প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৮ মে, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট থেকে দুর্ঘটনায় আহত চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য মে-জুন প্রান্তের আবেদন শুরু হয়েছে। এ অনুদান পেতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় আগামী ৩০ জুন দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।


প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ষষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেবে। ‘দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক অনুদান প্রদান নির্দেশিকা, ২০২০’ অনুযায়ী দেওয়া হবে এ অনুদান। 


এককালীন চিকিৎসা অনুদান প্রাপ্তির জন্য চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীকে ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের https://www.eservice.pmeat.gov.bd/medical লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে বর্ণিত লিংক ব্যবহার করে অনলাইনে চিকিৎসা মেয়াদে একবার মাত্র চিকিৎসা অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর অথবা ব্যবধান এক বছরের মধ্যে হতে হবে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থী কর্তৃক অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দেশিকার শর্ত মানতে হবে। শর্তগুলো হলো-


১. মেধাবী হিসেবে শিক্ষার্থীর আগের শ্রেণিতে শতকরা ন্যূনতম ৬০ ভাগ নম্বরপ্রাপ্ত অথবা এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ-৫-এর ক্ষেত্রে ৩.৫০ এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে জিপিএ-৪.০০-এর ক্ষেত্রে ৩.০০ প্রাপ্তির কপি আপলোড করতে হবে।


২. প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে নিয়োজিত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ‘জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫’ অনুযায়ী ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীর সন্তানেরা আবেদনপত্রের সঙ্গে অফিসপ্রধান থেকে মা-বাবা বা অভিভাবকের বেতনের গ্রেডসংক্রান্ত প্রত্যয়নের কপি এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান থেকে দেয় শিক্ষার্থীর ‘বাবা-মা বা অভিভাবক দরিদ্র’ মর্মে প্রত্যয়নের কপি আপলোড করতে হবে;


৩. অন্যান্য ক্ষেত্রে মা-বাবা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় দুই লাখ টাকার কম হতে হবে এবং দুর্ঘটনার প্রমাণে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন বা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক বা উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক ‘গুরুতর আহত’-র সমর্থনে প্রত্যয়ন করা শিক্ষার্থীর চিকিৎসা সনদের কপি আপলোড করতে হবে;


৪. কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় আবেদনের হার্ডকপি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।


৫. ট্রাস্ট থেকে নির্ধারিত ফরমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধান থেকে প্রত্যয়ন, শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন কপি, মা-বাবার এনআইডির কপি, শিক্ষার্থীর ছবি ১ কপি, স্বাক্ষর, অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্যসহ অন্য তথ্যগুলো শিক্ষার্থীর অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে স্পষ্ট কপি আপলোড করতে হবে। অন্যথায় আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।


দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থী থেকে আবেদনে শিক্ষার্থী বা মা-বাবার নিজ অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পূর্ণাঙ্গ নম্বর ও ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে এবং ব্যাংক হিসাবের প্রমাণক হিসেবে চেকের ভেতরের পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য আবশ্যিকভাবে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। 


শিক্ষার্থী বা মা-বাবার ব্যাংক হিসাব নম্বর ব্যতীত অন্য কারও ব্যাংক হিসাব নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে না, তবে মা-বাবা বা মা-বাবার মৃত্যু বা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে যাঁর ওপর নির্ভরশীল, (অভিভাবক হিসেবে) তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বর এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে, তবে শিক্ষার্থীর দেওয়া অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কারণে চিকিৎসা অনুদানের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে বাউন্সড হলে পুনরায় এ টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না।


আবেদন কীভাবে


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের আগামী ৩০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ‘ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।



সর্বশেষ সব খবর

শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের সাথে কুবি প্রশাসন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ পিএম


ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ, শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারকে আগামী ৫ আগস্টের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানাতে সাভারে তাদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।


সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেওয়া হয়। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসাইন।


আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে।


এছাড়া, শহীদ পরিবারের যাতায়াত ও আবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের উপস্থিতি তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদনকে আরও অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।


শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের বিভাগ একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শহীদ আব্দুল কাইয়ুম আমার বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে আমার সরাসরি শিক্ষার্থী ছিলো। তাই আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমি নিজেও তাদের বাসায় এসেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের মা-বাবা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।”


সর্বশেষ সব খবর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৬ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) দীর্ঘদিন আগে ছাত্রত্ব হারানো দুই ছাত্রদল নেতাকে পুনরায় ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। প্রচলিত অর্ডিন্যান্সে তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও একাডেমিক বিধিমালার সঙ্গে সিদ্ধান্তের অসঙ্গতি নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।


পুনঃভর্তির আবেদনকারীরা হলেন কৃষি অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন এবং অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা পৃথকভাবে ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আবেদন দুটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের পুনঃভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনবার অকৃতকার্য হয়ে ছাত্রত্ব বাতিল


ফরহাদ হোসেন ২০১৮ সালে পোষ্য কোটায় কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের একই সেমিস্টারে ধারাবাহিকভাবে তিনবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অনুষদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ২০২১ সালে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।


ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পরও ২০২২ সালের মে মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন।


আবেদনে ফরহাদ দাবি করেন, ২০১৮ সালের পর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারায় ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেষ সুযোগে মেকআপ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০২২ সালে বিশেষ মেকআপ পরীক্ষার আবেদন করলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। AGEC-109 কোর্সে বারবার অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনাকেও তিনি পরিকল্পিত বৈষম্যের ফল বলে দাবি করেন।


তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী পরপর তিনবার অকৃতকার্য হওয়ায় তার ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। ২০২২ সালে বিশেষ মেকআপ পরীক্ষার আবেদন ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপিত হলেও তা অনুমোদন পায়নি। ফলে কমিটি ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুপারিশ করে।


মারুফের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার সুপারিশ


এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ পরপর দুই সেশনে পুনঃভর্তি নিলেও তৃতীয় সেশনে নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।


আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর পারিবারিক সংকট তৈরি হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের বাধার কারণে হলে থাকতে না পারায় তার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।


তবে হলে থাকতে না পারার দাবির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মারুফকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দাবি, আবেদনে করা এ অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মারুফেরও ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ নেই। তবে পারিবারিক ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে এককালীন পুনঃভর্তির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


অর্ডিন্যান্স বনাম মানবিক বিবেচনা


বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, একই কোর্সে নির্ধারিত সংখ্যক সুযোগ শেষ হয়ে গেলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে পুনঃভর্তি গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়। ফরহাদ ও মারুফ উভয়ের ক্ষেত্রেই সেই বিধান কার্যকর হয়েছে।


এ অবস্থায় প্রচলিত অর্ডিন্যান্সের বাইরে গিয়ে মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কী নীতিমালা অনুসরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, প্রচলিত অর্ডিন্যান্সে সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি বারবার একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, একাডেমিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও একাডেমিক শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে চারজন কর্মচারীকে লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় প্রথম ও তৃতীয় আসামি যথাক্রমে ফরহাদ হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ। মামলাটি বর্তমানে চলমান।


এছাড়া ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় চাঁদাবাজির ও আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।


প্রশাসনের বক্তব্য


তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, "শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। চলমান মামলা ও অন্যান্য অভিযোগও হাউজে জানানো হয়েছিল। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।"


উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, "একাডেমিক কাউন্সিলে তাদের পুনঃভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা মানবিক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করেছিল। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে এ ধরনের বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে, সেভাবেই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

সর্বশেষ সব খবর

ফান্ডামেন্টাল ডিবেট ওয়ার্কশপ

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের আয়োজনে ‘ম্যানেজমেন্ট ডিবেটার হান্ট ১.০’ উপলক্ষে ‘ফান্ডামেন্টাল ডিবেট ওয়ার্কশপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বিতর্কের মৌলিক বিষয়, যুক্তি উপস্থাপনের কৌশল, বক্তব্য প্রদানের দক্ষতা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিতর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।


অনুষ্ঠানে ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের কনভেনর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুব আলম এবং একই বিভাগের প্রভাষক ও ক্লাবের কো-কনভেনর আলেয়া আক্তার।


কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন) নাজমুস সাকিব।


বক্তারা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চিন্তাশক্তি, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। কর্মশালায় বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ম্যানেজমেন্ট ডিবেটার হান্ট ১.০’-এর কার্যক্রমের সূচনা হয়।


ম্যানেজমেন্ট ক্লাবের কনভেনর ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জাহিদ হাসান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু বিতর্কের মঞ্চেই নয়, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে এবং প্রতিটি শব্দ বিনিময়ে যৌক্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া উচিত।”

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪২ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ও একাডেমিক শিথিলকরণের দাবিতে পাঁচ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।


রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২টার জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


স্মারকলিপিতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো: মাতৃত্বকালীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী ও সুস্পষ্ট একাডেমিক সহায়তা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা, প্রশাসনের গৃহীত সিদ্ধান্ত বিভাগীয় পর্যায়ে বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা, গর্ভকালীন সময় ও সন্তান জন্মের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উপস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় প্রদান এবং ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকলেও জরিমানা পরিশোধ সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা, মাতৃত্বকালীন সময়ে মিস হওয়া অ্যাসাইনমেন্ট, সিটি পরীক্ষা ও মিডটার্ম পরবর্তীতে সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং উপস্থিতির হার শিথিল করে সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা।


এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি কুবি শাখার সংগঠক সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, “একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন নারীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো মাতৃত্ব। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক নানা ধরনের পরিবর্তন ও চাপের কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম, বিশেষ করে একাডেমিক কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়, আবার কেউ কেউ ইয়ার ড্রপ দিতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই আমরা মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা এ বিষয়ে যৌক্তিক দাবিগুলো উপাচার্য স্যারের কাছে উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”


এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “যেসব শিক্ষার্থী মাতৃত্বকালীন সময়ে একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা চান, তাদের একটি তালিকা প্রয়োজনীয় তথ্যসহ, যেমন নাম, বিভাগ, রোল এবং কোর্সভিত্তিক সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ জমা দিন। এরপর আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”

সর্বশেষ সব খবর

অভিযুক্ত দুই কিশোর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

অনলাইনে অর্ডার করা একটি ড্রোনের মূল্য পরিশোধ না করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দুই শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়ে আহত করার অভিযোগে দুই কিশোরকে আটক করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।


রোববার (২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক দুই কিশোর হলেন মো. সাকিব (১৪) ও মো. শহিদুল (১৫)। তারা কুমিল্লার বিজয়পুর এলাকার রাজারখলা গ্রামের বাসিন্দা।


জানা যায়, অভিযুক্তরা অনলাইনে একটি ড্রোন অর্ডার করেন। ডেলিভারিম্যান ড্রোনটি পৌঁছে দিলে তারা মূল্য পরিশোধ না করেই সেটি নিয়ে মোটরসাইকেলে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।


ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। পরে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, “সিএসই বিভাগের দুই শিক্ষার্থী বিজয়-২৪ হলের পেছনের সড়কে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর ধাক্কায় আহত হন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি একটি ড্রোন ডেলিভারি গ্রহণ করে মূল্য পরিশোধ না করেই দ্রুত মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্টেডফাস্টের কর্মকর্তারা তাদের আটক করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন।”


তিনি আরও বলেন, “প্রক্টর অফিসে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের মতামত নেওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অভিযুক্তদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে এর দায় তারাই বহন করবেন। এরপর তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।”


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। একই সঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম তৌহিদুজ্জামানের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি) প্রবিধানমালা, ২০২৫-এর প্রবিধি ৬৪ অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিসহ দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে সংশোধিত প্রবিধানমালা (এসআরও নং ৮৯-আইন/২০২৬) অনুসারে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের পদ্ধতি ও শর্তও নির্ধারণ করে দিয়েছে বোর্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩০ জুলাই জারি করা নির্দেশনার আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের জন্য স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে তিন সদস্যের একটি প্যানেল প্রস্তাব করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ বা সুপার)।


শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, খ্যাতিমান সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি অথবা কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত নবম গ্রেড বা এর চেয়ে ওপরের পদমর্যাদার সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে এ প্যানেল তৈরি করতে হবে। পরে অন্য সদস্যের মনোনয়নের প্রস্তাবসহ তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।


তবে, সিটি করপোরেশন এলাকার দাখিল ও আলিম মাদরাসার ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে হবে।


এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ, সুপার, পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর