রমজানের মাহাত্ম্য ও আনন্দ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য গণ ইফতার কর্মসূচি আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বাকৃবি শাখা। ‘বারাকাহ ইফতার প্রোগ্রাম ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে এক হাজারের অধিক নারী শিক্ষার্থীর মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলসংলগ্ন কেআর মার্কেটে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিভিন্ন বর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাসের ত্বোহা ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল মঈন। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাসের ত্বোহা বলেন, "মুসলমানদের সবচাইতে বড় সংস্কৃতি রমজানকে উদযাপন করার জন্যই নিয়মিত ইফতারের প্রোগ্রামগুলো যেমন গণ ইফতারের আয়োজন করে আসছি আমরা। আমাদের শিক্ষার্থী ছেলে ভাইদের জন্য সেন্ট্রাল মসজিদে ২ হাজার ৭০০ ছেলেদেরকে নিয়ে আমরা গণ ইফতারের আয়োজন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের বোনদের জন্য আজকের এই আয়োজন। আমরা চেষ্টা করেছি এক হাজারের অধিক শিক্ষার্থী বোনদেরকে ইফতার দেওয়ার জন্য।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা চেষ্টা করছি আল্লাহর রাসূলের সেই হাদিসকে অনুসরণ করার, যেখানে আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন যে একটি খেজুর বা এক গ্লাস পানি হলেও তোমরা রোজাদারদেরকে ইফতার করাও। তো সে সংস্কৃতিকে আমরা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। তারই উদ্দেশ্যে আজকের এই 'বারাকাহ ইফতারের' আয়োজন।"
ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে মিছিল, স্লোগান এবং বড় পরিসরে খাবারের আয়োজনের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মো. রুবেল মিয়া প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ এবং ‘রুবেল ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও অন্যান্যদের নিয়ে হলের ডাইনিং রুমে প্রায় ৩০০ জনের খাবারের আয়োজন করা হয়। যদিও তখন আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিং চালু ছিল না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুবেল বর্তমানে হলের ৩০১ নম্বর কক্ষে একাই অবস্থান করছেন। কক্ষে দুটি বেডের পাশাপাশি কর্মীদের বসার জন্য কয়েকটি চেয়ারও রাখা হয়েছে। অথচ গত ২১ জুলাই প্রকাশিত হল প্রশাসনের রুম বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, কক্ষটি ৪৭তম ব্যাচের চারজন রি-এড শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ৩০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এখনো হলে ওঠেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নীতিমালা অনুযায়ী, সমাপনী বর্ষের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে কৃতকার্য ও অকৃতকার্য—উভয় ধরনের শিক্ষার্থীকেই হলের সিট ছাড়তে হয়। এছাড়া প্রভোস্টের পূর্বানুমতি ছাড়া হলে কোনো ভোজ বা আমোদ-প্রমোদের আয়োজন করা যায় না।
রুবেল ৪৬তম ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৪৭তম ব্যাচের সঙ্গে রি-এড করলেও গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ইতোমধ্যে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন।
৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৮তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তারেখ শেখ বলেন, “আমি হলে নিয়মিত থাকব না। মূলত পরীক্ষা বা বিশেষ প্রয়োজনে হলে আসব। ৩০২ নম্বর কক্ষে অতিরিক্ত বেড রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেই থাকব।”
একই কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, “হলে উঠব ভেবেছিলাম, কিন্তু উঠিনি। আর আমি অ্যালটমেন্টও নিইনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নজরুল হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বুটেক্সে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বরাদ্দ ছাড়া রাজনৈতিক নেতার হলে অবস্থান এবং প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর করা উচিত। আর নীতিতে পরিবর্তন এলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন।”
বুটেক্স ছাত্রদলের এক পদধারী নেতা বলেন, “সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রুবেল ভাই হলে উঠেছেন। খুব শিগগিরই হল কমিটি ঘোষণা করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রুবেল মিয়া বলেন, “নজরুল হলে রুম দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং অসত্য। আমি বারবার আবেদন করার পরেও হল প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।
ক্যাম্পাসের রানিং স্টুডেন্ট হিসেবে আমি হলগুলোতে অবস্থান করার পুরোপুরি অধিকার রাখি। আশা করি অতিদ্রুত হল প্রশাসন আমার আবেদনটি আমলে নিবেন।”
খাবারের আয়োজনের জন্য হল প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। ডাইনিং কর্তৃপক্ষও জানায়, এটি রাজনৈতিক আয়োজন—এমন কোনো তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।
ঘটনার পরদিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, “আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। খোঁজ নিয়ে হল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
তবে চার দিন পরও রুবেল হলে অবস্থান করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হলের ডাইনিং বা অন্য কোনো সুবিধা ব্যবহার করতে হলে প্রভোস্টের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এই আয়োজন আমার অনুমতি ছাড়াই হয়েছে। রুবেল হলে সিটের জন্য আবেদন করেছিল, তবে তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ৩০১ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা ৩০২ নম্বর কক্ষে থাকবে এবং ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্তরা ৩০১ নম্বর কক্ষে উঠবে। কিন্তু তারা এখনো হলে ওঠেনি। তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এক-দুই দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুটেক্সের সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
কুবি শিবির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুবি শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির।
৫ আগস্ট (বুধবার) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন।
মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে তফাৎ অনেক। আওয়ামী লীগের যেসব দোসর আমাদের ওপর হামলা করেছিল, তারা এখনো ক্যাম্পাসে মাথা উচু করে চলাফেরা করছে। যেসব শিক্ষক ওই হামলায় মদদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও ন্যূনতম লজ্জাবোধ আমরা দেখতে পাই না।"
তিনি বলেন, "বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করা হয়েছে এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়নি, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি আমাদের জন্য যেমন লজ্জাজনক, তেমনি দুঃখজনক।"
তিনি আরও বলেন, "সময় থাকতে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করুন। অন্যথায় তারা যদি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন তারা কে বিএনপি, কে জামায়াত তা দেখবে না। তাদের প্রথম ছোবল প্রশাসনের ওপরই আসবে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যালি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ছাত্র-জনতার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ এর ২য় বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের মূল ফটক হয়ে গোলচত্বর ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
পরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং তাঁর মায়ের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম। এছাড়া শহীদ আব্দুল কাইয়্যুমের মা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের কথা স্বরণ করে অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে তাঁর মা বলেন, "আমার ছেলের কথা বলতে গেলে কখনো শেষ হবে না৷ আমি মনে করি আমার ছেলের মতো আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারবে না। আমার ছেলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এত বড় একটা আয়োজন করেছে এটার জন্য আমি খুশি। আপনারা জানেনই আমার অবস্থা; স্যাররা গিয়েছিলো আমার বাড়িতে, তারা দেখে আসছে৷"
কোষাধক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, "আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই এদেশ বিনির্মাণে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদেরকে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সামনে রেখে আমাদের দেশ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমরা যে যেখানে আছি সে জায়গা থেকে কাজ করে যেতে চাই। আব্দুল কাইয়ূম আমার বিভাগের একজন মেধাবী ও পরিশ্রমী স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার প্রত্যাশা থাকবে আমরা যেন শহীদ আব্দুল কাইয়ূম কে ভুলে না যাই। প্রশাসনের প্রতি আমার প্রত্যাশা আব্দুল কাইয়ূম এর পরিবারকে যেন সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়।"
শহীদ আব্দুল কাইয়ুম এবং তার পরিবারকে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, "আমরা আব্দুল কাইয়ুমের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ তারা আমাদের ডাকে সারা দিয়েছেন, আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছেন। আব্দুল কাইয়ুম কোন ফ্যাকাল্টিতে পড়তো, কোন বিভাগে ক্লাস করতো, পরীক্ষা দিতো এগুলো তার পরিবারকে দেখানোর জন্যই এই ফ্যাকাল্টিতে আয়োজন করেছি। শহীদ আব্দুল কাইয়ুম ৪ তারিখে যেদিন গুলিবিদ্ধ হয় সেদিন স্বৈরাচার দেশে ছিলো, আর ৬ তারিখ যেদিন মারা যায় সেদিন দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছিলো।"
তিনি আরও বলেন, "সরকার শহীদ পরিবারদেরকে যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিচ্ছে। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যেন আপনাদের পরিবারও সেই সুবিধাটুকু পায়৷ সেটা পাওয়ার জন্য আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু করা লাগে আমরা সবটুকুই করবো। প্রয়োজনে আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের সাথে দেখা করে সেই সুবিধাটুকু নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। আপনারা আমাদের মাঝে এসেছেন৷ আপনাদের হারানের যে বেদনা সেটা পূরণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। কিন্তু আপনাদের হারানোর মাধ্যমে দেশ যে প্রাপ্তিটা পেয়েছে, আমরা যে প্রাপ্তিটা পেয়েছি তার কৃতজ্ঞতা আপনাদের পরিবারের প্রতি আমাদের সারা জীবন থাকবে।"
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের আবেগের সঙ্গে জড়িত। যারা এ আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। সেই সময়ে শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের সাহসী অংশগ্রহণ না থাকলে আন্দোলনটি গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে ।'
তিনি আরও বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে আমরা একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারা একসঙ্গে বসে বছরের কোন সময়ে কোন সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। তারা নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং এ ক্ষেত্রে ছাত্র উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজন সফল করার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।'
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) আবাসিক হলগুলোতে গণভোজের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরা, শহীদদের স্মরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে এ আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আজিজ হল, জি. এম. এ. জি. ওসমানী হল, সৈয়দ নজরুল ইসলাম হল এবং মেয়েদের বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে একযোগে গণভোজ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাদ্য টোকেন সংগ্রহ করা শিক্ষার্থীদের এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আয়োজনে শিক্ষার্থীদের পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর কালাভুনা, ডিম, মিষ্টি ও সফট ড্রিংকস পরিবেশন করা হয়।
