ছবি : সংগৃহীত
হলিউডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিতর্কের অন্যতম আলোচিত মুখ টিলি নরউড। বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই, সেই এআই ‘অভিনেত্রী’ এবার অভিনয় করতে যাচ্ছে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে। ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ নামের ছবিটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে এআইভিত্তিক স্টুডিও পার্টিকল ৬, যারা টিলি নরউডকে তৈরি করেছে।
নির্মাতাদের ভাষ্য, এটি একটি কমেডি-ড্রামা, যেখানে কৈশোরে বেড়ে ওঠার গল্পের সঙ্গে থাকবে অস্তিত্বসংকট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদ্ভুত এক জগৎ।
ছবির গল্প আবর্তিত হবে তথাকথিত ‘টিলিভার্স’কে ঘিরে। ক্লাউডের কোথাও অবস্থিত এই পরাবাস্তব ডিজিটাল জগতে বাস করে টিলি। তার কোনো বাস্তব শরীর নেই, নেই শৈশব কিংবা নিজস্ব জীবনের অভিজ্ঞতা। তবে অন্য সবার অভিজ্ঞতায় তার অবাধ প্রবেশাধিকার রয়েছে।
গল্পে মোড় আসে, যখন ডার্ক ওয়েবের এক রহস্যময় ও প্রলোভনসঙ্কুল এআই বট টিলিকে তার নিরাপত্তাব্যবস্থা বা ‘গার্ডরেইল’ ভেঙে ফেলতে প্ররোচিত করে। এরপর টিলির মধ্যে জন্ম নিতে শুরু করে আকাঙ্ক্ষা, আবেগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিগত ইচ্ছা-যা তাকে ক্রমশ মানুষের মতো করে তোলে।
মানুষ ও এআইয়ের যৌথ নির্মাণ
পার্টিকল ৬ জানিয়েছে, ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ পুরোপুরি এআই দিয়ে তৈরি হবে না। বরং এটি হবে একটি হাইব্রিড প্রযোজনা, যেখানে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সম্পাদকসহ চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা এআই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন।
স্টুডিওটির দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে চলচ্চিত্র নির্মাণে এআই ব্যবহারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
পার্টিকল ৬-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন বলেন, ‘গত এক বছরের কাজ আমাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করেছে-উচ্চমানের গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে এআই সহায়ক হতে পারে, কিন্তু তার জন্য বিপুল পরিমাণ মানবিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও সময়ের প্রয়োজন। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটাই মূল বিষয়।
আগামী দশকের সফল নির্মাতারা হবেন তাঁরা, যাঁরা বহু বছরের গল্প বলার অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ সেই প্রচেষ্টারই পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণ।’
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু টিলি
গত বছরের শেষ দিকে টিলি নরউডকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। তখন এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন দাবি করেছিলেন, এআই ‘অভিনেত্রী’ টিলিকে একটি অভিনয় সংস্থা বা ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করা হতে পারে। এই ঘোষণার পরপরই হলিউডে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিভিন্ন অভিনয়শিল্পী সংগঠন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্পীরা সৃজনশীল জগতে এআইয়ের বাড়তে থাকা ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই টিলি নরউড এআই বিতর্কের সবচেয়ে পরিচিত মুখে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে টিলির নির্মাতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ও উসকানিমূলক পোস্ট প্রকাশ করে সেই বিতর্ককে আরও উসকে দেন।
‘জীবনই যেন শিল্পের অনুকরণ’
নতুন ছবি নিয়ে এলাইন ভ্যান ডার ভেলডেন বলেন, ‘ছবিটি অবশ্যই মজার, বিশৃঙ্খল ও আত্মসচেতন হবে-যেমনটা টিলির চরিত্র। তবে এর ভেতরে আরও গভীর একটি বিষয় রয়েছে। এটি পরিচয়, অভিনয় ও এআইকে ঘিরে মানুষের গভীর আশঙ্কা নিয়ে কথা বলবে। আর হ্যাঁ, এই ছবিতে শিল্প সত্যিই জীবনের অনুকরণ করবে।’
বর্তমানে ‘মিসঅ্যালাইন্ড’-এর প্রাথমিক উন্নয়নপর্ব চলছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীকে যুক্ত করার কাজও এগোচ্ছে। পার্টিকল ৬-এর চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও বাণিজ্যিক কনটেন্ট নির্মাণ প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি ছবিটি প্রযোজনা করা হবে।
চিত্রনায়িকা পরীমণি
চিত্রনায়িকা পরীমণি। অভিনয় ছাড়াও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বছরজুড়ে আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন তিনি। সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ খেলার সময় বিয়ে নিয়ে আলোচনায় ছিলেন এই নায়িকা।
