শুক্রবার বিকেলে নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য এবং সড়কে আবর্জনা থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।
জানা গেছে, কাউকে কিছু না জানিয়ে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় গাড়ি চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন মৃধা ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালামকে তাঁর বাসার সামনে যেতে বলেন। সেখানে গেলে তিনি আমাদের গাড়িগুলো ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর তাঁর গাড়িতে আমাদের উঠিয়ে নেন। প্রধানমন্ত্রী কেন ডেকেছেন, কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা ছিল না।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘পরে দেখি, তিনি ঢাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেমন হচ্ছে, তা সরেজমিনে দেখতে বের হয়েছেন। কয়েকটি এলাকার অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।’
পরিদর্শনকালে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিনরোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি আগের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জানান, এসব এলাকায় বর্জ্য অপসারণে অবহেলার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তাঁর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির। দুজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র বলছে, কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কয়েকটি এলাকায় সেই নির্দেশনার ঘাটতি ধরা পড়ে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়া যাওয়ার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। পরে বস্তা খুলে দেখা যায়, বোমা নেই তাতে।
ডিএমপি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে পাওয়া বস্তায় ছিল জর্দার কৌটা ও পান। আর ফার্মগেট এলাকায় পাওয়া বস্তায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
আজ শনিবার ডিএমপির মিডিয়া শাখা জানায়, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে যায়। প্রাথমিকভাবে ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে কৌটাসদৃশ একটি বস্তুর ছবি দেখা যায়।
পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।
ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের বস্তার ঘটনায় ডিএমপি জানায়, তেজগাঁও থানার ফার্মগেট এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বস্তাকে ঘিরেও বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই বস্তার ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু পাওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।
শনিবার দুপুরে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, মিরপুর ও তেজগাঁও-দুই জায়গায় একসঙ্গে বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশের দল কাজ করছে।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি বস্তু পাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। সিটিটিসির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। এটি আইইডি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পিলারের কাছে একটি বস্তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান। সন্দেহজনক হওয়ায় সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ডাকা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমসহ তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা উপস্থিত রয়েছেন।
এর মধ্যে বেলা ১টা ২৮ মিনিটে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনো পাশ দিয়ে সাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর
রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক পুনরায় ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলশান, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিকেল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন যে তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে দেখতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কেমন চলছে, তা দেখতে তিনি নিজেই সরেজমিনে বের হন।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।
রাতের ঢাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে আবারো গভীর রাতে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে এ পরিদর্শনে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের অবস্থা, সড়কবাতির কার্যকারিতা, রাতের যান চলাচল এবং নগরসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের একাধিক পর্যায়ে তিনি কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামিয়ে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।
প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর রাতের বর্জ্য অপসারণ ও নগর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরাসরি দেখতে এবং সেবাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সেবার মান, কর্মপরিবেশ এবং দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
জানা যায়, নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এ কারণে মাঠপর্যায়ে কোথাও কোনো গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা বা সেবা প্রদানে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও একইভাবে গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।
নাসিমা বেগম
অভাবের সংসারে কিছু অর্থ বাঁচাতে ঢাকার অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ভরসা করেন টিসিবির পণ্যের ওপর। তাদেরই একজন ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নাসিমা বেগম (৪৫)।মঙ্গলবার দুপুরে খাবারের বিরতির এক ঘণ্টা সময় কাজে লাগাতে না খেয়েই টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু কম দামের চাল তখনও হাতে আসেনি নাসিমার। তার আগেই মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দেয়াল ধসে চাপা পড়ে মারা যান তিনি। দুপুর ১টা ২৭ মিনিটের দিকে মিরপুর-২ নম্বরের লাভ রোডে কলেজটির পেছনের ৮ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১২০ ফুট অংশ ধসে পড়ে।
ঠিক সেসময় দেয়াল সংলগ্ন সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন নাসিমাসহ প্রায় ৫০-৬০ জন নারী। হঠাৎ ধসে পড়া দেয়ালের চাপায় প্রাণ হারান নাসিমাসহ দুজন। আহত হন আরও অন্তত ৬ জন।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে পঙ্গু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাসিমার পরিচয় নিশ্চিত করেন তার মা শাহিদা বেগম।
‘আমারে এখন ক্যাডা খাওয়াইব’
মেয়ের মৃত্যুশোকে কাতর শাহিদা বেগম আর্তনাদ করছিলেন, ‘আমারে এখন ক্যাডা খাওয়াইব।’
মিরপুর-২ জনতা হাউজিং সংলগ্ন এক টিনশেড ঘরে নাসিমা ভাড়া থাকতেন বলে জানান তার মা। ১৩ হাজার টাকা বেতনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন নাসিমা।
নাসিমার স্বামী আবদুল হানিফ বর্তমানে কুয়েতপ্রবাসী। এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে আছেন, দুজনই বিবাহিত। ৬ মাস আগে ধার-দেনা করে স্বামীকে বিদেশ পাঠান নাসিমা।
কিন্তু কুয়েত গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় হানিফ নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারতেন না। স্বল্প আয় দিয়ে বাসা ভাড়া আর দেনা শোধের পর কোনোরকমে নাসিমা সংসার চালাতেন বলে জানান শাহিদা।
মেয়ের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে শাহিদা বেগম জানান, সংসারের খরচ সামলানোর পর মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন নাসিমা।
শাহিদা বলেন, ‘আজ দুপুরের খাবার খেতে বাসায় আসার পর প্রতিবেশীর কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাকের খোঁজ জানতে পারে নাসিমা। খাবারের বিরতির এক ঘণ্টা সময় যেন নষ্ট না হয়, তাই না খেয়েই ওই লাইনে গিয়ে দাঁড়ায় আমার মেয়ে।’
‘দেয়াল চাপায় আমার মেয়ে আর নাই,’ বলেই কাঁদতে থাকেন শাহিদা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিয়াজুল ব্যাপারী বলেন, ‘কলেজের দেয়ালের অপর পাশে বসে চা খাচ্ছিলাম। দেয়াল ঘেঁষে সড়কে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছিল। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি কলেজের দেয়াল ধসে পড়েছে। আশপাশে যারা ছিল তারা ইট-সুরকি সরিয়ে অনেককে বের করে। তাদের সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিয়ান বলেন, ‘দেয়াল ভেঙে পড়ার পর মানুষজন দৌড়ে উদ্ধার করতে যায়। কয়েক বছর আগে এই দেয়ালটা করা হয়। হয়তো বৃষ্টিতে দেয়ালটি ধসে পড়তে পারে।’
কমলাপুর রেলস্টেশন এবং এর আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনের লক্ষ্যে র্যাব-৩ এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ নিরাপত্তামূলক টাউনহল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় এ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন ইন্ট এন্ড মিডিয়া অফিসার মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী।
উক্ত সভায় ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-৩ এর উপ-অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার মোঃ সাইদুর রহমান। এছাড়াও জিআরপি ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুক মিয়া, আরএনবি’র কমান্ড্যান্ট, কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার ও স্টেশন মাস্টারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশ নেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাগণ কমলাপুর রেলস্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে টিকিট কালোবাজারি রোধ, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
কমলাপুর রেলস্টেশন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাদকসেবী, মাদক কারবারি, টিকিট কালোবাজারি চক্র এবং চোরাচালানের সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে র্যাব ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের যৌথ অপারেশন পরিচালনা করা হবে মর্মে টাউনহল মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এখন থেকে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কমলাপুর রেলস্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে সাধারণ যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব-৩ এর অভিযান চলমান থাকবে।