বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে দুই প্রার্থী—৪৪তম ব্যাচের মো. ইয়াসিন এবং ৪৬তম ব্যাচের নাফিস মাহমুদ অর্নব। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে ইয়াসিন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ইয়াসিন অর্নবের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষাতেও তার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার, অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মাহাবুব উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে নম্বরায়ণের সময় ইয়াসিনকে তুলনামূলকভাবে কম নম্বর প্রদান করে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অবস্থানে আনা হয়। এমনকি প্রাথমিকভাবে বেশি নম্বর থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তা পুনর্বিন্যাস করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ২জন বিভাগীয় শিক্ষকের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইভা বোর্ডের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপিত হয় এবং সেখানে অর্নবকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা, ডেমোনস্ট্রেশন এবং মৌখিক পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপেই আমি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পর ভিসি স্যার আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি প্রেজেন্টেশন শুরু করার পরপরই কোনো এক অজানা কারনে তিনি কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর ভাইভা শুরু হলে কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় বোর্ডে যোগ দেন। ভাইভা চলাকালে শুরুতে এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তর আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে প্রদান করি। আমার উত্তর শুনে একজন এক্সটার্নাল পরীক্ষক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পুরো সময়জুড়ে আমি জড়তাহীন ও সাবলীলভাবে প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর প্রদান করেছি। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইমদাদ স্যার আমাকে একটি প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে গিয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে বলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় উপাচার্য হঠাৎ আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত শিক্ষকদের সময়স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কেবল মৌখিক প্রশ্নোত্তর চালিয়ে যেতে বলেন এবং একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর পুরো বিষয়টি আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।"
এই ঘটনায় আইনি সহায়তা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলছেন। আমিও প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আমি আমার জীবনের সাতটি মূল্যবান বছর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করেছি।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “ইয়াসিন লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর এবং অর্ণব ৪৪ শতাংশ নম্বর পায়। ইয়াসিনের ভাইভায় খুবই ভালো পারফরম্যান্স ছিলো এবং কোনো প্রশ্নে তাঁকে আটকানো যায়নি। কিন্তু অর্ণবের ভাইভা ইয়াসিনের মতো ভালো হয়নি। এখানে উপাচার্য হঠাৎ অর্ণবকে ৯০ শতাংশ নম্বর দেয়ার কথা বলে এবং বাকি সদস্যরা সেটা সায় দেয়। তারপর লিখিত পরীক্ষার নম্বর বের করে সেটাও ম্যানুপুলেট করা হয়। ভাইবার সময়ে অর্নবকে বেশি সুবিধা দেয়া হচ্ছিল। সে ঠিকভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারছিল না এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে আটকে যাচ্ছিল। অধ্যাপক শিল্পী আক্তার অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিবেচনা করে ইয়াসিনকে সুপারিশ করলেও উপাচার্য তাতে রাজি হননি।”
নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থাকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড.শিল্পী আক্তার বলেন, “যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল প্রত্যেকেই মেধাবী ছিল। এদের মধ্য থেকে যার উপস্থাপনা বা অন্যান্য দক্ষতা ভালো ছিল বাকীদের তুলনায় তাকেই বাছাই করা হয়েছে।”
শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাহিরে কে কী বলছে তা জানা নেই। তবে নিয়োগ বোর্ডে যে পাঁচজন ছিলেন তাদের সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেউ কোন আপত্তি তুলে নেই। যেহেতু সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাই এখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসছে না।”
নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হক বলেন, “আমি এই অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা ভাইভা বোর্ডে যেটা করেছি, সেটা সবাই মিলে করেছি এবং সবাই সই করেছি। যাদেরকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, বোর্ড তাদেরকেই উপযুক্ত মনে করেছে। ভিসির এখতিয়ার আছে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাস্তবতায় ভিসি যদি মনে করেন কোনো প্রার্থী ভবিষ্যতে বিভাগের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বা অন্য কোনো কারণে উপযুক্ত নয়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার তার রয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন কিছু নয়। আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি, বহু নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে, যেখানে ভিসি নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এসব বিষয়কে অস্বাভাবিক মনে করি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নিয়োগে আনা অভিযোগ নিয়ে বলেন, “এখানে একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগটি এনেছে। যাদের লিখিত ও ভাইভায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাঁরাই নির্বাচিত হয়েছে। এখানে কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভাইভা বোর্ডে পাঁচজন সদস্য ছিলো এবং সেখানে সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখানে দুর্নীতির কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।”
