ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ এএম

রাজধানী কারওয়ানবাজারে সোনারগাঁও হোটেল ক্রসিংয়ের কোনো লেইনে যানবাহন থামাতে এখন আর দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে না পুলিশকে; একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে শুধু তারা মাঝেমধ্যে হাতের ইশারা দিচ্ছেন। দিন কয়েক আগেও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এ সিগন্যালে এক লেইন আটকে আরেকটি ছাড়তে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থা দেখা যেত ট্রাফিক পুলিশের। শনিবার সকালে সেই চিত্র আর দেখা গেল না।


এদিন লাল-সবুজ বাতি মেনে চলছিল সব ধরনের বাহন। ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনার ফাঁক গলে কোনো যানবাহন চলছিল না। এ সিগন্যালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা বসানোর পর থেকেই পাল্টে গেছে আগের হ-য-ব-র-ল চিত্র; বিপরীতে দেখা যাচ্ছে এমন শৃঙ্খলা।


ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভয়ে বাহনের চালকরা আর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।


যদিও কোনো যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট কিংবা নম্বর প্লেট না থাকার কারণে জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। কেননা অস্পষ্ট নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারছে না এসব ক্যামেরা।


শুধু এ মোড় নয়, রাজধানীর মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ।


সোনারগাঁও মোড়ে সিগন্যালে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের একজন বিদ্যুৎ হোসেন শনিবার বলেন, ক্যামেরার ভয়ে কেউ সিগন্যাল ভাঙছে না।


সোনারগাঁও হোটেলের সামনের ‘স্টপ লাইন’ দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখেন কেউ লাইনই ক্রস করছে না। বেশির ভাগই সিগন্যাল মানছে। আমরা সিগন্যাল মতো গাড়ি ছাড়ার বা থামার ইশারা দিচ্ছি দাঁড়িয়ে থেকে।”


এআই ক্যামেরা লাগানোর পর থেকে ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট কমেছে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পুলিশ বেশি মনোযোগ দিতে পারছে বলে মনে করেন বিদ্যুৎ হোসেন।


পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।


সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে।


এ ব্যবস্থা চালুর প্রথম সপ্তাহেই যানবাহনগুলোর সিগন্যাল মানার ক্ষেত্রে ‘অভাবনীয় সাফল্য’ পাওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।


ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।


‘পিটিজেড ক্যামেরা’


আইন লঙ্ঘন করা গাড়ির নম্বর শনাক্ত করতে এআইভিত্তিক এ ক্যামেরাগুলোকে ‘পিটিজেড ক্যামেরা’ বলছে পুলিশ। এটি ‘প্যান-টিল্ট-জুম’ প্রযুক্তির উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, ওপরে-নিচে ঘোরানো ও জুম করা যায়।


বড় এলাকা বা জনসমাগমপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণের জন্য এ ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। এটি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুরে চিত্র ধারণ করতে পারে। চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে। এটি ওয়াইফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ‘অপটিক্যাল জুম’ এর মাধ্যমে অনেক দূর থেকে স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করতে পারে।


ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ক্যামেরাগুলোতে দেওয়া সফটওয়্যারে ছয়টি ‘লজিক’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ছয় ধরনের আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করে নম্বরপ্লেটসহ গাড়ির ছবি তুলে রাখছে। সেসব ছবি-ভিডিও ডিএমপি সদর দপ্তরের ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের (টিটিইউ) সার্ভারে জমা করছে।


এ সফটওয়্যারের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সার্ভারও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সহজেই আইন ভঙ্গকারী যানবাহনের নম্বর দিয়ে নিমিশেই মিলছে গাড়ির মালিকের বিস্তারিত তথ্য।


টিটিইউ টিমের সদস্যরা সার্ভারের ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করে আইন অমান্য করা গাড়ির মালিকের নামে মামলা দিচ্ছেন। ‘ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের’ মাধ্যমে মালিক/চালকদের রেজিস্ট্রি করা ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেসব মামলার কপি ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।


৪ শতাধিক মামলা


এ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার শুরুর প্রথম আট দিনে সার্ভারে ১০ হাজারের বেশি ভিডিও জমা হয়েছে। সেগুলো টিটিইউ ইউনিটের সদস্যরা যাচাইবাছাই করে আইন ভঙ্গের মাত্রা অনুযায়ী মামলা দিচ্ছেন।


ডিএমপি ট্রাফিকের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “হিউজ ভিডিও পাচ্ছি। যেমন ধরেন সফটওয়্যারকে ‘লেইন ভায়োলেশনের’ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছি। এখন কোনো গাড়ির চাকা একটু এদিক-ওদিক হলেই ক্যামেরা সেটিকে ‘ভায়োলেশন’ হিসেবে ধরে ফুটেজ দিচ্ছে।


“কিন্তু যেহেতু এই ব্যবস্থাপনাটা নতুন, তাই আমরা ছোটোখাটো ভায়োলেশনগুলো এড়িয়ে যাচ্ছি। বিবেচনায় নিচ্ছি, তার ওই ভায়োলেশনটার কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে কিনা, স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে কিনা। এসব ফুটেজ যাচাইবাছাই করে এখন পর্যন্ত ৪০০ এর বেশি ‘প্রসিকিউশন’ (মামলা) প্রস্তুত করেছি। এর মধ্যে অনেগুলোই (মালিক/চালকদের) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”


