রাজধানী ঢাকা মহানগরীর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি, সরকারী টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সেখানে সরকারী নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামত প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, সরকারী বই বিতরণের টাকা আত্মসাৎ এবং সপ্তাহে দুই দিন আবার কোন কোন সময়ে মাসে ৩ থেকে ৪ দিন অফিস করার তথ্য উঠে এসেছে অভিযোগে।
এ নিয়ে অনিয়ম-অব্যস্থাপনা, দুর্নীতির অভিযোগে আবদুল হাকিমের নামে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী ও স্কুল কমিটির কর্মকর্তারা।
ওই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), উপ-পরিচালক, মাউশি ঢাকা এবং ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিকে অবজ্ঞা করে আবার কোন কোন ক্ষেত্রে কমিটির কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে কিংবা ভয়-ভীতি দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বাড্ডা থানায় কমপক্ষে ১০টি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের আপন বোন, ভাগ্নিপতি, ভাইসহ এই এলাকায় কমপক্ষে ১৫ জনকে ল্যাব সহকারী, দপ্তরী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও দপ্তরী পদে নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ২০১৫ সাল থেকে (২০২৬ সাল) এখন পর্যন্ত তিনি একই অফিসে কর্মরত থাকলেও সপ্তাহে ২ দিন কিংবা মাসে ৫/৬ দিন অফিস করেন। তার এসব অনিয়ম, অব্যস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় কমপক্ষে ১০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি ও এমপিওভুক্তির ফাইল আটকিয়ে দিয়েছেন। তুলনামূলক কম যোগ্যতাসম্পন্ন বা কম মেধাবী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিয়েছেন মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে। অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তিনি সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ বিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়োগ বোর্ড থেকে নিজের আপন ভাই, বোন ও ভাগ্নিপতিকে চাকুরী দিয়েছেন।
অভিযোগের আবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের পূর্বে বাড্ডা থানার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যত নিয়োগ হয়েছে তা তিনি নিজেই সকলকে ম্যানেজ করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাড্ডা থানার আওতাধীন ছোলমাইদ স্কুল ও কলেজ, পূর্ব রামপুরা হাই স্কুল, রামপুরা একরামুন্নেসা বয়েজ হাই স্কুল, বাড্ডা হাই স্কুল, সাতারকুল হাই স্কুলসহ কমপক্ষে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ল্যাব সহকারী নিয়োগে দুর্নীতি করেছেন।
ছোলমাইদ স্কুল ও কলেজে চাকুরীর নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন করে নিজেই নিয়োগ বোর্ডে থেকে আবদুল হাকিম তার আপন বোন ও ভগ্নিপতিকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিধি মোতাবেক কোন অবস্থাতেই নিয়োগ বোর্ড নিজ পরিবারের কেউ বা অতি আপনজনদের কেউ নিয়োগ বোর্ডে থাকার নিয়ম নেই। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি শুধু নিজের বোন, ভগ্নিপতিকেই চাকুরী দেন নাই তার নিজ এলাকার জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা ও নিজ ইউনিয়নের কয়েকজনকে ল্যাব সহকারী ও অফিস সহকারী হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগকারীরা দাবি জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে দ্রুত সঠিক তদন্ত হলেই সত্য ঘটনার প্রমাণ মিলবে। এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত কোন শিক্ষক বা কর্মচারীর এমপিও ফাইল ছাড় করাতে তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিতে হয়।
আবদুল হাকিম বিধিবহির্ভূতভাবে ও জনবল কাঠামোর অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও করাতে চুক্তির মাধ্যমে ৫-৬ লক্ষ টাকা নিয়ে এমপিও করেছেন। রামপুরা একরামুন্নেসা বয়েজ স্কুলের তিনজন শিক্ষকের এমপিও করার জন্য তিনি ১১ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে এবং জনবল কাঠামোর বাইরে এমপিও করে দিয়েছেন। এদের মধ্যে জামাল হাসান মজুমদার নামে একজন গণিত শিক্ষকের প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জনবল কাঠামোর বাইরে সম্পূর্ণ অবৈধ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তাকে এমপিও করিয়েছেন।
বাড্ডা শিক্ষা থানায় অনেক যোগ্য ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শ্রেণী শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও বিশেষ কারণে এবং তার বিশেষ পছন্দের মানুষ হিসাবে এবং তাঁর সাথে সখ্যতা থাকার কারণে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও একটি হাই স্কুলের একজন মহিলা সহকারী শিক্ষিকাকে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষিকা হিসাবে ৩-৪ বার নির্বাচিত করেছেন। এ বিষয়ে বাড্ডা শিক্ষা থানায় চাপা ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এনসিটিবি কর্তৃক সরবরাহকৃত সরকারি বই বিতরণে সরকার কর্তৃক প্রতিটি বইয়ের জন্য ৩০ পয়সা করে যাতায়াত খরচ হিসাবে প্রতিটি বিদ্যালয়কে দেওয়ার কথা থাকলেও বিগত ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনি কোন প্রতিষ্ঠানকে একটি টাকাও প্রদান না করে তা আত্মসাৎ করেছেন। প্রতি বছর বাড্ডা শিক্ষা থানায় প্রায় ৭-৭.৫ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়ে থাকে তাতে করে প্রতি বছর ২ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
