ছবি- চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪০ এএম

‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পেছনে দেয়াল ঘেঁষে একটু খালি জায়গা। ৬ অক্টোবর, বিকেল ৫টা। আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শোওয়া। নড়াচড়া তেমন নেই। ডান পায়ের গোড়ালিতে ব্যান্ডেজ করা। পাশ দিয়ে একের পর এক মানুষ যাচ্ছে, কারও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। আশপাশের কেউও জানেন না লোকটি কোথা থেকে এসেছেন, পরিবার কোথায়। লোকটির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পাওয়া গেল না। 

‎

‎লোকটি যে স্থানে শুয়ে ছিলেন, ওইদিন সকালে সেখান থেকেই একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয় বের করতে পারেনি পুলিশ। একই দিন কাছাকাছি সময়ে ওই স্থান থেকে কিছুটা দূরে পাওয়া যায় আরও একজনের মরদেহ। তিনিও অজ্ঞাতপরিচয়। পুলিশ সদস্যদের ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শুধু এই দুজন নয়, শাহবাগ থানাধীন এলাকায় গত এক মাসে অন্তত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কারও পরিচয় বের করা যায়নি। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে।

‎

‎স্থানীয়রা জানান, ঢাকা মেডিকেলের আশপাশসহ এই এলাকায় বিপুলসংখ্যক ভাসমান মানুষ থাকে। পুরো শাহবাগ এলাকায় এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। এর মধ্যে আছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এলাকা, চাঁনখাঁরপুল ও হাইকোর্টের মাজার, দোয়েল চত্বর ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। 

‎

‎পুলিশের তথ্যমতে, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায় শাহবাগ এলাকায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর এ এলাকায় এক দিনে তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। আগের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর একই এলাকা থেকে চারজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। 

‎রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে। জায়গাটি একই সঙ্গে পরিচয়হীন মানুষের ঠিকানাও। মৃত্যুর পর যাদের অধিকাংশের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না।

‎

‎শাহবাগ থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে শাহবাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ৬৫ জনের পরিচয় মেলেনি। এর আগে ২০২৫ সালে ৮১টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হয় ১৩ জনের। গত ২১ মাসে উদ্ধার হওয়া ১৬০টি মরদেহের মধ্যে পরিচয় মিলেছে ২৭টির। পরিচয়হীন থেকে গেছেন ১৩৩ জন, যা শতকরা হিসাবে অজ্ঞাতনামা ৮৩ শতাংশ। 

‎

‎এদিকে ডিএমপির তথ্য মতে, ২০২৫ সালে ঢাকা মহনগর পুলিশের আট বিভাগে ২১৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮১টি হয়েছে রমনা বিভাগে, যার বেশির ভাগই শাহবাগ থানাধীন এলাকার। অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে তেজগাঁওয়ে ৫১টি, ওয়ারীতে ২১, লালবাগে ১৭, মতিঝিলে ১৭, মিরপুরে ১২, উত্তরায় ৯ এবং সবচেয়ে কম গুলশানে ৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে ৭৬টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩১টি রমনার এবং অধিকাংশই শাহবাগ এলাকার। এর পরের স্থান মতিঝিলের ১৪টি। তারপর ওয়ারী ১৩টি।

‎

‎পুলিশের তথ্য ও মরদেহের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ৪০ বছরের বেশি। তাদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া, দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থাকা এবং শরীরে পচন ধরার মতো জটিলতায়ও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।

‎

‎পুলিশ ও চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাতপরিচয় মানুষগুলো মূলত ভাসমান। তাদের নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই, পুষ্টিকর খাবারও খেতে পারে না। দেখা যায়, ঠান্ডাজনিত রোগ, বার্ধক্যজনিত জটিলতা বা অন্যান্য অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে তুলনামূলক কম বয়সে তারা মারা যান।

‎

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, গৃহহীন, পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন, মানসিকভাবে অসুস্থসহ মানুষ নানা কারণে ভবঘুরে হয়, সড়কে আশ্রয় নেয়। রাজধানীতে এসব মানুষের পরিচয় বা তালিকা সরকারের পক্ষ থেকে করা প্রয়োজন। এতে একদিকে তারা কোনো অপরাধে জড়িয়ে গেলে তা যেমন চিহ্নিত করা সম্ভব, অন্যদিকে মৃত্যুর পরও তাদের পরিচয় জানা ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সহজ হবে। এটি সরকারের অন্যতম জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব। 

‎

‎শাহবাগ এলাকায় কেন এত ভাসমান মানুষ


‎গত দুই মাসে শাহবাগ এলাকার ভাসমান লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শাহবাগ এলাকায় পুলিশের তৎপরতা কম থাকায় জায়গাগুলোকে নিরাপদ মনে করেন তারা। এ ছাড়া হাইকোর্ট ও দোয়েল চত্বরের পাশের মাজারে দিনে দুবেলা বিনামূল্যে খাবার পাওয়ায় এসব এলাকায় থাকেন অনেকে। খাবারের জন্য জাতীয় স্টেডিয়াম, পুরান ঢাকা ও কমলাপুর থেকেও অনেকে আসেন।

‎

‎জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে শাহ খাজা শরফুদ্দীন চিশতির (রহ.) মাজারের (হাইকোর্ট মাজার) পক্ষ থেকে প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। সেখানে আগে থেকেই ভিড় করে ভবঘুরে ও ভাসমান মানুষ।

‎

‎মাজারের বাবুর্চি মো. নাজমুল হোসেন জানান, প্রতিদিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় প্রায় ৫০০ জনের খাবার রান্না করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে অর্ধেকই থাকে ভবঘুরে প্রকৃতির মানুষ। তারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে জড়ো হন।

‎

‎এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান, অমর একুশে হল ও আবাসিক এলাকার সামনে আনন্দ বাজার থেকে ভবঘুরে লোকজন খাবার সংগ্রহ করেন। তাই এসব এলাকায় অনেকে থাকেন।

‎

‎দোয়েল চত্বরের পাশে ঢাকা গেটে সাগর নামে মধ্যবয়সী এক ভবঘুরে জানান, পরিবার ছেড়ে পাঁচ-ছয় বছর ধরে দোয়েল চত্বরের আশপাশে থাকেন। এ সময়ে তাঁর আশপাশে থাকা সাত-আটজন মারা গেছেন। সারাদিন ওই এলাকাতেই থাকেন। তিনিসহ তাঁর মতো সবাই পাশের মাজার থেকে খাবার খান। হাইকোর্টের মাজার গেটে নূর আলম নামের এক ভবঘুরে বলেন, ‘কোনো কাজ করি না। মাজার থেকে খাবার খাই।’


‎ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশে জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি অনেক দিন ধরে অসুস্থ। বেশি নড়াচড়া করতে পারেন না। খাবার দেন আশপাশের দোকানিরা।

‎

‎বছরে গড়ে ২৯২ অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত


‎ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভাগটিতে এক হাজার ৬৯০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ২৪৮টি, ২০২২ সালে ২৩০টি, ২০২৩ সালে ২৫০টি, ২০২৪ সালে ৩২৪টি, ২০২৫ সালে ৩৮৪টি এবং চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ২৫৪টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এভাবে প্রায় পৌনে ছয় বছরে গড়ে ২৯২টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। শীতকালে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।

‎

‎চিকিৎসকরা জানান, অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ময়নাতদন্তের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। মরদেহের দাঁত ও হাড়ের নমুনা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়। এসব নমুনা প্রয়োজন অনুযায়ী ঢামেক ও সিআইডিতে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে স্বজনের সন্ধান পাওয়া গেলে ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

‎

‎ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. মমতাজ আরা বলেন, বিভিন্ন স্থানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অনেকেই সেপটিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একে একে অকার্যকর হয়ে গেলে এ ধরনের রোগীরা সেপটিক শকে মারা যান। 

‎

‎পরিচয় শনাক্তে পুলিশ যা করে


‎পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। পরে সিআইডি ও পিবিআইর মাধ্যমে এসব তথ্য জাতীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র কখনও করা হয়নি তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। আবার মরদেহ পচে যাওয়ায় অনেক সময় আঙুলের ছাপ বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।

‎

‎ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে সারাদেশের থানাগুলোতে বার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের মাধ্যমেও পরিচয় শনাক্তের জন্য তথ্য প্রচার করা হয়। দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলে মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়। 

‎

‎শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের যেসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাদের অধিকাংশেরই কোনো পরিচয়পত্র থাকে না। এ কারণে বেশির ভাগ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। পরিচয় না পেলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে সেগুলো আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

‎

‎বছরে ৫৭৭ বেওয়ারিশ লাশ দাফন 


‎আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৬০টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৬৪৪টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৩ সালে ৪৯০টি মরদেহ দাফন করা হয়। এই চার বছরে রাজধানীতে মোট দুই হাজার ১৬৪টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এসব মরদেহ রাজধানীর রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

‎

‎হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বছরে গড়ে প্রায় ৫৭৭টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেওয়ারিশ মরদেহ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেগুলো রায়েরবাজার ও জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

‎

‎আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দাফন সেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা মরদেহের তালিকা সংরক্ষণ করা হয়। মরদেহ দাফন করার পর কোনো পরিবার-স্বজনের খোঁজ পাওয়া গেলে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কবর চিহ্নিত করে দেওয়া হয়।




‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. দিদার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৫ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কুখ্যাত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. দিদারকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বোটঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ জানায়, জাওরা রাব্বি ও ভান্ডারি ইমনের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য দিদার। তার বাবার নাম ইউসুফ আলী এবং মায়ের নাম কুলসুম বেগম। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের কাটাশুরের নামার বাজার এলাকায় থাকতেন।


গ্রেপ্তার দিদারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও মারামারিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা।


তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর রায়েরবাজার বোটঘাট এলাকায় রায়েরবাজার ফাড়ির আক্কেল আলী নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক ডাকাতি প্রস্তুতি মারামারি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের আলোচিত কিশোর গ‍্যাং ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ পিএম

 রাতের বেলা খানিকটা শীতের আবহ তৈরি হলেও ঢাকার চিত্র ভিন্ন। তাপমাত্রা খানিকটা কমার মধ্য দিয়ে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব টের পাওয়া গেলেও গরমের রেশ এখনো বিদ্যমান। তবে এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। শীত না এলেও এই মৌসুমের কিছু সবজি বাজারে এসেছে। বরাবরের মতোই এসব সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে পুরনো সবজিগুলোর দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার বাড্ডা, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, মগবাজার ও কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতোই এবারও আগাম বাজারে এসেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম। যে সবজিগুলোর শীতের মধ্যে ব্যাপক সরবরাহ যেমন থাকে তেমনি ভোক্তার চাহিদাও থাকে ব্যাপক। তবে আগাম সবজির উৎপাদন কম থাকায় পণ্যগুলোর দাম থাকে খানিকটা চড়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।


বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে এখন ছোট ও মাঝারি আকারের ফুলকপি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দামে। একইভাবে বাজারে আসা প্রতিটি বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে নতুন আসা শিমের। নতুন শিমের স্বাদ নিতে ভোক্তাকে গুণতে হচ্ছে অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। যদিও এই দাম গত সপ্তাহের তুলনায়  কেজিতে ২০ টাকা বা তারও বেশি কম। এ ছাড়া কোথাও কোথাও অবশ্য অল্প পরিমাণে মুলাও বিক্রি করতে দেখা গেছে।  


মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম কে বলেন, সপ্তাহ দুয়েক ধরেই ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম বাজারে এসেছে। তবে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দামও কমছে।


বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজির সরবরাহ পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলো এখনো বাজারে ভোক্তার চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে পটোল, বেগুন, ঝিঙা, বরবটি, লাউ, ঢ্যাঁড়স-সহ নানান সবজি রয়েছে। পূজার ছুটির কারণে একদিকে ক্রেতা কম অন্যদিকে নতুন সবজির আগমন, দুই চাপে দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।


ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৫ পিএম

রাজধানীর আদাবর এলাকায় সিটি করপোরেশনের উন্নয়নকাজে বাধা এবং ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।


গতকাল বুধবার আদাবর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


ডিবি বলছে, আদাবর এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজের উন্নয়নকাজে বাধা দেওয়া এবং স্থানীয় ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


আজ ডিবি পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

রাজধানীর যানজট কমানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে চারটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব উদ্যোগের বিষয়ে জানা গেছে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহনের চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সুফল পেতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়নের সময়সীমা, বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।


সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পদক্ষেপ নিলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া কঠিন। পুরোনো বাস অপসারণ, টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা, সড়ক রুট সংস্কার এবং অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ- সব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।’


রাজধানীর যানজট এখন শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ নয়; এটি নগর অর্থনীতি, কর্মঘণ্টা, জ্বালানি ব্যয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে দীর্ঘ সময় সড়কে কাটাতে হয়। এতে উৎপাদনশীলতা কমে ও নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন সড়ক ও উড়ালসড়ক নির্মাণ করে ঢাকার যানজটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিদ্যমান সড়কের কার্যকর ব্যবহার, বাসের রুট ও চলাচল ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহনের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করাও জরুরি।


রাজধানীর সড়কে চলাচলকারী পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসের একটি অংশ যান্ত্রিক ত্রুটি, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনের কারণে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গণপরিবহনের মান উন্নয়নের একটি পদক্ষেপ হতে পারে।


পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ফলে গণপরিবহনের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ কারণে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা যাচাই এবং পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।


একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোর অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় ও পরিবেশগত সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


এদিকে সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী ও গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা, পার্কিং এবং আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন নগর চলাচলে প্রভাব ফেলে। এসব এলাকার টার্মিনাল স্থানান্তর বা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হলে কেন্দ্রীয় সড়কে বাসের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে টার্মিনাল স্থানান্তর শুধু বাস রাখার স্থান পরিবর্তনের বিষয় নয়। নতুন টার্মিনালের অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ, যাত্রীদের যাতায়াতের সময়, ভাড়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গণপরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিতে হবে। শহরের প্রান্তে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলেও সেখান থেকে গন্তব্যে যাওয়ার পর্যাপ্ত বাস, মেট্রোরেল বা অন্যান্য পরিবহন সংযোগ না থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।


আন্তঃজেলা বাসের যাত্রা শুরু ও শেষের স্থান এবং মহানগরীর অভ্যন্তরীণ বাস চলাচলের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। টার্মিনালে প্রবেশ ও বের হওয়ার নির্দিষ্ট পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, বাসের অপেক্ষমাণ জায়গা এবং পার্কিংয়ের ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা গেলে আশপাশের সড়কে চাপ কমানো সম্ভব।


রাজধানীর পুরোনো ৩১টি সড়ক রুট সংস্কারের উদ্যোগ গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংস্কারের আওতায় কোন কোন রুট রয়েছে এবং কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা জরুরি।


রুট সংস্কার বলতে শুধু সড়কের উপরিতল মেরামত নয়। বাস চলাচলের পথ, যাত্রী ওঠানামার স্থান, স্টপেজের অবস্থান, সংযোগকারী সড়ক এবং যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


ঢাকার বিভিন্ন সড়কে একই পথে একাধিক বাস কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে বাস থামানো এবং যাত্রী তোলার জন্য হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আবার কিছু এলাকায় যাত্রীর তুলনায় বাসের সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। রুট সংস্কারের পরিকল্পনায় এসব সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।


যাত্রী চলাচলের তথ্য, কর্মব্যস্ত সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের অবস্থান এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য পরিবহনের সঙ্গে সংযোগ বিবেচনায় নিয়ে রুট পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বাসের সময়সূচি, যাত্রীর অপেক্ষার সময় এবং রুটভিত্তিক পরিবহন সক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে।


রুট পরিবর্তনের ফলে কোনো এলাকার যাত্রী যেন সরাসরি পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প রুট ও সংযোগকারী বাস চালু করা গেলে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।


রাজধানীর সড়কে অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও সরকারের পরিকল্পনার অংশ। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান চলাচল, যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে।


নতুন নীতিমালায় যানবাহনের নিবন্ধন ও পরিচিতি, চালকের যোগ্যতা, নিরাপত্তার মান, অনুমোদিত চলাচল এলাকা, পার্কিং, যাত্রী ওঠানামা এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নির্ধারণ করা যেতে পারে। কোন সড়কে কোন ধরনের যান চলাচল করবে, তা সড়কের ধারণক্ষমতা, যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।


তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা, নির্ধারিত স্ট্যান্ড এবং বাস্তবসম্মত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা না থাকলে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সুফল সীমিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট চালক, মালিক, যাত্রী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়ন সহজ হতে পারে।


সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, সড়ক নিরাপত্তা এবং গণপরিবহনের সহজলভ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’


ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন জরুরি। পুরোনো বাস সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প পরিবহনের ব্যবস্থা, টার্মিনাল স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন স্থানের সঙ্গে নগর পরিবহনের সংযোগ, রুট সংস্কারের সঙ্গে বাস পরিচালনার সমন্বয় এবং অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিকল্প যাতায়াতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।


এ জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহনমালিকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। কোন সংস্থা কী কাজ করবে, কত সময়ের মধ্যে করবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে।


পরিবহন শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, বাসের ফিটনেস পরীক্ষা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত স্টপেজ কার্যকর করা এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়নে বাসের গড় যাত্রাসময়, স্টপেজে অপেক্ষার সময়, যানজটের স্থায়িত্ব, সড়ক দুর্ঘটনার হার, গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা এবং পরিবহনের নিয়মিত চলাচলকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবে কতটা সুফল দিচ্ছে, তা পরিমাপ করা সহজ হবে।


রাজধানীর সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু নীতিমালা বা অবকাঠামোগত পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, আইন প্রয়োগ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা। চারটি উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট কমানো ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টগণ।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩১ পিএম

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টায় ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় ৫৮টি মামলা দায়ের করা হয়।


বুধবার (২১ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ ১৪৮, তেজগাঁও বিভাগ ৯৩, লালবাগ বিভাগ ৬১, ওয়ারী বিভাগ ৫৪, রমনা বিভাগ ৪৮, গুলশান বিভাগ ৩৭, মতিঝিল বিভাগ ৩৫, উত্তরা বিভাগ ৩২, গোয়েন্দা বিভাগ ৯ ও সিটিটিসি বিভাগ ১ জনকে গ্রেপ্তার করে।


অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ১১ হাজার ৭০১ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৮৫০ গ্রাম গাঁজা, ২ গ্রাম হেরোইন, মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার ৬৩৬ টাকা, ১টি মোটরসাইকেল ও ৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২১ পিএম

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এ পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তরা বিভাগ। অভিযানে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জন তরুণ ও ২৬ জন তরুণী রয়েছেন।


সোমবার গভীর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।সেখানে মদ, গাঁজা, কনডম এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া গেছে। এছাড়া আটক ৮৪ তরুণ-তরুণীর মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তার দুই মেয়েও রয়েছেন।


এদিকে এ ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।


পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাড়িটি তিনতলা। সাড়ে ছয় কাঠা জমির একটি অংশে নির্মিত বাড়িটি অনলাইনে ‘এয়ারবিএনবি’ অ্যাপসের মাধ্যমে ভাড়া দেন তিনি। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি ভাড়া নিয়ে কেউ রাতযাপন করতেন আবার কেউ ডিজে পার্টি করতেন। বাড়িটি দেখভালের জন্য মাহবুব আলম নামের একজন কো-হোস্টও নিয়োগ দেন আব্দুল্লাহ আল জহির। ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন পার্টির নামে মাঝে মধ্যেই চলত মাদক সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ড। অনলাইনে এয়ারবিএনবি অ্যাপসের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া বাড়ি থেকে আয়ের ৭০ ভাগ যেত আব্দুল্লাহ আল জহিরের অ্যাকাউন্টে।


গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবির বলেন, পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি-১ এর ওই বাড়িটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বাড়িটিতে উঠতি বয়সি ছেলে-মেয়েরা অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাত। ডিজে পার্টির নামে এখানে অসামাজিক ও নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চলত। এখানে অভিযান চালিয়ে মদ, গাঁজা, কনডম এবং বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া গেছে।


তিনি বলেন, সেখানে মোট পাঁচটি রুম আছে। অনলাইনে বুকিং দেওয়া হতো। একেকটি রুম ১০ জনে ভাড়া নেয়। আবার যদি অতিরিক্ত লোকজন থাকে, জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেয় রেজিস্ট্রেশন ফি। সেখানে পুরো ডিজে পার্টি বসায়। দুপুর ১২টা থেকে পরের দিন সকাল ৮টা বা ১১টা পর্যন্ত চলে এসব কর্মকাণ্ড। মাসে ১৮ থেকে ২০টি প্রোগ্রাম হয়। একেকটি প্রোগ্রামে লাখখানেক টাকা ভাড়া নেয়। 


এদিকে প্রশ্ন উঠেছে ভাটারা থানা এলাকায় তার সাড়ে ৬ কাঠা জমি কেনার টাকার উৎস নিয়েও। পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে অবাধে অপকর্ম চললেও এতদিন প্রশাসন ছিল নিশ্চুপ-এমন দাবি খোদ পুলিশেরই। 


জানা গেছে, এয়ারবিএনবি হলো একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস বা প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষ তাদের বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ভিলা বা রুম স্বল্প ও দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটক বা অতিথিদের কাছে ভাড়া দিতে পারেন এবং অতিথিরা বুকিং করতে পারেন। 


ডিবি জানিয়েছে, রাতভর ডিজে পার্টি, মাদক সেবনসহ মাদকের কারবার পরিচালিত হয়-এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা থানাধীন পুলিশ হাউজিং-১ এর ওই বাড়িতে অভিযান চালায় গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের একটি দল। অভিযানে ২৬ জন নারী ও ৫৮ জন পুরুষকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে মাদকদ্রব্য। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও আছেন। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়ি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ ও কনডম জব্দ করা হয়েছে। ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।


এ ঘটনার পর মঙ্গলবার পুলিশের আইজি মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক অফিস আদেশে আব্দুল্লাহ আল জহিরকে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখা থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। 


অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির বলেন, আমি অনলাইনে বাড়িটি ভাড়া দিয়ে থাকি। কিছু কঠোর নিয়মও আছে। সেখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই আমার। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে আমি বাড়ি ভাড়া দিতাম না। দেশ-বিদেশের অনেকেই এ বাড়িটি ভাড়া নেয়। কেউ ভাড়া নিয়ে কোনো অসামাজিক কাজ করতে চাইলে অতীতে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। 


তিনি বলেন, এবার একটি জন্মদিনের পার্টির কথা বলে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু তারা যে এগুলো করবে, মদ আনবে সেটা আমি জানি না।