‘কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বিদ্যমান পতিত-বোরো-পতিত ফসল ক্রমে সরিষা প্রবর্তন ’ প্রকল্পটি ২০২৩ সাল হতে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হাওর অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে

  • প্রকাশ : সোমবার ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:০০ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চল প্রতিবছরই কৃষি ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্ষাকালে সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রধান ফসল বোরো ধান আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ঠান্ডাজনিত চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে হাওর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ও বোরো রোপণের আগের পতিত সময়ে সরিষা আবাদ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসলের পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কুড়ারকান্দি এলাকায় প্রকল্পের মাঠ দিবসে গবেষণার ফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মমিনুল ইসলাম। ‘কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বিদ্যমান পতিত–বোরো–পতিত ফসল ক্রমে সরিষা প্রবর্তন’ প্রকল্পটি ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) তত্ত্বাবধানে এবং সিটি ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসানের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, বাউরেসের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পরেশ কুমার সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম খান অপু এবং অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলমসহ স্থানীয় কৃষকবৃন্দ।

গবেষকবৃন্দ জানান, এই অঞ্চলে উচ্চফলনশীল বোরো ধান উৎপাদনের প্রধান বাধা হলো আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও খরা। বোরো ধান চাষে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ঠান্ডাজনিত চাপ। যদি ডিসেম্বরের আগে বোরো ধান রোপণ করা হয়, তবে প্রজনন পর্যায়ে (ফুল আসার সময়) ঠান্ডার কারণে শীষে দানা বন্ধ্যা হয়ে যায়। অন্যদিকে ডিসেম্বরের পরে রোপণ করলে বেশিরভাগ সময় ধান পাকতে পাকতেই আগাম আকস্মিক বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদন এক ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে থাকে। এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ও নিরাপদ শস্যক্রম খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে উঠেছে। হাওর অঞ্চলে সবচেয়ে প্রচলিত শস্যক্রম হলো পতিত–বোরো–পতিত, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ফলে রবি মৌসুমে বিপুল জমি পতিত পড়ে থাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবং বোরো ধান রোপণের আগের সময়টুকুতে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষের মাধ্যমে একটি অতিরিক্ত ফসল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে কৃষকরা অন্তত একটি ফসল নিশ্চিতভাবে ঘরে তুলতে পারবেন, এমনকি বোরো ধান যদি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তও হয়।

তারা আরও জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী—সম্পূর্ণভাবে হাওরবেষ্টিত এবং আরও পাঁচটি উপজেলা আংশিকভাবে হাওর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকার মানুষ প্রধানত কৃষিনির্ভর এবং জীবিকার জন্য পুরোপুরি কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। হাওর এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো ফসলকে অনেক সময়ই “ভাগ্যের ফসল” হিসেবে বিবেচনা করেন, কারণ প্রায় কয়েক বছর পরপর ধান পাকতে শুরু করার সময় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যার আক্রমণ আরও অনিয়মিত ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ফলে কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুতরভাবে পড়ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১০ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা হাওর অঞ্চলে অপূরণীয় ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রকল্পটি বিগত প্রায় তিন বছর যাবৎ পরিচালিত হচ্ছে।

গবেষণার বিষয়ে তারা বলেন, গবেষণার প্রথম বছর (২০২৩–২০২৪) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত ছয়টি স্বল্পমেয়াদি সরিষার জাত তিনটি বপন সময়ে (১০, ২০ ও ৩০ নভেম্বর) পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২০ নভেম্বর বপনে বিনা সরিষা–৯ সর্বোচ্চ ফলন দেয়, যার কাছাকাছি ফলন দেয় বারি সরিষা–১৭। সরিষার পরবর্তী ধান (ব্রি ধান–১০০) গড়ে ৬.২ টন প্রতি হেক্টরে ফলন দেয়, যা শস্যক্রমকে লাভজনক হিসেবে তুলে ধরে। দ্বিতীয় বছর (২০২৪–২০২৫) গবেষণায় নির্বাচিত দুটি জাত—বিনা সরিষা–৯ ও বারি সরিষা–১৭—কে বিভিন্ন সার ও বীজহার ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়। প্রস্তাবিত বীজহার (৮ কেজি প্রতি হেক্টর) ও সারমাত্রা (১০০ শতাংশ) প্রয়োগে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া গেছে বিনা সরিষা–৯ থেকে। সরিষার পর হাইব্রিড বোরো ধান (সবুজ সাথী) গড়ে ৬.৪ টন প্রতি হেক্টরে ফলন দেয় এবং পুরো শস্যক্রমে ধান সমতুল্য ফলন দাঁড়ায় ১০.১ টন প্রতি হেক্টর। গবেষণার তৃতীয় বছর (২০২৫–২০২৬) বর্তমানে চলমান। আমরা আশা করি, এটি বাস্তবায়িত হলে হাওর অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় দুটোই বাড়বে এবং জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

গবেষকরা জানান, হাওর অঞ্চলে সরিষা চাষের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো প্রতি বছর একই সময়ে পানি না নামায় বপনের সময় নির্ধারণে জটিলতা। এছাড়া হাওরের সব জমি সরিষা চাষের উপযোগী নয়—উঁচু ও মাঝারি উঁচু বা কান্দা এলাকার জমিই তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী। অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিও সরিষার বপন ও প্রাথমিক বৃদ্ধিতে বড় বাধা সৃষ্টি করে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকরা আরও স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত পরিপক্ব সরিষার জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমি থেকে সেচের পানি ঢুকে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জমির ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় কৃষকদের একত্রিত করে কমিউনিটি ফার্মিং চালুর পরামর্শ দেন তারা।

এবার গবেষণার অংশ হিসেবে দেওয়া বিনা সরিষা–৯ চাষ করেছেন হাসন রাজা। তিনি জানান, হাওরের কিছু উঁচু জায়গা রয়েছে। এসব জায়গায় পানি আসে না। আগে ভুট্টা চাষ করতাম, কিন্তু ক্ষতি হওয়ায় এখন সরিষা করছি। লাভের আশা করছি। এখন আমাদের দেখাদেখি অনেকেই সরিষা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। হাওরে এখন সরিষা নতুন ফসল হিসেবে প্রচলিত হচ্ছে।

নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন কৃষক বলেন, আমি তিন বছর যাবৎ সরিষা চাষ করি এবং সরিষার তেল ব্যবহার করছি। আমার নিজেরই গ্যাসের সমস্যা ছিল, সরিষার তেল ব্যবহার করে এখন সমাধান হয়েছে। নিজে সরিষা ভাঙিয়ে স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করতে পারছি—এটাই বড় লাভ বলে আমি মনে করি।

অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, আমরা হাওরের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা ঘোষণা করেছি যে এখানে কোনো কৃষক যদি ধানের পরিবর্তে সরিষা চাষ করতে চান, তাহলে আমরা বিনামূল্যে বীজ ও সার দেব। সরিষা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপযোগী, অন্যদিকে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। সরিষা মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি করে। এজন্য যত্ন সহকারে সরিষা চাষে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, ১৫ বছরে হাওরের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আগে শুধু ধান চাষ হতো, এখন ভুট্টা ও সরিষাও হচ্ছে। জমিকে যত বেশি ব্যবহার করা যাবে, ততই বেশি পাওয়া যাবে। শুধু ধান চাষ করে বসে থাকলে হবে না; বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিও সঙ্গে চাষ করতে হবে। সরিষার চাষ এখন হাওরে লাভের মুখ দেখছে। এ গবেষণার মাধ্যমে হাওরের সরিষা সারা দেশে বিস্তার লাভ করবে বলে আশা করছি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

সাহিত্যচর্চায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঐতিহ্য কার্নিভালে সম্মাননা পেয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাহিত্য সংসদ। দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সাহিত্য সংগঠনকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঐতিহ্য প্রকাশনীর কার্নিভালের অষ্টম দিনে ‘ক্লাব-ডে: লিটারেচার ক্লাব সম্মাননা ও ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাব গেটটুগেদার’ অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। 


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন অভিপ্সা দাস। সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্য ছয়টি সংগঠন হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সাহিত্য সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিআইইউ রিডার্স ক্লাব এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ইউএপি লিটারেচার ক্লাব।


অনুষ্ঠানে বুয়েট সাহিত্য সংসদের পক্ষে হাসান মামুন, রাফিদ আনজুম ও আহনাফ তারহাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও কাসিরা সুলতানা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষে মোস্তাফিজুর রাহমান, তারিন তাসনিম ও তানজিনা তাবাসসুম তন্দ্রা সম্মাননা গ্রহণ করেন।


এ ছাড়া ইডেন মহিলা কলেজের ‘অপরাজেয়’-এর পক্ষে সানজিদা হক এবং ইউএপি লিটারেচার ক্লাবের পক্ষে শাহনেওয়াজ শাহিন সম্মাননা গ্রহণ করেন।


সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ দাস বলেন, "এই ধরনের স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণার। আমরা যারা সাহিত্যচর্চা করি, তাদের মধ্যে এ ধরনের সম্মাননা নতুন উদ্দীপনা ও উদ্যম তৈরি করে। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্য নিয়ে আগ্রহ বা অনুরাগ কিছুটা কমে আসছে, সেখানে ঐতিহ্য প্রকাশনীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন চমৎকার ও ভিন্নমাত্রার আয়োজনের জন্য ঐতিহ্য প্রকাশনীকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।"


এদিকে আয়োজনের অংশ হিসেবে ঐতিহ্য রিডার্স ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাসান মামুন, দ্বিতীয় হন রাফিদ আনজুম এবং তৃতীয় হন মাহবুবুল হাছান। বিজয়ীদের ঐতিহ্য প্রকাশনীর রচনাবলি উপহার দেওয়া হয়।


এ ছাড়া বিকেলে সাইফ বরকতুল্লাহ সম্পাদিত ‘সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার মৃত্যু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। কার্নিভালের অষ্টম দিনের আয়োজনে সংগীতসন্ধ্যাও অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৬ পিএম

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।


বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।


এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের জন্য সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। তবে পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৩ পিএম

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত, ভিসাও হাতে পেয়েছেন। এবার স্বপ্নের গন্তব্যে পাড়ি জমানোর পালা। কিন্তু প্রথমবার বিদেশযাত্রার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে? কোন নথি সঙ্গে রাখবেন, লাগেজে কী নেওয়া যাবে, আর অপরিচিত দেশে পৌঁছে যাতায়াত ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কীভাবে করবেন? আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলে যাত্রাপথে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।


যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে নিন


বিদেশযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো প্রয়োজনীয় নথি নিশ্চিত করা। পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান টিকিট, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, বৃত্তির কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও আবাসনের তথ্যও সঙ্গে নিতে হতে পারে। গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য কাগজপত্র প্রয়োজন কি না, তা আগেই যাচাই করুন। সব নথির মূল কপি নিরাপদে রাখার পাশাপাশি কয়েক সেট ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি তৈরি করে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো চেক ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখাই ভালো। পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ, টিকিটের তারিখ, ফ্লাইটের সময় ও টিকিটে দেওয়া নামের সঙ্গে পাসপোর্টের নাম মিলিয়ে নিন।


বিমান টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানুন


ফ্লাইটের সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করুন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত উড্ডয়নের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। সরাসরি ফ্লাইট নাকি ট্রানজিট রয়েছে, মাঝপথে বিমান পরিবর্তন করতে হবে কি না এবং পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে কি না, তা আগেই জেনে নিন।


লাগেজের ওজন ও আকারের সীমা এয়ারলাইনসভেদে আলাদা হতে পারে। তাই টিকিটের সঙ্গে দেওয়া ব্যাগেজ নীতিমালা যাচাই করুন। হাতব্যাগে কী নেওয়া যাবে, তরল পদার্থ বহনের সীমা কত এবং কোন জিনিস নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও জেনে নিন। নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ কোনো জিনিস সঙ্গে নিলে বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়তে পারেন।


এ বিষয়ে কথা হয় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও টিকিটের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। জরুরি নথির ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি সংরক্ষণের পাশাপাশি পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মূল্যবান জিনিস হাতব্যাগে রাখা উচিত।


শফিকুল ইসলাম শিমুল আরও বলেন, এয়ারলাইনসের লাগেজ নীতিমালা, ট্রানজিটের শর্ত ও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কেও আগেই জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে পৌঁছানোর আগেই আবাসন, যাতায়াত ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।