বিগত ২০২৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছর বিজয় ফুল অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের নামে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। কিন্তু থানা মাধ্যমিক শিক্ষা বিগত ২০২৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত প্রতি বছর বিজয় ফুল অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের নামে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিয়ে আসছে। কিন্তু থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হাকিম কোন প্রতিষ্ঠানকে একটি টাকাও প্রদান না করে তিনি তা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। এসব বিষয়ে কথা বললে তিনি নানান রকম অজুহাত দিয়ে বলেন, এই টাকা আমার অফিসে ব্যয় করা হয়েছে।
প্রতি বছর গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তার পছন্দের কয়েকজন শিক্ষকের মাধ্যমে প্রতিটি এমপিও ও ননএমপিও প্রতিষ্ঠান থেকে জোর পূর্বক ৫ হাজার করে টাকা বার্ষিক চাঁদা হিসাবে তুলে কাউকে কোন হিসাব না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন। উক্ত টাকার হিসাব নিরীক্ষণ করার জন্য একটি কমিটি থাকলেও তিনি কোন হিসাব কাউকে দেখতে দেননি এবং অডিট পর্যন্ত করতে দেননি।
সরজমিনে নওরোজ টিম কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হাকিম পলাতক আওয়ামী লীগের সময় স্থানীয় লোকদের ম্যানেজ করে এক প্রকার বলয় তৈরি করে যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তেমনি এখনো স্থানীয় এমপি এবং শাসক দলের নেতাকর্মীদের মাঝে একপ্রকার দ্বন্দ্ব তৈরি করার কারিগর তিনি বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুল হাকিম অভিযোগের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, একটি সুবিধাবাদী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এসব অভিযোগ করেছে।
আব্দুল হাকিম বলেন, যদি কোনো শিক্ষককে আমি এমপিও ভুক্ত করতে সাহায্য বা অনিয়ম করি তাহলে এতো বছর পর কেনো অভিযোগ তুলা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমি নিয়মের ভেতর থেকেই সব করেছি।
রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে।
ডিবি সূত্র বলছে, বাড়িটিতে ডিজে পার্টি চলতো এবং মাদকের আসর বসত। সেখান থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই ২৬ জন নারী।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ম্যান্টেনেইন্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযানের বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে কখনও তান্ত্রিক, কখনও কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের খাদেম- এভাবে নানা পরিচয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণার ফাঁদ পাততেন মো. মিজানুর রহমান (২৫)। পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। পিবিআইয়ের ঢাকার দক্ষিণ কল্যাণপুর এসআইঅ্যান্ডও (অর্গানাইজড ক্রাইম-উত্তর) আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
পিবিআই জানায়, ১৬ অক্টোবর সকালে জামালপুর সদর উপজেলার চর যথার্থপুর ভাটিপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একাধিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দিতে তিনি এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগীদের নামও উল্লেখ করেছেন।
এতে বলা হয়, ভুক্তভোগী নুসরাত মরিয়ম (ছদ্মনাম) টিকটকে ‘তান্ত্রিক গুরু জীবন কবিরাজ’ নামের একটি আইডির ভিডিও দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পারিবারিক সমস্যার সমাধান চেয়ে তিনি ইমু ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তাঁকে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। পরে কবিরাজির বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে বিকাশের মাধ্যমে মোট ছয় লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠান ভুক্তভোগী। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে বিভিন্ন অলৌকিক শক্তির ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।
মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় ৪ জুলাই অভিযোগ দায়ের করা। পরে অক্টোবর মাসে পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডও (উত্তর) মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হক।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, মিজানুর বিভিন্ন টিকটক আইডি ব্যবহার করে নিজেকে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত পাগলা মসজিদের খাদেম হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি প্রাচীন কবিরাজির উপকরণ হিসেবে হাড়, মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসব ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিতেন তিনি।
