ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব
মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ‘গুপ্ত ছাত্রী সংস্থার নষ্টা নেত্রী’ আখ্যা দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আজ রবিবার ওই ছাত্রদল নেতা তাঁর ফেসবুক স্টাটাসে এমন মন্তব্য করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সৃষ্টি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ছাত্রদল নেতা ফেসবুকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, এদের ধরে ধরে যদি কাঁচা কুনচি দিয়ে বানানো হতো তাহলে এরা মধ্য রাতে মব সৃষ্টি করার সাহস পেত না। এদের দেখে কি মনে হয় এরা সাধারণ শিক্ষার্থী? এরা মূলত গুপ্ত ছাত্রী সংস্থার নষ্টা নেত্রী।
ফেসবুকে সমালোচনা করে এক শিক্ষার্থী লিখেন, “ওরা কেনো নষ্টা হবে? এ লাইন ডিলেট করো। বেশি বাড়াবাড়ি ভালো না। তুমি আদু ভাই ছাত্র দল করিস কোন হিসেবে?”
ফেসবুকে আরেক কমেন্টকারী লিখেন, “ভাই, এটাই আপনাদের বড় ব্যর্থতা আর জামাত শিবিরের সফলতা। গেঞ্জি পরা মেয়ে ছাত্রী সংস্থার কর্মী হবে এটা অসম্ভব। যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে এই তকমা দেওয়া হবে ঠিক তারা রাজপথে স্লোগান দিবে- ‘তুমি কে আমি কে গুপ্ত গুপ্ত’। যেমনটা জুলাই আন্দোলনে হয়েছে।”
তাজমিন রহমান নামের এক ছাত্রী লিখেন, “এদের কাছে জায়মা একমাত্র পুতঃ পবিত্র নারী। তা ব্যতীত সকলেই নষ্টা। এরা এমন দলকানা যে নেতার বউ ও মেয়েকে ফেরেশতা বানিয়ে নিজের মাকেও নষ্টা বলতে ছাড়বে না। কেন-না বিপক্ষে গেলেই সে ছাত্রী সংস্থা, মহিলা শিবির, নষ্টা কত ট্যাগিং আছে। আর টিশার্ট পরা মেয়ে ছাত্রী সংস্থার হয় কেমন করে! ওড়না না নেওয়া মেয়েটা শিবির করে কেমনে?”
এবিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব বলেন, “এত রাতে থালাবাসন নিয়ে ক্যাম্পাসে মব করায় লেখাটা গুপ্তদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। আমার মনে হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এত রাতে এভাবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবিতে মাঠে নামতে পারে না। এগুলো অসভ্য জাতির কাজ। সেই অসভ্য গুপ্তদের উদ্দেশ্যে ‘নষ্টা’ শব্দ ব্যবহার করছি। বরং কোনো মা-বোনদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি।”
উল্লেখ্য, রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেন সাধারণ ছাত্রীরা। গতকাল শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ আন্দোলন শুরু হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না’- এমন স্লোগান দেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে একপর্যায়ে তারা গেটে টানানো ছাত্রদলের ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা হোস্টেল থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন এবং কলেজকে সব ধরনের দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখার দাবি জানান। পরে ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা প্রধান ফটকসহ কয়েকটি গেট ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব রাখা যাবে না।
প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো ট্রেজারার পেল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)। বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তাঁর মেয়াদ থাকবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে জারিকৃত ২৬৭ নম্বর প্রজ্ঞাপনের বিধান অনুযায়ী তিনি ট্রেজারারের মাসিক সম্মানী পাবেন। পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ২০১০ এর ধারা ১৩-এর উপধারা (৩), (৫), (৬), (৭), (৮) অনুসারে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রয়োজনবোধে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা প্রশাসনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এর আগে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে অনুভূতি ও কর্মপরিকল্পনা জানতে চাইলে মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বলেন, “ক্যাম্পাসে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেব। বর্তমানে এ নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেজারার হিসেবে যোগদান করতে পারবো।”
ট্রেজারার নিয়োগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। তিনি বলেন, “ট্রেজারার নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত শৃঙ্খলা আসবে। ট্রেজারার সময়ভিত্তিক ও খাতওয়ারি বাজেট প্রণয়ন এবং আর্থিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এতে ভিসি হিসেবে আমার প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ অনেকটাই কমবে, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর বুটেক্সে দীর্ঘদিন ধরে ট্রেজারার পদটি শূন্য ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৫ বছর পর এবারই প্রথম এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গণন হরকরা গ্যালারিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।
প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান তুলে ধরেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; বরং বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ছিল। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "জুলাইকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই জুলাইকে বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। জুলাইয়ের চেতনা নিয়েই আগামী দিনে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সকলকেই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে"
ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন এ দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনসহ অতীতে সংঘটিত অন্যান্য আন্দোলন থেকে ভিন্ন। এ আন্দোলনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আমাদের ভেবে দেখা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিফলন আমরা দেশের বাইরেও দেখতে পাচ্ছি। এ আন্দোলন উপমহাদেশের অন্যান্য দেশেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হলেও পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়েছে। সমাজের স্তরে স্তরে জুলাইয়ের যোদ্ধারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তাই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এককভাবে জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব বা দাবিদার হতে পারে না।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে না ব্যর্থ হয়েছে-এটি একটি অবান্তর প্রশ্ন। গণঅভ্যুত্থান শতভাগ সফল হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরশাসনের অবসান, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কোনো ব্যর্থতা নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে নতুন আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের জন্ম দেয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হোঁচট খাওয়ার ইতিহাসও চিরন্তন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিও ৫৫ বছর পর পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে কোনো ঘাটতি ছিল। বরং ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও কোনো ঘাটতি ছিল না। এই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন এবং সংস্কারের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি, সেই প্রশ্নের উত্তর জুলাই-আগস্ট দেবে না; এর উত্তর আমাদেরই দিতে হবে।’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে ঘিরে অনিয়মের নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২১ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগের কথা উল্লেখ ছিল। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও এখনো চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে এসেছে দুই প্রার্থী—৪৪তম ব্যাচের মো. ইয়াসিন এবং ৪৬তম ব্যাচের নাফিস মাহমুদ অর্নব। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে ইয়াসিন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত পরীক্ষায় ইয়াসিন অর্নবের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছিলেন। মৌখিক পরীক্ষাতেও তার পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলে সেই প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচ সদস্যের একটি ভাইভা বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার, অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবু বকর সিদ্দিকী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মাহাবুব উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে নম্বরায়ণের সময় ইয়াসিনকে তুলনামূলকভাবে কম নম্বর প্রদান করে দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় অবস্থানে আনা হয়। এমনকি প্রাথমিকভাবে বেশি নম্বর থাকা সত্ত্বেও পরবর্তীতে তা পুনর্বিন্যাস করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত ২জন বিভাগীয় শিক্ষকের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাইভা বোর্ডের অভ্যন্তরে মতবিরোধ ও বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয় বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপিত হয় এবং সেখানে অর্নবকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী ব্যক্তির সুপারিশের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মো. ইয়াসিন বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষা, ডেমোনস্ট্রেশন এবং মৌখিক পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপেই আমি সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পর ভিসি স্যার আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি প্রেজেন্টেশন শুরু করার পরপরই কোনো এক অজানা কারনে তিনি কক্ষ ত্যাগ করেন। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর ভাইভা শুরু হলে কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় বোর্ডে যোগ দেন। ভাইভা চলাকালে শুরুতে এক্সটার্নাল পরীক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশ্নের উত্তর আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে প্রদান করি। আমার উত্তর শুনে একজন এক্সটার্নাল পরীক্ষক সন্তুষ্টি প্রকাশ করে। পুরো সময়জুড়ে আমি জড়তাহীন ও সাবলীলভাবে প্রতিটি প্রশ্নের নির্ভুল উত্তর প্রদান করেছি। পরবর্তীতে অধ্যাপক ইমদাদ স্যার আমাকে একটি প্রশ্নের উত্তর বোর্ডে গিয়ে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে বলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময় উপাচার্য হঠাৎ আমাকে প্রেজেন্টেশন দিতে বাধা দেন এবং উপস্থিত শিক্ষকদের সময়স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে কেবল মৌখিক প্রশ্নোত্তর চালিয়ে যেতে বলেন এবং একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তখন বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে পরবর্তীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর পর পুরো বিষয়টি আমার কাছে যথেষ্ট সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।"
এই ঘটনায় আইনি সহায়তা নেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার প্রতি যে অবিচার হয়েছে, তা নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলছেন। আমিও প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে চাই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে অবশ্যই আইনি সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আমি আমার জীবনের সাতটি মূল্যবান বছর শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করেছি।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “ইয়াসিন লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর এবং অর্ণব ৪৪ শতাংশ নম্বর পায়। ইয়াসিনের ভাইভায় খুবই ভালো পারফরম্যান্স ছিলো এবং কোনো প্রশ্নে তাঁকে আটকানো যায়নি। কিন্তু অর্ণবের ভাইভা ইয়াসিনের মতো ভালো হয়নি। এখানে উপাচার্য হঠাৎ অর্ণবকে ৯০ শতাংশ নম্বর দেয়ার কথা বলে এবং বাকি সদস্যরা সেটা সায় দেয়। তারপর লিখিত পরীক্ষার নম্বর বের করে সেটাও ম্যানুপুলেট করা হয়। ভাইবার সময়ে অর্নবকে বেশি সুবিধা দেয়া হচ্ছিল। সে ঠিকভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারছিল না এবং প্রশ্নের উত্তরগুলো দেয়ার ক্ষেত্রে আটকে যাচ্ছিল। অধ্যাপক শিল্পী আক্তার অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিবেচনা করে ইয়াসিনকে সুপারিশ করলেও উপাচার্য তাতে রাজি হননি।”
নিয়োগ বোর্ডে উপস্থিত থাকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির ডিন অধ্যাপক ড.শিল্পী আক্তার বলেন, “যারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল প্রত্যেকেই মেধাবী ছিল। এদের মধ্য থেকে যার উপস্থাপনা বা অন্যান্য দক্ষতা ভালো ছিল বাকীদের তুলনায় তাকেই বাছাই করা হয়েছে।”
শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম পাওয়ার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাহিরে কে কী বলছে তা জানা নেই। তবে নিয়োগ বোর্ডে যে পাঁচজন ছিলেন তাদের সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কেউ কোন আপত্তি তুলে নেই। যেহেতু সকলের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাই এখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসছে না।”
নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল হক বলেন, “আমি এই অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা ভাইভা বোর্ডে যেটা করেছি, সেটা সবাই মিলে করেছি এবং সবাই সই করেছি। যাদেরকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে, বোর্ড তাদেরকেই উপযুক্ত মনে করেছে। ভিসির এখতিয়ার আছে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বাস্তবতায় ভিসি যদি মনে করেন কোনো প্রার্থী ভবিষ্যতে বিভাগের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বা অন্য কোনো কারণে উপযুক্ত নয়, তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার তার রয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন কিছু নয়। আমি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছি, বহু নিয়োগ বোর্ডে ছিলাম। এমন ঘটনা আগেও বহুবার ঘটেছে, যেখানে ভিসি নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই এসব বিষয়কে অস্বাভাবিক মনে করি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন নিয়োগে আনা অভিযোগ নিয়ে বলেন, “এখানে একজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগটি এনেছে। যাদের লিখিত ও ভাইভায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাঁরাই নির্বাচিত হয়েছে। এখানে কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভাইভা বোর্ডে পাঁচজন সদস্য ছিলো এবং সেখানে সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এখানে দুর্নীতির কোনো বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।”
নিয়োগ পরীক্ষায় উক্ত দুই প্রার্থীর বিষয়ে বলেন, “এখানে যাকে ভুক্তভোগী হিসেবে আনা হচ্ছে তার চেয়েও লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর পেয়েছে এমন পরীক্ষার্থী নির্বাচিত হয়নি। যাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে তাঁর লিখিত পরীক্ষায় কিছু নম্বর কম থাকলেও ডেমো ও ভাইভায় পারফরম্যান্স খুব ভালো ছিলো যার জন্য সে নির্বাচিত হয়েছে।”
নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যারা নিয়োগ পেয়েছে তাদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাকে ভুক্তভোগী বানানো হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় কেউ আমাকে কোনো সুপারিশ করেনি এবং আমি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করেছি।”
উল্লেখ্য, মো. ইয়াসিন ২০২৩ সালে ৩.৯৬ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত। তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (নিটার)-এ ছয় মাস প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন, বুটেক্সে সাত মাস রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ এবং ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দুই সেমিস্টার পার্ট-টাইম প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা। এছাড়া প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বল্প সময়ের জন্য প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন ও শিল্পখাতে প্রায় এক বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
অন্যদিকে, নাফিস মাহমুদ অর্নব ২০২৫ সালে ৩.৮১ সিজিপিএ অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাত মাস ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ‘দি ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস’ (আইটিইটি), বাংলাদেশের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বাদ মাগরিব রাজধানীর উত্তরায় আইটিইটি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামানিক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আইটিইটি'র নেতৃবৃন্দ, সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
এ আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে সংগঠনের নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান (রবিন), সদস্য সচিব সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আরফান আলী প্রামানিক এবং সহ-সদস্য সচিব সংগঠনের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম সাদ্দাম ছিলেন।
আয়োজনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান (রবিন) বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ সবাই একসঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও আত্মত্যাগকে ভিত্তি করে বর্তমান কমিটি কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে পরস্পরের পরিপূরক উল্লেখ করে আইটিইটি'র সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মইদুল ইসলাম (মঈদ) বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতার পর দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদের কারণে যে অন্যায়ের সৃষ্টি হয়েছিল, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল তার বিরুদ্ধে সুদৃঢ় প্রতিবাদ।
তিনি আরো বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। আইটিইটি পরিবারের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আইটিইটি'র মহাসচিব প্রকৌশলী এ এস এম হাফিজুর রহমান নিক্সন বলেন, “জুলাই কোনো নির্দিষ্ট দিনের নাম নয়, জুলাই হলো প্রতিবাদের ভাষা।” ১৯৫২, ১৯৭১ ও ১৯৯০-এর মতো ২০২৪-এর আন্দোলনও পুঞ্জীভূত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের অগ্রগতি ধরে রাখতে উদ্ভাবনে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও ইনোভেশনে গুরুত্ব না দিলে এ অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে। এ জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সবাইকে দেশের উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা ও পতাকা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪-এর আন্দোলন ছিল গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। শিশু থেকে বৃদ্ধ, পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজিরবিহীন অংশগ্রহণে এ আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলন দমনে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে সর্বক্ষেত্রে ধারণ করে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সভায় আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেন, “আমরা সবাই জুলাই যোদ্ধা এবং আমাদের সবার ভেতরে জুলাইয়ের চেতনা ও স্পিরিট থাকা উচিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এই চেতনা আমরা সবসময় ধরে রাখতে চাই।”
তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কোনো ক্ষমতা পাননি, বরং দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই দায়িত্ব সসম্মানে পরবর্তী কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে পারলেই শহীদদের আত্মত্যাগের কিছুটা প্রতিদান দেওয়া সম্ভব হবে।
পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এসময় আইটিইটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও সংগঠনের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয় বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উচ্চশিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মপরিবেশের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।
আজ শনিবার (০১ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা, যোগাযোগ দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির মতো সফট স্কিল থাকতে হবে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ও ইউজিসি যৌথভাবে কাজ করছে এবং শিগগিরই সারা দেশে সফট স্কিল উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করা হবে।
তিনি বলেছেন, “আমরা চাই, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গায় পরিণত হোক, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি নয়, কর্মজীবনে সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করবে। এজন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।”
তিনি জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হবে। প্রতিটি ক্যাম্পাসে নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই সংযোগ নিশ্চিত করে প্রথমে ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ এবং পরে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষার্থী সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের জ্ঞান, গবেষণা ও শিক্ষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের সমন্বয় এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের উচ্চশিক্ষায় একটি অনন্য অবস্থান এনে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে বিশেষ স্থান অর্জন করেছে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মেধার সঙ্গে নিয়মিত পরিশ্রম ও চর্চার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল থেকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সরকার ও ইউজিসি এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মমর্যাদা নিয়ে নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে এবং সবাই সমান সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
ওরিয়েন্টেশন বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোফাজ্জেল হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী।
বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক, নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. আলীনুর রহমান এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ।
ইবিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) স্নাতক ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে দুই পর্বে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ইবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়শনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, জুলাই শহিদদের স্মরণে নিরবতা পালন, নবীনদের ফুল বরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মহান একটি ব্রত নিয়ে স্থাপিত হয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের চেয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বতন্ত্র। আমি বিশ্বাস করি আমাদের যারা গ্রাজুয়েট তারা দেশে এবং দেশের বাইরে কৃতিত্বের সাথে, যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছে।"
তিনি আরও বলেন, "নীতি নৈতিকতা মূল্যবোধের দিক থেকে আমি বিশ্বাস করি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যলয়ের তুলনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। আমি বিশ্বাস করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা সেখানে তিনি বহু ভাষিক অর্থাৎ থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ কে গুরুত্ব দিয়েছে এবং আমরা খুব দ্রুত জাপানিজ এবং চাইনিজ ভাষার কার্যক্রম খুব দ্রুত শুরু করব।"
ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন কথা হয়েছিল এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হবে। পরবর্তীকালে মাহাথির মোহাম্মদ ওআইসি থেকে সেই বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়াতে স্থাপন করেছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে ওয়াল্ড র্যাঙ্কিং এ ভালো পজিশনে রয়েছে। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে সেখানে পড়াশোনা করছে। সেখানে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি সোশ্যাল সাইন্স, মেডিকেল সাইন্স ইত্যাদিসহ সকল সাবজেক্ট সেখানে রয়েছে। আমাদের কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল সাইন্স বা অন্যান্য সাবজেক্টগুলোর স্বল্পতা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "তোমরা যারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছো তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী দিনে বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তোমাদের। তোমাদের বুঝতে হবে তোমরা যে সময়টা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাচ্ছো এটা তোমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। জীবনে এই সময়টাকে সদা সর্বদা কাজে লাগাবে। তোমার পরিবার, দেশ ও জাতি তোমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করবে, ভালোভাবে লেখাপড়া করবে এবং দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাবে।"