পোশাক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস


গন্তব্য দেশের আবহাওয়া বিবেচনা করে পোশাক বেছে নিন। শীতপ্রধান দেশে গেলে গরম কাপড় এবং বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় গেলে উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখুন। তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে লাগেজ ভারী না করাই ভালো। নিয়মিত ব্যবহার করা ওষুধ সঙ্গে নিতে হলে সেগুলো মূল প্যাকেটে রাখুন। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে রাখুন এবং গন্তব্য দেশে ওষুধ বহনের নিয়ম যাচাই করুন।


মুঠোফোন, ল্যাপটপ, চার্জার, প্রয়োজনীয় কেব্‌ল ও পাওয়ার অ্যাডাপ্টারও গুছিয়ে নিন। গন্তব্য দেশের বৈদ্যুতিক সকেট ও ভোল্টেজের সঙ্গে আপনার ডিভাইসের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করুন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথির ডিজিটাল কপি ফোন বা নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজে রাখুন।


পৌঁছানোর পরের পরিকল্পনাও জরুরি


বিদেশে পৌঁছে কোথায় থাকবেন, বিমানবন্দর থেকে কীভাবে আবাসনে যাবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন—এসব আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর, আবাসন কর্তৃপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন। গন্তব্য দেশের স্থানীয় জরুরি নম্বরও জেনে নিন। ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কার্ড প্রস্তুত রাখুন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৭ পিএম

জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫'-এ বিজয়ী হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল 'এস‌এ‌ইউ এগ্রি ৩৬০' (SAU AGRI 360)। গতকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলটির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম ও একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া। দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিমের নেতৃত্বে তাঁরা কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের একটি সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করেন।


গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়।


দলটির প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভুল কৃষিপদ্ধতি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মারুফ মোস্তফা মুনিম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এ অর্জন শুধু দলের তিন সদস্যের নয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবারের গৌরব।


দলের সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে বাজারমুখী করার লক্ষ্যেই তাঁদের এ মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৬ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়স্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিসাদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু শাহরিয়াজ অনিক।


আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্মতিক্রমে সাবেক সভাপতি আরাফাত চৌধুরী নিলয় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নোমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।


আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ইকবাল হোসেন, আসরাফুল ইসলাম আসিফ ও জুনাইদুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অবন্তী রায়, মোবারক চৌধুরী ও সিরাজদৌল্লাহ।


কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শান্ত শর্মা, মোহাম্মদ মিশকাত, গোবিন্দ দাশ, আকিলা হাসান, জেসমিন আক্তার, মো. জিহান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও জাহিদ হাছান রাহাত।


যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. ফাতিন ইলহাম তানজিম, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান অভি, ইনান চৌধুরী সাব্বির, অন্ত ধর, মো. আকরাম আলী ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।


সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাবির খান, মোহাম্মদ আকিব, মো. সাইদুল আলম সাব্বির, জাবিদ হাসান ও সামি উদ্দীন সাজিদ।


এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মো. আসিফুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল ইমরান চৌধুরি এবং সমাজসেবা সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন।


ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন শাহরিয়া আজাদ জিসান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফছি ইবনে আলম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ এবং মানবসম্পদ সম্পাদক অভিষেক চৌধুরী।


অন্যদিকে, ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন প্রিয়ন্তি ভৌমিক রিমি, আইন বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য দাশ গুপ্ত, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আবির রহমান সাধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক রাশেদ উল্লাহ হাসান এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. ফাহিম মুনতাসির চৌধুরী।


নবনির্বাচিত সভাপতি জিসাদুল ইসলাম বলেন, আমার ওপর আস্থা রেখে সভাপতি নির্বাচিত করায় উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।


নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু শাহরিয়াজ অনিক বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই দায়িত্ব আমি সম্মান ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করতে চাই। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৯ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের (২০২৭) ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।


আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ‘সমাবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে ২২টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে সবার কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সমন্বয় করা হবে।’




নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট উপকমিটি নিশ্চিত করতে পারবে।


এ ব্যাপারে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “আগামী ০৫ নভেম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, যা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০০ টাকা ও সনদ ফি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য ফি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।”


এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। যাতে সহজে কার্যক্রম সহজ করা যায়৷ ইতিমধ্যে যথাসময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উপকমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 


উল্লেখ্য, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবর্তন আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সর্বশেষ সব খবর