নিয়োগ পরীক্ষায় উক্ত দুই প্রার্থীর বিষয়ে বলেন, “এখানে যাকে ভুক্তভোগী হিসেবে আনা হচ্ছে তার চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে এমন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি। যাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে তাঁর লিখিত পরীক্ষায় কিছু নম্বর কম থাকলেও ডেমো ও ভাইভায় পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিলো যার জন্য সে নির্বাচিত হয়েছে।”
নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় কেউ আমাকে কোনো সুপারিশ করেনি এবং আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করেছি।”
বুটেক্সে প্রথমবারের মতো ট্রেজারার নিয়োগ
উল্লেখ্য, মো. ইয়াসিন ২০২৩ সালে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ ছয় মাস প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, বুটেক্সে সাত মাস রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ এবং ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দুই সেমিস্টার পার্ট-টাইম প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা। এছাড়া প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প সময়ের জন্য প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও শিল্পখাতে প্রায় এক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
অন্যদিকে, নাফিস মাহমুদ অর্নব ২০২৫ সালে ৩.৮১ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাত মাস ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
ছবি : সংগৃহীত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের জন্য সারা দেশে দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল। তবে পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত, ভিসাও হাতে পেয়েছেন। এবার স্বপ্নের গন্তব্যে পাড়ি জমানোর পালা। কিন্তু প্রথমবার বিদেশযাত্রার আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে? কোন নথি সঙ্গে রাখবেন, লাগেজে কী নেওয়া যাবে, আর অপরিচিত দেশে পৌঁছে যাতায়াত ও যোগাযোগের ব্যবস্থা কীভাবে করবেন? আগে থেকে পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলে যাত্রাপথে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে নিন
বিদেশযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো প্রয়োজনীয় নথি নিশ্চিত করা। পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান টিকিট, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার ও ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে শিক্ষাগত সনদ, নম্বরপত্র, বৃত্তির কাগজপত্র, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও আবাসনের তথ্যও সঙ্গে নিতে হতে পারে। গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি বা অন্যান্য কাগজপত্র প্রয়োজন কি না, তা আগেই যাচাই করুন। সব নথির মূল কপি নিরাপদে রাখার পাশাপাশি কয়েক সেট ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি তৈরি করে রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো চেক ইন লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে রাখাই ভালো। পাসপোর্ট ও ভিসার মেয়াদ, টিকিটের তারিখ, ফ্লাইটের সময় ও টিকিটে দেওয়া নামের সঙ্গে পাসপোর্টের নাম মিলিয়ে নিন।
বিমান টিকিট ও লাগেজের নিয়ম জানুন
ফ্লাইটের সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করুন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত উড্ডয়নের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এয়ারলাইনসের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। সরাসরি ফ্লাইট নাকি ট্রানজিট রয়েছে, মাঝপথে বিমান পরিবর্তন করতে হবে কি না এবং পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে কি না, তা আগেই জেনে নিন।
লাগেজের ওজন ও আকারের সীমা এয়ারলাইনসভেদে আলাদা হতে পারে। তাই টিকিটের সঙ্গে দেওয়া ব্যাগেজ নীতিমালা যাচাই করুন। হাতব্যাগে কী নেওয়া যাবে, তরল পদার্থ বহনের সীমা কত এবং কোন জিনিস নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ও জেনে নিন। নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ কোনো জিনিস সঙ্গে নিলে বিমানবন্দরে সমস্যায় পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে কথা হয় বিডি এক্সপার্ট এডুকেশন কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুল ইসলাম শিমুলের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্ট, ভিসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র ও টিকিটের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। জরুরি নথির ফটোকপি ও ডিজিটাল কপি সংরক্ষণের পাশাপাশি পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও মূল্যবান জিনিস হাতব্যাগে রাখা উচিত।
শফিকুল ইসলাম শিমুল আরও বলেন, এয়ারলাইনসের লাগেজ নীতিমালা, ট্রানজিটের শর্ত ও বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় সম্পর্কেও আগেই জেনে নিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে পৌঁছানোর আগেই আবাসন, যাতায়াত ও জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
পোশাক, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিকস
গন্তব্য দেশের আবহাওয়া বিবেচনা করে পোশাক বেছে নিন। শীতপ্রধান দেশে গেলে গরম কাপড় এবং বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় গেলে উপযোগী পোশাক সঙ্গে রাখুন। তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে লাগেজ ভারী না করাই ভালো। নিয়মিত ব্যবহার করা ওষুধ সঙ্গে নিতে হলে সেগুলো মূল প্যাকেটে রাখুন। প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সঙ্গে রাখুন এবং গন্তব্য দেশে ওষুধ বহনের নিয়ম যাচাই করুন।
মুঠোফোন, ল্যাপটপ, চার্জার, প্রয়োজনীয় কেব্ল ও পাওয়ার অ্যাডাপ্টারও গুছিয়ে নিন। গন্তব্য দেশের বৈদ্যুতিক সকেট ও ভোল্টেজের সঙ্গে আপনার ডিভাইসের সামঞ্জস্য আছে কি না, তা যাচাই করুন। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথির ডিজিটাল কপি ফোন বা নিরাপদ অনলাইন স্টোরেজে রাখুন।
