• প্রকাশ : রবিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ এএম

ঢাকার অলিগলিতে নামে-বেনামে কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ের শত-শত স্কুল। সরু গলির ভেতরে, আবাসিক ভবনের নিচতলায়, ভাড়া করা ফ্ল্যাটে কিংবা অস্থায়ী কিছু কক্ষে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। 


প্রি-প্রাইমারি, কেজি, স্কুল-মাদ্রাসা, ইংলিশ মিডিয়ামসহ নানা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগেরই নেই খোলা ক্লাসরুম, খেলার জায়গা কিংবা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা।


এ ধরনের স্কুলগুলোর শিক্ষার মান, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে সরকারের কোনো তদারকি নেই, নেই সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালাও। স্কুলগুলো কে খুলছে, কারা চালাচ্ছে, কার অনুমতিতে চলছে, সরকার আদৌ জানে কি না সেখানে কী হচ্ছে– এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।


সম্প্রতি রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় শারমিন একাডেমি নামে একটি স্কুলের ভেতরে এক শিশুশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, স্কুলের অফিস কক্ষের ভেতরে এক ব্যক্তি ৪ বছর বয়সি শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করছেন। 


পাশে গোলাপি শাড়ি পরা এক নারী শিশুটির হাত ধরে রেখেছেন। কিছুক্ষণ পরপর ওই ব্যক্তি শিশুটিকে আঘাত করছেন। পরে জানা যায়, মারধরকারী ব্যক্তি ওই স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার, আর পাশে বসে থাকা নারী সেখানকার প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। মূলত এ দুজনই একাডেমিটির মালিক। ঘটনার তিনদিন পর পুলিশ পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে।


গত ২২ জানুয়ারি সকাল থেকে নয়াপল্টনের ওই এলাকা ও স্কুল প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলের ভেতরে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। মাঝে মধ্যে দুই- একজন অভিভাবক ও কৌতূহলী পথচারী সেখানে এসে স্কুলের ভেতরের দিকে তাকাচ্ছেন, কেউ কেউ খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে ভেতর থেকে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ থাকায় কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না।


স্কুল ভবনের কেয়ারটেকার কামরুল হক ঢাকা পোস্টকে জানান, গতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি খোলা ছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি। 


কেন স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে- এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণও জানাতে পারেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে স্কুলটির দেয়ালে ও ব্যানারে থাকা কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সবগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।


স্থানীয় ও আশপাশের বাসিন্দারা জানান, ঢাকার বহু অলিগলির স্কুলের মতো শারমিন একাডেমিও পরিচালিত হচ্ছে সীমিত পরিসরে একটি ভবনের মধ্যে। ওই ভবনের ভেতরে রয়েছে একটি বিউটি পার্লারও। 


স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানতেন সেখানে একটি স্কুল আছে কিন্তু সেটির অনুমোদন আছে কি না, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো নীতিমালা আছে কি না বা শিশুরা সেখানে নিরাপদ কি না- এসব বিষয়ে কারও কোনো ধারণা নেই।


অবশ্য গোটা রাজধানীজুড়েই এমন অসংখ্য স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। যেগুলোর শুধু সাইনবোর্ড দেখে মানুষ, আর বাচ্চাদের ভর্তি করে দেয়। 


অনুমোদিত নাকি অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান তা আর যাচাই করে না কেউ। রাজধানীর আজিমপুর, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় অলিগলির ভেতরে গড়ে ওঠা এমন স্কুলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। 


অনেক ক্ষেত্রে একটি ফ্ল্যাটে ৩০-৪০ জন শিশুকে গাদাগাদি করে বসানো হচ্ছে। নেই খোলা জায়গা, নেই জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা। তবুও এসব প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।


২০২৫ সালে বেড়েছে শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতন


আইন অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ২০১১ সালে হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক শাস্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অসাংবিধানিক। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, শিশুকে নির্যাতন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।


প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী নির্যাতনের আলাদা তথ্য না থাকলেও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সামগ্রিক তথ্য বলছে, ২০২১ সালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের নির্যাতনের ২১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল শূন্য থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। 


এই সংখ্যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৯-এ দাঁড়ায়। তারপর ২০২৩ সালে সামান্য কমে ৪৭ এবং ২০২৪ সালে আরও কমে ৩০-এ নেমে আসে। তবে নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হয় না।


২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।


উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা


এমন অবস্থায় রাজধানীসহ সারা দেশের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সামাকি মাধ্যমে অনেকে এসব নির্যাতনের ঘটনা দেখে আঁতকে উঠছেন এবং স্কুলগুলোর তদারকির ব্যবস্থা কী- সেই প্রশ্ন রাখছেন। তারা বলছেন, এখনই কঠোর নজরদারি ও বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব স্কুলকে তদারকির আওতায় আনা দরকার।


রাজধানীর মিরপুর এলকার নাঈমা মিতু নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা বাবা-মায়েরা চাকরি বা কাজের কারণে বাধ্য হয়ে কাছাকাছি স্কুলে সন্তানকে ভর্তি করাই। কিন্তু এসব স্কুলের ভেতরে কী হচ্ছে, শিক্ষকরা কেমন আচরণ করেন- তা জানার কোনো উপায় নেই। 


শারমিন একাডেমির ঘটনার ভিডিও দেখে আমি ভীষণ আতঙ্কিত। যদি আমার সন্তানের সঙ্গে এমন কিছু ঘটে? সরকারের উচিত এসব স্কুলের নিয়মিত তদারকি করা বা শিক্ষাদান ও শিক্ষকদের গুণগত মানের বিষয়ে খোঁজখবর রাখা।


শারমিন সুলতানা নামে আরেক অভিভাবক বলেন, লটারি-নির্ভর ব্যবস্থা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারকে ঠেলে দিচ্ছে গলির ভেতরের স্কুলে। কোনো অনুমোদন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই যারা শিশুদের পড়ায়, তাদের হাতে আমরা সন্তান তুলে দিচ্ছি। 


তাছাড়া শিশুদের শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে দেখছি উল্টো চিত্র। এসব ছোট ছোট স্কুলে অভিভাবকদের কথাও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত।


প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা নিয়ে পরিকল্পনা নেই, রাষ্ট্রের তদারকি দাবি


বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার মূল জায়গাটি হলো তদারকি না থাকা। প্রাইমারি বা কেজি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত পরিদর্শন বা কার্যকর নজরদারি নেই। আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। 


এগুলো জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের অধীনে নয়, আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণেও নেই। ফলে কার্যত এসব স্কুল একটি ‘আইনগত ধূসর অঞ্চলে’ পরিণত হচ্ছে।


আবার অনেক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয় বরং সোসাইটি, ট্রাস্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত। এতে করে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা, শিক্ষক নিয়োগ, শিশু সুরক্ষা বা আচরণবিধি– এসব বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা থাকে না। একবার সাইনবোর্ড ঝোলালেই কার্যক্রম শুরু করা যায়।


প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক এমন অগোছালো ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রের পরিসরে যা কিছু ঘটে, তার দায় সরকারের রয়েছে। 


একই সঙ্গে সমাজ ও কমিউনিটির স্টেকহোল্ডারদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে কোথায় কতগুলো প্রি-প্রাইমারি ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন তার সঠিক পরিকল্পনাই হয়নি।


অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, বর্তমানে ভর্তি ব্যবস্থায় লটারির ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারা স্কুলে ভর্তি হতে পারে, আর যাদের নাম ওঠে না, তারা কোথায় যাবে- এই প্রশ্নের কোনো কার্যকর সমাধান নেই। 


একদিকে শিক্ষা সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত, অন্যদিকে ভর্তি সীমিত করার এই বাস্তবতা একটি বড় বৈপরীত্য তৈরি করছে। এই সুযোগেই পাড়া-মহল্লায় নামে-বেনামে অনেক বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল গড়ে উঠছে, যেগুলো মূলত ব্যবসায়িক মানসিকতায় পরিচালিত।


তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিশুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আঘাত করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নীতির বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 


শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার সঙ্গে নার্সিং, কেয়ারিং ও টিচিং–এই তিনটি বিষয় গভীরভাবে যুক্ত। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও মনোজাগতিক প্রস্তুতি ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে শিশু নির্যাতনের মতো অমানবিক ঘটনা ঘটতেই থাকবে।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই একক মালিকানাভিত্তিক ক্ষমতার জায়গা হতে পারে না উল্লেখ করে অধ্যাপক জিন্নাহ বলেন, শিশুদের শারীরিক নির্যাতন, অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে পরিচালনা করা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি হাওর, বাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াতে হবে।


তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বহু শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু তাদের কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধু তালিকা তৈরি করে বসিয়ে না রেখে শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। 


অপ্রতুল অবকাঠামো, অল্পসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে একাধিক শ্রেণি পরিচালনা, নামমাত্র বেতন ও অতিরিক্ত কাজের চাপ- এসব বাস্তবতায় শিক্ষকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। ফলে এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিশু নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবেই।


এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট শিশুদের শিক্ষা দেওয়া সবচেয়ে কঠিন ও দায়িত্বশীল কাজ। শিশুরা হলো একটি ‘ছোট চারা গাছ’। এই চারার যত্ন নিতে হলে দক্ষ ‘মালি’ প্রয়োজন। 


অর্থাৎ যারা শিশুদের দেখভাল ও শিক্ষা দেবেন, তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলেই বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


শিশুকে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই, নিবন্ধনের আওতায় আসছে সব স্কুল


শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, কোনো শিশুকে শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতনের অধিকার কারও নেই। এটি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত হলে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।


ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারিভাবে পরিচালিত কেজি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তদারকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধনের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেখে থাকে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবই সরবরাহের বিষয়টিও নিবন্ধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।


তবে সরাসরি মনিটরিং বা তদারকির দায়িত্ব মূলত মন্ত্রণালয়ের বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রমসহ অন্যান্য নির্ধারিত কাজগুলো তদারকি করে থাকে।


ডিজি আরও জানান, বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত একটি বিধিমালা রয়েছে, যা সম্প্রতি সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত সেই বিধিমালার আলোকে বিদ্যালয়গুলোর নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সম্প্রতি একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট টিমের প্রশিক্ষণ চলছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বছরই সর্বোচ্চ পর্যায়ে চেষ্টা করা হবে– যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মানদণ্ড বা ক্রাইটেরিয়া পূরণ করে, কেবল তারাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।




ফান্ডামেন্টাল ডিবেট ওয়ার্কশপ

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের আয়োজনে ‘ম্যানেজমেন্ট ডিবেটার হান্ট ১.০’ উপলক্ষে ‘ফান্ডামেন্টাল ডিবেট ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বিতর্কের মৌলিক বিষয়, যুক্তি উপস্থাপনের কৌশল, বক্তব্য প্রদানের দক্ষতা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের কনভেনর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব আলম এবং একই বিভাগের প্রভাষক ও ক্লাবের কো-কনভেনর আলেয়া আক্তার।


কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব।


বক্তারা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। কর্মশালায় বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ম্যানেজমেন্ট ডিবেটার হান্ট ১.০’-এর কার্যক্রমের সূচনা হয়।


ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের কনভেনর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু বিতর্কের মঞ্চেই নয়, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এবং প্রতিটি শব্দ বিনিময়ে যৌক্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া উচিত।”


জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪২ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ও একাডেমিক শিথিলকরণের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


স্মারকলিপিতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো: মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা, প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বিভাগীয় পর্যায়ে বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা, গর্ভকালীন সময় ও সন্তান জন্মের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় প্রদান এবং ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলেও জরিমানা পরিশোধ সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা, মাতৃত্বকালীন সময়ে মিস হওয়া অ্যাসাইনমেন্ট, সিটি পরীক্ষা ও মিডটার্ম পরবর্তীতে সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং উপস্থিতির হার শিথিল করে সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।


এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, “একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো মাতৃত্ব। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের পরিবর্তন ও চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম, বিশেষ করে একাডেমিক কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, আবার কেউ কেউ ইয়ার ড্রপ দিতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই আমরা মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা এ বিষয়ে যৌক্তিক দাবিগুলো উপাচার্য স্যারের কাছে উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”


এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা চান, তাদের একটি তালিকা প্রয়োজনীয় তথ্যসহ, যেমন নাম, বিভাগ, রোল এবং কোর্সভিত্তিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ জমা দিন। এরপর আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”


অভিযুক্ত দুই কিশোর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

অনলাইনে অর্ডার করা একটি ড্রোনের মূল্য পরিশোধ না করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে আহত করার অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।


রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই কিশোর হলেন মো. সাকিব (১৪) ও মো. শহিদুল (১৫)। তারা কুমিল্লার বিজয়পুর এলাকার রাজারখলা গ্রামের বাসিন্দা।


জানা যায়, অভিযুক্তরা অনলাইনে একটি ড্রোন অর্ডার করেন। ডেলিভারিম্যান ড্রোনটি পৌঁছে দিলে তারা মূল্য পরিশোধ না করেই সেটি নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।


ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, “সিএসই বিভাগের দুই শিক্ষার্থী বিজয়-২৪ হলের পেছনের সড়কে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর ধাক্কায় আহত হন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি একটি ড্রোন ডেলিভারি গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ না করেই দ্রুত মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টেডফাস্টের কর্মকর্তারা তাদের আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।”


তিনি আরও বলেন, “প্রক্টর অফিসে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের মতামত নেওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় তারাই বহন করবেন। এরপর তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।”



  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর প্রবিধি ৬৪ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিসহ দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা (এসআরও নং ৮৯-আইন/২০২৬) অনুসারে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের পদ্ধতি ও শর্তও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩০ জুলাই জারি করা নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি প্যানেল প্রস্তাব করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ বা সুপার)।


শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা এর চেয়ে ওপরের পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এ প্যানেল তৈরি করতে হবে। পরে অন্য সদস্যের মনোনয়নের প্রস্তাবসহ তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।


তবে, সিটি করপোরেশন এলাকার দাখিল ও আলিম মাদরাসার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।


এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৯ পিএম



প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো ট্রেজারার পেল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী। 


সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ থাকবে। 


এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে জারিকৃত ২৬৭ নম্বর প্রজ্ঞাপনের বিধান অনুযায়ী তিনি ট্রেজারারের মাসিক সম্মানী পাবেন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।


প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ২০১০ এর ধারা ১৩-এর উপধারা (৩), (৫), (৬), (৭), (৮) অনুসারে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।



মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে অনুভূতি ও কর্মপরিকল্পনা জানতে চাইলে মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বলেন, “ক্যাম্পাসে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেব। বর্তমানে এ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করতে পারবো।”


ট্রেজারার নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, “ট্রেজারার নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত শৃঙ্খলা আসবে। ট্রেজারার সময়ভিত্তিক ও খাতওয়ারি বাজেট প্রণয়ন এবং আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এতে ভিসি হিসেবে আমার প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।”


উল্লেখ্য, ২০১০ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর বুটেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেজারার পদটি শূন্য ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পর এবারই প্রথম এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।


 বুটেক্সে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের গুঞ্জন


  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গণন হরকরা গ্যালারিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

 

সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।


প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান তুলে ধরেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; বরং বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ছিল। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।


অনুষ্ঠানে গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "জুলাইকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই জুলাইকে বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। জুলাইয়ের চেতনা নিয়েই আগামী দিনে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সকলকেই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে"


ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন এ দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনসহ অতীতে সংঘটিত অন্যান্য আন্দোলন থেকে ভিন্ন। এ আন্দোলনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আমাদের ভেবে দেখা উচিত।’


তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিফলন আমরা দেশের বাইরেও দেখতে পাচ্ছি। এ আন্দোলন উপমহাদেশের অন্যান্য দেশেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হলেও পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়েছে। সমাজের স্তরে স্তরে জুলাইয়ের যোদ্ধারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তাই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এককভাবে জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব বা দাবিদার হতে পারে না।


আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে না ব্যর্থ হয়েছে-এটি একটি অবান্তর প্রশ্ন। গণঅভ্যুত্থান শতভাগ সফল হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরশাসনের অবসান, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কোনো ব্যর্থতা নেই।’


তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে নতুন আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের জন্ম দেয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হোঁচট খাওয়ার ইতিহাসও চিরন্তন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিও ৫৫ বছর পর পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে কোনো ঘাটতি ছিল। বরং ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও কোনো ঘাটতি ছিল না। এই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন এবং সংস্কারের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি, সেই প্রশ্নের উত্তর জুলাই-আগস্ট দেবে না; এর উত্তর আমাদেরই দিতে হবে।’