পিবিআইয়ের দাবি, ভুক্তভোগীও তাঁর ভিডিও দেখে বিশ্বাস স্থাপন করেন। পরে কথিত কবিরাজির উপকরণ কেনার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের এসআইঅ্যান্ডওর বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ধর্মীয় বিশ্বাস, কুসংস্কার ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে প্রতারণাকারী সংঘবদ্ধ চক্র প্রতারণা করে আসছে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কথিত তান্ত্রিক, কবিরাজ বা অলৌকিক সমস্যা সমাধানের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।’
পিবিআই জানিয়েছে, সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামাল (বিপিএম-সেবা) এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে। অভিযানে ও তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন সার্বিক সহযোগিতা করেন। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।
আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনাটির তদন্ত করছে পুলিশ। ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ কথা বলেছেন। রোববার বেলা ১২টায় মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রকাশ্যে অস্ত্র তাক করে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয়ের তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শনিবার বিকেলে ইশরাক তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ ঘটনার একটি ভিডিও আপলোড করেন। আইন ভেঙে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। আইনজ্ঞরা এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী যে ভিডিও আপলোড করেছেন তার শিরোনাম– ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। এতে দেখা যায়, ইশরাক অস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নামার পর তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। এ সময় কয়েকজন যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ প্রতিমন্ত্রী তখন বলেন, ‘পুলিশ আসবে, তারপর কথা হবে।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু ছিলেন। পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষী ছিলেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায়।
এলাকার লোকজন জানান, শনিবার ইশরাক হোসেন রেললাইন-সংলগ্ন বস্তিতে মাদকের আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালান । এ সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর আগেও এই আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
গেণ্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কিনা, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, তাঁর হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ কিনা? পাশাপাশি বৈধ হলেও এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা আইনসম্মত হয়েছে কিনা? আইনজ্ঞরা বলছেন, একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নির্বাহী বিভাগের প্রধান বা নীতিনির্ধারক মাত্র। মাঠ পর্যায়ে সরাসরি পুলিশি অভিযান পরিচালনা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো বিশেষ ক্ষমতা সংবিধান বা ফৌজদারি কার্যবিধি তাদের দেয়নি।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০১৬’ অনুযায়ী বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রদর্শনীবাজি বা হয়রানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অপরাধী ধরার জন্য বা কোনো আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগত অস্ত্র প্রকাশ্যে উঁচিয়ে অভিযান চালানো এই নীতিমালার পরিপন্থি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
উচ্চ আদালতের আইনজীবী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা-২০২৫-এর ২৫ (ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের লাইসেন্সের বিপরীতে নেওয়া অস্ত্র শুধু আত্মরক্ষার জন্য বহন ও ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যের ভীতি বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে এমন ক্ষেত্রে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধে অনূর্ধ্ব ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে একের পর এক সফল অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালানের নতুন রুট ও কৌশলের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কমলাপুর রেলওয়ে ফরেন পোস্ট অফিসে পরিচালিত ধারাবাহিক পৃথক অভিযানে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ বিপুল পরিমাণ ওষুধ, আমদানি-নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, বিদেশি সিগারেট, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মদ জাতীয় পানীয় জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
অভিযানগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভায়াগ্রাসহ সংবেদনশীল ওষুধ আনা এবং বিমানবন্দর থেকে ডাক বাছাই কেন্দ্র হয়ে রেলপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম জিপিওতে পণ্য পাঠানোর নতুন একটি চোরাচালান কৌশল প্রকাশ পেয়েছে।
বিমানবন্দরে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিন উদ্ধার (জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ)