পৌঁছানোর পরের পরিকল্পনাও জরুরি
বিদেশে পৌঁছে কোথায় থাকবেন, বিমানবন্দর থেকে কীভাবে আবাসনে যাবেন এবং জরুরি প্রয়োজনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন—এসব আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দপ্তর, আবাসন কর্তৃপক্ষ ও পরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন। গন্তব্য দেশের স্থানীয় জরুরি নম্বরও জেনে নিন। ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য কার্ড প্রস্তুত রাখুন।
জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘আইডিয়া ফেস্ট-২০২৫'-এ বিজয়ী হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের দল 'এসএইউ এগ্রি ৩৬০' (SAU AGRI 360)। গতকাল রোববার রাজধানীর শাহবাগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দলটির সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন কৃষি অনুষদের ৭৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ মোস্তফা মুনিম, কৃষি অর্থনীতি অনুষদের ৭৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মুহাইমিনুল ইসলাম ও একই অনুষদের ৮০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ মিয়া। দলনেতা মারুফ মোস্তফা মুনিমের নেতৃত্বে তাঁরা কৃষককেন্দ্রিক স্মার্ট কৃষি ইকোসিস্টেমের একটি সমন্বিত মডেল উপস্থাপন করেন।
গত ১০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রাথমিক পর্যায় থেকে নির্বাচিত ১৮টি দল সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেখান থেকে সাতটি দল চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায়।
দলটির প্রস্তাবিত মডেলে কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও বাজারব্যবস্থাকে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ভুল কৃষিপদ্ধতি, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন ও নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মারুফ মোস্তফা মুনিম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে নিজেদের জ্ঞান ও উদ্ভাবনী চিন্তা কাজে লাগানোর সুযোগ তাঁদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এ অর্জন শুধু দলের তিন সদস্যের নয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো পরিবারের গৌরব।
দলের সদস্য মো. মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনকে বাজারমুখী করার লক্ষ্যেই তাঁদের এ মডেল তৈরি করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষকের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়স্থ চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জিসাদুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবু শাহরিয়াজ অনিক।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) উপদেষ্টা মণ্ডলীর সম্মতিক্রমে সাবেক সভাপতি আরাফাত চৌধুরী নিলয় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নোমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত এ কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হয়েছেন ইকবাল হোসেন, আসরাফুল ইসলাম আসিফ ও জুনাইদুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অবন্তী রায়, মোবারক চৌধুরী ও সিরাজদৌল্লাহ।
কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শান্ত শর্মা, মোহাম্মদ মিশকাত, গোবিন্দ দাশ, আকিলা হাসান, জেসমিন আক্তার, মো. জিহান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও জাহিদ হাছান রাহাত।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. ফাতিন ইলহাম তানজিম, মোহাম্মদ হামিদুর রহমান অভি, ইনান চৌধুরী সাব্বির, অন্ত ধর, মো. আকরাম আলী ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাবির খান, মোহাম্মদ আকিব, মো. সাইদুল আলম সাব্বির, জাবিদ হাসান ও সামি উদ্দীন সাজিদ।
এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মো. আসিফুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক মো. আল ইমরান চৌধুরি এবং সমাজসেবা সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন।
ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন শাহরিয়া আজাদ জিসান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ফছি ইবনে আলম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ইয়াসির আহমেদ, ধর্ম ও সম্প্রীতি সম্পাদক মো. মুস্তাকিম বিল্লাহ এবং মানবসম্পদ সম্পাদক অভিষেক চৌধুরী।
অন্যদিকে, ছাত্রীকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন প্রিয়ন্তি ভৌমিক রিমি, আইন বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য দাশ গুপ্ত, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আবির রহমান সাধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক রাশেদ উল্লাহ হাসান এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. ফাহিম মুনতাসির চৌধুরী।
নবনির্বাচিত সভাপতি জিসাদুল ইসলাম বলেন, আমার ওপর আস্থা রেখে সভাপতি নির্বাচিত করায় উপদেষ্টা মণ্ডলী, সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা, পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করা এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবু শাহরিয়াজ অনিক বলেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই দায়িত্ব আমি সম্মান ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে পালন করতে চাই। চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, নবীন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার। সভাপতিসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত তারিখ ও নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বছরের (২০২৭) ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তন উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে অংশ নিতে পারবেন ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ‘সমাবর্তন ঘিরে ইতোমধ্যে ২২টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে সবার কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ সমন্বয় করা হবে।’
