আদ-দ্বীন হাসপাতাল

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:৫৪ এএম

হাসপাতালে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। একই হাসপাতাল টিকিয়ে রাখতে সরকারের পেছনে ‘ঘুষের টাকা’ নিয়ে ঘোরার অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি। আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন। 


সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কড়া পদক্ষেপের পর হাসপাতালটির বর্তমান পরিস্থিতি, আইনি লড়াই এবং শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি এই সাংবাদিক সম্মেলন ডাকেন।


ডা. শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সরকার যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী হাসপাতালের প্রতিটি কক্ষের কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তা দ্রুত সহনীয় মাত্রায় আনার কাজ চলছে। এছাড়া ভবন থেকে বেকারি স্থানান্তরের কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


তিনি বলেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে যে কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়। এই কারণে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।


হাসপাতালের লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন বা ঘুষের চেষ্টার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে আদ্-দ্বীনের মালিক বলেন, আমরা মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি। ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে মন্ত্রী মহোদয় নিজে কথা বললেই ভালো হয়। লাইসেন্স বাতিল ও হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে আপিল করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকোর্টে নতুন কোনো রিট করার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানে না। তবে মঙ্গলবার আমরা আপিল করবো।


হাসপাতাল ভবনটির কাঠামোগত উপযোগিতা নিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, ভবনটি হাসপাতালের জন্য অনুপযোগী বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে মতামত দেওয়া হয়েছে, সেটি যদি আইনি ও কারিগরিভাবে প্রমাণিত হয়, তবে আমরা এই ভবন ভেঙে ফেলবো।


লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই তারা বসে নেই। হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করতে বর্তমানে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।


এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ জারি করা হয়। হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। 


গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই নোটিশের যে জবাব দাখিল করে, তা সরকারের কাছে সন্তোষজনক প্রতীয়মান হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হলো।


এর আগে দুপুরের দিকে সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। 


তিনি জানিয়েছিলেন, তদন্তে দায় ও গাফিলতি প্রমাণিত হলে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন বাতিল করা হবে। তার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ আসে।


কোরবানি ঈদের ঠিক আগে, ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

রাজধানীর উত্তরখানে পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর হোসেনের উপর ‘হামলার’ অভিযোগ উঠেছে।


আজ রোববার ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন।


উত্তর সিটির অঞ্চল-৮ এর অধীন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এলাকায় দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ।


জরুরি বার্তায় বলা হয়, “উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস এলাকায় ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নকর্মীদের ওপর স্থানীয় কিছু 'সন্ত্রাসী' অতর্কিত আক্রমণ করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপকমিশনার।


“কিন্তু সেখানে হামলাকারীরা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপরও চড়াও হয় এবং হামলা চালায়।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৬ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়া যাওয়ার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। পরে বস্তা খুলে দেখা যায়, বোমা নেই তাতে।


ডিএমপি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে পাওয়া বস্তায় ছিল জর্দার কৌটা ও পান। আর ফার্মগেট এলাকায় পাওয়া বস্তায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।


আজ শনিবার ডিএমপির মিডিয়া শাখা জানায়, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে যায়। প্রাথমিকভাবে ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে কৌটাসদৃশ একটি বস্তুর ছবি দেখা যায়।


পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।


ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের বস্তার ঘটনায় ডিএমপি জানায়, তেজগাঁও থানার ফার্মগেট এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বস্তাকে ঘিরেও বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই বস্তার ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু পাওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।


শনিবার দুপুরে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, মিরপুর ও তেজগাঁও-দুই জায়গায় একসঙ্গে বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশের দল কাজ করছে।


মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি বস্তু পাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। সিটিটিসির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। এটি আইইডি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


অন্যদিকে, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পিলারের কাছে একটি বস্তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান। সন্দেহজনক হওয়ায় সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ডাকা হয়েছে।


ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমসহ তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা উপস্থিত রয়েছেন।


এর মধ্যে বেলা ১টা ২৮ মিনিটে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনো পাশ দিয়ে সাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক পুনরায় ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলশান, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিকেল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।


প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন যে তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে দেখতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কেমন চলছে, তা দেখতে তিনি নিজেই সরেজমিনে বের হন।


পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।

সর্বশেষ সব খবর

রাতের ঢাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ এএম

রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে আবারো গভীর রাতে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালান।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে এ পরিদর্শনে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের অবস্থা, সড়কবাতির কার্যকারিতা, রাতের যান চলাচল এবং নগরসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। 


সফরের একাধিক পর্যায়ে তিনি কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামিয়ে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।


প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর রাতের বর্জ্য অপসারণ ও নগর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরাসরি দেখতে এবং সেবাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সেবার মান, কর্মপরিবেশ এবং দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।


জানা যায়, নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এ কারণে মাঠপর্যায়ে কোথাও কোনো গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা বা সেবা প্রদানে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।


এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও একইভাবে গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

নাসিমা বেগম

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ এএম

অভাবের সংসারে কিছু অর্থ বাঁচাতে ঢাকার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ভরসা করেন টিসিবির পণ্যের ওপর। তাদেরই একজন ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাসিমা বেগম (৪৫)।মঙ্গলবার দুপুরে খাবারের বিরতির এক ঘণ্টা সময় কাজে লাগাতে না খেয়েই টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।


কিন্তু কম দামের চাল তখনও হাতে আসেনি নাসিমার। তার আগেই মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দেয়াল ধসে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। দুপুর ১টা ২৭ মিনিটের দিকে মিরপুর-২ নম্বরের লাভ রোডে কলেজটির পেছনের ৮ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১২০ ফুট অংশ ধসে পড়ে।


ঠিক সেসময় দেয়াল সংলগ্ন সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন নাসিমাসহ প্রায় ৫০-৬০ জন নারী। হঠাৎ ধসে পড়া দেয়ালের চাপায় প্রাণ হারান নাসিমাসহ দুজন। আহত হন আরও অন্তত ৬ জন।


মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পঙ্গু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নাসিমার পরিচয় নিশ্চিত করেন তার মা শাহিদা বেগম।


‘আমারে এখন ক্যাডা খাওয়াইব’

মেয়ের মৃত্যুশোকে কাতর শাহিদা বেগম আর্তনাদ করছিলেন, ‘আমারে এখন ক্যাডা খাওয়াইব।’


মিরপুর-২ জনতা হাউজিং সংলগ্ন এক টিনশেড ঘরে নাসিমা ভাড়া থাকতেন বলে জানান তার মা। ১৩ হাজার টাকা বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন নাসিমা।


নাসিমার স্বামী আবদুল হানিফ বর্তমানে কুয়েতপ্রবাসী। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে আছেন, দুজনই বিবাহিত। ৬ মাস আগে ধার-দেনা করে স্বামীকে বিদেশ পাঠান নাসিমা। 


কিন্তু কুয়েত গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হানিফ নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারতেন না। স্বল্প আয় দিয়ে বাসা ভাড়া আর দেনা শোধের পর কোনোরকমে নাসিমা সংসার চালাতেন বলে জানান শাহিদা।


মেয়ের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে শাহিদা বেগম জানান, সংসারের খরচ সামলানোর পর মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নাসিমা।


শাহিদা বলেন, ‘আজ দুপুরের খাবার খেতে বাসায় আসার পর প্রতিবেশীর কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাকের খোঁজ জানতে পারে নাসিমা। খাবারের বিরতির এক ঘণ্টা সময় যেন নষ্ট না হয়, তাই না খেয়েই ওই লাইনে গিয়ে দাঁড়ায় আমার মেয়ে।’


‘দেয়াল চাপায় আমার মেয়ে আর নাই,’ বলেই কাঁদতে থাকেন শাহিদা।


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল ব্যাপারী বলেন, ‘কলেজের দেয়ালের অপর পাশে বসে চা খাচ্ছিলাম। দেয়াল ঘেঁষে সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি কলেজের দেয়াল ধসে পড়েছে। আশপাশে যারা ছিল তারা ইট-সুরকি সরিয়ে অনেককে বের করে। তাদের সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’


আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিয়ান বলেন, ‘দেয়াল ভেঙে পড়ার পর মানুষজন দৌড়ে উদ্ধার করতে যায়। কয়েক বছর আগে এই দেয়ালটা করা হয়। হয়তো বৃষ্টিতে দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে।’

সর্বশেষ সব খবর