ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সিলগালা করে রাখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত টাকার নোট আবারও বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন ডিজাইনের নোট ছাপাতে ধীরগতি এবং বাজারে নগদের চাহিদা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরোনো ছাপা নোটগুলো ধাপে ধাপে প্রচলনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই এসব নোট পুনরায় বিতরণ করা হচ্ছে। অপরদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য— যেহেতু শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই সেগুলো বাজারে ছাড়তে আইনি বা নীতিগত কোনও বাধা নেই।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোট বিতর্ক
গত বছরের (২০২৫) রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও প্রতীকী উপস্থাপনার বিষয়ে কিছু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত টাকার নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় বিভিন্ন ব্যাংকের ভল্টে থাকা শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নতুন ছাপানো নোট সিলগালা করে রাখা হয়। তখন থেকেই অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাদের মতে, ইতোমধ্যে ছাপানো নোট বাজারে না ছাড়লে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে।
নতুন সরকারের নীতিগত পরিবর্তন
সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সরকার মনে করছে, ইতোমধ্যে ছাপানো নোট দীর্ঘদিন ভল্টে আটকে রাখলে অর্থনৈতিকভাবে তা অযৌক্তিক হবে। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংককে পুরোনো ডিজাইনের নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “নতুন ডিজাইনের নয় ধরনের নোট ছাপানোর কাজ চলছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের গতি কিছুটা কম। যেহেতু পুরোনো নোট নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং বাজারে নগদের চাহিদা রয়েছে, তাই আগের ছাপানো নোটগুলো ধাপে ধাপে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাংকগুলোতে শুরু হয়েছে বিতরণ
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা পুরোনো নোট বিনিময় ও বিতরণ শুরু করেছেন।
সোনালী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, “২০২৫ সালের ঈদুল আজহার সময় পুরোনো ছাপা নোট বিতরণ বন্ধ ছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা আসে এগুলো স্বাভাবিকভাবে বিতরণ করার জন্য। এরপর থেকেই আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটগুলো চলমান রেখেছি।”
ব্যাংকারদের মতে, দেশে নগদ টাকার চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে, বিশেষ করে উৎসবের সময়। নতুন নোট ছাপানোর প্রক্রিয়া তুলনামূলক ধীর হওয়ায় বাজারে নগদের সরবরাহ ঠিক রাখতে পুরোনো নোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।
ঈদে নতুন নোট না দিলেও বাজারে চাহিদা
এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে, এবার ঈদ উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম চালু করা হবে না। তবে বাস্তবে খোলাবাজারে নতুন নোটের চাহিদা কমেনি। বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে নতুন নোট বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট অনেক ক্ষেত্রে ‘নতুন নোট’ হিসেবেই বিক্রি হচ্ছে। এতে বাজারে এক ধরনের অদৃশ্য লেনদেন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা।
নতুন নোট ছাপানো নিয়ে প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীর হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে আগের নোট সিলগালা করে রাখার সিদ্ধান্তও অর্থনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
তাদের মতে, একটি দেশের মুদ্রা কেবল অর্থনৈতিক মাধ্যম নয়, রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতারও প্রতীক। তাই মুদ্রা নকশা নিয়ে হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন করলে তা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোনো নোট পুনরায় বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তকে বাস্তবতার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন অনেক ব্যাংকার।
সামনে কী?
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে। ধীরে ধীরে সেগুলো বাজারে বাড়ানো হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত বাজারের চাহিদা মেটাতে আগের ছাপানো নোটগুলোই প্রধান ভরসা হয়ে থাকবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভবিষ্যতে মুদ্রা নকশা বা প্রতীক পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয়, মুদ্রা সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
কারণ একটি সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু রাজনীতিতে নয়— সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাতেও পড়ে।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ২২ অক্টোবর এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩২৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আাজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন নয়। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যাচাই করা হচ্ছে।
সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।
তাৎক্ষণিক হালনাগাদ সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট স্লো করে রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
তিনি বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেতে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে।এদিকে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়েবসাইট কোনো না কোনোভাবে এই ঝুঁকির আওতায় থাকতে পারে।
ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পিএইচপির ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংস্করণ ও নিরাপত্তা প্যাচ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ডের সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ওয়েবসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজেদের অনলাইন সেবা নিরাপদ রাখতে কিছু ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির সরকারি ও প্রকাশ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা পিএইচপির এসব ত্রুটি শনাক্ত করেন। ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ওয়েব উন্নয়নে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ করছিলেন তারা। এ কাজে ওপেনএআইয়ের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।
ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি। গবেষকদের ধারণা, পিএইচপির এসব ত্রুটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অজানা অবস্থায় ছিল। ফলে এত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পিএইচপির ত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার ঘটনাটিও ছিল আকস্মিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিকে ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য এবং সমাধানের পদ্ধতি প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধ্য হয় পিএইচপি ফাউন্ডেশন।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশ করতে পারে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার মালিকদের দ্রুত নিজেদের প্রযুক্তিগত কাঠামো পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্যাচ দ্রুত সংযোজন এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হওয়ায় এই ত্রুটির প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে। ফলে শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকছে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজার। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটি এবং এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম। একই সময়ে বন্ধ থাকবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচদিন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা চালু থাকবে।
ছুটির আগে গত শনিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল। সেদিন সাধারণ কর্মদিবসের মতোই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এদিকে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় একই সময়ে দেশের দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে পূজার ছুটিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায়, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।
এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত ১৭ অক্টোবর সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো করা হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত আগের হারেই তাঁদের ভাতা পাবেন। অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন তাঁরা যে হারে ভাতা পেতেন, পরের আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সে হারেই ভাতা পেতে থাকবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রজ্ঞাপনটি প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ দিকে এ মাসেই বাড়তি বেতন পেতে শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারি চাকরিজীবীদের ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারে ভাতা দেওয়ার বিধান করেছে সরকার। বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ঠিক এক মাস আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। অবশ্য নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ভাতা যে পরে দেওয়া হবে, সে ঘোষণা আগেই দিয়েছে সরকার।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের পুরো বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮-এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা দেওয়া হবে।
গত ১ জুলাই থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করার কাজ চলছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। এ জন্য ৫ অক্টোবর থেকে সরকারের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করছেন সরকারি কর্মচারীরা।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস শেষে সরকারি কর্মচারীরা বাড়তি হারে বেতন পাবেন। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা আছে।