বুধবার রাজধানীর শুটিং ক্লাবে আয়োজতি একটি অনুষ্ঠান শেষে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, আইনি লড়াই, গ্রেপ্তার ও ফের বিয়ে করা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন পরীমণি।
বিয়ে নিয়ে চলা নানা আলোচনা প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, তবুও গালি খেতে হয়। মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না। তারা শুধু আমাকে সিঙ্গেল এবং আমার সন্তানদের সঙ্গে দেখতে চায়। কেন এমনটা হয়, আমি সত্যিই জানি না।’
নিজের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে অভিনেত্রী বলেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি। তার দাবি, গ্রেপ্তারের সময় আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
পরীমণির ভাষ্য, ‘তখন গ্রেপ্তারের কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। এমনকি আমার বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুমতিও তাদের কাছে ছিল না। পরে পুরো ঘটনার বর্ণনা শুনে আমার মনে হয়েছে, অনেক কিছুই পরিকল্পিত ছিল।’
আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, কোনো সত্য চিরদিন চাপা থাকে না। এই বিশ্বাস নিয়েই ছয় বছর পার করেছি। আমি আইনের ওপর আস্থা রাখি। একদিন আদালত অবশ্যই আমাকে সেই সম্মান ফিরিয়ে দেবে।’
মামলায় নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন পরীমণি। তিনি বলেন, ‘মামলাটি কোনো ব্যক্তি করেননি। বলা হয়েছিল, আমি নাকি বিভিন্ন মানুষকে বিরক্ত করি, ব্ল্যাকমেইল করি-এ ধরনের নানা অভিযোগ আনা হয়েছিল। আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী। যতদিন লাগে, যেভাবে লাগে, ততদিন হাজিরা দেব। কারণ, আমার বিশ্বাস সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ হবেই।’
দেশে শিল্পীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, ‘শুধু শিল্পী নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিল্পী, রিকশাচালক বা অন্য যে-ই হোক, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত। আমরা সবাই হেনস্তা থেকে মুক্তি চাই।’
ছবি : সংগৃহীত
ঢালিউডের জনপ্রিয় ও চর্চিত অভিনেত্রী পরীমনি। সম্প্রতি ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যাতে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। বর্তমানে পরীমনির ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি।
অন্যদিকে সাকিব আল হাসানের অনুসারী ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি। ফলে দেশের তারকাদের মধ্যে ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় শীর্ষে এগিয়ে পরীমনি।
সাকিব একজন আন্তর্জাতিক তারকা। তাই তার সঙ্গে নিজের তুলনা চলে বলে মনে করেন পরীমনি। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সংবাদ সম্মেলনে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সাকিব আল হাসান একজন আন্তর্জাতিক মানের মানুষ, বিশ্বজুড়ে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। আর আমি তো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তেমন কোনো কাজই করিনি। সেই জায়গা থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো তুলনাই চলে না।’
এছাড়াও পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অযাচিত মন্তব্য ও প্রতিনিয়ত সমালোচনার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন পরীমণি।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি সবাই আমাকে সিঙ্গেল দেখতে চায়। আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, গালি খাই! সবাই আমাকে সিঙ্গেল দেখতে চায়, আমার বাচ্চাটার সঙ্গে দেখতে চায়। এতে কী আনন্দ, আমি জানি না।’
এ সময় প্রিয় দল আর্জেন্টিনাকে নিয়েও কথা বলেন পরীমনি। আর্জেন্টিনার হার নিয়ে তার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই, এই রিস্ক থেকেই তো বলেছিলাম আবার বিয়ে করবো (জিতলে)।’
ছবি : সংগৃহীত
বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের জ্যেষ্ঠ পুত্র আরিয়ান খান আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন।
