এর কণ্ঠের বিন্যাসও রেকর্ড করা হয়েছিল ব্রুকলিনে ইজের অ্যাপার্টমেন্টে। সেখানে স্যামও কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
এর আগে ফোর্বসকে ইজে বলেছিলেন, ‘আমি সব সময় গাড়িতে নিজের গান চালাই। গাড়ির স্পিকারে কেমন শোনায়, তা পরীক্ষা করার জন্য ডেমো তৈরি করি। স্যাম সব সময় আমাকে মতামত দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গীতিকার হিসেবে আমি যা করি, এটি তারই প্রতিফলন। আমরা একসঙ্গে গান শুনি, উপভোগ করি। বাস্তবেও আমরা ঠিক এভাবেই সময় কাটাই।’
‘কেন এই নিঃসঙ্গতা, কেন এই মৌনতা, আমাকে ঘিরে...’– এই লাইনগুলো আজও উচ্চারিত হয় শ্রোতাদের মুখে। সৃষ্টির ৩২ বছর পরও এই গানের আবেদন এতটুকু কমেনি। সে কারণে ‘নিঃসঙ্গতা’ গানটি আনপ্লাগড সংগীতায়োজন রেকর্ড করেছেন সোলস সদস্যরা। একযোগে প্রকাশ করছেন শিল্পী পার্থ বড়ুয়া ও ব্যান্ডের ইউটিউব চ্যানেলে। সোলস সদস্যদের কথায়, মাত্র এক দিনের নোটিশে বিটিভির জন্য যে গানটি তৈরি হয়েছিল, সেই ‘নিঃসঙ্গতা’ সংগীতাঙ্গনে এতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে; যুগের পর যুগ অনুরণন তুলে যাবে শ্রোতামনে, তা কল্পনাও করেননি তারা। আর এই গানের প্রতি যতটা ভালো লাগা শ্রোতাদের, ততটাই সৃষ্টির আনন্দ মিশে আছে তাদের মনে। সে কারণে আনপ্লাগড ভার্সনে গানটি রেকর্ড করে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যা অনেকের ভালো লাগবে বলে তাদের বিশ্বাস।
কালজয়ী এই গানের সৃষ্টি নিয়ে সোলসের লিড গিটারিস্ট ও কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়া বলেন, ‘নিঃসঙ্গতা’ গানের জন্ম অনেকটা গল্পের মতো মনে হয়। সেই ১৯৯৪ সালের কথা। তপন চৌধুরী সোলস ছাড়ার পর অ্যালবাম প্রকাশনাও থেমে গেছে। সেই সময়ে হঠাৎ একদিন বিটিভিতে সোলসের ডাক পড়ে নতুন একটি গান করার জন্য। তখন বিটিভি ছাড়া অন্য কোনো টিভি চ্যানেল ছিল না। যে জন্য সেখানে পারফর্ম করতে পারা যে কোনো শিল্পী ও ব্যান্ডের জন্য ছিল বাড়তি পাওয়া। আমরাও তাই এক দিনের নোটিশে গান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছিলাম। গীতিকার কবির বকুলের কাছ থেকে গীতিকথা লিখিয়ে নিয়ে এক রাতেই শেষ করে ফেলেছি গানের সুর ও সংগীতায়োজন। পরদিনই বিটিভিতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছি। এরপর ‘নিঃসঙ্গতা’ বিটিভিতে প্রচারের পর যা হয়েছে, তা আজ এক ইতিহাস।
সম্প্রতি সোলস সদস্যরা ব্যান্ডের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে কানাডা সফর করে এসেছেন। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কানাডা সফরে যায় দেশের সবচেয়ে পুরোনো এই ব্যান্ড। এই সফরের প্রথম কনসার্ট ছিল সাসকাচুয়ানে। প্রথম আয়োজনে সোলসের পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের দারুণ সাড়া ফেলেছিল। যে কারণে বাড়াতে হয়েছে তাদের কনসার্ট সংখ্যা। সাসকাচুয়ানের পর একে একে কানাডার ক্যালাগেরি, হ্যালিফ্যাক্স ও এডমন্টনে অনুষ্ঠিত কনসার্টে অংশ নিয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গানের এই ব্যান্ড। কানাডায় ধারাবাহিকতায় আয়োজনের সমাপ্তি টানে স্কারবোরোয়। সোলসের কণ্ঠশিল্পী পার্থ বড়ুয়ার কথায়, উত্তর আমেরিকার বৃহৎ এই দেশটিতে আগেও কনসার্ট করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এবারের এই কনসার্ট সফর ব্যান্ডের সবার জন্য অন্যরকম অভিজ্ঞতা ও ভালো লাগার। কারণ একটাই, ধারাবাহিক কনসার্টের মধ্য দিয়ে ব্যান্ডের ৫০ দশক পূর্তি উদযাপন করতে পারা। আশার কথা হলো, প্রতিটি কনসার্টে দর্শক সমাগম ও তাদের আনন্দ উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা দীর্ঘদিন আমাদের মনে অনুরণন তুলে যাবে।
প্রসঙ্গত, সোলসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছরই দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রথম সারির ব্যান্ড সোলস গানের ভুবনে পথচলার ৫০ বছর পূর্ণ করে। দেশের একমাত্র ব্যান্ড হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারা নিয়ে সোলস সদস্যরা নানা আয়োজন শুরু করেন, যা কয়েকটি ধাপে চলমান।
জেলার ২ সিনেমার পোস্টার।
গোটা দেশজুড়ে রজনীকান্তের অগণিত ভক্ত। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তো তিনি ‘থালাইভা’। আর সেই ভক্তকুলের মধ্যে অন্যতম সাঞ্জু স্যামসন। আর সেটা এমন পর্যায়ে যে রজনীর নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’ দেখার জন্য একাই হলের সব টিকিট কিনে নিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। আগেই সিনেমাটা দেখার ইচ্ছা ছিল। সেটা হয়নি বলে এবার ঝুঁকি নেননি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার।
সাঞ্জু যে রজনীকান্তের ভক্ত, সেটা আর নতুন করে বলার নয়। এর আগেও তিনি বহুবার সে কথা স্বীকার করেছেন। তবে ভারতে তারকা ক্রিকেটারদের সর্বসমক্ষে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা আছে। তাই বলে কি প্রিয় হিরোর সিনেমা বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা যায়?
সাঞ্জু বলেন, ‘রজনী স্যারের সিনেমা দেখতে আমার দারুণ লাগে। আমি সবসময় তার সিনেমা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। তাই সময় পেলেই তার সিনেমা দেখতে চলে যাই। কালই দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দিল্লিতে একটু অনুষ্ঠানে আটকে পড়ায় আর যাওয়া হয়নি।’এবার যাতে আর মিস না হয়, তাই গোটা হলই বুক করে নিয়েছেন সাঞ্জু। তিনি বলেন, ‘কপাল ভালো, আজ সুযোগ পেয়েছি। তাই হলের সব টিকিট কেটে নিয়েছি। আমি আমার বন্ধুদের সিনেমা দেখতে নিমন্ত্রণ করেছি। আমার স্ত্রীও থাকবে। রজনী স্যারকে বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’এখানেই শেষ নয়। এরপর ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ডে উড়ে যাবে। তার আগে টিম ইন্ডিয়ার ম্যানেজমেন্টে যারা তামিল জানেন, তাদেরকেও এই সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাঞ্জু।মেগাস্টার রজনীকান্তের ‘জেলার’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, কবে আসবে ছবির সিকুয়েল? গত ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য বারের মতো এখানেও তাকে দেখানো হয়েছে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ভাবমূর্তিতেই।