হলগুলোতে আয়োজনের প্রশংসা করলেও এর পরিধি আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ। জি. এম. এ. জি. ওসমানী হলের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিক হাসান বলেন, “হলগুলোতে জুলাই স্মরণে গণভোজের আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে আয়োজনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হলে ভালো হতো। আন্দোলনে সক্রিয় হলের বাইরের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো আয়োজন করেনি। যেখানে জুলাই আমাদের শিক্ষা দেয় সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয় হতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজন করা গেলে জুলাইয়ের ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠত।”
তবে আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীদের অনেকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. ইসরাক আহাম্মদ সায়েম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমার কাছে অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সাহসী প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। হলে আয়োজিত গণভোজ আসলেই একটি ভালো উদ্যোগ। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করবে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
আয়োজনের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরে শহীদ আজিজ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের সাহসী অবস্থানের প্রতীক। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, জুলাই আন্দোলনও তারই ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও বলেন, “দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা, আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ জোরদার করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। এই চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন করা প্রয়োজন, যাতে তারা ভবিষ্যতে ন্যায়, সাম্য ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে পারে। গণভোজের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও অংশগ্রহণের মনোভাব আরও জোরদার করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার (০৫ আগস্ট ২০২৬) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি উদযাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কর্মসূচিসমূহে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এদিন সকাল ১০টায় নোবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে বিজয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
শোভাযাত্রা শেষে নোবিপ্রবি শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জুলাই যোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অতীতের মতো ঐক্য ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে নোবিপ্রবিতে একটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী কার্যক্রম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক নোবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের আলোচনা থেকে যেটা উঠে এসেছে তা হলো আমাদের ঐক্য দরকার। গণতন্ত্রের জন্য এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে শতশত মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং আহত হয়েছে। আমরা কি জবাব দিবো সেই মাকে যেই মা সন্তান হারিয়েছে, যিনি আজও দরজায় দাঁড়িয়ে সন্তানের আগমনের অপেক্ষা করছে। যখন কোথাও ঐক্য না থাকে তখনই তৃতীয় শক্তি আসার সুযোগ পায়। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি তাহলে দেশে আবার ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকাটা অত্যন্ত জরুরী। আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে চাই। আজ জুলাই যোদ্ধা এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে যারা উপস্থিত রয়েছেন তাদের এবং আয়োজনকে স্বার্থক করার জন্য বিভিন্ন কমিটিতে যারা কাজ করেছেন তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন পরবর্তীতে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ৫ আগস্ট নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। অভ্যুত্থানে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং ভবিষ্যতেও দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্য ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ ও সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, নোবিপ্রবি ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ, প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান, ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম। এ সময় নোবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, হল প্রভোস্ট, দপ্তর ও শাখা প্রধান, ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল, ভিডিও প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা প্রদান, দোয়া ও মুনাজাত। অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধা ও আহতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়াও চিত্রাঙ্কন ও নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের জুলাই বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এদিন বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম ঘোষিত ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস’ উদ্যোগকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। এ সময় উপাচার্যের উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবনের সামনের আঙিনাও পরিষ্কার করা হয়।
কর্মসূচি সম্পর্কে কুবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, “৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস আমাদের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনে আমরা হাসিনা রেজিম থেকে মুক্তি লাভ করেছি। তাই অতীতের সকল জঞ্জাল, অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতিকে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। উপাচার্য স্যারের ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস’ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর উপস্থিতিতেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরাম এবং কুবির একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমের স্মরণে দুটি বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। যেহেতু আব্দুল কাইয়ুম ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন, তাই তাঁর স্মরণে ওই অনুষদের সামনে গাছ দুটি রোপণ করা হয়েছে।”