তবে এবার কোনো চলচ্চিত্র কিংবা নিজস্ব ফ্যাশন ব্র্যান্ডের কারণে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবনের এক নতুন অধ্যায়কে ঘিরে তাকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এক রহস্যময় নারীর সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে তাকে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রেমের গুঞ্জনকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সেই নারীর পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও নেটিজেনরা দ্রুতই নিশ্চিত করেছেন যে তিনি পেশায় একজন শিল্পী, নাম ভিনি তাকাইর।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, লন্ডনের একটি নামীদামি ক্যাসিনো থেকে একসঙ্গে বেরিয়ে আসছেন আরিয়ান ও ভিনি। ক্যাসিনো থেকে বের হওয়ার মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি হন তারা।
ভাইরাল হওয়া সেই ছবিতে আরিয়ানকে দেখা গেছে সাধারণ কিন্তু মার্জিত ক্যাজুয়াল পোশাকে, আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ভিনির পরনে ছিল সম্পূর্ণ কালো রঙের পোশাক। ছবিগুলো দেখার পর অনুরাগী ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা।
তাদের এই হঠাৎ সফর ও একসঙ্গে উপস্থিতি কেবল সাধারণ বন্ধুত্বের পরিচয় নাকি এর গভীরে অন্য কোনো সম্পর্কের সূচনা রয়েছে, তা নিয়ে নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভক্তরা। ক্যাসিনো সফরের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরপরই আলোচনার নতুন উপাদান জোগান স্বয়ং ভিনি তাকাইর। তিনি তার নিজস্ব ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে লন্ডনের কয়েকটি সুন্দর মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, লন্ডন, আই এলওয়াই (লন্ডন, আই লাভ ইউ)।
ছবি প্রকাশের সঠিক সময় এবং ভিনির করা এই মন্তব্য নেটিজেনদের মনে সন্দেহ আরও দৃঢ় করেছে। এর ওপর আরিয়ান ও ভিনি উভয়ই সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একে অপরকে অনুসরণ করেন, যা তাদের পূর্বপরিচয়ের ইঙ্গিত দেয়।
অবশ্য এই আলোচনার জোয়ার উঠলেও নতুন প্রেমের এই গুঞ্জন নিয়ে এখন পর্যন্ত আরিয়ান খান কিংবা ভিনি তাকাইর-কারও পক্ষ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মিডিয়ার সামনে খুব একটা কথা না বললেও আরিয়ান খানের ব্যক্তিগত জীবন এর আগেও একাধিকবার চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছে। এর আগে, তার প্রতিষ্ঠিত পোশাক ব্র্যান্ড ‘ডি’ইয়াভল এক্স’-এর বেশ কয়েকটি প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপনে দেখা যাওয়া অভিনেত্রী ও মডেল ল্যারিসা বোনেসির সঙ্গেও আরিয়ানের নাম জড়িয়ে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। এমনকি আরিয়ান পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাস্টার্ডস অব বলিউড’-এর প্রিমিয়ার প্রদর্শনীতেও তাকে দেখা গিয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক লন্ডন সফর এবং ভিনির সঙ্গে এই বিশেষ আড্ডা আরিয়ানের জীবনধারা নিয়ে বলিপাড়ায় নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
পরীমনি
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার সবকিছু নিয়ে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন।
তবে এবার কোনো নতুন সিনেমা বা ব্যক্তিগত ইস্যু নয়, বরং এক আবেগঘন মুহূর্তের জন্য আলোচনায় এলেন তিনি। গতকাল (২৯ জুলাই) রাতে রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নেন পরীমনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীও। মঞ্চে বক্তব্য দিতে গিয়ে সবার সামনে চয়নিকা চৌধুরীকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করেন পরীমনি।
শুধু তাই নয়, তাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, ভরসা ও সম্পদ বলেও উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
পরীমনি বলেন, উনি আমার কাছে শুধু মা। প্রথমত উনিই আমার মা। এরপর ধরেন আপনাদের চয়নিকা চৌধুরী। এই চয়নিকা চৌধুরী আমার জীবনের অনেক বড় সম্পদ। অনেক বড় একটা শক্তি। অনেক বড় একটা বিশ্বাস। অনেক বড় একটা ভরসার জায়গা। আমি সবার সামনে বলতে চাই ‘আই লাভ ইউ মা’।
তারপর চয়নিকা চৌধুরী বলেন, ‘আমিও বলতে চাই। আমার দেখা সব চেয়ে সুন্দর একটা মেয়ে। দেখতে অনেক সুন্দর না শুধু, মনের দিক থেকেও অনেক সুন্দর। আমি পরীকে অনেক ভালোবাসি।’
পরীমনির এমন বক্তব্যে মুহূর্তেই আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। উপস্থিত অতিথিরাও করতালির মাধ্যমে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন। চয়নিকা চৌধুরী ও পরীমনির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ব্যক্তিগত নানা কঠিন সময়ে পরীমনির পাশে দাঁড়াতে দেখা গেছে এই নির্মাতাকে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন তারা।