প্রতিদিন কী পরিমাণ আইন লঙ্ঘন হচ্ছে, এ ব্যাপারে শারমিন বলেন, “গত বুধবার আমরা ৭৪৮টি ভিডিও পেয়েছি। বৃহস্পতিবার একটু কম পেয়েছি।”


কোন ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা বেশি, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “বেশির ভাগই বাম লেইন দখল করে রাখা আর ‘স্টপ লাইন’ না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এখন ‘স্টপ লাইন’ মানার প্রবণতা বাড়ছে। বেশির ভাগই সিগন্যাল অনুযায়ী স্টপ লাইনটা মানছেন।”


ডিএমপির সাবেক কমিশনার সরওয়ার বলেন, “আমাদের লোকজন কাজ করতেছে, ভবিষ্যতে দেখা যাবে যে প্রতিদিন হয়ত ১ হাজার মামলা হবে।”


যেসব যানবাহন শনাক্ত করছে ক্যামেরা


বর্তমানে বাম লেইন বন্ধ করা, অবৈধভাবে লেইন পরিবর্তন বা বারবার পরিবর্তন, সিগন্যাল লাইট অমান্য বা স্টপ লাইট অমান্য বা জেব্রা ক্রসিংয়ের উপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়া, রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা রাস্তায় বা ক্রসিংয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো, অবৈধ পার্কিং করা এবং উল্টো পথে যানবাহন চালালে এ মামলা হবে।


গত ১১ মে বিমানবন্দর ক্রসিংয়ে সৌরশক্তির সিগন্যাল লাইট স্থাপন অনুষ্ঠানে ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সরওয়ার বলেন, “আরো অনেকগুলো লজিক দেওয়া হবে। এই লজিক যত বাড়ানো হবে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী আইনের আওতা আরো বাড়বে।”


মামলার কপি যাচ্ছে ডাকযোগে


ডিএমপি বলছে, বর্তমানে ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত আইন ভঙ্গকারী মালিক/চালকদের ঠিকানায় ‘অটো জেনারেটেড নোটিস’ ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিস পাওয়ার পর মালিক/চালকরা ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারার নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।


নোটিস পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট মালিক/চালকরা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা।


তবে মামলার তথ্য চালক/মালিকের মোবাইলে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও বলছে পুলিশ।


ডিএমপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, “বর্তমানে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাফিক মামলা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মোবাইলের অ্যাপের মাধ্যমে বা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার তথ্য জানাবে পুলিশ।”


মোবাইল ফোনের বার্তায় অভিযোগ লিংকও পাঠানো হবে, যেখানে অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি প্রসিকিউশনের চিঠি এবং নিজের আইন ভঙ্গের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও সরাসরি দেখতে পারবেন। এতে ‘স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বাড়বে’ বলে মনে করেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।


ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে একসময় কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়।


তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরো বাড়ার অভিযোগ রয়েছে। এআইভিত্তিক ক্যামেরায় মামলা কার্যক্রমের দিকে যাওয়ায় সেই সমস্যা কমবে বলেও মনে করা হচ্ছে।


যেসব পয়েন্টে বসেছে ক্যামেরা


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং থেকে জাহাঙ্গীর গেইট পর্যন্ত সাতটি, গুলশান-১ নম্বর ও ২ নম্বরসহ মোট নয়টি, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় হাই কোর্ট ক্রসিং থেকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং পর্যন্ত ছয়টি এবং ডিএমপির ব্যবস্থাপনায় ১৫টিসহ মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে সিগন্যাল লাইট চালু রয়েছে।


এই ৩০টি পয়েন্টেই এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা বলছে পুলিশ। পর্যায়ক্রমে সব সিগন্যাল লাইটের খুঁটিতেই এ ক্যামেরা বসানো হবে।


সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, “বর্তমানে শতাধিক পিটিজেড ক্যামেরার মাধ্যমে এ ব্যবস্থাপনা চলছে। পর্যায়ক্রমে আরো ক্যামেরা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”


জটিলতা কোথায়?


ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এ ব্যবস্থায় প্রধান যে জটিলতা দেখা গেছে সেটি হচ্ছে, অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট। আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেট নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না।


ট্রাফিক বিভাগ বলছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপন করা আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে।


সে কারণে চলতি সপ্তাহ থেকেই অভিযানে নামার কথা গত ১১ মে গণবিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরে ডিএমপি।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত রং, ডিজাইন এবং সাইজের নাম্বার প্লেট যথাযথ স্থানে লাগানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “কয়েকদিনের মধ্যে যদি বিআরটিএ নির্ধারিত নম্বর প্লেট না লাগায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