নিবন্ধনের তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট উপকমিটি নিশ্চিত করতে পারবে।
এ ব্যাপারে সমাবর্তনকেন্দ্রিক নিবন্ধন উপকমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “আগামী ০৫ নভেম্বর থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে, যা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০০ টাকা ও সনদ ফি ১০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিথিদের জন্য ফি পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে।”
এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমে জানান, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও আমরা বিকেন্দ্রীকরণের ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। যাতে সহজে কার্যক্রম সহজ করা যায়৷ ইতিমধ্যে যথাসময়ে কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উপকমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবর্তন আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কেউ তৈরি করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্মার্ট চশমা, কেউ রোবটিক হাত, আবার কেউ নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য অপসারণের প্রযুক্তি। পরিবেশ সুরক্ষা, চিকিৎসা প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার নানা উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে নিজেদের মেধার পরিচয় দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার স্বীকৃতি দিতে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমডিআইসি) দুই দিনব্যাপী ‘এমডিআইসি স্টেম ফেস্ট ২০২৬-২৭’।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক এ আয়োজনে রাজধানী ও আশপাশের প্রায় ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নেয়।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বিভাগে প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরে প্রতিযোগী দলগুলো।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থী মাহিমা আহমেদ ও তাঁর দলের তৈরি ‘রোবটিক হ্যান্ড’ এবং ‘ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রোবটিক হ্যান্ডে মোটর, সার্কিট বোর্ড ও থ্রিডি প্রিন্টেড পাঁচটি আঙুল ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লাইন্ড ম্যান হেল্পারে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও আরডুইনো ন্যানোর সাহায্যে সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করে শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আরেকটি উদ্যোগ ‘সার্কুলার ব্লু’। নদী ও জলাশয় থেকে বর্জ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তৈরি এ ভাসমান প্ল্যাটফর্মে ডিসি মোটর, সার্ভো মোটর ও আরডুইনো ন্যানো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে জলাশয়ের বর্জ্য অপসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা পরিবেশদূষণ মোকাবিলায় নিজেদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এ ছাড়া ‘ককলিয়া ক্যাপ’, ‘সায়ার-ডিজিটাল রিসাইক্লার’, ‘টিম কার্বন ফাইটার’, ‘অমনিঅ্যাক্সিস’, ‘গ্লেন ব্লেজ রেসার্স’, ‘টেক টাইটানস’ ও ‘নিনজা সেভার্স অব দ্য নেচার’সহ বিভিন্ন দলের প্রকল্পে চিকিৎসা প্রযুক্তি, পুনর্ব্যবহার, পরিবেশ সুরক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির নানা দিক উঠে আসে।
স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু পরিবর্তন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য চিরাচরিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) কেবল চারটি বিষয়ের পাঠদান নয়; বরং এটি কৌতুহল, নতুন কিছু চেষ্টা করার সাহস এবং ধাপে ধাপে শেখার এক বিশেষ মানসিকতা। আমরা যখন বিশ্বের দিকে তাকাই, তখন আমরা চারদিকে অনেক চ্যালেঞ্জ দেখতে পাই। ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য এসব চ্যালঞ্জেকে সামাধান করতে হবে।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স,ম মাহবুব উল আলম, ওএসজি, এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি (অব:) বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবনী দক্ষতা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু শেখার, নিজেদের মেধা বিকাশের এবং ভবিষ্যতে নতুন উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে পারে। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, দূরদর্শিতা এবং মানবকল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
মানারাত ট্রাস্টের একাডেমিক কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, স্টেম ফেস্ট শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব উদ্ভাবনে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরে এসব প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও জীবসম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উৎসবের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফজলে ইলাহী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, চরিত্র গঠন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও জীবপ্রযুক্তির মতো আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় তিনি স্টেম ফেস্ট-কে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী দক্ষতা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সায়েন্স ক্লাব, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা ও আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনে প্রথম দিন গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের পাশাপাশি রোবোটিকস, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম এবং ট্রেজার হান্ট অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও প্রকল্প প্রদর্শনী শেষে সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো. আনোয়ারুল করীম, অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো-অর্ডিনেটর মহসীন কোরাইশী, স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।