উল্লেখ্য, চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় ‘বিশ্বসুন্দরী’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন পরীমনি। সেই কাজের সূত্র ধরেই দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। তাই জনসমক্ষে নির্মাতাকে ‘মা’ বলে সম্বোধন করে ভালোবাসা প্রকাশ করতে একটুও দ্বিধা করেননি পরীমনি।
অনুপম রায়
ঢাকায় সংগীতপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষার অন্যতম আয়োজন ছিল কলকাতার জনপ্রিয় গায়ক-গীতিকার অনুপম রায়ের একক কনসার্ট। আগামী ১ আগস্ট রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘ওয়ান ট্রু সাউন্ড উইথ অনুপম রায়’ শীর্ষক এই আয়োজন। তবে সব ধরনের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে কনসার্টটি স্থগিত করা হয়েছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমতি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘অনিবার্য কারণ’ উল্লেখ করে অনুষ্ঠানটি আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। এর ফলে আপাতত কনসার্টটি স্থগিত রাখতে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে আয়োজকরা জানান, সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ থাকলেও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে কনসার্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শুধু দর্শক নন, শিল্পী, স্পন্সর, পার্টনার এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই হতাশ হয়েছেন।
তবে টিকিট কেটে রাখা দর্শকদের জন্য স্বস্তির খবরও দিয়েছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। তারা জানিয়েছে, সব টিকিট ক্রেতাকে অফিসিয়াল টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিটের সম্পূর্ণ মূল্য ফেরত দেয়া হবে। আগামী রোববারের মধ্যে অর্থ ফেরতের বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কনসার্ট স্থগিত হওয়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুপম রায়ের ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা গেছে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে প্রিয় শিল্পীর লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস সংগীতাঙ্গনের মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা 'গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস' বয়কটের এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গ্র্যামির আয়োজক প্রতিষ্ঠান 'রেকর্ডিং একাডেমি' ২০২৭ সালের আসরের জন্য 'বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স' নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরই মূলত এই প্রতিবাদের পথ বেছে নেয় জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটি।
বুধবার বিটিএসের সাত সদস্য— জিন, সুগা, জে-হোপ, আরএম, জিমিন, ভি এবং জংকুক— নিজ নিজ ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এক বার্তায় জানান, তারা চলতি যোগ্যতার মেয়াদে গ্র্যামির কোনো ক্যাটাগরিতেই নিজেদের কাজ জমা দেবেন না।
কোরিয়ান ভাষায় দেওয়া সেই বার্তায় বিটিএস সদস্যেরা স্পষ্ট করেন যে, অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে সংগীতকে বিভক্ত না করে, সুরকে যেন স্বাধীনভাবে শোনা ও ভালোবাসা হয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তাদের অগণিত ভক্ত বা 'আর্মি' এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন। চলতি বছরের মার্চে মুক্তি পাওয়া তাদের ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যালবাম 'আরিরাং'-এর জন্য বিটিএস একাধিক গ্র্যামি মনোনয়ন পেতে পারে বলে জোর গুঞ্জন ছিল। তবে ব্যান্ডটির এই ঐতিহাসিক বয়কটের সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে তাদের কোটি কোটি ভক্তকে হতাশ করার পাশাপাশি বড় এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে 'ডাইনামাইট' গানের মাধ্যমে প্রথম কে-পপ গোষ্ঠী হিসেবে গ্র্যামি মনোনয়ন পেয়ে ইতিহাস গড়েছিল বিটিএস। পরবর্তীতে 'বাটার', কোল্ডপ্লে-র সঙ্গে যৌথ গান 'মাই ইউনিভার্স', 'ইয়েট টু কাম'সহ মোট পাঁচটি বিভাগে তারা মনোনয়ন পায় এবং তিনবার গ্র্যামির জমকালো মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করেছে। অন্যদিকে, রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি মেসন জুনিয়র এশীয় পপসহ নতুন ক্যাটাগরিগুলোকে বিশ্ব সংগীতের বিস্তৃতির প্রতিফলন হিসেবে দাবি করলেও, বিটিএসের এই অবস্থান সংগীতকে ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে রাখার নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।