হেলমেট পরে পরীক্ষা দিচ্ছেন জবি শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:২৪ এএম

‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী এখন হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।


‎গতকাল বুধবার সকালে গণিত বিভাগের ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। ‎এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনগুলো থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার অভিযোগ প্রায়ই জানা যায়। এর আগে একই বিভাগের শিক্ষকদের একটি কক্ষেও এমন ঘটনা ঘটেছিল।


‎গতকালের এই দুর্ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ‎


এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, ‘কখন কার মাথার ওপর পলেস্তারা খসে পড়বে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আমরা হেলমেট ব্যবহার করছি।’


‎নয়ন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘দুজন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পরও প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পরীক্ষায় বসা নিরাপদ মনে হচ্ছে না, তাই হেলমেট পরেই এসেছি।’


‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বড় মেরামতের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়াও চলছে। এ ছাড়া বিজ্ঞান ভবন সংস্কারের নকশা ও ব্যয়ের হিসেব সম্পন্ন হয়েছে।


‎তিনি আরও জানান, মূল কাঠামোর ফাটলগুলো ফলস সিলিংয়ের কারণে ঢেকে থাকায় ঝুঁকি শনাক্ত করা কঠিন ছিল। এখন সিলিং সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।




জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে নোবিপ্রবি ব্লাড ব্রিগেড ও নোয়াখালী ব্লাড ব্যাংক।


কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদান করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং রক্তদানে শিক্ষার্থীসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: হাসান উদ্দীন। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই রক্তদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।




রক্তদান কর্মসূচির পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্লুকোজ পরীক্ষা করা হয়।


আয়োজকরা জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। 


উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ ও ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।


সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, "ফটোগ্রাফি শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একজন আলোকচিত্রী একটি ছবির মাধ্যমে মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সমাজের বাস্তবতাকে এমনভাবে তুলে ধরতে পারেন, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।"


তিনি আরও বলেন, তরুণ আলোকচিত্রীদের উচিত প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা। এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং নোবিপ্রবি ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল।


আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১,১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৬৪টি সেরা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা এবং মানবিক নানা গল্প ফুটে ওঠে নির্বাচিত আলোকচিত্রে।


দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ এবং একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।


অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। 


আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।


নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ড. মো. এমতাজ হোসাইনকে সংবর্ধনা প্রদান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫১ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য ড. মো. এমতাজ হোসাইনকে সংবর্ধনা প্রদান করেছে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া ইবি শাখা। সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপ-উপাচার্য কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া, ইবি শাখার সভাপতি এস এম শামীম, সাবেক সহ-সভাপতি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ, সাইফুল ইসলাম আলিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মুন্তাকিম, সহ-সভাপতি আহসান হাবীব, শাকিল আহমেদ, সেক্রেটারি খন্দকার আরিফসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী শিক্ষা ও ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে মাননীয় উপ-উপাচার্যের নিকট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।


দাবিসমূহ হলো : বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন ইসলামী বিষয়সমূহ পুনরায় চালু করতে হবে। ইসলামী শিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে গঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত তার প্রতিষ্ঠাকালীন মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে ফিরিয়ে নিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নামকরণ করতে হবে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

দুই বছর আগের সেই উত্তাল জুলাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক। 


শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির ঘটনার বিরুদ্ধে যখন অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ছিলেন, তখন মাত্র তিনজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিন শিক্ষকই আজ দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।


তাঁরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন।


সেই সময় আন্দোলন ঘিরে দেশে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির খবর আসছিল বিভিন্ন স্থান থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব পালন।


দুই বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের তিনজনই এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলনের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ প্রথমে নোবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন।


সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ঐসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছিল, এক পর্যায়ে তারা সব শিক্ষকদের মেইল করে অনুরোধ করে ওদের সাথে থাকার জন্য। আমরাও আগে থেকে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এরপর ওদের মেইল পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরাও ওদের সাথে গিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করবো। বিশেষ করে আমি, জাহাঙ্গীর স্যার, শফিক স্যার আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। 


তিনি আরও বলেন, তখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে নামিনি। আমার অনুভূতি ছিলো আমরা তো শিক্ষক আমাদের ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। 


তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে থাকা যতটা ইম্পর্ট্যান্ট, যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে তখন তাদের পাশে থাকা আরো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এতে আমরা চাকরিচ্যুত হওয়া, এরেস্ট হওয়া এবং মেরেও ফেলতে পারতো এগুলো নিয়ে চিন্তা না করে আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাড়াই।


অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহিদ মিনারের সামনে দাড়িয়েছি যখন দেখেছি আমাদের ছাত্রদের দাবি ন্যায্য, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছিলো, তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয় তখন আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করি। ঐসময় এই চিন্তা করিনি আমাদের চাকরি চলে যাবে আমাদের ক্ষতি হবে বা এরকম কিছু। 


তিনি জানান, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আমাদের ১৯৭১ এ জন্ম হয়নি দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো দাড়াতে হয় দেশের জন্য আবারো দাড়াবো, ইনশাআল্লাহ।


অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, আমি আন্দোলন করেছি একটি বৈষম্যবিরোধী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকার ফিরে পাক। এর জন্য যে আমাকে কিছু পেতে হবে তাই আন্দোলন করিনি। ছাত্র সমাজের উপর হামলা, সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এর প্রতিবাদে ঐ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। 


তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় ধারণ করি; আজকের ছাত্র আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করার আমি করি। দায়িত্ব পেয়েছি এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকারকেও ধন্যবাদ। দায়িত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারাই মূল বিষয়।


দুই বছরের ব্যবধানে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সেই ছোট্ট প্রতিবাদ আজ ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সমাবেশে উপস্থিত তিন শিক্ষক এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অংশ। তাঁদের এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সংকটময় সময়ে নৈতিক অবস্থান, শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি উপলক্ষ।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদের আবাসিক হলে ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।​ 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত দুটি আদেশনামায় এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টির সত্যতা আজ (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন উভয় তদন্ত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম এবং এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম ভূঁঞা।

এর মধ্যে আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের ঘটনার তদন্তে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ​তদন্ত কমিটিতে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহামকে সভাপতি এবং সংস্থাপন শাখা-২ এর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মোঃ মঞ্জুর হোসেনকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। ​কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল হাসান ভূঞা, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ মাহমুদুল আলম, এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী কামরুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল প্রতীক সিদ্দিক এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন অর রশীদ।

অন্যদিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের সংঘর্ষ ঘটনায় ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত কমিটির সভাপতি হলেন এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম ভূঁঞা এবং সদস্য সচিব কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি.এইচ. এম. সাগর।তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আনিছুর রহমান মজুমদার এবং এনাটমি এন্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক।

আদেশনামা অনুযায়ী, গত ২৩শে জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১ টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এবং ২৪শে জুলাই দুপুর আড়াইটার পর থেকে আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের কিছু ছাত্রদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া উভয় হলের মূল ফটক, সীমানা প্রাচীরের লাইট ও সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এই সামগ্রিক বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন ও সুপারিশ প্রদানের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরেক আদেশ নামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল এবং মাওলানা ভাসানী হলের ছাত্রদের মধ্যে আগস্টের ১ ও ২ তারিখে পর পর ২ দিন সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এ কে এম আদহাম বলেন, 'আজই তদন্তের চিঠি হাতে পেয়েছি। মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করব। আমরা উভয় হল সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং কমিটির সদস্যদের সাথে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।'

অধ্যাপক ড. মোঃ সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, 'আজকে সন্ধ্যার দিকে কমিটির চিঠি পেয়েছি, এখনো কোনো কার্যক্রম শুরু করিনি। কমিটির সদস্যের সাথে যোগাযোগ করে একটি উপযুক্ত সময় নির্বাচন করবো এবং যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব কার্যক্রম শুরু করবো।'

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:১০ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ডব্লিউইউবি মেকানিক্যাল ক্লাব

  • প্রকাশ : সোমবার ০৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৮ পিএম

ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ডব্লিউইউবি)-এর মেকানিক্যাল ক্লাবের নবঘোষিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচিতি ও দিকনির্দেশনামূলক সাধারণ সভা সম্প্রতি অনলাইন মাধ্যমে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্লাবের নবগঠিত কমিটির সকল সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।


উক্ত সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির নবনিযুক্ত সদস্যরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকৌশলভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ আগষ্ট (সোমবার) নবগঠিত কমিটির প্রথম মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বিশেষ ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’ আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে নতুন কমিটি তাদের এই শুভ সূচনা করল।


মেকানিক্যাল ক্লাবের সভাপতি মারুফ আহমেদ ক্লাবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, “কেবল শ্রেণিকক্ষের প্রথাগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক সেমিনার ও ওয়ার্কশপ আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারাকে ত্বরান্বিত করতে ডব্লিউইউবি মেকানিক্যাল ক্লাব নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।”


ক্লাবের সহ-সভাপতি নুর আমিন জানান, ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে অনাড়ম্বর এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষা ও সুনির্দিষ্ট সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে ক্লাবের ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই এক প্রতিফলন।