১৪ অক্টোবর ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের যাত্রী জাহাঙ্গীরের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ প্রায় ৫৫ কেজি ওষুধ আটক করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভায়াগ্রার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং ইনসুলিনের মতো তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধের কোল্ড চেইন না মেনে পরিবহন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে।
কমলাপুরে ডাক ও রেলপথের নতুন রুট শনাক্ত
১৩ অক্টোবর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ফরেন পোস্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭,৭৮৭ পিস আমদানি-নিষিদ্ধ ‘গৌরি ক্রিম’ এবং ৩১টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আকাশপথে দেশে আসার পর পণ্যগুলো বিমানবন্দরের ডাক বাছাই কেন্দ্র ও কমলাপুরের আরএমএস সেন্টার হয়ে চট্টগ্রাম জিপিওতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই ঘটনায় বিমান, ডাক ও রেল পরিবহন শৃঙ্খলে সমন্বিত কাস্টমস নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যান্য উদ্ধার ও ব্যাগেজ তল্লাশি
১৩ অক্টোবর : বিভিন্ন ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাগেজ থেকে ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ২৮৮ কার্টন সিগারেট, ৪৬ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১৭ লিটার মদ আটক করা হয়।
১৪ অক্টোবর : থাই এয়ারওয়েজ, সালাম এয়ার ও অন্যান্য ফ্লাইটের যাত্রী এবং পরিত্যক্ত কার্টন থেকে উদ্ধার করা হয় যৌথভাবে মোট ২৪৩ কার্টন সিগারেট, ৩৮ কেজি কসমেটিকস ও ১৮.১৮ কেজি গৌরি ক্রিম।
দুই দিনের অভিযানের মোট হিসাব
- বিদেশি সিগারেট ৫৩১ কার্টন;
- আমদানি-নিষিদ্ধ গৌরি ক্রিম (কমলাপুর)৭,৭৮৭ পিস;
- নিষিদ্ধ ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম (বিমানবন্দর)৬৪.১৮ কেজি;
- অন্যান্য কসমেটিকস ৬৮ কেজি;
- ওষুধ (ভায়াগ্রা ও ইনসুলিনসহ)৫৫.৮ কেজি;
- স্বর্ণালংকার১০০ গ্রাম;
- ৩২টি ল্যাপটপ এবং ৩টি মোবাইল;
- মদ ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়১৭ লিটার।
এক নজরে মোট জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য: ১ কোটি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১০০ টাকা।
এই ধারাবাহিক সফল অভিযান কেবল শুল্ক ও রাজস্ব সুরক্ষাই করেনি, বরং ওষুধের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিমানবন্দর, ডাক বাছাই কেন্দ্র ও রেলে এই সমন্বিত নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরের স্বর্ণ চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহবাগ থানা পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত ৩ জনকে চোরাই স্বর্ণ সহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। লিপি কর্মকার (২৯) ২। অর্ণব রায় দীপ্ত (৩০) ও ৩। মোঃ মুহিন (৩৭)।
শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা চোর শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরের অনুমান ৬ আনা ওজনের স্বর্ণ যার আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি শাহবাগ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চোর শনাক্তকরণে মাঠে নামে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ডিএমপির উত্তরখান থানাধীন দোবাদিয়া এলাকায় রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে চুরির সাথে সরাসরি জড়িত আসামি লিপি কর্মকার ও তার স্বামী অর্ণব রায় দীপ্ত-কে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
পরবর্তীতে আসামীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণখান থানাধীন সাদিয়া জুয়েলার্সে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৩টায় দোকান মালিক মুহিনকে গ্রেপ্তার করে তার হেফাজত থেকে ২ আনা ১ রতি ৪ পয়েন্ট স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত লিপি কর্মকার ও অর্ণব রায় দীপ্ত বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় চুরির দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ফ্লাইটের তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের সি-শিফটের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, মহাপরিচালকের কাছ থেকে পাওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে সতর্ক অবস্থান নেন কর্মকর্তারা। এ সময় শারজাহ থেকে ঢাকাগামী G9 571 ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় যাত্রী মোহাম্মাদ শাহিনের ব্যাগেজ থেকে ৩২০ কার্টন সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ আটক করা হয়। কে এম ফজল হকের ব্যাগেজ থেকে ১২৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ এবং বেলায়েত হোসেনের এর ব্যাগেজ থেকে ১৮৬ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
সব মিলিয়ে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ৬৩১ কার্টন বিদেশি সিগারেট, একটি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ আটক করা হয়েছে। আটক পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, যাত্রী প্রোফাইলিং ও নিবিড় নজরদারির মাধ্যমে বিমানবন্দরে চোরাচালান এবং ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।