সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬, সময় : ৩:০২ এএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৩০০ জন ও নওগাঁর পোরশা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। অন্যদিকে, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। 


কুড়িগ্রামে ৩০০ জনের পুশইন ব্যর্থ


কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৩০০ ভারতীয় নাগরিককে গাড়িতে করে এনে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গত রোববার রাত ১২টার দিকে বকবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।


বিজিবি ৩৫ জামালপুর ব্যাটালিয়নের অধীন রৌমারীর বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, রোববার রাত ১২টার দিকে বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিককে বকবান্ধা সীমান্তে এনে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। টের পেয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসী প্রতিহত করার জন্য অবস্থান নেয়।


নওগাঁয় ২০ জনের পুশইন ঠেকাল বিজিবি


এদিকে, নওগাঁর পোরশা সীমান্তে ২০ ব্যক্তিকে গত রোববার রাতে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় বিজিবি পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।


বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন।


পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে সরাল বিএসএফ


পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা নারী, শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। গত রোববার রাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। গতকাল সোমবার নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তখন থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, তিন নারী ও দুটি শিশু ছিল।


ঠাকুরগাঁও থেকে ১১ জনকে সরাল বিএসএফ


ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় দুদিন ধরে অবস্থান করা ১১ জনকে গতকাল ভোরে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শনিবার ভোরে উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই 

চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় ছিল। 


৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


সীমান্তবর্তী ১১ জেলায় আনসার সদস্য মোতায়েন


সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায় উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি/টিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো– চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়ি।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২০ পিএম

দেশের সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং রুট ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে আজ (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। 


একই সঙ্গে জিপিএস সংযুক্ত না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া কিংবা ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়ন করা হবে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ১১ জুন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদান বা নবায়নের সময় জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ডিভাইস সচল থাকার তথ্য বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রদর্শন করতে হবে।


জিপিএস ডিভাইসের কারিগরি বিবরণ বিআরটিএর স্থানীয় কার্যালয় এবং সংস্থাটির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।


সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী জিপিএস সংযুক্তি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।


চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

‎আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘আয়নাঘরের’ অনেক আলামত নষ্ট করা হয়েছে, নতুন করে স্থাপনা করা হয়েছে। যারা এসব আলামত নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদরদপ্তরে অবস্থিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সঙ্গে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখল কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২৯টি রুমের দেখা মিলল, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদের এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।


তিনি বলেন, র‍্যাব-১ ‘আয়নাঘর’ নামে যে টর্চার সেল ছিল সেটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ভয়াবহ চিত্র দেখেছি। ছোট বড় মোট ২৯টি কামরা রয়েছে। এখানে ভুক্তভোগীদের অত্যন্ত মানবেতরভাবে রাখা হতো।


এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারক, প্রসিকিউটর এবং আসামি পক্ষের আইনজীবীরা এই স্থান পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যাুনালে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই পরিদর্শনে আসেন তারা।


‎চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যাদের ধরে নিয়ে আসা হতো তাদের দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হতো।‎কামরাগুলো এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শুয়ে থাকার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, বসেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাতে হতো। এভাবেই তাদের উপর নির্যাতন করা হতো। কাউকে দীর্ঘদিন পর মিথ্যা মামলা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো। যা প্রসিকিউশনে দেওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।

‎তিনি বলেন, এই সেলে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, বর্তমান সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমানকেও (মীর আহমদ) রাখা হয়েছিল। ‎গুম হওয়া প্রায় ২৫০ ব্যক্তির সন্ধ্যান এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।


‎আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. তাবারক হোসেন ভূইয়া বলেন, এখানে পরিদর্শন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তবে আমরা টিএফআই সেল দেখতে আসিনি। টিএফআই একটি ধারণা, এটি সুনির্দিষ্ট স্থান না।


পরিদর্শনে মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, শুধু ভিন্ন মত ও রাজনীতি করার কারণে মানুষকে গুম করে এখানে নির্দয়ভাবে রাখা হতো।


জামায়াতের ইসলামী ও এনসিপির দলীয় মনোগ্রাম

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

এনসিপির কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর কারণে বাহাস চলছে ফেসবুকে। জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে বিতর্কে জড়িয়েছেন। জোটেও চলছে মন কষাকষির গুঞ্জন। 


যদিও দল দুটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের গুরুত্ব রাজনীতিতে নেই। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে হামলা হয়। 


দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য সরকারি দলের মন্ত্রী, এমপিদের প্রতি অবমাননাকর বলে অভিযোগ করে ছাত্রদল হামলা করে। এতে আলিফ চৌধুরী নামে এনসিপির স্থানীয় এক কর্মীর বাঁ চোখ নষ্ট হয়েছে। 


এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবির সেই রাতেই বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানায়। একে একে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জোটের কর্মসূচি থেকে দূরে থাকা খেলাফত মজলিস। ২৮ ঘণ্টা পর বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় জামায়াত। 


