• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:০৪ পিএম

গত বছর ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘যুদ্ধপরীক্ষিত’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এরপর দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প এখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি অস্ত্র কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিলো বাংলাদেশও। পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে, এটি এখন পুরোনো খবর। নতুন খবর হলো, দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যেসব অস্ত্রের ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, তা তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 


পাকিস্তানের তিনটি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বিস্তৃত অস্ত্র সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। 


সূত্রের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি (জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, এমএফআই-১৭ মুশাক বিমান, মনুষ্যবিহীন পর্যবেক্ষণ ও আক্রমণে সক্ষম শাহপার ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাইন-প্রতিরোধী সাঁজোয়া যান মুহাফিজ-এর ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করেনি। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ-এই তথ্যটিও দিয়েছে রয়টার্স। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘পরীক্ষিত’ তকমা পেয়েছে। এরপর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন করে গতি পেয়েছে। 


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে অবগত আছেন এমন তিনটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন এবং অস্ত্র ব্যবস্থার চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ৬ থেকে ৮টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 


দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, বেশ কয়েকটি দেশ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 


বিশ্লেষকরা মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দেশগুলো এখন নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) তৈরির চেষ্টা করছে। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্রগুলো কার্যকর বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী উন্নত চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত জে-১০ (জে-১০)-এর পাশাপাশি জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) ব্যবহার করেছিল। 



এসব প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তা এবং এক ডজন বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তারা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান অস্ত্র শিল্প এবং অস্ত্র বিক্রি আলোচনার অপ্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। 


ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে পাকিস্তান উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে কোনো কোনো বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করলেও পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি যে আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে সে বিষয়ে সবাই একমত। তবে, অধিকাংশ বিশ্লেষক এও সতর্ক করেছেন, অস্ত্র বিক্রির আলোচনা মানেই তা চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে এমন নয়। 


এদিকে, অস্ত্র বিক্রির আলোচনাগুলোকে ‘সুরক্ষিত গোপন বিষয়’ অভিহিত করে প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ রয়টার্সকে বলেছেন, এই আলোচনাগুলো চলছে, (তবে) আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এগুলো ভেস্তে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক শর্ত আসছে এবং আমরা আলোচনা করছি। এসময় তিনি জানান, বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে ক্রেতারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’ 


ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান তালিকা 

সূত্রগুলো জানায়ে, অস্ত্র কিনতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়া। এ ছাড়া, পূর্ব লিবিয়ার সরকারও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার জেএফ-১৭ এবং অন্যান্য অস্ত্রের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের সঙ্গে আলোচনার কথা পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তবে, এই ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। 


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসিম সুলেমান। তিনি বলেন, ‘ক্রেতা হিসেবে আফ্রিকার তিনটি দেশও আছে। এই সংক্রান্ত রয়টার্সের পূর্বের প্রতিবেদনে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি এবং সুদানের চুক্তিগুলোর কথা বলা হয়েছিল। তবে ওই তিনটি দেশ ওই তালিকায় নেই।’ 


ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ব্যবস্থা 

একটি বড় বাধা হবে পাকিস্তান জেএফ-১৭-এর উৎপাদন। এটি দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ বিমান এবং ড্রোনের চাহিদাও রয়েছে। 


বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিম সুলেমান বলেন, ‘প্রধান কারখানার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ফলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান উৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এমনকি বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ২০টি বিমান তৈরির সক্ষমতা থেকে তা দ্বিগুণ হতে পারে।’ 


বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যত বাধা খুব কম। তা ছাড়া, বেইজিংয়ের সমর্থনে পাকিস্তান বেশিরভাগ বাধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। 


এ প্রসঙ্গে কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি সহজলভ্য ও মধ্যম স্তরের সরবরাহকারী হিসেবে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।’ 


তিনি বলেন, ‘তারা প্রশিক্ষণ দিতে পারে, পরামর্শক পাঠাতে পারে, যৌথ মহড়া চালাতে পারে, সামুদ্রিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রস্তাব করতে পারে। নাজুক আফ্রিকান অংশীদারদের জন্য এই প্যাকেজ আকর্ষণীয় হতে পারে। আর এটি পশ্চিমা অস্ত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতও হয়। তা ছাড়া, রাজনৈতিকভাবে কম জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সস্তা। প্রতিরক্ষা খাতে, বিশেষ করে ড্রোন নির্মাণে পারদর্শী বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বও এই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।’ 


রাওয়ালপিন্ডি শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। এখানেই বেসরকারি কোম্পানি সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস অবস্থিত। এই কারখানার কর্মীরা বছরে শত শত কামিকাজ এবং পর্যবেক্ষণকারী ড্রোন তৈরি করেন এবং সেগুলো সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করে। 


চীনের অবস্থান 

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অস্ত্র স্থানান্তর গবেষক সিমন ওয়েজম্যান বলেন, ‘জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে চলার আলোচনার কতগুলো বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের কাছে বিক্রির বিষয়ে বেইজিং আপত্তি জানাতে পারে। যদিও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাজুড়ে এই বিমানের বাজারজাতকরণে পাকিস্তান চীনের স্বাভাবিক অংশীদার। তবে সুদান এবং লিবিয়ার সঙ্গে আলোচনাগুলো সত্যিই সমস্যাজনক।’ 


লিবিয়া এবং সুদানের দারফুর অঞ্চল জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান মিত্র দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার উত্তেজনাও সামাল দিচ্ছে। 


ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরব ও তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে আরেকটি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনাও করছে দেশটি। যদিও এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 




পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সৌদি আরবে একাধিক হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় ৩ বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।


বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।







ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।


“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”


এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।


“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”


আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”



প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫০ পিএম

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত একদিনে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু-বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজনের মৃত্যু হয়েছে।


এতে চলতি বছর মশাবাহিত রোগটিতে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানি ৩৭১ জনে দাঁড়াল।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাহিরে) সবচেয়ে বেশি ২৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৫৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১১৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩১, খুলনা বিভাগে ১৪৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০, রাজশাহী বিভাগে ১১৩ ও রংপুর বিভাগে ৩৮ ও সিলেট বিভাগে দুইজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৭৯ জন মারা গেছেন।


এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।


বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪ জন, বরিশালে ১১৫ জন, সিলেটে ৯৪ জন, ময়মনসিংহে ৬৫ জন, খুলনায় ৬০ জন, রংপুরে ২৪ জন এবং রাজশাহীতে ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।


এদিকে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে।








ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৫ পিএম

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখে এলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


বঙ্গভবন জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।


স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ চিকিৎসকরা আবদুল মঈন খানের সর্বশেষ অবস্থা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


গত বুধবার বুকে ব্যথা নিয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। তিনি শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।


শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীরা (ফাইল ছবি)

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

৩৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটায় একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।


বিমানবন্দরে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি বিশেষ বিমানে করে ৩৫ বাংলাদেশি শুক্রবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। এর মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। 


তাদের সবাইকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রত্যাশা-২ প্রকল্প থেকে বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কাউন্সিলিং ও প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে অর্থনৈতিক সহায়তা করা হবে।