ব্রয়লার মুরগির মাংসকে আরও নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ করতে ঔষধি উদ্ভিদ প্ল্যানটেইনভিত্তিক একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের গবেষণার ধারাবাহিকতায় প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি গুণকে কাজে লাগিয়ে তারা তৈরি করেছেন ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ।
গবেষকদের মতে, এ উদ্যোগ শুধু নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনেই নয়, দেশে প্ল্যানটেইনের উৎপাদন ও ব্যবহারকে ঘিরে একটি সম্ভাব্য দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তুলতেও ভ‚মিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষাবাদ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরবর্তী সময়ে খামারে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপকরণের আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন গবেষণাটির প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গবেষণায় সহযোগী হিসেবে রয়েছেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ-এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।
ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা। প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে আমরা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধ ‘বাউ-প্লান্টিভ’ বাজারে আনার পাশাপাশি প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।’
ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ে এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়।’
তিনি জানান, গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।
প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গবেষকেরা জানান, প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি। ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছি। ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ এমনকি বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি। জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। আমাদের তৈরি ‘বাউ-প্লান্টিভ’ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ কোম্পানি, ফিড মিল, পোল্ট্রি শিল্প, এনজিও ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, ব্লাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’
গবেষক জানান, প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।
গবেষক বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পটির সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের (বিএএস) সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএএসের সহসভাপতি ও বিএএস-ইউএসডিএ এনডাউমেন্ট প্রোগ্রামের কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. জেড এন তহমিদা বেগম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা মো বয়জার রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা, ফিড কোম্পানির প্রতিনিধি, গবেষক, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বলেন, একটি ভালো কৃষি প্রযুক্তি বা উন্নত জাত উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। বিশ^জুড়ে কৃষি উৎপাদনে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলে বহুগুণ ফলন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বে বেসরকারি খাতের অর্থায়নেই সিংহভাগ গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও জিন এডিটিং, হাইব্রিড জাত ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে পাইলটিং ও রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে কৃষকের ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ও সম্প্রসারণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তিন ধাপে কার্যকর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের জন্য সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। তবে পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত, ভিসাও হাতে পেয়েছেন। এবার স্বপ্নের গন্তব্যে পাড়ি জমানোর পালা। কিন্তু প্রথমবার বিদেশযাত্রার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে? কোন নথি সঙ্গে রাখবেন, লাগেজে কী নেওয়া যাবে, আর অপরিচিত দেশে পৌঁছে যাতায়াত ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কীভাবে করবেন? আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলে যাত্রাপথে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে নিন
বিদেশযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো প্রয়োজনীয় নথি নিশ্চিত করা। পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান টিকিট, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, বৃত্তির কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও আবাসনের তথ্যও সঙ্গে নিতে হতে পারে। গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য কাগজপত্র প্রয়োজন কি না, তা আগেই যাচাই করুন। সব নথির মূল কপি নিরাপদে রাখার পাশাপাশি কয়েক সেট ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি তৈরি করে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো চেক ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখাই ভালো। পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ, টিকিটের তারিখ, ফ্লাইটের সময় ও টিকিটে দেওয়া নামের সঙ্গে পাসপোর্টের নাম মিলিয়ে নিন।
বিমান টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানুন
ফ্লাইটের সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করুন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত উড্ডয়নের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। সরাসরি ফ্লাইট নাকি ট্রানজিট রয়েছে, মাঝপথে বিমান পরিবর্তন করতে হবে কি না এবং পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে কি না, তা আগেই জেনে নিন।
লাগেজের ওজন ও আকারের সীমা এয়ারলাইনসভেদে আলাদা হতে পারে। তাই টিকিটের সঙ্গে দেওয়া ব্যাগেজ নীতিমালা যাচাই করুন। হাতব্যাগে কী নেওয়া যাবে, তরল পদার্থ বহনের সীমা কত এবং কোন জিনিস নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও জেনে নিন। নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ কোনো জিনিস সঙ্গে নিলে বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে কথা হয় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও টিকিটের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। জরুরি নথির ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি সংরক্ষণের পাশাপাশি পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মূল্যবান জিনিস হাতব্যাগে রাখা উচিত।
শফিকুল ইসলাম শিমুল আরও বলেন, এয়ারলাইনসের লাগেজ নীতিমালা, ট্রানজিটের শর্ত ও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কেও আগেই জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে পৌঁছানোর আগেই আবাসন, যাতায়াত ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
পোশাক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস
গন্তব্য দেশের আবহাওয়া বিবেচনা করে পোশাক বেছে নিন। শীতপ্রধান দেশে গেলে গরম কাপড় এবং বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় গেলে উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখুন। তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে লাগেজ ভারী না করাই ভালো। নিয়মিত ব্যবহার করা ওষুধ সঙ্গে নিতে হলে সেগুলো মূল প্যাকেটে রাখুন। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে রাখুন এবং গন্তব্য দেশে ওষুধ বহনের নিয়ম যাচাই করুন।
মুঠোফোন, ল্যাপটপ, চার্জার, প্রয়োজনীয় কেব্ল ও পাওয়ার অ্যাডাপ্টারও গুছিয়ে নিন। গন্তব্য দেশের বৈদ্যুতিক সকেট ও ভোল্টেজের সঙ্গে আপনার ডিভাইসের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করুন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথির ডিজিটাল কপি ফোন বা নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজে রাখুন।
পৌঁছানোর পরের পরিকল্পনাও জরুরি
বিদেশে পৌঁছে কোথায় থাকবেন, বিমানবন্দর থেকে কীভাবে আবাসনে যাবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন—এসব আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর, আবাসন কর্তৃপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন। গন্তব্য দেশের স্থানীয় জরুরি নম্বরও জেনে নিন। ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কার্ড প্রস্তুত রাখুন।
জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫'-এ বিজয়ী হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল 'এসএইউ এগ্রি ৩৬০' (SAU AGRI 360)। গতকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলটির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম ও একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া। দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিমের নেতৃত্বে তাঁরা কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের একটি সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করেন।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়।
দলটির প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভুল কৃষিপদ্ধতি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মারুফ মোস্তফা মুনিম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এ অর্জন শুধু দলের তিন সদস্যের নয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবারের গৌরব।
দলের সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে বাজারমুখী করার লক্ষ্যেই তাঁদের এ মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়স্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিসাদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু শাহরিয়াজ অনিক।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্মতিক্রমে সাবেক সভাপতি আরাফাত চৌধুরী নিলয় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নোমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ইকবাল হোসেন, আসরাফুল ইসলাম আসিফ ও জুনাইদুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অবন্তী রায়, মোবারক চৌধুরী ও সিরাজদৌল্লাহ।
কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শান্ত শর্মা, মোহাম্মদ মিশকাত, গোবিন্দ দাশ, আকিলা হাসান, জেসমিন আক্তার, মো. জিহান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও জাহিদ হাছান রাহাত।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. ফাতিন ইলহাম তানজিম, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান অভি, ইনান চৌধুরী সাব্বির, অন্ত ধর, মো. আকরাম আলী ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাবির খান, মোহাম্মদ আকিব, মো. সাইদুল আলম সাব্বির, জাবিদ হাসান ও সামি উদ্দীন সাজিদ।
এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মো. আসিফুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল ইমরান চৌধুরি এবং সমাজসেবা সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন।
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন শাহরিয়া আজাদ জিসান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফছি ইবনে আলম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ এবং মানবসম্পদ সম্পাদক অভিষেক চৌধুরী।
অন্যদিকে, ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন প্রিয়ন্তি ভৌমিক রিমি, আইন বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য দাশ গুপ্ত, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আবির রহমান সাধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক রাশেদ উল্লাহ হাসান এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. ফাহিম মুনতাসির চৌধুরী।
নবনির্বাচিত সভাপতি জিসাদুল ইসলাম বলেন, আমার ওপর আস্থা রেখে সভাপতি নির্বাচিত করায় উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু শাহরিয়াজ অনিক বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই দায়িত্ব আমি সম্মান ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করতে চাই। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের (২০২৭) ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ‘সমাবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে ২২টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে সবার কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সমন্বয় করা হবে।’
নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট উপকমিটি নিশ্চিত করতে পারবে।
এ ব্যাপারে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “আগামী ০৫ নভেম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, যা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০০ টাকা ও সনদ ফি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য ফি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।”
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। যাতে সহজে কার্যক্রম সহজ করা যায়৷ ইতিমধ্যে যথাসময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উপকমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবর্তন আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কেউ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা, কেউ রোবটিক হাত, আবার কেউ নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য অপসারণের প্রযুক্তি। পরিবেশ সুরক্ষা, চিকিৎসা প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমডিআইসি) দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক এ আয়োজনে রাজধানী ও আশপাশের প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিভাগে প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরে প্রতিযোগী দলগুলো।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী মাহিমা আহমেদ ও তাঁর দলের তৈরি ‘রোবটিক হ্যান্ড’ এবং ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রোবটিক হ্যান্ডে মোটর, সার্কিট বোর্ড ও থ্রিডি প্রিন্টেড পাঁচটি আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পারে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও আরডুইনো ন্যানোর সাহায্যে সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করে শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরেকটি উদ্যোগ ‘সার্কুলার ব্লু’। নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি এ ভাসমান প্ল্যাটফর্মে ডিসি মোটর, সার্ভো মোটর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে জলাশয়ের বর্জ্য অপসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় নিজেদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এ ছাড়া ‘ককলিয়া ক্যাপ’, ‘সায়ার-ডিজিটাল রিসাইক্লার’, ‘টিম কার্বন ফাইটার’, ‘অমনিঅ্যাক্সিস’, ‘গ্লেন ব্লেজ রেসার্স’, ‘টেক টাইটানস’ ও ‘নিনজা সেভার্স অব দ্য নেচার’সহ বিভিন্ন দলের প্রকল্পে চিকিৎসা প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির নানা দিক উঠে আসে।
স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) কেবল চারটি বিষয়ের পাঠদান নয়; বরং এটি কৌতুহল, নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস এবং ধাপে ধাপে শেখার এক বিশেষ মানসিকতা। আমরা যখন বিশ্বের দিকে তাকাই, তখন আমরা চারদিকে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখতে পাই। ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য এসব চ্যালঞ্জেকে সামাধান করতে হবে।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স,ম মাহবুব উল আলম, ওএসজি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব:) বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু শেখার, নিজেদের মেধা বিকাশের এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দূরদর্শিতা এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
মানারাত ট্রাস্টের একাডেমিক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, স্টেম ফেস্ট শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব উদ্ভাবনে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে এসব প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও জীবসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফজলে ইলাহী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় তিনি স্টেম ফেস্ট-কে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সায়েন্স ক্লাব, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে প্রথম দিন গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি রোবোটিকস, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম এবং ট্রেজার হান্ট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও প্রকল্প প্রদর্শনী শেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল করীম, অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো-অর্ডিনেটর মহসীন কোরাইশী, স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।