ওই দিন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরের দিন সিলেট এবং কুড়িগ্রামে এনসিপির পদযাত্রা, মিছিলে হামলা করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাতে ১১ দলের বৈঠক থেকে এসব হামলার নিন্দা করা হয়। 


তবে এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে আবার অভিযোগ তোলেন, জোটসঙ্গী জামায়াত কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করছে না। বিএনপির প্রতি অনেকটাই নমনীয়, প্রধান বিরোধী দল। সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে চলছে জামায়াত। 


বিপরীতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন, বিএনপির সঙ্গে এনসিপির এই বিরোধ লোক দেখানো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে এনসিপিকে আলোচনায় রাখতে বিএনপি এসব হামলা করছে। যাতে মনে হতে পারে, জামায়াত নয় এনসিপিই প্রধান বিরোধী দল। 


শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের প্রোফাইলে লেখেন,  ‘হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে হামলার ঘটনাগুলো খুবই সুপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। উদ্দেশ্য যা হতে পারে– জুলাই মাসে জামায়াতকে যতটা সম্ভব আলোচনার বাইরে রাখা এবং এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। গুড প্ল্যান, গুড মুভ। (ডিপ পাওয়ার)।’ 


এতে জামায়াতের অনেকে সমর্থন করেন। তাদের ভাষ্য, এনসিপিকে আলোচনায় রাখতেই বিএনপি পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা করছে। যদিও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এই পোস্ট ডিলিট করেন জাহিদুল। 


তবে জবাবে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন লেখেন, ‘জামায়াতের ৬০ বছর বয়সী সংসদ সদস্য ১৭ বছরের কিশোরীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যে কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছেন সেটা এই জুলাই মাসেই ছিল। ঘটনা শুধু আলোচনাতেই ছিলেন না; বরং বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কিছু মানুষ দেখলাম, যারা হামলার প্রতিবাদ না জানিয়ে এর মধ্যে গভীর পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছে। এনসিপির রাজনীতি দাঁড়ালে কারও কারও অসুবিধা হবে, এটাই স্বাভাবিক।’


এই বক্তব্যে সমর্থন করেন এনসিপির কর্মী-সমর্থকরা। জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা লেখেন, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার পর জামায়াতই নিরাপত্তা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে হামলার পর জামায়াত নেতাকর্মীরা এনসিপিকে নিরাপত্তা দেয়। একে ‘খোটা’ আখ্যা দিয়ে পাল্টাপাল্টি চলছে ফেসবুকে।  যদিও বাস্তব দুনিয়ায় এর প্রভাব খুব বেশি দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চোখ হারানো এনসিপিকর্মী আলিফ চৌধুরীকে দেখতে যান জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি এ হামলার বিচার দাবি করেন। আগের রাতে বৈঠক করে ১১ দলীয় জোট এনসিপির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়। 


জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, সামাজিক মাধ্যমে তো কত কথাই হয়। এর কী গুরুত্ব আছে? দল আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কী বলছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। জোটসঙ্গী এনসিপির ওপর হামলাকে জামায়াত কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে। 


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এই বেঠক হয়।


বৈঠকে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির ইতিবাচক সংশোধন করেছে।


তার ভাষ্য, এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আগামী মাসে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও আলোচনা হয়।


বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সার্জিও গোর আশ্বাস দেন, বাংলাদেশে এফডিএর পরীক্ষাকার্য পুনরায় শুরু করার বিষয়ে তিনি সহায়তা করবেন।


এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশনের (ডিএফসি) মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


জবাবে বিশেষ দূত বলেন, বাংলাদেশে ডিএফসির বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে।


তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগির একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ আয়োজন করতে আগ্রহী এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি নিজেও কাজ করছেন।


প্রধানমন্ত্রী ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে বিনিয়োগে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে সার্জিও গোর বলেন, এ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।


তিনি আরও মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান।


বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ জানান।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


সার্জিও গর বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আসিয়ান, প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।


বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।


প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এসব তথ্য জানান।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ পিএম

আগামী চার দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে। 


শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।


শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। 


রোববার  রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণেরও আভাস রয়েছে। 


সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিনও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। 


মঙ্গলবার দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।


বুধবার  রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:১৪ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) দেশটির জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) লেভেল-৩ থেকে কমিয়ে লেভেল-২ করেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এখনো অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রয়েছে এবং সেসব এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভ্রমণ সতর্কতার স্তর কমানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘দারুণ খবর’ বলে উল্লেখ করেন।


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছার পর নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে দেয়া আরেক পোস্টে সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সফর শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও উল্লেখ করে তিনি পরবর্তী দুই দিনে ফলপ্রসূ বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


সফরের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (৩১ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেন সার্জিও গর। সেখানে তিনি ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিনি।