রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাংস্কৃতিক–বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান। আজ শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে এই কটাক্ষ করেন তিনি।


জায়িদ হাসান রাকসুতে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছাত্রশিবিরে তাঁর কোনো পদপদবি আছে কি না, তা জানা যায়নি।


ওই পোস্টের ক্যাপশনে জায়িদ হাসান লেখেন, ‘জাহান্নামের ইমামের মরণ দিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’ আর পোস্টের ফটোকার্ডে লেখা ছিল, ‘শহীদ জননী জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিকে মূলধারায় আনতে গঠন করেছিলেন গণ-আদালত।’


পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং জায়িদ হাসানের পদ স্থগিতের দাবি জানান। এরপর জায়িদ হাসান এ বিষয়ে আরেকটি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি কোনো শহীদের মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। শহীদের মা পরিচয় কারও খুনি পরিচয় মুছে দিতে পারে না। লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার।’


জায়িদ হাসানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লিখেছেন, ‘রাকসুর অপ!সংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে “জাহান্নামের ইমাম” বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ, জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকারকুলের শিরোমণি গোলাম আযমকে গণ-আদালত ফাঁসি দিয়েছিল। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জায়িদের মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরিরা দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।’


পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান লিখেছেন, ‘রাবিতে যারা ছাত্ররাজনীতি করে, তারা খুবই আনস্মার্ট। ক্যাম্পাসে এতক্ষণ প্রতিবাদমুখর হওয়া উচিত ছিল। রাকসুর অপসংস্কৃতি–বিষয়ক সম্পাদকের পদ বাতিলের দাবিতে রাকসুর সভাপতিকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া উচিত। তারা বাংলাদেশে থেকে এ দেশের ইতিহাস কটাক্ষ করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’


জাহানারা ইমাম একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ঘোষণার পর প্রতিবাদ ওঠে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি থেকে। তাঁর বড় ছেলে শাফী ইমাম রুমী স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হন। তাঁর রচিত ‘একাত্তরের দিনগুলি’ গ্রন্থটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিবারের এই অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে পরিচিত ও সম্মানিত।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

দুই বছর আগের সেই উত্তাল জুলাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক। 


শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির ঘটনার বিরুদ্ধে যখন অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ছিলেন, তখন মাত্র তিনজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিন শিক্ষকই আজ দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।


তাঁরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন।


সেই সময় আন্দোলন ঘিরে দেশে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির খবর আসছিল বিভিন্ন স্থান থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব পালন।


দুই বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের তিনজনই এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলনের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ প্রথমে নোবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন।


সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ঐসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছিল, এক পর্যায়ে তারা সব শিক্ষকদের মেইল করে অনুরোধ করে ওদের সাথে থাকার জন্য। আমরাও আগে থেকে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এরপর ওদের মেইল পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরাও ওদের সাথে গিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করবো। বিশেষ করে আমি, জাহাঙ্গীর স্যার, শফিক স্যার আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। 


তিনি আরও বলেন, তখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে নামিনি। আমার অনুভূতি ছিলো আমরা তো শিক্ষক আমাদের ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। 


তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে থাকা যতটা ইম্পর্ট্যান্ট, যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে তখন তাদের পাশে থাকা আরো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এতে আমরা চাকরিচ্যুত হওয়া, এরেস্ট হওয়া এবং মেরেও ফেলতে পারতো এগুলো নিয়ে চিন্তা না করে আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাড়াই।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহিদ মিনারের সামনে দাড়িয়েছি যখন দেখেছি আমাদের ছাত্রদের দাবি ন্যায্য, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছিলো, তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয় তখন আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করি। ঐসময় এই চিন্তা করিনি আমাদের চাকরি চলে যাবে আমাদের ক্ষতি হবে বা এরকম কিছু। 


তিনি জানান, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আমাদের ১৯৭১ এ জন্ম হয়নি দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো দাড়াতে হয় দেশের জন্য আবারো দাড়াবো, ইনশাআল্লাহ।


অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, আমি আন্দোলন করেছি একটি বৈষম্যবিরোধী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকার ফিরে পাক। এর জন্য যে আমাকে কিছু পেতে হবে তাই আন্দোলন করিনি। ছাত্র সমাজের উপর হামলা, সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এর প্রতিবাদে ঐ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। 


তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় ধারণ করি; আজকের ছাত্র আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করার আমি করি। দায়িত্ব পেয়েছি এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকারকেও ধন্যবাদ। দায়িত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারাই মূল বিষয়।


দুই বছরের ব্যবধানে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সেই ছোট্ট প্রতিবাদ আজ ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সমাবেশে উপস্থিত তিন শিক্ষক এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অংশ। তাঁদের এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সংকটময় সময়ে নৈতিক অবস্থান, শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি উপলক্ষ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদের আবাসিক হলে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।​ 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত দুটি আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টির সত্যতা আজ (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন উভয় তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম এবং এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম ভূঁঞা।

এর মধ্যে আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ​তদন্ত কমিটিতে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহামকে সভাপতি এবং সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মোঃ মঞ্জুর হোসেনকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। ​কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল হাসান ভূঞা, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহমুদুল আলম, এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন অর রশীদ।

অন্যদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের সংঘর্ষ ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটির সভাপতি হলেন এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম ভূঁঞা এবং সদস্য সচিব কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি.এইচ. এম. সাগর।তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আনিছুর রহমান মজুমদার এবং এনাটমি এন্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক।

আদেশনামা অনুযায়ী, গত ২৩শে জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং ২৪শে জুলাই দুপুর আড়াইটার পর থেকে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের কিছু ছাত্রদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া উভয় হলের মূল ফটক, সীমানা প্রাচীরের লাইট ও সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এই সামগ্রিক বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরেক আদেশ নামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল এবং মাওলানা ভাসানী হলের ছাত্রদের মধ্যে আগস্টের ১ ও ২ তারিখে পর পর ২ দিন সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম বলেন, 'আজই তদন্তের চিঠি হাতে পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করব। আমরা উভয় হল সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং কমিটির সদস্যদের সাথে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।'

অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, 'আজকে সন্ধ্যার দিকে কমিটির চিঠি পেয়েছি, এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু করিনি। কমিটির সদস্যের সাথে যোগাযোগ করে একটি উপযুক্ত সময় নির্বাচন করবো এবং যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্যক্রম শুরু করবো।'

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ডব্লিউইউবি মেকানিক্যাল ক্লাব

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)-এর মেকানিক্যাল ক্লাবের নবঘোষিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচিতি ও দিকনির্দেশনামূলক সাধারণ সভা সম্প্রতি অনলাইন মাধ্যমে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।


উক্ত সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির নবনিযুক্ত সদস্যরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকৌশলভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ আগষ্ট (সোমবার) নবগঠিত কমিটির প্রথম মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বিশেষ ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে নতুন কমিটি তাদের এই শুভ সূচনা করল।


মেকানিক্যাল ক্লাবের সভাপতি মারুফ আহমেদ ক্লাবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, “কেবল শ্রেণিকক্ষের প্রথাগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে ত্বরান্বিত করতে ডব্লিউইউবি মেকানিক্যাল ক্লাব নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”


ক্লাবের সহ-সভাপতি নুর আমিন জানান, ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অনাড়ম্বর এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষা ও সুনির্দিষ্ট সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে ক্লাবের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই এক প্রতিফলন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম

জুলাই শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস কর্তৃক তার মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠির ফলক উন্মোচন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ আনাস হল প্রশাসন। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১টার সময় শহীদ আনাস হলে এ ফলক উন্মোচন করা হয়। 


এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। শহীদ আনাসের পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আনাসের পিতা, নানা ও শিক্ষক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম। 


এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের ১১৬ নম্বর কক্ষে ‘জুলাই-৩৬’ গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ইবি ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


প্রতিযোগিতায় প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’, পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির জন্য ‘পানি লাগবে, পানি...’ এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির জন্য ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’।


শহীদ আনাসের পিতা শাহরিয়ান খান পলাশ বলেন, "আনাস আমাদের বড় সন্তান। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। কখনো ভাবি নি সে আমাদের রেখে এভাবে চলে যাবে। আপনাদের কাছে আমার দাবি বছরে একবার হলেও জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ার যারা শহীদ হয়েছে তাদের জন্য দোয়া মাহফিলের ব্যবস্থা করবেন।"


উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমান বলেন, "এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মধ্য দিয়ে এই হলে যারা শিক্ষার্থী তারা চিঠিটি পড়ে জানতে পারবে আনাস দেশপ্রেমিক একজন নাগরিক হিসেবে নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। দশম শ্রেণিতে পড়া আনাসের দেশপ্রেমের যে চিহ্ন আমরা চিঠিতে দেখলাম, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যতদিন দায়িত্বে থাকবে, ততদিন ৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচিগুলো গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করবে।" 


তিনি আরও বলেন,"যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাদের জান্নাতবাসী করুন এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। নতুন আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ ও সমাজ বিনির্মাণে এই চিঠির প্রতিবদ্ধ বিষয়গুলো ধারণ করে আমরা সবাই যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে পারি-তাহলেই শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের আত্মত্যাগ সফল হবে।"

সর্বশেষ সব খবর

শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের সাথে কুবি প্রশাসন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ পিএম


ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ, শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারকে আগামী ৫ আগস্টের ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানাতে সাভারে তাদের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধি দল।


সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেওয়া হয়। 


এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসাইন।


আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হবে।


এছাড়া, শহীদ পরিবারের যাতায়াত ও আবাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের উপস্থিতি তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদনকে আরও অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।


শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের বিভাগ একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শহীদ আব্দুল কাইয়ুম আমার বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে আমার সরাসরি শিক্ষার্থী ছিলো। তাই আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তাঁর পরিবারকে আমন্ত্রণ জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমি নিজেও তাদের বাসায় এসেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের মা-বাবা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও অর্থবহ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলবে।”


সর্বশেষ সব খবর

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:০৬ এএম

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) দীর্ঘদিন আগে ছাত্রত্ব হারানো দুই ছাত্রদল নেতাকে পুনরায় ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া। প্রচলিত অর্ডিন্যান্সে তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও একাডেমিক বিধিমালার সঙ্গে সিদ্ধান্তের অসঙ্গতি নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।


পুনঃভর্তির আবেদনকারীরা হলেন কৃষি অনুষদের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন এবং অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা পৃথকভাবে ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৮৩তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আবেদন দুটি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন দিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত ৮৬তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের পুনঃভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনবার অকৃতকার্য হয়ে ছাত্রত্ব বাতিল


ফরহাদ হোসেন ২০১৮ সালে পোষ্য কোটায় কৃষি অনুষদে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষের একই সেমিস্টারে ধারাবাহিকভাবে তিনবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট অনুষদের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ২০২১ সালে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।


ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পরও ২০২২ সালের মে মাসে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্ব পুনর্বহালের আবেদন করেন।


আবেদনে ফরহাদ দাবি করেন, ২০১৮ সালের পর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারায় ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেষ সুযোগে মেকআপ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০২২ সালে বিশেষ মেকআপ পরীক্ষার আবেদন করলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। AGEC-109 কোর্সে বারবার অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনাকেও তিনি পরিকল্পিত বৈষম্যের ফল বলে দাবি করেন।


তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী পরপর তিনবার অকৃতকার্য হওয়ায় তার ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল। ২০২২ সালে বিশেষ মেকআপ পরীক্ষার আবেদন ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপিত হলেও তা অনুমোদন পায়নি। ফলে কমিটি ৭৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার সুপারিশ করে।


মারুফের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনার সুপারিশ


এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ পরপর দুই সেশনে পুনঃভর্তি নিলেও তৃতীয় সেশনে নির্ধারিত সময়ে আবেদন না করায় তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।


আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালে তার বাবা মারা যাওয়ার পর পারিবারিক সংকট তৈরি হয়। পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের বাধার কারণে হলে থাকতে না পারায় তার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।


তবে হলে থাকতে না পারার দাবির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মারুফকে হলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল ফুটবল টুর্নামেন্টেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তাদের দাবি, আবেদনে করা এ অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী মারুফেরও ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সুযোগ নেই। তবে পারিবারিক ও মানবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে এককালীন পুনঃভর্তির সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


অর্ডিন্যান্স বনাম মানবিক বিবেচনা


বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, একই কোর্সে নির্ধারিত সংখ্যক সুযোগ শেষ হয়ে গেলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে পুনঃভর্তি গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল হয়। ফরহাদ ও মারুফ উভয়ের ক্ষেত্রেই সেই বিধান কার্যকর হয়েছে।


এ অবস্থায় প্রচলিত অর্ডিন্যান্সের বাইরে গিয়ে মানবিক বিবেচনায় ছাত্রত্ব পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কী নীতিমালা অনুসরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।


রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ


বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রসংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, প্রচলিত অর্ডিন্যান্সে সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি বারবার একাডেমিক কাউন্সিলে উত্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, একাডেমিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও একাডেমিক শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।


এদিকে চারজন কর্মচারীকে লাঞ্ছনা ও মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় প্রথম ও তৃতীয় আসামি যথাক্রমে ফরহাদ হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মারুফ। মামলাটি বর্তমানে চলমান।


এছাড়া ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় চাঁদাবাজির ও আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।


প্রশাসনের বক্তব্য


তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, "শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। চলমান মামলা ও অন্যান্য অভিযোগও হাউজে জানানো হয়েছিল। সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কোনো নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।"


উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ বলেন, "একাডেমিক কাউন্সিলে তাদের পুনঃভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারা মানবিক ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করেছিল। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে এ ধরনের বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে, সেভাবেই তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

সর্বশেষ সব খবর