গত কয়েকমাসে এক্সপ্রেসওয়েতে অনিয়ন্ত্রিত গতির গাড়ি শনাক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এর বাইরে বিভিন্ন ক্যামেরায় ভুল পার্কিং, রাস্তায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোসহ বিভিন্ন আইন ভঙ্গকারীর ভিডিও সংগ্রহ করছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। এর ভিত্তিতে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।


ডিএমপি বলছে, ‘হ্যালো ডিএমপি’ নামে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে কেউ ওই অ্যাপে কোনো যানবাহনের আইন অমান্যের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। এরপর সেটি যাচাইবাছাই করে মামলায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। পুরোনো ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৬ পিএম

রাজধানীর বারিধারায় বাসভবনে শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে আহত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান। তাদের রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর পর থেকে তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ৫৫ মিনিটে বারিধারার পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি হন।



এ ছাড়া চিকিৎসক ডা. আমিনা সুলতানার তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে দুজনের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।


এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

রাজধানীর উত্তরখানে পরিচ্ছন্নকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হওয়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর হোসেনের উপর ‘হামলার’ অভিযোগ উঠেছে।


আজ রোববার ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন।


উত্তর সিটির অঞ্চল-৮ এর অধীন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) এলাকায় দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ।


জরুরি বার্তায় বলা হয়, “উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস এলাকায় ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নকর্মীদের ওপর স্থানীয় কিছু 'সন্ত্রাসী' অতর্কিত আক্রমণ করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের উপকমিশনার।


“কিন্তু সেখানে হামলাকারীরা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপরও চড়াও হয় এবং হামলা চালায়।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৬ পিএম

রাজধানীর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ‘বোমাসদৃশ’ দুটি পরিত্যক্ত বস্তু পাওয়া যাওয়ার খবরে জনমনে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। পরে বস্তা খুলে দেখা যায়, বোমা নেই তাতে।


ডিএমপি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ স্টেশনের নিচে পাওয়া বস্তায় ছিল জর্দার কৌটা ও পান। আর ফার্মগেট এলাকায় পাওয়া বস্তায় কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া যায়নি।


আজ শনিবার ডিএমপির মিডিয়া শাখা জানায়, মিরপুর-১০ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেখানে যায়। প্রাথমিকভাবে ব্যাগটি এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে কৌটাসদৃশ একটি বস্তুর ছবি দেখা যায়।


পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ব্যাগটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে জর্দার একটি কৌটা ও পান রয়েছে। সেখানে কোনো বিস্ফোরক বা ক্ষতিকর বস্তু পাওয়া যায়নি।


ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের বস্তার ঘটনায় ডিএমপি জানায়, তেজগাঁও থানার ফার্মগেট এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বস্তাকে ঘিরেও বোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হ্যান্ড এন্ট্রির মাধ্যমে বস্তাটি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই বস্তার ভেতরেও কোনো বিস্ফোরক বা বিপজ্জনক বস্তু ছিল না।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০০ পিএম

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে ‘বোমা সদৃশ’ বস্তু পাওয়ার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।


শনিবার দুপুরে সিটিটিসির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, মিরপুর ও তেজগাঁও-দুই জায়গায় একসঙ্গে বোমা পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করতে পুলিশের দল কাজ করছে।


মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, মিরপুর ১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে সন্দেহজনক একটি বস্তু পাওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। সিটিটিসির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। এটি আইইডি কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।


অন্যদিকে, ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি পিলারের কাছে একটি বস্তা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান। সন্দেহজনক হওয়ায় সেখানে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে ডাকা হয়েছে।


ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিমসহ তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু মারমা উপস্থিত রয়েছেন।


এর মধ্যে বেলা ১টা ২৮ মিনিটে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনো পাশ দিয়ে সাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

রাজধানীর সড়কে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১০ পিএম

রাজধানী ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক পুনরায় ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে গুলশান, শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তার উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে উত্তর সিটির বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিকেল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি শ্যামলী এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়।


প্রধানমন্ত্রী বারবার তাগিদ দিয়েছেন যে তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও ‘ক্লিন সিটি’ হিসেবে দেখতে চান। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম কেমন চলছে, তা দেখতে তিনি নিজেই সরেজমিনে বের হন।


পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মেহেদুল ইসলাম এবং সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী।

সর্বশেষ সব খবর

রাতের ঢাকা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৬ এএম

রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে আবারো গভীর রাতে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালান।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে এ পরিদর্শনে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাতের অবস্থা, সড়কবাতির কার্যকারিতা, রাতের যান চলাচল এবং নগরসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। 


সফরের একাধিক পর্যায়ে তিনি কয়েকটি স্থানে গাড়ি থামিয়ে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।


প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর রাতের বর্জ্য অপসারণ ও নগর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা সরাসরি দেখতে এবং সেবাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা যাচাই করতেই এই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন সেবার মান, কর্মপরিবেশ এবং দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।


জানা যায়, নগরবাসীর ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। এ কারণে মাঠপর্যায়ে কোথাও কোনো গাফিলতি, সমন্বয়হীনতা বা সেবা প্রদানে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা সরাসরি যাচাই করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।


এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও একইভাবে গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর